বিষয়বস্তুতে চলুন

বুড়ি তিস্তা নদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বুড়ি তিস্তা নদী
দেশ বাংলাদেশ
অঞ্চল জলপাইগুড়ি বিভাগ, রংপুর বিভাগ
জেলাসমূহ কোচবিহার জেলা, নীলফামারী জেলা, রংপুর জেলা
উৎস পশ্চিমবঙ্গ
মোহনা তিস্তা নদী
দৈর্ঘ্য ৭৬ কিলোমিটার (৪৭ মাইল)

বুড়িতিস্তা নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী[] এটি ভারতের কোচবিহার জেলাবাংলাদেশের নীলফামারী জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত একটি আন্তর্জাতিক নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৭৬ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৬৯ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা "পাউবো" কর্তৃক বুড়িতিস্তা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৮৬।[] নদীটি তিস্তা নদীর একটি শাখা নদী এবং একসময় এটিই তিস্তার মূল ধারা ছিল।[]

বর্ণনা

[সম্পাদনা]

মানচিত্র বুড়ি তিস্তা নদীটি আগে তিস্তা নদীর মূল ধারা ছিল কিন্তু কালক্রমে তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হলে এটি শাখা নদীতে পরিণত হয় এবং নাম হয় বুড়ি তিস্তা নদী। নদীটি ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটি গঙ্গাছড়া উপজেলায় গিয়ে পুনরায় তিস্তা নদীতে মিলিত হয়েছে। নদীটিতে জলঢাকা উপজেলার কালীগঞ্জ নামক স্থানে একটি সেচ প্রকল্প রয়েছে।[] এই নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৪৫ কিলোমিটার। নদীর গভীরতা ৪ মিটার।[]

পরিবেশ

[সম্পাদনা]

রংপুর অঞ্চলের অন্যান্য নদীর মতো বুড়ি তিস্তা নদীও বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।[] জলবায়ু পরিবর্তন, ভারতের উজানে বাঁধ নির্মাণ, কম বৃষ্টিপাত এবং দখল-দূষণের কারণে নদীটির নাব্যতা কমে গেছে। কুড়িগ্রামের উলিপুরে বুড়ি তিস্তা নদী ভরাট করে বিপণিবিতান নির্মাণ করা হয়েছে এবং এর পাশে মাটি খনন করে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। [] নদীর উৎসমুখে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং পরবর্তী সময়ে নদীর মধ্যে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ ও অবৈধ দখলের কারণে বুড়ি তিস্তা এখন মৃতপ্রায়।[] এর ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হয়েছে, যা কৃষি অর্থনীতি এবং সামগ্রিক পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।[] নদী শুকিয়ে যাওয়ায় অনেক জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে এবং জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে।[] পাটের উৎপাদন কমেছে কারণ নদীতে পানি না থাকায় কৃষকরা পাট পচাতে পারছেন না, ফলে নিম্নমানের পাট বিক্রি হচ্ছে। হেলেঞ্চা, কলমি জাতীয় জলজ উদ্ভিদ এবং বড় গাছ ও পাখপাখালির সংখ্যা কমে গেছে।[] নদীর তলদেশে চর জেগে ওঠায় সেখানে কৃষিকাজ করা হচ্ছে, এবং কোথাও কোথাও স্থানীয়রা বাঁধ দিয়ে পানির গতিপথ পরিবর্তন করছে।[] কিছু স্থানে নদীতে পুকুর তৈরি করে মাছ চাষ হচ্ছে এবং কোথাও বেসরকারি কলেজ গড়ে উঠেছে।[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "আন্তঃসীমান্ত_নদী"বাংলাপিডিয়া। ১৬ জুন ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১৪
  2. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক (ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী"। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি (প্রথম সংস্করণ)। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃ. ১৪৮। আইএসবিএন ৯৮৪-৭০১২০-০৪৩৬-৪ {{বই উদ্ধৃতি}}: |আইএসবিন= মান: অবৈধ উপসর্গ পরীক্ষা করুন (সাহায্য); |সংগ্রহের-তারিখ= এর জন্য |ইউআরএল= প্রয়োজন (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার |আইএসবিএন-ত্রুটি-উপেক্ষা-করুন= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  3. ডিমলা উপজেলা ওয়েবসাইট
  4. অকার্যকর বুড়ি তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পে ব্যয় করা হচ্ছে ১ কোটি টাকা[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] দৈনিক সংগ্রাম
  5. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ২৭৭, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯।
  6. 1 2 3 "অস্তিত্ব সংকটে রংপুর অঞ্চলের নদী"Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২৫
  7. 1 2 3 4 প্রতিবেদক, নিজস্ব (১৮ মে ২০১৭)। "'বুড়ি তিস্তা বাঁচলে উলিপুর বাঁচবে'"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২৫
  8. "পৌরসভার ময়লা-আবর্জনায় দূষিত বুড়ি তিস্তার পানি, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক প্রবাহ"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ আগস্ট ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২৫