বিপাশা নদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

বিপাশা নদী
Bias
হিমাচল প্রদেশে বিপাশা নদী
হিমাচল প্রদেশে বিপাশা নদী
দেশ ভারত
রাজ্যসমূহ হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব
পৌরসভা সিন্ধু
উত্স বিয়াস কুণ্ড
 - অবস্থান হিমালয়, হিমাচল প্রদেশ
মোহনা শতদ্রু নদী
দৈর্ঘ্য ৪৭০ কিলোমিটার (২৯২ মাইল)
অববাহিকা ২০.৩০৩ বর্গকিলোমিটার (৮ বর্গমাইল)
প্রবাহ মাণ্ডী সমভূমির জন্য
 - গড় ৪৯৯.২ /s (১৭,৬২৯ ft³/s)
Indus river.svg
বিপাশা নদী শতদ্রু নদীতে প্রবাহিত হয়ে সিন্ধুতে গিয়ে মেশে

বিপাশা নদী এছাড়াও Biás বা বিয়াস হিসাবে পরিচিত,[১][২] (সংস্কৃত: विपाशा Vipāśā; গ্রিক: Hyphasis),[৩] উত্তর ভারতের একটি নদীর । ভারতের হিমালয়ের মধ্য হিমাচল প্রদেশে উদ্গম হয়ে নদীটি প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার (২৯০ মাইল) প্রবাহিত হয়ে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে শতদ্রু নদীতে মেলে।[৪]

নদীটির  মোট দৈর্ঘ্য ৪৭০ কিলোমিটার (২৯০ মা) এবং তার অববাহিকাটি ২০,৩০৩ বর্গকিলোমিটার (৭,৮৩৯ মা) দীর্ঘ।[৫]

২০১৭ সাল নাগাদ পাকিস্তানে অবস্থিত একমাত্র সিন্ধু ডলফিনের একটি ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল এই নদী। [৬]১৯ মে ২০১৮ তারিখে গুরুদাসপুর চিনিকল থেকে নির্গত একটি রাসায়নিক বিপাশা নদীতে মেশে যার ফলে বিপাশা নদীর জলে অক্সিজেনের হ্রাস ঘটে সেই কারণে প্রচুর পরিমাণ মাছের মৃত্যু হয়।

বুৎপত্তি[সম্পাদনা]

নদীটি বেদগুলিতে আর্জিকুজা, বা প্রাচীন ভারতীয়দের কাছে বিপাশা নামে পরিচিত ছিল এবং প্রাচীন গ্রীকদের জন্য Hyphasis ছিল।.[৭]

বলা হয় যে, বিয়াস, ভ্যাসের জন্য একটি ভ্রান্ত নাম ( ভির সাথে বির বদল এবং শেষোক্ত স্বরবর্ণের কাটছাঁট উত্তর ভারতীয় ভাষায় প্রচলিত) এবং এটি নামকরণ করা হয় নদীর পৃষ্ঠপোষক অধিকর্তা বেদব্যাসের নামে; বলা হয় যে এটি তার উত্স হ্রদ ব্যাস কুন্ড থেকে তৈরি করা হয়েছে।[৮]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বিপাশা নদীটি ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দের আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট এর বিজয়ের পূর্ব সীমান্তরেখাটি নির্দিষ্ট করে। এটি অন্যতম একটি নদী যা আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের অন্তরায় হয়েছিল। তাঁর সৈন্যরা ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এখানে, পুনঃঅগ্রসরের বিরোধিতা করে বিদ্রোহ করে। তারা আট বছর ধরে বাড়ি থেকে দূরে ছিল। আলেকজান্ডার তিন দিনের জন্য নিজের তাঁবুতে নিজেকে বন্দী করে রেখেছিলেন, কিন্তু যখন তাঁর লোকেরা তাদের ইচ্ছার পরিবর্তন করে নি, তখন তিনি তাঁর অভিযানের সীমা ও গৌরব চিহ্নিত করতে বারোটি বিশাল বেদী স্থাপন করেছিলেন।[৯][১০]

রাজেশখর রচিত কাব্যমীমাংসা' অনুযায়ী,[১১] গুরজর-প্রতিহর রাজত্বের মহীপাল -১ এর রাজ্য উত্তর-পশ্চিমে বিপাশা নদীর উপরের অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।[১২]

বিংশ শতাব্দীতে, সেচ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে বিপাশা প্রকল্পে নদীটি বিকশিত করা হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯৭৪ সালে পং বাঁধ সম্পূর্ন হয় তারপর প্রথম পর্যায়ে ১৪০ কিলোমিটার (৮৭ মা) উজানে প্রবাহিত , যা ১৯৭৭ সালে পান্ডু বাঁধ হয়। প্রাথমিকভাবে তলোয়ারার নীচে সেচ দেওয়ার জন্য পং বাঁধটি চালু করা হলেও তা জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যও উন্নত ছিল; এর পাওয়ার স্টেশন ৩৬০ মেগাওয়াট ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন আছে। পান্ডোহা বাধটি শতদ্রু নদীতে ৯৯০ মেগাওয়াট দেহর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে একটি টানেল এবং চ্যানেলের মাধ্যমে নদীর গতিমুখ বদলে দেয়।[১৩][১৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Land of the Five Rivers and Sindh. David Ross. London. 1883
  2. The Panjab, North-West Frontier Province and Kashmir. Sir James McCrone Douie. 1916, pp. 16-17, 22, 25-26, 52, 68, etc.
  3. The Panjab, North-West Frontier Province and Kashmir. Sir James McCrone Douie. 1916, p. 25
  4. "About District" 
  5. Jain, Sharad K.; Agarwal, Pushpendra K.; Singh, Vijay P. (৫ মার্চ ২০০৭)। Hydrology and water resources of India। Springer। পৃষ্ঠা 481। আইএসবিএন 978-1-4020-5179-1। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১১ 
  6. "Signs of hope as population of endangered Indus River dolphin jumps in Pakistan"। WWF। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১২-১৭ 
  7. Beas The Imperial Gazetteer of India, v. 7, p. 138..
  8. Wasini Pandey, Bindhy। Geoenvironmental hazards in HimalayaPg.58। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৫-২৯ 
  9. Travels into Bokhara, Lieut. Alex. Burnes FRS, London, John Murray, 1834, page 6
  10. "The Empire and Expeditions of Alexander the Great"World Digital Library। ১৮৩৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৭-২৬ 
  11. Kavyamimansa of Rajasekhara, ch. XVII, P. 94
  12. Rama Shankar Tripathi (১৯৮৯)। History of Kanauj: To the Moslem Conquest। Motilal Banarsidass Publ। পৃষ্ঠা 262–264। আইএসবিএন ৮১২০৮০৪০৪X, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০৪০৪-৩ 
  13. "Developmental History of Beas Project"। Bhakra Beas Management Board। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১১ 
  14. "India: National Register of Large Dams 2009" (PDF)। Central Water Commission। ২১ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১১