চিত্রাঙ্কন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এর মোনা লিসা, পৃথিবীর অন্যতম পরিচিত চিত্রকর্ম
একটি প্রাচীনতম আলঙ্কারিক চিত্রকর্ম। একটি ষাঁড়ের চিত্রাঙ্কন, যা ৪০,০০০ বছর আগে আঁকা এবং একটি গুহায় আবিষ্কৃত হয়।
একদল গন্ডারের শৈল্পিক চিত্রাঙ্কন, যা শোভেত গুহায় ৩০,০০০ থেকে ৩২,০০০ পূর্বে আঁকা হয়।

চিত্রাঙ্কন (স্পষ্টতর অর্থে রংচিত্র অঙ্কন) বলতে কোনও সমতল পৃষ্ঠের উপর সাধারণত তুলি বা আঙুলের মাধ্যমে এক বা একাধিক রঙ (বিশেষ পদার্থে মিশ্রিত রঞ্জক পদার্থ) লেপন করে কোনও চিত্র অঙ্কন করাকে বোঝায়। চিত্রাঙ্কন প্রক্রিয়ার শেষে যে শিল্পকর্ম সৃষ্টি হয়, তাকে চিত্রকর্ম বলে। একজন শিল্পী যিনি পেশাগত কাজ অথবা শখের বশে চিত্রাঙ্কনের কাজ করেন তাকে চিত্রকর বা চিত্রশিল্পী বলা হয়।

রংচিত্র অঙ্কন একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যকলা, যা অঙ্কন, অঙ্গভঙ্গি (অঙ্গভঙ্গি চিত্রকর্ম হিসেবে) কিংবা যে কোনো রচনা বিমূর্ত করে তোলে।[১] চিত্রকর্ম হতে পারে স্বতঃস্ফূর্ত এবং প্রতিনিধিত্বমূলক (যেমনটি পাওয়া যায় স্থিরচিত্রে(Still Life) কিংবা প্রাকৃতিক চিত্রকর্মে, বিমূর্ত, বর্ণনামূলক, প্রতীকী কিংবা আবেগপুর্ণ।

প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্য উভয়ের চিত্রাঙ্কনের ইতিহাসের একটি অংশ ধর্মীয় চিত্রকলা দ্বারা প্রভাবিত। এই ধরনের চিত্রকর্মের নিদর্শন পাওয়া যায় মৃৎশিল্পের ওপর আঁকা পৌরাণিক চরিত্রের, বাইবেলে উল্লেখিত চরিত্রের, বুদ্ধের জীবন নিয়ে আঁকা দৃশ্যপটে কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় চিত্রক্রমে যা পূর্বাঞ্চলের দেশগুলো থেকে জন্ম নিয়েছে।

যে জিনিসের উপর চিত্রাঙ্কন করা যায়, তাকে অবলম্বন বলে। অবলম্বনগুলির মধ্যে আছে দেয়াল, কাগজ, ক্যানভাস, কাঠ, কাঁচ, বার্নিশ, pottery, পাতা, তামা এবং কংক্রিট। আবার যেসব ব্যবহার করে চিত্রকর্ম করা যায় তার মধ্যে আছে বালি, কাদা, কাগজ, চুন, শুকনো পাতাসহ আরও অনেক কিছু।

চিত্রকর্মের উপাদানসমূহ[সম্পাদনা]

Chen Hongshou (1598–1652), Leaf album painting (Ming dynasty)
Pigment Colours – Classification

রং এবং এর তীব্রতা[সম্পাদনা]

রং, তিনটি বিষয়ের উপর নিরভরশীল। ঔজ্জ্বল্য, গাঢ়তা এবং পরিমাণ। নির্দিষ্ট পরিমাণে এগুলো ছড়িয়ে দিয়ে চিত্রকর্মের নির্যাস তৈরি হয় যেমনটি হয় গানের ক্ষেত্রে তাল ও লয়ের সমন্বয়ে। রঙের ব্যাপারটা বস্তুগত কিন্তু এর উপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব রয়েছে যদিও বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এর প্রভাব বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে কালো রং শোকের প্রতীক আবার পূর্বাঞ্চলের সংস্কৃতিতে সাদা হলো শোকের প্রতীক। কিছু চিত্রশিল্পী, তাত্ত্বিক, লেখক এবং বিজ্ঞানী যেমন গ্যোটে,[২] কান্ডিস্কি,[৩] এবং নিউটন,[৪] নিজস্ব বর্ণ তত্ত্ব লিখেছেন।

উপরন্তু, বিভিন্ন রঙের প্রদত্ত নাম শুধু বিমূর্ত কিছু ধারণা মাত্র। যেমন "লাল" শব্দটি দিয়ে আলোর দৃশ্যমান বর্ণালীর মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের লাল রংকে বোঝানো যায়। রঙের বৈচিত্রের কোনো বিধিবদ্ধ নিয়ম নেই যেমনটা সঙ্গীতের বিভিন্ন সুরের ক্ষেত্রে আছে। একজন চিত্রশিল্পীর কাছে রং হলো কিছু মৌলিক রং এবং কিছু রঙের সমন্বয়ে গঠিত যৌগিক রং (যেমন লাল, নীল, সবুজ ইত্যাদি)।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Perry, Lincoln (Summer ২০১৪)। "The Music of Painting"। The American Scholar83 (3): 85। 
  2. Johann Wolfgang von Goethe, Goethe's theory of colours, John Murray, London 1840
  3. Wassily Kandinsky Concerning The Spiritual In Art, [Translated By Michael T. H. Sadler, pdf.
  4. A letter to the Royal Society presenting A new theory of light and colours Isaac Newton, 1671 pdf