নষ্টনীড়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নষ্টনীড়
লেখকরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
দেশ ভারত
ভাষাবাংলা ভাষা
ধরনছোটগল্প

নষ্টনীড় হল ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বাংলা ভাষার একটি ছোটগল্প। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন। এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত শ্রেষ্ঠ ছোটগল্পগুলোর একটি বলে বিবেচিত।

পটভূমি[সম্পাদনা]

ম্যারি লগো'র মতে, নষ্টনীড়ের ইংরেজি অনুবাদ (লাগো ও সুপ্রিয় সেনের অনুবাদ) তিনবার মুক্তি পায়: ১৯০১  সালে ধারাবাহিক বিন্যাসে, ১৯০৯ সালে রচিত রবীন্দ্রনাথের কাল্পনিক সংগ্রহের ছোটগল্প-এর অংশ হিসেবে, ১৯২৬ সালে একটি বিশেষ সংক্ষিপ্ত কাহিনী সংগ্রহের অংশ হিসাবে, নষ্টনীড় প্রকাশিত হয় । (পৃঃ ৯)

এই গল্পটি ইঙ্গিত দেয় যে এই গল্পটি রচিত হয়ে থাকতে পারে রবীন্দ্রনাথের বড় ভাই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ; জ্যোতিরিন্দ্রনাথের স্ত্রী কদম্বরী দেবী (রবীন্দ্রনাথের বিয়ের পরেই আত্মহত্যা করেছেন); এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (যিনি কবিতা পড়া এবং লেখার সাথে অনেক সময় কদম্বরীর সাথে কাটিয়েছিলেন) মধ্যেকার সম্পর্কের উপর নির্ভর করে।

সারমর্ম[সম্পাদনা]

নষ্টনীড় ১৯শ শতকের শেষের দিকের বাংলার পটভূমিতে রচিত যা বাংলার নবজাগরণ বা বেঙ্গল রেনেসাঁর অংশ এবং ব্রাহ্মসমাজের দ্বারা প্রভাবিত হয় এমন রচনাগুলির মধ্যে একটি যা বাঙালিদের জীবন সম্পর্কে অনুসন্ধান করে। উদার ধারনা সত্ত্বেও, ভূপতি তার স্ত্রী চারুর একাকীত্ব এবং অসন্তোষের প্রতি অন্ধ। তার ভাই অমল, যিনি চারুর মধ্যে প্রগাঢ় অনুভূতি জাগিয়ে তোলেন, তার সাথেই ভূপতি বুঝতে পারেন যে তিনি কী হারিয়েছেন। এই উপন্যাসে গল্পটি, তিনটি কেন্দ্রীয় চরিত্র চারু, অমল ও ভূপতিকে নিয়ে গড়ে উঠেছে।

চলচ্চিত্রায়ণ[সম্পাদনা]

চারুলতা (দ্য লোনলি ওয়াইফ) বাংলা চলচ্চিত্র সত্যজিৎ রায়ের দ্বারা ১৯৬৪ সালে নির্মিত হয় নষ্টনীড় উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে। এই চলচ্চিত্রটিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায় এবং শৈলেন মুখোপাধ্যায় অভিনয় করেছিলেন। ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি ইংরেজিভাষী বিশ্বে দ্য লোনলি ওয়াইফ (The Lonely Wife) নামে পরিচিত। সার্থক চিত্রায়নের প্রয়োজনে চলচ্চিত্রের গল্পের কাহিনী খানিকটা পরিবর্তন করা হয়েছে মূল ছোটগল্প নষ্টনীড়-এর কাহিনী থেকে। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৬৪ সালে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব প্রদর্শিত হয় এবং সেখান থেকে থেকে সিলভার বেয়ার পুরস্কার পায়। ১৯৬৫ সালে সেরা চলচ্চিত্র হিসাবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের গোল্ডেন লোটাস পুরস্কার অর্জন করে এবং ওই একই বছর ১৯৬৫ সালে ওসিআইসি (OCIC) পুরস্কার পায় চলচ্চিত্রটি।

নষ্টনীড় উপন্যাসকে ভিত্তি করে আরেকটি চলচ্চিত্র চারুলতা নামে ২০১১ সালে নির্মিত হয় পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়েের দ্বারা। এই চলচ্চিত্রে চারুলতা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত[১]

নষ্টনীড়-এর উপর ভিত্তি করে রঙ্গন চক্রবর্তীর দ্বারা নির্মিত চলচ্চিত্র আমি চরুলতা নামে পরিচিত, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন। এখানে ভূপতি চরিত্রে রাহুল বসু এবং চারুলতা চরিত্রে অনন্যা চট্টোপাধ্যায়কে অভিনয় করতে দেখা যাবে।[২]

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘নষ্টনীড়’ এর অন্যতম প্রধান চরিত্র চারুলতা দ্বারা অনুপ্রেরিত হয়ে টেলিফিল্ম নির্মান করেছেন পরিচালক আলভী আহমেদ। টেলিছবিটির নামকরণ করা হয়েছে ‘চারুলতা ২০১৬’। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে চারুলতার চরিত্রটি বিশেষায়িত করা হয়েছে এই টেলিফিল্মে। নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নওশীন। এছাড়াও আরো দু’টি প্রধান চরিত্রে রয়েছেন শহীদুজ্জামান সেলিমকল্যাণ কোরাইয়াকে। টেলিছবিটি ২০১৬ সালের ঈদে দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত হয়েছিল।[৩]

ইংরেজি অনুবাদ[সম্পাদনা]

  • ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ। ব্রোকেন নেস্ট (ন্যাশনাল) । মেরি এম লোগো এবং সুপ্রিয় সেন (অনুবাদক). নতুন দিল্লি: ম্যাকমিলান ইন্ডিয়া লিমিটেড, ২০০০. [১][স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ঋতুপর্ণার চারুলতা"। ABP। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৮ 
  2. Ganguly, Ramun (জুলাই ৮, ২০১১)। "Rahul Bose in Rangan Chakraborty's next"টাইমস অব ইন্ডিয়া 
  3. "এ যুগের চারুলতা..."। প্রথম আলো। ১৩ জুন ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]