বিষয়বস্তুতে চলুন

আশা ভোঁসলে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আশা ভোসলে
आशा भोसले
২০১৫ সালে আশা ভোসলে
জন্ম
আশা মঙ্গেশকর

(1933-09-08) ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ (বয়স ৯২)
পেশাগায়িকা, নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী
কর্মজীবন১৯৪৩ - বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গীরাহুল দেব বর্মন
সন্তান৩ (হেমন্ত ভোঁসলে, বর্ষা ভোঁসলে, আনন্দ ভোঁসলে)
আত্মীয়লতা মঙ্গেশকর (বোন)
সঙ্গীত কর্মজীবন
ধরনপপ, লোকসংগীত, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত

আশা ভোঁসলে (মারাঠি: आशा भोसले; জন্ম: আশা মঙ্গেশকর, ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩) একজন ভারতীয় নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী, উদ্যোক্তা, অভিনেত্রী ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি মূলত হিন্দি চলচ্চিত্রে নেপথ্য সঙ্গীত গাওয়ার জন্য বিখ্যাত। তার বহুমুখী প্রতিভার কারণে গণমাধ্যমে তাকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৪৩ সাল থেকে আরম্ভ করে তিনি আট দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য গান গেয়েছেন। তিনি দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৮টি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা-সহ নয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং দুটি গ্র্যামি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেছেন। তিনি ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এ ভূষিত হন। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মবিভূষণ পদকে ভূষিত করে।[] এছাড়া তিনি ২০১৮ সালে বঙ্গবিভূষণ,[] ও ২০২১ সালে মহারাষ্ট্র ভূষণ পদকে ভূষিত হন।

প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিবার মঙ্গেশকর পরিবারের সদস্য আশা ভোসলের বোন লতা মঙ্গেশকর ভারতের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী। সোপরানো কণ্ঠ[] ও বহুমুখী প্রতিভার[][][] জন্য খ্যাত ভোসলের রেকর্ডকৃত গানের তালিকায় রয়েছে চলচ্চিত্রের সঙ্গীত, পপ, গজল, ভজন, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, লোকসঙ্গীত, কাওয়ালি, ও রবীন্দ্রসঙ্গীত। হিন্দি ভাষা ছাড়াও তিনি ২০টি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় গান গেয়েছেন।[] ২০১৩ সালে মাই চলচ্চিত্র তিনি অভিনয়ের নাম লেখান এবং তার অভিনয় সমাদৃত হয়। ২০০৬ সালে ভোসলে বলেন দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ১২০০০ এরও বেশি গান গেয়েছেন।[] বিভিন্ন উৎসেও এই সংখ্যার উল্লেখ পাওয়া যায়।[][] ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকারী হিসেবে ঘোষণা করে।[১০][১১]

প্রারম্ভিক জীবন

[সম্পাদনা]

আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সঙ্গিল রাজ্যের (বর্তমান মহারাষ্ট্রে অবস্থিত) সঙ্গিল জেলার গৌড়ে এক সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা দীনানাথ মঙ্গেশকর ছিলেন মারাঠি ভাষী গোমন্থক মারাঠা সমাজের সদস্য এবং মারাঠি সঙ্গীত মঞ্চের একজন অভিনেতা ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী। ভোঁসলের যখন নয় বছর বয়স, তখন তার পিতা মৃত্যুবরণ করেন। তার পরিবার পুনে থেকে কোহলাপুর এবং পরে মুম্বইয়ে চলে আসে। তিনি ও তার বড় বোন লতা মঙ্গেশকর তাঁদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য চলচ্চিত্রে গান গাওয়া ও অভিনয় শুরু করেন। তার গাওয়া প্রথম গান হল মারাঠি ভাষার মাঝা বল (১৯৪৩) চলচ্চিত্রে "চল চল নব বল"। গানটির সুর দেন দত্ত দবজেকর। তার হিন্দি চলচ্চিত্রের গানে অভিষেক হয় হংসরাজ বেহলের চুনারিয়া (১৯৪৮)-এ "সাবন আয়া" গানে কণ্ঠ প্রদানের মাধ্যমে।[১২] তার প্রথম একক হিন্দি চলচ্চিত্রের গান ছিল রাত কী রানী (১৯৪৯) চলচ্চিত্রের জন্য।

সঙ্গীত জীবন

[সম্পাদনা]
২০০৮ সালে ভোঁসলে

গায়িকা জীবনের বিশেষ সময়

[সম্পাদনা]

তার গায়িকা জীবনকে খতিয়ে দেখলে চারটি সিনেমাকে চিহ্নিত করা যায়। এগুলো তার কেরিয়ারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। এ ছবিগুলো হলো: নয়া দৌড় (১৯৫৭), তিসরি মঞ্জিল (১৯৬৬), উমরাও জান (১৯৮১) এবং রঙ্গীলা (১৯৯৫)।

সঙ্গীত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ

[সম্পাদনা]

ও. পি. নয়্যার

[সম্পাদনা]

ও. পি. নয়্যারের সাথে আশার প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৫২ সালে "ছম ছম ছম" গানের রেকর্ডিঙে।[১৩] নয়্যার প্রথম আশাকে মঙ্গু (১৯৫৪) চলচ্চিত্রের গানের জন্য ডাকেন এবং সিআইডি (১৯৫৬) চলচ্চিত্রের গানের মাধ্যমে তাঁকে সুযোগ দেন। যাই হোক, নয়া দৌড় (১৯৫৭) চলচ্চিত্রের গান দিয়ে এই যুগল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।[১৪] ১৯৫৯ সালের পর তারা দুজনে প্রেম ও পেশাদারী সম্পর্কে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়েন।

নয়্যার ও ভোঁসলে যুগল মনোমুগ্ধকর গানের মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে আছেন। এই যুগলের রেকর্ডকৃত কয়েকটি গান হল হাওড়া ব্রিজ (১৯৫৮) ছবিতে মধুবালার উপর চিত্রায়িত "আইয়ে মেহেরবান", মেরে সনম (১৯৬৫) ছবিতে মুমতাজের উপর চিত্রায়িত "ইয়ে হ্যায় রেশমি জুলফোঁ কা আন্ধেরা"। কিসমত ছবির "আও হুজুর তুমকো" এবং মেরে সনম ছবির "যাইয়ে আপ কাহাঁ" গানগুলোও জনপ্রিয়তা লাভ করে। এছাড়া তারা তুমসা নহীঁ দেখা (১৯৫৭), এক মুসাফির এক হাসিনা (১৯৬২) ও কাশ্মীর কী কলি (১৯৬৪) ছবির জন্য গান রেকর্ড করেন। নয়্যার আশা ভোঁসলে-মোহাম্মদ রফি যুগলকে তার কয়েকটি জনপ্রিয় গানে ব্যবহার করেন, সেগুলো হল নয়া দৌড় ছবির "উড়ে জব জব জুলফেঁ তেরি", এক মুসাফির এক হাসিনা ছবির "ম্যাঁয় প্যায়ার কা রাহি হুঁ" এবং কাশ্মীর কি কলি ছবির "দিওয়ানা হুয়া বাদল" ও "ইশারোঁ ইশারোঁ মেঁ"। নয়্যারের জন্য গাওয়া আশার শেষ গান ছিল প্রাণ যায়ে পার বচন না যায়ে (১৯৭৪) ছবির জন্য।

খৈয়াম

[সম্পাদনা]

আশার প্রারম্ভিক কর্মজীবনে অপর একজন সঙ্গীত পরিচালক তাঁকে সুযোগ দেন, তিনি হলেন মোহাম্মদ জহুর খৈয়াম। এই যুগলের প্রথম কাজ ছিল বিবি (১৯৪৮) ছবিতে। ১৯৫০-এর দশকে আশা খৈয়ামের সঙ্গীত পরিচালনায় বেশ কিছু কাজ করেন, তন্মধ্যে রয়েছে দর্দফির সুবাহ হোগি। এই যুগল উমরাও জান ছবির গানের জন্য সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়।[১৫]

সুরকার রবি আশাকে তার অন্যতম প্রিয় সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গণ্য করেন। আাশা তার বেশ কিছু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের জন্য গান রেকর্ড করেন, সেগুলো হল ওয়াক্ত, চৌধবীঁ কা চাঁদ, গুমরাহ, বহু বেটি, চায়না টাউন, আদমি অউর ইনসান, ধুন্দহামরাজচৌধবীঁ কা চাঁদ ছবির জন্য রবি চেয়েছিলেন গীতা দত্ত (চলচ্চিত্রটির অভিনেতা ও প্রযোজক গুরু দত্তের স্ত্রী) গানগুলো গাইবেন। কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানালে গুরু দত্তের অনুরোধে আশাকে দিয়ে গানগুলো গাওয়ানো হয়।[১২]

শচীন দেববর্মণ

[সম্পাদনা]

১৯৫৭ থেকে ১৯৬২ সালের মধ্যে বলিউডের অন্যতম প্রখ্যাত সুরকার শচীন দেববর্মণ ও তার প্রিয় সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের বিরূপ সম্পর্ক চলাকালীন শচীন তার গানের প্রধান নারী কণ্ঠের জন্য আশাকে ব্যবহার করেন।[১৬] এই যুগল একাধিক চলচ্চিত্রে হিট গান উপহার দেন, তন্মধ্যে রয়েছে কালা পানি, কালা বাজার, ইনসান জাগ উঠা, লাজয়ন্তী, সুজাতাতিন দেবিয়াঁ

রাহুল দেব বর্মণ

[সম্পাদনা]

আশা ও রাহুল দেববর্মণের প্রথম সাক্ষাৎ হয় যখন আশা দুই সন্তানের জননী এবং সঙ্গীত নিয়ে কর্মজীবন শুরুর লক্ষ্যে স্কুল থেকে ছিটকে পড়েন। তাঁদের প্রথম কাজ ছিল তিসরি মঞ্জিল (১৯৬৬) ছবিতে।[১৪] এই যুগল পরবর্তীকালে ক্যাবারে, রক, ডিস্কো, গজন ও শাস্ত্রীয়সহ বিভিন্ন ধারার গান রেকর্ড করেন।

১৯৭০-এর দশকে আশা ও রাহুল বলিউডে পশ্চিমা ধারার গান নিয়ে আসেন ক্যারভান ছবিতে হেলেনের উপর চিত্রায়িত "পিয়া তু আব তো আজা", হরে রাম হরে কৃষ্ণ (১৯৭১) ছবিতে "দম মারো দম", আপনা দেশ (১৯৭২) ছবিতে "দুনিয়া মেঁ" এবং ইয়াদোঁ কি বারাত (১৯৭৩) চলচ্চিত্রতে "চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে" গানের মধ্যে দিয়ে।

এ. আর. রহমান

[সম্পাদনা]

এ. আর. রহমানকে রঙ্গিলা (১৯৯৪) ছবির গানের মাধ্যমে আশাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রদান করা হয়। এই ছবির "তানহা তানহা" ও "রঙ্গিলা রে" গান দুটি বিভিন্ন তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছিল। রহমানের সাথে তার অন্যান্য গানগুলো হল তক্ষক ছবির "মুঝে রং দে, লগান ছবিতে উদিত নারায়ণের সাথে "রাধা ক্যায়সে না জলে", তাল ছবির "কাহিঁ আগ লাগে", দাউদ ছবিতে কে জে ইয়েসুদাস সাথে "ও ভাঁওরে", ইরুভার ছবিতে "ভেনিলা ভেনিলা", আলাইপায়ুদে (২০০০) ছবিতে "সেপ্টেম্বর মাধম" এবং মীনাক্ষী (২০০৪) ছবিতে "ধুঁয়া ধুঁয়া[১২]

বাংলা গান

[সম্পাদনা]

আশা ভোঁসলে বাংলা সিনেমার জন্য বহু ছায়াছবিতে নেপথ্য সঙ্গীত গেয়েছেন। এছাড়া তিনি অনেক বাংলা আধুনিক গান ও রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং নজরুলগীতি গেয়েছেন। আশা ভোঁসলের সেরা বাংলা গানের তালিকা :-

  1. নাচ ময়ূরী নাচ রে (১৯৫৮)
  2. আকাশে আজ রঙের খেলা (১৯৫৮)
  3. যে গান তোমায় আমি (১৯৬১)
  4. আমি খাতার পাতায় (১৯৬২)
  5. আহা ! পাতা কেটে চুল বেঁধে কে (১৯৬৬)
  6. মনের মানুষ ফিরলো ঘরে (১৯৬৬)
  7. জীবন গান গাহি কি যে (১৯৬৭)
  8. মন নিয়ে কি মরব নাকি (১৯৬৮)
  9. মনের মানুষ খুঁজিতে এসে (১৯৬৮)
  10. এই এদিকে এসো এসো বলছি (১৯৬৮)
  11. যাব কি যাব না ভেবে ভেবে (১৯৬৮)
  12. আমি পথভোলা (১৯৬৯) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  13. দীপ জ্বেলে ঐ তারা (১৯৬৯)
  14. একলি বিরল নিরল শয়নে (১৯৬৯)
  15. মনের নাম মধুমতি (১৯৬৯)
  16. কোন্ সে আলোর (১৯৬৯)
  17. রাত যে মধুমতী (১৯৭০)
  18. আমি আপন করিয়া (১৯৭০)
  19. মধুবনে বাঁশি বাজে (১৯৭০)
  20. আজ গুন গুন গুন গুন কুঞ্জে (১৯৭০)
  21. বন্ধ ঘরের অন্ধকারে থাকব না (১৯৭০)
  22. মেঘের কোলে (১৯৭০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  23. আজ দুজনে মন্দ (১৯৭১)
  24. নাচ আছে গান আছে (১৯৭১)
  25. ধারালো ঝক ঝক (১৯৭১)
  26. চোখে চোখে কথা বলো (১৯৭১)
  27. পোড়া বাঁশি শুনে (১৯৭১)
  28. আরো দূরে চলো যাই (১৯৭১)
  29. সাগর ডাকে আয় (১৯৭২)
  30. মন মেতেছে (১৯৭২)
  31. কেন সর্বনাশের নেশা (১৯৭২)
  32. ফুলে গন্ধ নেই (১৯৭৩)
  33. আমি অন্ধকারের যাত্রী (১৯৭৩)
  34. আয় চলে আয় (১৯৭৩)
  35. মহুয়ায় জমেছে আজ (১৯৭৪)
  36. সন্ধ্যাবেলায় তুমি আমি বসে (১৯৭৪)
  37. জানিনা আজ যে আপন (১৯৭৪)
  38. বেশ করেছি প্রেম করেছি (১৯৭৪)
  39. পাগলা গারদ (১৯৭৪)
  40. আলো আর আলো দিয়ে (১৯৭৫)
  41. লক্ষ্মীটি দোহাই তোমার (১৯৭৫)
  42. গুঞ্জনে দোলে যে ভ্রমর (১৯৭৬)
  43. কথা দিয়ে এলে না (১৯৭৬)
  44. ময়না বল তুমি (১৯৭৬)
  45. কাছে আছো তুমি (১৯৭৬)
  46. তুমি চন্দ্র তুমি সূর্য তুমি (১৯৭৭)
  47. আমার স্বপ্ন তুমি (১৯৭৭)
  48. কিনে দে রেশমী চুড়ি (১৯৭৭)
  49. থুইলাম রে মন পদ্ম পাতায় (১৯৭৮)
  50. ছন্দে ছন্দে গানে গানে (১৯৭৯)
  51. ওঠ্ ছুড়ি তোর বিয়া লেগেছে (১৯৭৯)
  52. জগতে আনন্দযজ্ঞে (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  53. তোমারি ঝর্ণাতলার নির্জনে (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  54. আমার বেলা যে (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  55. বড়ো আশা করে (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  56. সহে না যাতনা (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  57. কুসুমে কুসুমে (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  58. এসো শ্যামল (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  59. তুমি কোন্ (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  60. আমার মন মানে (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  61. স্বপ্নে আমার মনে (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  62. ডেকোনা আমারে ডেকোনা (১৯৮০) (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
  63. আসবো আরেকদিন আজ যাই (১৯৮০)
  64. আধো আলো ছায়াতে (১৯৮১)
  65. একই সাথে হাত ধরে (১৯৮১)
  66. কথা হয়েছিল (১৯৮২)
  67. জানা অজানা পথে চলেছি (১৯৮২)
  68. আরো কাছাকাছি আরো (১৯৮২)
  69. একটু বসো চলে যেও না (১৯৮২)
  70. চোখে নামে বৃষ্টি (১৯৮২)
  71. মাছের কাঁটা খোঁপার কাঁটা (১৯৮২)
  72. আমি জানিনা কেন (১৯৮২)
  73. একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও (১৯৮৩)
  74. কি যাদু তোমার চোখে (১৯৮৩)
  75. কে যেন আমার ঘুম ভাঙিয়ে (১৯৮৩)
  76. আকাশে সূর্য আছে যতদিন (১৯৮৩)
  77. বৃষ্টি থামার শেষে (১৯৮৩)
  78. বন্ধ মনের দুয়ার (১৯৮৩)
  79. কী যেন আবির (১৯৮৩)
  80. প্রেম কিসে হয় (১৯৮৪)
  81. নাগর আমার কাঁচা পীরিত (১৯৮৫)
  82. ছেড়োনা ছেড়োনা হাত (১৯৮৫)
  83. ও ডিয়ার আর কি (১৯৮৫)
  84. চাইনা আমার রেশমী চুড়ি (১৯৮৫)
  85. ভেবেছি ভুলে যাবো (১৯৮৫)
  86. তুমি কত যে দূরে (১৯৮৫)
  87. বধূয়া রিমি ঝিমি এই শ্রাবণে (১৯৮৬)
  88. ফিরে এলাম দূরে গিয়ে (১৯৮৬)
  89. কোথা কোথা খুঁজেছি তোমায় (১৯৮৬)
  90. খুব চেনা চেনা মুখখানি (১৯৮৬)
  91. না ডেকো ডেকো না গো মোরে (১৯৮৬)
  92. বাঁশি শুনে কি ঘরে থাকা (১৯৮৬)
  93. না না না কাছে এসো না (১৯৮৭)
  94. খেলবো হোলি রং (১৯৮৭)
  95. তোল ছিন্ন বীণা (১৯৮৭)
  96. হায়রে কালা একি (১৯৮৭)
  97. এমন নিঝুম সন্ধ্যায় (১৯৮৭)
  98. ও তোমারি চলার পথে (১৯৮৭)
  99. চিরদিনই তুমি যে আমার (১৯৮৭)
  100. আমি মন দিয়েছি (১৯৮৭)
  101. আমার ইচ্ছে করছে ভালবাসতে (১৯৮৭)
  102. আজ আমি অচেনা যে (১৯৮৭)
  103. কথা দিলাম (১৯৮৭)
  104. আমি ভাবছি (১৯৮৭)
  105. এ মন আমার হারিয়ে (১৯৮৮)
  106. বলো বলো তুমি মোরে (১৯৮৮)
  107. ছোট্ট একটা ভালবাসা (১৯৮৮)
  108. গা ছমছম কী হয় (১৯৮৮)
  109. জীবনের সার তুমি (১৯৮৮)
  110. গুন গুন করে মন (১৯৮৮)
  111. আজ দোলে মন কার ইশারাতে (১৯৮৮)
  112. ঠাকুরঝি কেমন তোমার ভাই (১৯৮৮)
  113. ভালবাসার এই কী রে খাজনা (১৯৮৮)
  114. নয়নের মণি তুই (১৯৮৮)
  115. বেশি কী বলি (১৯৮৮)
  116. আর কত রাত একা (১৯৮৯)
  117. জাদু জাদু (১৯৮৯)
  118. একটু ছোঁয়া একটু দেখা (১৯৮৯)
  119. বাজলো যে ঘুঙরু (১৯৮৯)
  120. বাজে ঢোল তাক ধিনা ধিন (১৯৮৯)
  121. দেওয়া নেওয়া মন (১৯৮৯)
  122. বহু আশা নিয়ে ভালবাসা (১৯৮৯)
  123. এক নায়িকা একাই ছিল (১৯৯০)
  124. এসো আলো এসো হে (১৯৯০)
  125. আমার মনের অঙ্গনে (১৯৯০)
  126. কত না ভাগ্যে আমার (১৯৯০)
  127. গুন গুন গুন গুন মনভ্রমরা (১৯৯০)
  128. মন বলছে কেউ আসবে (১৯৯০)
  129. একি ভালবাসা (১৯৯০)
  130. গা পা গা রে সা (১৯৯০)
  131. পা ভাঙেনি মন ভেঙেছে (১৯৯১)
  132. আমার গর্ব শুধু এই (১৯৯১)
  133. তুমি আমার নয়ন গো (১৯৯২)
  134. লুকাবো প্রেম কী করে (১৯৯৪)
  135. ছোট্ট সে ছেলেবেলা (১৯৯৪)
  136. ক্ষণিকের খুশি পেতে গিয়ে (১৯৯৫)
  137. মন নিয়ে সবাই আসে (২০০২)
  138. শরমের ওড়না ছিঁড়ে (২০০২)
  139. দূর দ্বীপবাসিনী (২০০২) (নজরুলগীতি)
  140. অরুণকান্তি কে (২০০২) (নজরুলগীতি)
  141. চাঁদ হেরিছে (২০০২) (নজরুলগীতি)
  142. রুমঝুম রুমঝুম (২০০২) (নজরুলগীতি)
  143. নহে নহে প্রিয় (২০০২) (নজরুলগীতি)
  144. হারানো হিয়ার (২০০২) (নজরুলগীতি)
  145. মেঘলা নিশি (২০০২) (নজরুলগীতি)
  146. ভরিয়া পরান (২০০২) (নজরুলগীতি)
  147. আজো কাননে (২০০২) (নজরুলগীতি)
  148. ভুলি কেমনে (২০০২) (নজরুলগীতি)
  149. গাঙে জোয়ার (২০০২) (নজরুলগীতি)
  150. পরদেশি মেঘ (২০০২) (নজরুলগীতি)
  151. এ কোন্ মধুর (২০০২) (নজরুলগীতি)
  152. পরজনমে দেখা (২০০২) (নজরুলগীতি)
  153. শোনো এই তো সময় (২০১৪)
  154. ফিরে এসো অনুরাধা (২০১৪)
  155. যেতে যেতে পথে হল দেরি (২০১৪)
  156. ডেকে ডেকে কত কথা ছিল (২০১৪)
  157. মনে পড়ে রুবি রায় (২০১৪)
  158. আগে আমি যদি জানতাম (২০১৪)
  159. এলে না তুমি (২০১৪)
  160. শোনো মন বলি তোমায় (২০১৪)

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

আশার দিদি বা বড় বোন হচ্ছেন তার মতোই আরেক জনপ্রিয় গায়িকা লতা মঙ্গেশকর

খ্যাতিমান গায়ক এবং সুরকার শচীন দেববর্মনের পুত্র ও বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক এবং সুরকার রাহুল দেববর্মন ছিলেন তার দ্বিতীয় স্বামী। তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। তন্মধ্যে ২য় সন্তান বর্ষা ভোঁসলে ৮ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র মাথায় ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন।[১৭]

লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

[সম্পাদনা]

সঙ্গীতজীবনে দীর্ঘ ৫ দশক সেরা শিল্পীর দৌড়ে ছিলেন এই দুই বোন। ১৯৫৭ সালে নয়া দৌড়, আশা, নবরঙ্গ, মাদার ইন্ডিয়া, দিল দেকে দেখো, পেয়িং গেস্ট প্রমুখ চলচ্চিত্রে একেরপর এক হিট গান গেয়ে লতাকে হটিয়ে রাতারাতি বলিউডের শীর্ষস্থান পেয়ে যান আশা, যার পুরোটাই ওপি নায়ারের বদৌলতে। ১৯৫৮ সালে হাওড়া ব্রিজ, কাগজ কে ফুল, ফাগুন প্রমুখ ছবির মাধ্যমে জয়যাত্রা অব্যাহত রাখেন। তবে বেশিদিন শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেননি তিনি। কারণ, ওপি নায়ার ছাড়া বাকি সব প্রথমসারির সুরকারদের প্রথম পছন্দ ছিল লতা। তাই, ১৯৫৯ সালেই পুর্বের ছন্দ ফিরে পান লতা।তবে, ১৯৭০এর দশকে লতাকে একেবারে হাড্ডাহাড্ডি টক্কর দেন আশা। কারণ, লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলাল যেমন লতাকে সব ছবিতেই প্রাধান্য দিতেন তেমনি আর ডি বর্মন আর কল্যাণজি আনন্দজী প্রাধান্য দিতেন আশাকে। এছাড়া লতা যেমন হেমা মালিনী, রাখী, মুমতাজ, মৌসুমী চ্যাটার্জির জন্য চিরস্থায়ী কণ্ঠ ছিলেন তেমনি আশার কণ্ঠ আরোপ করা হত জীনাত আমান, পারভীন ববি, রেখা ও শর্মিলা ঠাকুরের প্রতিটি ছবিতে।

পুরস্কার

[সম্পাদনা]

১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আশা ভোঁসলে সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৭ সালের পর তিনি জানান যে তার নাম যেন আর ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের জন্য গণ্য করা না হয়। ২০০১ সালে তিনি 'ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার' পান।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৯ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুলাই ২০১৩
  2. "'বঙ্গবিভূষণ' পুরস্কার পেলেন আশা ভোঁসলে, সমরেশ, প্রসেনজিৎ" [Banga Bibhushan for Asha Bhosle, Samaresh, Prasenjit and others]জাগো নিউজ। ২২ মে ২০১৮। ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  3. Mr. 55 (১০ মে ২০১২)। "Bollywood's Beloved Sopranos: Lata and Asha's Highest Notes"Classic Bollywood Revisited। Mr. and Mrs. 55। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১৮{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  4. গুলজার; নিহলানি, গোবিন্দ; চ্যাটার্জি, শৈবাল (২০০৩)। Encyclopaedia of Hindi Cinema। পপুলার প্রকাশন। পৃ. ৫৩২–৫৩৩। আইএসবিএন ৮১-৭৯৯১-০৬৬-০
  5. ভি.এল (৭ জুন ২০০৮)। "Chords & Notes"দ্য হিন্দু। ৭ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  6. World Music: Latin and North America, Caribbean, India, Asia and Pacific; By Simon Broughton, Mark Ellingham, Richard Trillo; Rough Guides, 2000
  7. 1 2 The International Who's Who. 2004. Europa Publications. Routledge.
  8. (বেঙ্কটেশ, জ্যোতি। "Asha Bhosle: Sa Re Ga Ma..."। Vashi2Panvel.com। ২০ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  9. ভারতন, রাজু (২৩ আগস্ট ২০০৬)। "How fair were they to Mohammed Rafi?: Page 7"রেডিফ.কম। ৩০ মে ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  10. "Guinness World Record for the most studio recordings - singles"গিনেস বিশ্ব রেকর্ড (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ অক্টোবর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  11. "I am honoured after receiving this award: Asha Bhosle"। ২২ অক্টোবর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৪
  12. 1 2 3 "Asha, 70 years, 70 landmarks"রেডিফ.কম (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ সেপ্টেম্বর ২০০৩। ৮ নভেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  13. "Asha Bhosle was the best person I ever met, An interview with O.P. Nayyar"। ইন্ডিয়া.কম। ৫ মার্চ ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  14. 1 2 পিল্লাই, জিতেশ (৩১ জুলাই ২০০৫)। "Notes to Myself (An interview with Asha Bhosle)"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, মুম্বইদ্য টাইমস গ্রুপ। পৃ. ৪৩। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  15. ভারতন, রাজু (২০১০)। A journey down melody lane। নতুন দিল্লি: হে হাউজ পাবলিকেশন্স। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৮৯৯৮৮৯১৩
  16. খুবচন্দনী, লতা (২০০৩)। গুলজার; গোবিন্দ নিহলানী; শৈবাল চ্যাটার্জি (সম্পাদকগণ)। Encyclopaedia of Hindi Cinema। পপুলার প্রকাশন। পৃ. ৪৮৬–৪৮৭। আইএসবিএন ৮১-৭৯৯১-০৬৬-০
  17. দৈনিক যুগান্তর, দশ দিগণ্ত, মুদ্রিত সংস্করণ, পৃষ্ঠা-৮, ৯ অক্টোবর, ২০১২ইং, আশা ভোঁসলের মেয়ে বর্ষার আত্মহত্যা

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]