গড়াই-মধুমতি নদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(মধুমতি নদী থেকে পুনর্নির্দেশিত)
গড়াই-মধুমতি নদী
অববাহিকার দেশ বাংলাদেশ
অবস্থান কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, পিরোজপুরবরগুনা[১]
দৈর্ঘ্য ৩৭২ কিলোমিটার
গড় নিষ্কাশন (তথ্য প্রয়োজন)
অববাহিকা আয়তন (তথ্য প্রয়োজন)
নদ প্রণালী (তথ্য প্রয়োজন)
বাম উপনদী (তথ্য প্রয়োজন)
ডান উপনদী (তথ্য প্রয়োজন)

স্থানাঙ্ক: ২৩°৫৫′০০″উত্তর ৮৯°০৯′০০″পূর্ব / ২৩.৯১৬৭° উত্তর ৮৯.১৫০০° পূর্ব / 23.9167; 89.1500

মানচিত্রে গড়াই-মধুমতি সহ বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদী

গড়াই-মধুমতি নদী পদ্মার একটি প্রধান শাখানদী, বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি উজানে গড়াই এবং ভাটিতে মধুমতী নামে পরিচিত।[২] নদীটি কুষ্টিয়া জেলার তালবাড়িয়া হতে মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর পর্যন্ত গড়াই নামে এবং এখান থেকে নড়াইল জেলার মধ্যে নাম হয় মধুমতী। আরো দক্ষিণে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার কাছে এটির নাম বলেশ্বর। এ নামেই পরবর্তীতে পিরোজপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং বরগুনায় এসে মোহনার কাছাকাছি হরিণঘাটা নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। একসময় গড়াই-মধুমতি নদী দিয়ে গঙ্গার প্রধান ধারা প্রবাহিত হতো, যদিও হুগলি-ভাগীরথী ছিল গঙ্গার আদি ধারা। কুষ্টিয়া জেলার উত্তরে হার্ডিঞ্জ সেতু-এর ১৯ কিলোমিটার ভাটিতে তালবাড়িয়া নামক স্থানে গড়াই নদী পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। নদীটি কুষ্টিয়া জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গণেশপুর নামক স্থানে ঝিনাইদহ জেলায় প্রবেশ করেছে। অতঃপর ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সীমানা বরাবর প্রবাহিত হয়ে চাদর নামক গ্রাম দিয়ে রাজবাড়ী জেলায় প্রবেশ করেছে। এরপর ঝিনাইদহ-রাজবাড়ী, মাগুরা-রাজবাড়ী এবং মাগুরা-ফরিদপুর জেলার সীমানা বরাবর প্রবাহিত হয়ে মধুমতি নামে নড়াইল ও বাগেরহাট জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

গড়াই-মধুমতী নদীর গতিপথ আঁকাবাঁকা ও দীর্ঘ। গড়াই নামে ৮৯ কিমি, মধুমতী নামে ১৩৭ কিমি এবং বলেশ্বর নামে ১৪৬ কিমি অর্থাৎ মোট দৈর্ঘ্য ৩৭২ কিমি। গড়াইয়ের বহু শাখা-প্রশাখা রয়েছে- কুমার, কালীগঙ্গা, ডাকুয়া, বুড়ি গড়াই, বুড়িশাল ইত্যাদি গড়াইয়ের শাখা। তাছাড়া নবগঙ্গা, চিত্রা, কপোতাক্ষ, সাতক্ষীরার যমুনা, গোলঘেসিয়া, এলেংখালী, আঠারোবাঁকি প্রভৃতি নদী এর সংস্পর্শে এসেছে। এছাড়াও বারাশিয়া, কুমার, চন্দনা প্রভৃতি এই নদীর উপনদী। উৎপত্তিস্থল থেকে কামারখালী পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে নৌকা ও অন্যান্য ছোট নৌযান চলাচল করে, কিন্তু শুকনো মৌসুমে এ অংশ অনাব্য হয়ে পড়ে। কামারখালী থেকে ভাটির অংশ মোটামোটি নাব্য, সারা বছর এখানে নৌযান চলাচল করতে পারে। নদীটির উৎসমুখ থেকে নড়াইলের গড় প্রস্থ ৪৫০ মিটার। নদীটির মোহনা থেকে উজানে কামারখালী পর্যন্ত অংশ জোয়ার-ভাটা দ্বা্রা প্রভাবিত হয়।[৩] পদ্মার সাথে সংযুক্ত হওয়ায় নৌপথে পন্য আদান প্রদানে বিশেষ সহযোগী হিসাবে কাজ করে। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অনেক জনপদ। নদীতে প্রচুর পরিমান মত্‍স রয়েছে যা এ অঞ্চলের মানুষ আহরনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। মধুমতি তীরবর্তী অঞ্চল খুব উর্বর। তাই ফসল উত্‍পাদনের জন্য অনুকূল।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশের নদীঃ মোকাররম হোসেন; পৃষ্ঠা ৭৫, ১১০, ১৪৬ এবং ১৪৭; কথাপ্রকাশ; দ্বিতীয় সংস্করণঃ আগস্ট ২০১৪
  2. Masud Hasan Chowdhury (২০১২)। "Gorai-Madhumati River"। in Sirajul Islam and Ahmed A. Jamal। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh 
  3. বাংলাদেশের নদীঃ মোকাররম হোসেন; পৃষ্ঠা ১১০; কথাপ্রকাশ; দ্বিতীয় সংস্করণঃ আগস্ট ২০১৪

আরও দেখুন[সম্পাদনা]