পদ্মা সেতু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
পদ্মা বহুমুখী সেতু
Querschnitt Konstruktion Padma-Brücke.svg
নির্মাণাধীন পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রস্থচ্ছেদ
স্থানাঙ্ক২৩°২৬′৪৬″ উত্তর ৯০°১৫′৪৪″ পূর্ব / ২৩.৪৪৬০° উত্তর ৯০.২৬২৩° পূর্ব / 23.4460; 90.2623স্থানাঙ্ক: ২৩°২৬′৪৬″ উত্তর ৯০°১৫′৪৪″ পূর্ব / ২৩.৪৪৬০° উত্তর ৯০.২৬২৩° পূর্ব / 23.4460; 90.2623
বহন করেযানবাহন, ট্রেন
অতিক্রম করেপদ্মা নদী
স্থানলৌহজং, মুন্সিগঞ্জ এর সাথে শরিয়তপুরমাদারীপুর
অফিসিয়াল নামপদ্মা বহুমুখী সেতু
রক্ষণাবেক্ষকবাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ
বৈশিষ্ট্য
নকশাএ.ই.সি.ও.এম
উপাদানকংক্রিট, স্টিল
মোট দৈর্ঘ্য৬,১৫০ মি (২০,১৮০ ফু)
প্রস্থ১৮.১০ মি (৫৯.৪ ফু)
ইতিহাস
নকশাকারAECOM
নির্মাণকারীচায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিঃ
নির্মাণ শুরু৭ ডিসেম্বর, ২০১৪
নির্মাণ শেষ২০২১
চালু২০২১ [১]

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সিগঞ্জের সাথে শরিয়তপুরমাদারীপুর যুক্ত হবে, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে এর ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তর বিশিষ্ট ষ্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির (truss bridge) ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে থাকবে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর আববাহিকায় ১৫০মিটার দৈর্ঘ্যর ৪১টি স্পান বসবে , ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত হচ্ছে দেশটির সবচে বড় সেতু।[৩] সরকারের পরিকল্পনামাফিক ২০১৮ সালের শেষের দিকে এটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও তা হয় নি।[৪]

প্রকল্পটি তিনটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে- মুন্সীগঞ্জ (মাওয়া পয়েন্ট / উত্তর পাড়), শরীয়তপুর এবং মাদারীপুর (জঞ্জিরা / দক্ষিণ পাড়)। এটির জন্য প্রয়োজনীয় এবং অধিগ্রহণকৃত মোট জমির পরিমাণ ৯১৮ হেক্টর। নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ভাড়ার ভিত্তিতে আগামী ছয় বছরে অধিযাচন করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তুতির সাথে যুক্ত কিছু লোকের দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় বিশ্বব্যাংক তার প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নেয় এবং অন্যান্য দাতারা সেটি অনুসরণ করে। যাইহোক, দুর্নীতি অভিযোগ পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং কোন প্রমাণ না পাওয়ায় কানাডিয়ান আদালত পরবর্তীতে মামলাটি বাতিল করে দেয়। বর্তমানে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব সম্পদ থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে।[৫] AECOM এর ডিজাইনে পদ্মা নদীর উপর বহুমুখী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প 'পদ্মা বহুমুখী সেতুর' নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালে এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালে। মূল প্রকল্পের পরিকল্পনা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্প পাস করেছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর ব্যয় আরও আট হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়। ফলে পদ্মা সেতুর ব্যয় দাঁড়িয়েছে সব মিলিয়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা । [৬]

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বাসেক) ২০১০ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের জন্য প্রাক যোগ্যতা দরপত্র আহবান করে। ২০১১ সালের শুরুর দিকে সেতুর নির্মাণ কাজ আরম্ভ হওয়ার কথা ছিল[৭] এবং ২০১৩ সালের মধ্যে প্রধান কাজগুলো শেষ হবে (সকল কাজ ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে[৮])। প্রস্তাবিত পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প মাওয়া-জাজিরা পয়েন্ট দিয়ে নির্দিষ্ট পথের মাধ্যমে দেশের কেন্দ্রের সাথে দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সরাসরি সংযোগ তৈরি করবে। এই সেতুটি অপেক্ষাকৃত অনুন্নত অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখবে। প্রকল্পটির ফলে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৪৪,০০০ বর্গ কিঃমিঃ (১৭,০০০ বর্গ মাইল) বা বাংলাদেশের মোট এলাকার ২৯% অঞ্চলজুড়ে ৩ কোটিরও অধিক জনগণ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে। ফলে প্রকল্পটি দেশের পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। সেতুটিতে ভবিষ্যতে রেল, গ্যাস, বৈদ্যুতিক লাইন এবং ফাইবার অপটিক কেবল সম্প্রসারণের ব্যবস্থা রয়েছে।

এই সেতুটি নির্মিত হলে দেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।[৯]

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সংক্ষিপ্তসার[সম্পাদনা]

নকশা
পদ্মা বহুমুখী সেতুর সম্পুর্ণ নকশা এইসিওএমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে গঠিত একটি দল তৈরি করে।[১০]

চুক্তিবদ্ধ সংস্থা[সম্পাদনা]

সেতুটি তৈরির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড এর আওতাধীন চায়না মেজর ব্রীজ নামক একটি কোম্পানী। কাজ শুরু হয় ৭ ডিসেম্বর ২০১৪। এতে ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা৷[১১]

গুজব[সম্পাদনা]

জুলাই ২০১৯ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে মানুষের মাথা লাগবে বলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ায়। এতে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অপহরণকারী ধারণা করে অনেক মানসিক ভারসাম্যহীনকে মারধরে পুলিশে হস্তান্তর করার ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনাকে গুজব ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে ৯ জুলাই ২০১৯ তারিখে সেতু নির্মাণ কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। এক্ষেত্রে গবেষকরা সেতু কর্তুপক্ষকে সেতুটি নির্মাণে খুঁটিনাটি সকল তথ্য জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ দেন। [১২][১৩]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "নির্বাচনের আগে হচ্ছে না পদ্মা সেতু"দৈনিক প্রথম আলো। ২০ ডিসেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৮ 
  2. https://www.thedailystar.net/backpage/padma-bridge-cost-rises-again-1593706
  3. প্রথম আলো (৮ ডিসেম্বর ২০১৪)। "বাস্তবের পথে পদ্মা সেতু"। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  4. "এক নজরে পদ্মা সেতু"Bangla Tribune। ২০১৮-০৫-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৫-২৪ 
  5. "পদ্মা সেতু হচ্ছে, খরচও বাড়ছে"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১০-২১ 
  6. https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1463076/
  7. "Funds for Pawdda Bridge Arranged"Bangladesh News। ৪ ডিসেম্বর ২০১০। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১১ 
  8. "ADB Approves Loan for Bangladesh Bridge Project"। roadtraffic-technology.com। ৩০ নভেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১১ [অনির্ভরযোগ্য উৎস?]
  9. স্বপ্নের সেতু, বাস্তবের সেতু [Dream bridge, the real bridge]। BanglaNews24.com 
  10. http://www.roadtraffic-technology.com/projects/padma-bridge/padma-bridge4.html[অনির্ভরযোগ্য উৎস?]
  11. ডয়েচ ভেল (2017-09-30)। "দৃশ্যমান পদ্মা সেতু"। সংগ্রহের তারিখ : ১২ ডিসেম্বর ২০১৭  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  12. "গুজবের জবাব দিলো পদ্মাসেতু"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০১৯ 
  13. "পদ্মা সেতু তৈরিতে মানুষের মাথা লাগার গুজব কেন ছড়ালো?"বিবিসি বাংলা। ১০ জুলাই ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০১৯ 

https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1463076/

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]