কলকাতা দাঙ্গা

স্থানাঙ্ক: ২২°৩৫′ উত্তর ৮৮°২২′ পূর্ব / ২২.৫৮° উত্তর ৮৮.৩৬° পূর্ব / 22.58; 88.36
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Direct Action Day থেকে পুনর্নির্দেশিত)
প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস
১৯৪৬-এর কলকাতা হত্যাকাণ্ড
এটি ভারত বিভাজন-এর অংশ
Calcutta 1946 riot.jpg
প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসের দাঙ্গার পর কলকাতার রাজপথে ছড়িয়ে থাকা নিহতদের দেহ। স্বাধীনতার এক বছর পূর্বে ১৯৪৬ সালে কলকাতায় সংঘটিত এই দাঙ্গায় চার হাজারেরও বেশি নিরীহ হিন্দু ও মুসলমান নিহত হয়
তারিখ১৬ আগস্ট, ১৯৪৬
অবস্থান
২২°৩৫′ উত্তর ৮৮°২২′ পূর্ব / ২২.৫৮° উত্তর ৮৮.৩৬° পূর্ব / 22.58; 88.36
কারণধর্মের ভিত্তিতে বাংলার আসন্ন বিভাজন
লক্ষ্যসমূহজাতিগত এবং ধর্মীয় নিপীড়ন
প্রক্রিয়াসমূহগণহত্যা, লুন্ঠন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, ব্যাপক যৌন নির্যাতন এবং গণধর্ষণ
ফলাফলবঙ্গভঙ্গ
নাগরিক সংঘাতের দলসমূহ
নেতৃত্ব দানকারীগণ
কেন্দ্রীয় নেতৃত্ববিহীন
ক্ষয়ক্ষতি
নিহত৪,০০০[৩][৪]

প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস বা ১৯৪৬-এর কলকাতা হত্যাকাণ্ড (এটি কলকাতা দাঙ্গা এবং গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস নামেও পরিচিত) ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৬ আগস্ট তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের রাজধানী কলকাতায় সংঘটিত একটি ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও নরহত্যার ঘটনা। এদিন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস নামে দেশব্যাপী প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেন।[৩] এই দিনটিই ছিল "দীর্ঘ ছুরিকার সপ্তাহ" নামে পরিচিত কুখ্যাত সপ্তাহকালের প্রথম দিন।[৫][৬]

মুসলিম লীগ এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৯৪০-এর দশকে ভারতের গণপরিষদের দুটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ছিল। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের লাহোর প্রস্তাব থেকেই মুসলিম লীগ উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল গুলিকে 'স্বাধীন রাষ্ট্র' হিসাবে গঠন করার দাবি জানাতে থাকে। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ক্যাবিনেট মিশনে ব্রিটিশ রাজের থেকে ভারতীয় নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনায় একটি ত্রিস্তরীয় পরিকাঠামো: ‘’কেন্দ্র, প্রদেশসমূহ এবং প্রদেশ’’-এর প্রস্তাবনা করা হয়।[৭] এই ত্রিস্তরীয় পরিকাঠামোর প্রদেশসমূহ বিভাগের মাধ্যমে মুসলিম লীগের দাবি গ্রহণ করা হয়। মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেস উভয়ই নীতিগতভাবে মন্ত্রিপরিষদ মিশনের এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। এই মিশনের প্রস্তাব অনুসারে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা লক্ষ্য করে মুসলিম লীগ সন্তুষ্ট হয়েছিল। কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে সম্মতি থাকলেও সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে প্রদেশগুলির শ্রেণিবিভাগ ও চিহ্নিতকরণ কংগ্রেসের মনঃপুত হয়নি। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেসকে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংবিধান সভাকে যথাসম্ভব স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলে কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল কংগ্রেস সভাপতি জওহরলাল নেহরুকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে আহ্বান জানালে মুসলিম লীগ ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হয়ে পাকিস্তান গঠনের দাবি করতে থাকে।[৮]

ফলস্বরূপ, ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাইয়ে, তারা ক্যাবিনেট মিশনের চুক্তি প্রত্যাহার করে এবং ১৬ আগস্ট একটি সাধারণ ধর্মঘটের (হরতাল) ডাক দেয়। ঔপনিবেশিক ভারতে নির্দিষ্ট কিছু উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব প্রদেশের বাইরে ভারতীয় মুসলমানদের জন্য পৃথক ভূমি তথা পাকিস্তান গঠনের দাবিতে জিন্নাহ প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেয়।[৯][১০] প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দিয়ে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, তিনি “বিভক্ত ভারত অথবা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভারত” দেখতে চান।[১১][১২]

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার একটি পটভূমিতে এই প্রতিবাদ আন্দোলন থেকেই কলকাতায় এক ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্ম হয়।[৪][১৩] মাত্র ৭২ ঘন্টার মধ্যে শহরে চার হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান এবং ১,০০,০০০ বাসিন্দা গৃহহারা হন।[৩][৪] কলকাতার এই হত্যাকাণ্ড পরবর্তীতে নোয়াখালী, বিহার, সংযুক্ত প্রদেশসমূহ (বর্তমান উত্তরপ্রদেশ), পাঞ্জাব এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে আরও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূচনা করেছিল, যার ফলস্বরূপ ভারত বিভাজনের গতি ত্বরান্বিত হয়।

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্ট অ্যাটলি ব্রিটিশ রাজের থেকে ভারতীয় নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে তিন সদস্যের মন্ত্রিসভা মিশন ভারতে প্রেরণ করেছিলেন।[১৪] ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১ মে ভারতের গণপরিষদের দুটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার পরে এই ক্যাবিনেট মিশন ভারতের নতুন আধিপত্য এবং গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে একটি প্রস্তাব দেয়।[৪][১৫] মুসলিম লীগের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে 'স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম' রাষ্ট্রের দাবিতে প্রাদেশিক স্তর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ‘'প্রদেশসমূহ’' নামে একটি নতুন স্তর তৈরি করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত ত্রিস্তরীয় পরিকাঠামোয় বলা হয়- কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক বিষয় এবং যোগাযোগের বিষয়গুলি পরিচালনা করবে এবং অন্যান্য সমস্ত ক্ষমতা প্রদেশ গুলিকে প্রেরণ করা হবে।[৮]

এক সময়ের কংগ্রেস সদস্য এবং বর্তমানে মুসলিম লীগের নেতা কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলী হিসাবে ১৬ জুন ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন।[৪][১৬] তবে ১০ জুলাই কংগ্রেস সভাপতি জওহরলাল নেহেরু বোম্বাইয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা করেন যে, যদিও কংগ্রেস গণপরিষদে অংশ নিতে রাজি হয়েছে, তবে ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনাকে উপযুক্ত করতে সংশোধন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।[১৬] কেন্দ্রীয় সরকারে হিন্দু আধিপত্যের ভয়ে মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদরা জিন্নাহকে "তার পূর্বের অনমনীয় অবস্থান" ফিরিয়ে নিতে বলেন।[১৭] জিন্নাহ ব্রিটিশ ক্যাবিনেট মিশনের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে গণপরিষদ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাইয়ে জিন্নাহ বোম্বাইয়ের (বর্তমান মুম্বাই) নিজ বাড়িতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন যে মুসলিম লীগ "সংগ্রাম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে" এবং তারা "একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে"।[১০] তিনি আরও বলেন যে, মুসলমানদের যদি আলাদা পাকিস্তান না দেওয়া হয় তবে তারা ‘সরাসরি পদক্ষেপ বা প্রত্যক্ষ সংগ্রামের" ডাক দেবে। সুনির্দিষ্ট হওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, জিন্নাহ জবাব দিয়েছিলেন: "কংগ্রেসে যান এবং তাদের পরিকল্পনা জিজ্ঞাসা করুন। যখন তারা আপনাকে তাদের আস্থা নেবে আমি আপনাকে আমার আত্মবিশ্বাস দেখাবো। আপনারা আমাকে কেন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে বলেছেন? আমরাও ঝামেলা করতে চলেছি।"[১০]

পরের দিন, জিন্নাহ ১৬ আগস্টকে "প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস" হিসাবে ঘোষণা করেন এবং কংগ্রেসকে হুঁশিয়ারি দেন- "আমরা যুদ্ধ চাই না। যদি আপনারা যুদ্ধ চান, তবে আমরাও যুদ্ধ করতে পিছুপা হবো না। আমাদের হয় বিভক্ত ভারত অথবা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভারত থাকবে।"[১০]

এইচ ভি হডসন তাঁর দ্য গ্রেট ডিভাইড বইয়ে উল্লেখ করেছেন, "ওয়ার্কিং কমিটি ভারতবর্ষের মুসলমানদেরকে ১৬ আগস্টকে 'ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে' হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়েছিল। সেদিন, লীগের প্রস্তাব ব্যাখ্যা করতে সারাদেশে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা এবং মিছিলগুলি শেষ হয়ে গেল–যা স্পষ্টতই কেন্দ্রীয় লীগের নেতাদের উদ্দেশ্য ছিল–সাধারণ এবং সীমাবদ্ধ ঝামেলা ছাড়া এক বিস্তৃত এবং করুণ ব্যতিক্রম ছাড়া...যা ঘটেছিল তা পূর্বে কোনোদিন ঘটেনি।[১৮]"

দাঙ্গা এবং হত্যাকাণ্ড[সম্পাদনা]

কলকাতা ময়দানে মুসলিম লীগের সমাবেশে জনতার ভিড়

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সূচনা হয় ১৬ আগস্ট সকাল থেকেই। সকল দশটার আগেই লালবাজারের পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছিল যে শহরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, দোকানপাট বন্ধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, এবং পাথর ও ইটপাটকেল ছোঁড়াছুঁড়ি, ছুরিকাঘাতের খবর পাওয়া গেছে। সকল ১০টার আগেই সদর পুলিশ দপ্তর, লালবাজারে উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভের খবর এসে পৌঁছায়। সকাল থেকেই জোরপূর্বক হিন্দুদের দোকানগুলোকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা এবং ঝগড়া, ছুরিকাঘাত, ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা আসতে থাকে। এই ঘটনাগুলো প্রধানত রাজাবাজার, কলাবাগান, কলেজ স্ট্রিট, হ্যারিসন রোড (বর্তমানে মহাত্মা গান্ধী রোড), কলুটোলা এবং বড়বাজারের মতো শহরের উত্তর-কেন্দ্রীয় অংশগুলোতে কেন্দ্রীভূত ছিল। এই অঞ্চলগুলিতে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং উন্নত ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থানেও ছিল। সাম্প্রদায়িক এই উত্তেজনা পুরো শহর জুড়েই বর্তমান ছিল।[৩] লিগের সমাবেশটি ঠিক দুপুরে অক্টারলোনি মনুমেন্টের কাছে শুরু হয়। এই সমাবেশটি তখনকার 'বাংলার সর্বকালের বৃহত্তম মুসলিম সমাবেশ' হিসাবে বিবেচিত হয়।[১৯] দুপুরের নামাজের পর দুপুর দুটোর দিকে সমাবেশ শুরু হয় এবং কলকাতার সমস্ত অঞ্চল থেকে মুসলমানদের মিছিল শুরু হয়। অংশগ্রহণকারীদের একটি বিশাল অংশ লোহার রড এবং লাঠি (বাঁশের লাঠি) দিয়ে সজ্জিত ছিল বলে জানা যায়। একজন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার রিপোর্টারের তথ্য অনুযায়ী ৩০,০০০ জন এবং কলকাতা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শকের তথ্য অনুযায়ী ৫০০,০০০ জন সমাবেশে উপস্থিত ছিল বলে অনুমান করা হয়। স্টার অফ ইন্ডিয়া রিপোর্টার এই সংখ্যাকে অসম্ভব ভাবে প্রায় এক লক্ষের উপরে রেখেছেন। প্রধান বক্তারা হলেন খাজা নাজিমউদ্দিন এবং মুখ্যমন্ত্রী হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীখাজা নাজিমুদ্দিন তার বক্তৃতায় প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণতা ও সংযমের কথা বললেও পরবর্তীতে প্ররোচনামূলক বক্তৃতা দিয়ে বলেন যে, সেদিন সকাল ১১ টা অবধি আহত সমস্ত ব্যক্তিই মুসলমান এবং মুসলিম সম্প্রদায় নাকি কেবল আত্মরক্ষায় প্রতিশোধ নিয়েছিল।[৩]

কলকাতা পুলিশের বিশেষ শাখা সভায় একটি মাত্র শর্টহ্যান্ড সাংবাদিককে প্রেরণ করেছিল, ফলস্বরূপ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কোনও প্রতিলিপি উপলব্ধ নেই। তবে সামরিক কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিযুক্ত সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স অফিসার এবং প্রতিবেদক ফ্রেডেরিক বারোজ একটি বিবৃতিতে একমত হন (কলকাতা পুলিশ মোটেই কোনো রিপোর্ট করেনি)। প্রথমজনের বক্তব্য অনুযায়ী- তিনি [মুখ্যমন্ত্রী] লক্ষ রেখেছিলেন যাতে কোনো পুলিশ এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে এবং ফ্রেডরিক বুরোসের মতে- "তিনি সামরিক বাহিনী ও পুলিশকে সংযত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন"।[৩] যদিও পুলিশের ‘নীরব’ থাকার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ দেওয়া হয়নি। সুতরাং, সোহরাওয়ার্দী সমাবেশে যাই বলুন, উপস্থিত থাকা অশিক্ষিত দর্শকদের কাছে সেটা বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টির উন্মুক্ত আমন্ত্রণ বলে মনে হয়েছিল।[৩] শ্রোতাদের অনেকেই সমাবেশ শেষ হওয়ার পর ফেরার সময় হিন্দুদের উপর আক্রমণ করা এবং হিন্দুদের দোকান লুট করা শুরু করেছিল বলে জানা যায়।[২০] এছাড়াও কলকাতায় হ্যারিসন রোডে লরি (ট্রাক)-এ করে আসা কট্টরপন্থী মুসলিম গুন্ডার দল ইটপাটকেল ও বোতল নিয়ে হিন্দু মালিকানাধীন দোকানে আক্রমণ করেছিল।[২১] আবুল কালাম আজাদ লিখেছে, সমগ্র কলকাতা শহরে যখন নারী পুরুষ খুন হচ্ছিল তখন পুলিশ ও মিলিটারি নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল।[২২]

সন্ধ্যে ৬টার সময় শহরের যেসব জায়গায় দাঙ্গা লাগে সেখানে কারফিউ জারি করা হয়েছিল। এই সকল অঞ্চল এবং প্রধান রাস্তাগুলো সুরক্ষিত রাখার জন্য রাত ৮টায় পুলিশি নজরদারি শুরু হয়, যার ফলে বস্তি এবং অন্যান্য অনুন্নত অঞ্চল গুলোতে পুলিশ মুক্ত করা হয়েছিল।[২৩]

মেটিয়াব্রুজের লিচুবাগান এলাকার কেসোরাম কটন মিলসের প্রায় ৩০০ জনের অধিক ওড়িয়া শ্রমিকদের হত্যা করা হয়

১৭ আগস্ট গার্ডেন রিচ টেক্সটাইল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি, সৈয়দ আবদুল্লাহ ফারুকী এবং কট্টরপন্থী মুসলিম গুন্ডা এলিয়ান মিস্ত্রি মেটিয়াব্রুজের লিচুবাগান এলাকার কসোরাম কটন মিলসের মিল চত্বরে একটি বিশাল সশস্ত্র দাঙ্গাহাঙ্গামাকারী দলের নেতৃত্ব দেন। মিল শ্রমিকরা, যাদের মধ্যে ওড়িয়াদের সংখ্যা বেশি ছিল, তারা মিল চত্বরেই থাকত। ২৫ আগস্ট বেঁচে যাওয়া চারজন ব্যক্তি ফারুকীর বিরুদ্ধে মেটিয়াব্রুজ থানায় অভিযোগ জানায়। [২৪]ওড়িশা সরকারের একজন মন্ত্রী, বিশ্বনাথ দাস কসোরাম কটন মিলসের ওড়িয়া শ্রমিকদের হত্যার তদন্ত করতে লিচুবাগান অঞ্চলে এসেছিলেন।[২৫] মেটিয়াব্রুজের এই হত্যাকাণ্ডে প্রায় ১০,০০০ বা তার বেশি মানুষ মারা যায় বলে কিছু সূত্র থেকে জানা যায়।[৫] অনেক লেখক দাবি করেন যে হিন্দুরা প্রাথমিক ভুক্তভোগী ছিলেন এবং অনেকের দাবি যে মুসলিম শ্রমিকরাও মারা গিয়েছিল।[২৬]

১৭ আগস্ট হত্যার সবচেয়ে ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি ছিল। বিকেলের পর থেকে সৈন্যরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং রাত্রে সামরিক বাহিনী দ্বারা অঞ্চলসমূহ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। বস্তি এবং অন্যান্য অঞ্চল, যা তখনও সামরিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, সেখানে আইনশৃঙ্খলা এবং দাঙ্গা প্রতি ঘণ্টায় ঘন্টায় বাড়তে থাকে। ১৮ আগস্ট হিন্দুরা প্রতিরোধ শুরু করে। ১৮ আগস্ট সকালে বাস ও ট্যাক্সি ভর্তি শিখ এবং হিন্দুরা তরোয়াল, লোহার রড এবং আগ্নেয়াস্ত্র সহযোগে প্রতিরোধ আক্রমণ শুরু করে।[২৭]

এই সাম্প্রদায়িক সংঘাত প্রায় এক সপ্তাহ অব্যাহত ছিল। শেষ অবধি, ২১ আগস্ট বাংলাকে ভাইসরয়ের শাসনের অধীনে রাখা হয়। ভারতীয় এবং গোর্খাবাহিনীর চারটি ব্যাটালিয়নসহ ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ৫ টি ব্যাটালিয়ন শহরে নিয়োগ করা হয়েছিল।[২৬] পর্যাপ্ত সংখ্যক সৈন্য থাকা সত্যেও কেন সৈন্যদের আরো আগে ডাকা হয়নি সেই বিষয়ে লর্ড ওয়াভেল পরবর্তীতে অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন, পলাশীর যুদ্ধে যত লোকের মৃত্যু হয়েছে তার চেয়ে বেশি সংখ্যক লোকের মৃত্যু হয়েছে কলকাতার দাঙ্গায়।[১৯][২২]

এই হত্যাযজ্ঞের ভয়বহতা সম্পর্কে লিওনার্ড মোসলে লেখেন-

গান্ধীজী মাউন্টব্যাটেনকে ভারত বিভাজনের স্বপ্ন না দেখতে বললেও গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংসের ভয়াবহতা দেখে তিনি গান্ধীজিকে বলেন- “আপনি ১৬ আগস্টের (১৯৪৬) কথা ভুলে যাবেন না যেদিন মি. জিন্নাহ কেবল মাত্র মহড়া হিসাবে কলকাতার ৫ হাজার লোককে খুন করেছিলেন এবং ১৫ হাজার লোককে আহত করেছিলেন। আমি মনে করি মি. জিন্নাহকে মাঝ পথে থামিয়ে দিতে না পারলে তিনি 'সিভিল ওয়ার' করবেন। এ ক্ষমতা তার আছে।” উত্তরে গান্ধীজিকে সহমত পোষণ করতে হয়েছিল।[৩০][৩১]

পরিণতি[সম্পাদনা]

এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সময় বহু মানুষ কলকাতা ত্যাগ করে পালিয়ে যেতে থাকে। বেশ কয়েকদিন ধরেই অগণিত মানুষের ঢেউ হাওড়া ব্রিজ দিয়ে স্টেশন অভিমুখে যেতে থাকে। তাদের অনেকেই কলকাতার বাইরের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই হিংস্রতা থেকে বাঁচতে পারেননি।[৩২] লর্ড ওয়াভেল ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ২৭ আগস্ট সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে, মহাত্মা গান্ধী তাকে বলেছিলেন, "ভারত যদি রক্তপাত চায় তবে সে তা গ্রহণ করতে পারে ... যদি রক্তপাতের প্রয়োজন হয়, তা অহিংসা সত্ত্বেও ঘটবে"।[৩৩]

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা না করার জন্য কলকাতার হোম পোর্টফোলিওর দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীর সমালোচনা করা হয়েছিল। বাংলার ব্রিটিশ গভর্নর, স্যার ফ্রেডারিক জন বারুজও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনার জন্য সমালোচিত হতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী লালবাজার পুলিশ সদর দফতরের কন্ট্রোল রুমে তার সমর্থকদের নিয়ে প্রচুর সময় ব্যয় করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কোনো রকম নির্দেশ দেননি। রাজ্যপালের থেকে কোনো সরাসরি আদেশ না থাকায়, মুখ্যমন্ত্রীর কন্ট্রোল রুমে যেতে কোনো বাধা ছিল না এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপর অধিক ভসরা থাকায় গভর্নর ফ্রেডেরিক বারোজ এ জাতীয় আদেশ দিতে প্রস্তুত ছিলেন না।[৩] বিশিষ্ট মুসলিম লীগ নেতারা অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশ কন্ট্রোল রুমগুলিতে প্রচুর সময় ব্যয় করেছিলেন এবং সেক্ষেত্রে সোহরাওয়ার্দীর পুলিশি দায়িত্বে বাধা দেওয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়।[৫]

ব্রিটিশ এবং কংগ্রেস উভয়েই জিন্নাহকে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষারোপ করেছিল এবং এই ধরনের মুসলিম জাতীয়তাবাদী মনোভাব জাগ্রত করার জন্য মুসলিম লীগকে দায়ী করা হয়েছিল।[৩৪] প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসের এই দাঙ্গার সঠিক কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। হিন্দু সংবাদমাধ্যম সোহরাওয়ার্দী সরকার এবং মুসলিম লীগকে দোষ দিয়েছিল। তাদের মতে, মুসলিম লীগের সদস্য এবং এদের অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী 'প্রত্যক্ষ সংগ্রামের' ঘোষণা কার্যকর করার জন্য মুসলিম জনগণকে উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেওয়া হয়েছিল[৩৫] এবং তাদের স্বাধীন পাকিস্তানের দাবি সমর্থন করার জন্য 'সমস্ত ব্যবসায় স্থগিত' করাতে বলা হয়েছিল।[৩৬] তবে, মুসলিম লীগের সমর্থকদের মতে বাংলায় ভঙ্গুর মুসলিম লীগ সরকারকে দুর্বল করার প্রয়াসে এই সহিংসতার পিছনে কংগ্রেস পার্টি ছিল।[৩৭] ঐতিহাসিক জয়া চ্যাটার্জি দাঙ্গা রোধ করতে ব্যর্থ হওয়ার এবং পুলিশবাহিনীকে নীরব থাকতে বলার জন্য সোহরাওয়ার্দীকে বিশেষভাবে দায়ী করেন, পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেছন যে হিন্দু নেতারাও দোষী ছিলেন।[৩৮] মহাত্মা গান্ধী এবং জওহরলাল নেহেরু সহ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্যরা দাঙ্গার বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছিলেন। দাঙ্গার ফলে হিন্দু, শিখ এবং মুসলমানদের মধ্যে আরও দাঙ্গা ও অসম্প্রীতি বৃদ্ধি পেয়েছিল।[২০]

দাঙ্গা পরবর্তী প্রতিহিংসা[সম্পাদনা]

কলকাতার এই হত্যাকাণ্ডের ফলে নোয়াখালী, বিহার এবং পাঞ্জাবের মুসলিম ও হিন্দু-শিখদের মধ্যে বেশ কয়েকটি দাঙ্গা শুরু হয়েছিল।

নোয়াখালী দাঙ্গা[সম্পাদনা]

১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে নোয়াখালী ও টিপ্পেরা জেলায় ঘটা গণহত্যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংসের একটি কলঙ্কিত পরবর্তী ঘটনা হিসেবে মনে করা হয়। কলকাতা দাঙ্গার খবর নোয়াখালী-টিপ্পার দাঙ্গাকে প্রভাবিত করেছিল। তবে হিংস্রতা কলকাতা দাঙ্গার চেয়ে প্রকৃতিতে আলাদা ছিল।[৪][৩৯]

উত্তর নোয়াখালী জেলার রায়গঞ্জ থানার অধীনে থাকা অঞ্চলগুলোতে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর গণহত্যা শুরু হয়।[৪০] এই গণহত্যাকে "মুসলিম উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংগঠিত ক্রোধ" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।[৪১] এই হত্যাকাণ্ডের ঢেউ শীঘ্রই প্রতিবেশী থানার রায়পুর, লক্ষ্মীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালীর সন্দ্বীপ এবং ত্রিপুরা জেলার ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর, লাকসাম এবং চৌদ্দগ্রাম ছড়িয়ে পরে।[৪২] এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের জন্য হতাহতের সংখ্যা সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায় না। তবে, সরকারি মতে, এই হত্যাকাণ্ডে ২০০-৩০০ জন মারা যায়।[৪৩][৪৪] নোয়াখালীতে দাঙ্গা বন্ধ হওয়ার পরে, মুসলিম লীগ দাবি করেছিল যে এই সংঘর্ষে কেবল ৫০০ হিন্দু মারা গিয়েছিল, কিন্তু বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মনে করেন যে ৫০,০০০ এরও বেশি হিন্দু নিহত হয়েছিল। কেউ কেউ দাবি করেন এর ফলে নোয়াখালীতে হিন্দু জনসংখ্যা প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ফ্রান্সিস টুকারের মতে, হিন্দু সংবাদমাধ্যম বিশৃঙ্খলার মারাত্মক অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করেছিল।[৪৪] তবে নিরপেক্ষ এবং ব্যাপকভাবে গৃহীত মতানুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০০-এর কাছাকাছি।[৪৫][৪৬]

গভর্নর ফ্রেডেরিক বারোজের মতে, "জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর রামগঞ্জ থানার একটি বাজারে লুটপাটই ঝামেলা শুরু হওয়ার তাত্ক্ষণিক ঘটনা ছিল।"[৪৭] সুরেন্দ্রনাথ বসু এবং হিন্দু মহাসভার বিশিষ্ট নেতা রাজেন্দ্রলাল রায় চৌধুরীর ব্যবসার জায়গায় হামলা হয়েছিল।[৪৮]

বিহার এবং ভারতের অন্যান্য অংশে[সম্পাদনা]

১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে বিহারে দাঙ্গা শুরু হয়। কলকাতার গণহত্যা ও নোয়াখালী গণহত্যার পর ৩০ অক্টবর ও ৭ নভেম্বরের মধ্যে ঘটা এই দাঙ্গার ফলে দেশভাগ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ২৫-২৮ অক্টোবরের মধ্যে ছাপড়া ও সরণ জেলায় মারাত্মক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। খুব শীঘ্রই পাটনা, মুঙ্গের এবং ভাগলপুর মারাত্মক সহিংসতার জায়গাগুলিতে পরিণত হয়েছিল। নোয়াখালী দাঙ্গার প্রতিশোধ হিসাবে শুরু হয় এই দাঙ্গা বিহারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সংসদে গৃহীত বিবৃতি অনুসারে, মৃতের সংখ্যা ছিল ৫০০০-এর কাছাকাছি। দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকা অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ছিলো ৭৫০০ থেকে ১০,০০০ জন এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মৃতের সংখ্যা বলা হয় ২০০০ জন। তবে জিন্নাহ এই সংখ্যা ৩০,০০০ বলে দাবি করে।[৪৯] তবে, ৩ নভেম্বরের সরকারী হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৪৪৫ জন বলা হয়।[৪২]

ইউনাইটেড প্রদেশের গড়মুক্তেশ্বরে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বরে একটি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে হিন্দু তীর্থযাত্রীরা মুসলমানদের হত্যা করে। পুলিশ সেখানে প্রায় নীরব ছিল বলে দাবি করা হয়। মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার থেকে দুই হাজারের মধ্যে ছিল বলে মনে করা হয়।[৫০] ১৯৪৬-এর শেষদিকে এবং ১৯৪৭-এর গোড়ার দিকেও পাঞ্জাব এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে দাঙ্গা হয়েছিল।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sarkar, Tanika; Bandyopadhyay, Sekhar (২০১৭)। Calcutta: The Stormy Decades। Taylor & Francis। পৃষ্ঠা 441। আইএসবিএন 978-1-351-58172-1 
  2. Wavell, Archibald P. (১৯৪৬)। Report to Lord Pethick-LawrenceBritish Library Archives: IOR। 
  3. বারোজ, ফ্রেডেরিক (১৯৪৬)। Report to Viceroy Lord Wavell। The British Library IOR: L/P&J/8/655 f.f. 95, 96–107। 
  4. Das, Suranjan (২০০০-০৪-০১)। "The 1992 Calcutta Riot in Historical Continuum: A Relapse into 'Communal Fury'?"Modern Asian Studies (ইংরেজি ভাষায়)। 34 (2): ২৮১–৩০৬। আইএসএসএন 1469-8099ডিওআই:10.1017/S0026749X0000336X 
  5. Sengupta, Debjani (২০০৬)। "A City Feeding on Itself: Testimonies and Histories of 'Direct Action' Day" (PDF)। Narula, Monica। Turbulence। Serai Reader। Volume 6। The Sarai Programme, Center for the Study of Developing Societies। পৃষ্ঠা 288–295। ওসিএলসি 607413832 
  6. L/I/1/425. The British Library Archives, London.
  7. ভট্টাচার্য্য, গোকুলেশ্বর (১৯৫০)। স্বাধীনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। দ্বিতীয় খণ্ড। কর্নওয়ালিস স্ট্রিট, কলিকাতা: গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স। পৃষ্ঠা ২৭২–২৭৩। 
  8. Kulke, Hermann; Rothermund, Dietmar (১৯৯৮)। A History of India (ইংরেজি ভাষায়)। Psychology Press। পৃষ্ঠা ২৮৩–২৮৯। আইএসবিএন 978-0-415-15482-6 
  9. Tsugitaka, Sato (২০০৪-০৮-০২)। Muslim Societies: Historical and Comparative Aspects (ইংরেজি ভাষায়)। Routledge। পৃষ্ঠা ১১২। আইএসবিএন 978-1-134-32021-9 
  10. Bourke-White, Margaret (১৯৪৯)। Halfway to freedom: a report on the new India in the words and photographs of Margaret Bourke-White। Simon and Schuster, New York। পৃষ্ঠা ১৫। 
  11. "DIVIDED OR DESTROYED - Remembering Direct Action Day"www.telegraphindia.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-০৮ 
  12. Tunzelmann, Alex von (২০১২-১০-২৫)। Indian Summer: The Secret History of the End of an Empire (ইংরেজি ভাষায়)। Simon and Schuster। আইএসবিএন 978-1-4711-1476-2 
  13. Das, Suranjan (২০১২)। "Calcutta Riot, 1946"। Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh 
  14. Jalal, Ayesha (১৯৯৪)। The Sole Spokesman: Jinnah, the Muslim League and the Demand for Pakistan (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা ১৭৬। আইএসবিএন 978-0-521-45850-4 
  15. Mansergh, Nicholas; Lumby, E. W. R; Moon, Penderel; India Office Records; India Office Library (১৯৭০)। The Transfer of power 1942-7; (English ভাষায়)। ষষ্ঠ খণ্ড। London: H.M.S.O.। পৃষ্ঠা ৫৮২–৫৯১। আইএসবিএন 978-0-11-580016-0ওসিএলসি 122609 
  16. Āzād, Abūlkalām (২০০৩)। India Wins Freedom: The Complete Version (ইংরেজি ভাষায়)। Orient Blackswan। পৃষ্ঠা ১৬৪–১৬৫। আইএসবিএন 978-81-250-0514-8The resolution was passed with an overwhelming majority ... Thus the [A.I.C.C.] seal of approval was put on the Working Committee's resolution accepting the Cabinet Mission Plan ... On 10 July, Jawaharlal held a press conference in Bombay ... [when questioned,] Jawaharlal replied emphatically that the Congress had agreed only to participate in the Constituent Assembly and regarded itself free to change or modify the Cabinet Mission Plan as it thought best ... The Moslem League had accepted the Cabinet Mission Plan ... Mr. Jinnah had clearly stated that he recommended acceptance. 
  17. Jalal, Ayesha (১৯৯৪)। The Sole Spokesman: Jinnah, the Muslim League and the Demand for Pakistan (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা ২১০। আইএসবিএন 978-0-521-45850-4 
  18. Hodson, Henry Vincent; Hodson, Provost H. V. (১৯৬৯)। The Great Divide: Britain, India, Pakistan (ইংরেজি ভাষায়)। Hutchinson। পৃষ্ঠা ১৬৬। আইএসবিএন 978-0-09-097150-3 
  19. Ahmed, Rafiuddin (আগস্ট ১৯৮৯)। "The Foreshadowing of Bangladesh: Bengal Muslim League and Muslim Politics, 1936–1947. By Harun-Or-Rashid. Dhaka: Asiatic Society of Bangladesh, 1987. viii, 366 pp. $15.00."The Journal of Asian Studies (ইংরেজি ভাষায়)। 48 (3): 664–665। আইএসএসএন 1752-0401ডিওআই:10.2307/2058709 
  20. Keay, John (২০০০)। India : a history। Internet Archive। New York : Atlantic Monthly Press। পৃষ্ঠা ৫০৫। আইএসবিএন 978-0-87113-800-2Suhrawardy ... proclaimed a public holiday. The police too, he implied, would take the day off. Muslims, rallying en masse for speeches and processions, saw this as an invitation; they began looting and burning such Hindu shops as remained open. Arson gave way to murder, and the victims struck back ... In October the riots spread to parts of East Bengal and also to UP and Bihar ... Nehru wrung his hands in horror ... Gandhi rushed to the scene, heroically progressing through the devastated communities to preach reconciliation. 
  21. Bourke-White, Margaret (১৯৪৯)। Halfway to freedom: a report on the new India in the words and photographs of Margaret Bourke-White। Simon and Schuster, New York। পৃষ্ঠা ১৭। ... Seven lorries that came thundering down Harrison Road. Men armed with brickbats and bottles began leaping out of the lorries—Muslim 'goondas,' or gangsters, Nanda Lal decided, since they immediately fell to tearing up Hindu shops. 
  22. রায়, দেবজ্যোতি (২০০৫)। কেন উদ্বাস্তু হতে হল। বিবেকানন্দ সাহিত্য কেন্দ্র। পৃষ্ঠা ৩২। 
  23. Tuker, Francis (১৯৫০)। While memory serves (English ভাষায়)। Toronto: Cassell। পৃষ্ঠা ১৫৯–১৬০। ওসিএলসি 937426955At 6 p.m. curfew was clamped down all over the riot-affected districts. At 8 p.m. the Area Commander ... brought in the 7th Worcesters and the Green Howards from their barracks ... [troops] cleared the main routes ... and threw out patrols to free the police for work in the bustees. 
  24. Sanyal, Sunanda; Basu, Soumya (২০১১)। The Sickle and the Crescent: Communists, Muslim League, and India's Partition (ইংরেজি ভাষায়)। Frontpage। পৃষ্ঠা ১৪৯–১৫১। আইএসবিএন 978-81-908841-6-7 
  25. সিংহ, দীনেশচন্দ্র (২০০১)। শ্যামাপ্রসাদ: বঙ্গভঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ। কলকাতা: অখিল ভারতীয় ইতিহাস সংকলন সমিতি। পৃষ্ঠা ১২৭। 
  26. Wavell, Archibald P. (1946). Report to Lord Pethick-Lawrence. British Library Archives: IOR.
  27. Tuker, Francis (১৯৫০)। While memory serves (English ভাষায়)। Toronto: Cassell। পৃষ্ঠা ১৬১। ওসিএলসি 937426955The bloodiest butchery of all had been between 8 a.m. and 3 p.m. on the 17th, by which time the soldiers got the worst areas under control ... [From] the early hours of the 18th ... onwards the area of military domination of the city was increased ... Outside the 'military' areas, the situation worsened hourly. Buses and taxis were charging about loaded with Sikhs and Hindus armed with swords, iron bars and firearms. 
  28. Mosley, Leonard (১৯৬০)। The Last Days Of The British Raj। পৃষ্ঠা ১। 
  29. রায়, দেবজ্যোতি (২০০৫)। কেন উদ্বাস্তু হতে হল। বিবেকানন্দ সাহিত্য কেন্দ্র। পৃষ্ঠা ৩৪। 
  30. Lapierre, Dominique; Collins, Larry (১৯৮৩)। Mountbatten And The Partition Of India। Ghaziabad, Uttar Pradesh: Vikas Publishing House। পৃষ্ঠা 48। আইএসবিএন 0-7069-2223-9...and don't forget Direct Action Day in Calcutta which was a warning of what he could do (August 1946) - I mean he killed 5,000 people and wounded 15,000 people just as demonstration, and I think he has the capacity to cause civil war if we don't meet him halfway. Yes, said Gandhi... 
  31. রায়, দেবজ্যোতি (২০০৫)। কেন উদ্বাস্তু হতে হল। বিবেকানন্দ সাহিত্য কেন্দ্র। পৃষ্ঠা ৩৫। 
  32. Bourke-White, Margaret (১৯৪৯)। Halfway to freedom: a report on the new India in the words and photographs of Margaret Bourke-White। Simon and Schuster, New York। পৃষ্ঠা ২০। Tousands began fleeting Calcutta. For days the bridge over the Hooghly River ... was a one-way current of men, women, children, and domestic animals, headed towards the Howrah railroad station ... But fast as the refugees fled, they could not keep ahead of the swiftly spreading tide of disaster. Calcutta was only the beginning of a chain reaction of riot, counter-riot, and reprisal which stormed through India. 
  33. Seervai, H. M. (১৯৮৯)। Partition of India: Legend and Reality (ইংরেজি ভাষায়)। Emmenem Publications। পৃষ্ঠা ৭৮। আইএসবিএন 978-81-85370-00-2 
  34. Sebestyen, Victor (২০১৪-১০-০৯)। 1946: The Making of the Modern World (ইংরেজি ভাষায়)। Pan Macmillan। পৃষ্ঠা ৩৩২। আইএসবিএন 978-1-4472-5050-0 
  35. Chakrabarty, Bidyut (২০০৪-০৮-০২)। The Partition of Bengal and Assam, 1932-1947: Contour of Freedom (ইংরেজি ভাষায়)। Routledge। পৃষ্ঠা ৯৯। আইএসবিএন 978-1-134-33274-8The immediate provocation of a mass scale riot was certainly the afternoon League meeting at the Ochterlony Monument ... Major J. Sim of the Eastern Command wrote, 'there must have [been] 100,000 of them ... with green uniform of the Muslim National Guard' ... Suhrawardy appeared to have incited the mob ... As the Governor also mentioned, 'the violence on a wider scale broke out as soon as the meeting was over', and most of those who indulged in attacking Hindus ... were returning from [it]. 
  36. "Direct Action"অর্থের বিনিময়ে সদস্যতা প্রয়োজনTime। ২৬ আগস্ট ১৯৪৬। পৃষ্ঠা 34। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০০৮Moslem League Boss Mohamed Ali Jinnah had picked the 18th day of Ramadan for "Direct Action Day" against Britain's plan for Indian independence (which does not satisfy the Moslems' old demand for a separate Pakistan). 
  37. Chakrabarty, Bidyut (২০০৪-০৮-০২)। The Partition of Bengal and Assam, 1932-1947: Contour of Freedom (ইংরেজি ভাষায়)। Routledge। পৃষ্ঠা ১০৫। আইএসবিএন 978-1-134-33274-8Having seen the reports from his own sources, he [Jinnah] was persuaded later, however, to accept that the 'communal riots in Calcutta were mainly started by Hindus and ... were of Hindu origin. 
  38. Chatterji, Joya (২০০২-০৬-০৬)। Bengal Divided: Hindu Communalism and Partition, 1932-1947 (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা ২৩২–২৩৩। আইএসবিএন 978-0-521-52328-8Both sides in the confrontation came well-prepared for it ... Suhrawardy himself bears much of the responsibility for this blood-letting since he issued an open challenge to the Hindus and was grossly negligent ... in his failure to quell the rioting ... But Hindu leaders were also deeply implicated. 
  39. Batabyal, Rakesh (২০০৫-০৪-০৭)। Communalism in Bengal: From Famine To Noakhali, 1943-47 (ইংরেজি ভাষায়)। SAGE Publications India। পৃষ্ঠা ২৭০। আইএসবিএন 978-81-321-0205-2The riot was a direct sequel to the Calcutta killings of August 1946, and therefore, believed to be a repercussion of the latter ... the Noakhali-Tippera riot ... was different in nature from the Calcutta killings ... news of the Calcutta killings sparked it off. 
  40. Batabyal, Rakesh (২০০৫-০৪-০৭)। Communalism in Bengal: From Famine To Noakhali, 1943-47 (ইংরেজি ভাষায়)। SAGE Publications India। পৃষ্ঠা ২৭২। আইএসবিএন 978-81-321-0205-2Rioting in the districts ... began in the Ramganj Police Station area in the northern part of Noakhali district on 10 October 1946. 
  41. Ghosh Choudhuri, Haran C. (৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭)। Proceedings of the Bengal Legislative Assembly (PBLA)। Vol LXXVII। Bengal Legislative Assembly।  cited in Batabyal 2005, p. 272.
  42. Mansergh, Nicholas; Moon, Penderel (১৯৮০)। The Transfer of Power 1942-7। Vol IX। London: Her Majesty's Stationery Office। পৃষ্ঠা 48। আইএসবিএন 978-0-11-580084-9  cited in Batabyal 2005, p. 272.
  43. Mansergh, Nicholas; Moon, Penderel (১৯৮০)। The Transfer of Power 1942-7। Vol IX। London: Her Majesty's Stationery Office। পৃষ্ঠা 98। আইএসবিএন 978-0-11-580084-9  cited in Batabyal 2005, p. 273.
  44. Tuker, Sir Francis (১৯৫০)। While memory serves. (English ভাষায়)। Cassell। পৃষ্ঠা ২৭৪–২৭৬। ওসিএলসি 186171893The number of dead was at that time reliably estimated as in the region of two hundred. On the other hand, very many Hindu families had fled, widespread panic existed, and it was impossible to say if particular individuals were dead or alive ... Hindus evacuated villages en masse, leaving their houses at the mercy of the robbers who looted and burned ... Our estimate was that the total killed in this episode was well under three hundred. Terrible and deliberately false stories were blown all over the world by a hysterical Hindu Press. 
  45. Khan, Yasmin (২০১৭-০৭-০৪)। The Great Partition: The Making of India and Pakistan, New Edition (ইংরেজি ভাষায়)। Yale University Press। পৃষ্ঠা ৬৮। আইএসবিএন 978-0-300-23364-3 
  46. "Written in Blood"অর্থের বিনিময়ে সদস্যতা প্রয়োজনTime। ২৮ অক্টোবর ১৯৪৬। পৃষ্ঠা 42। Mobs in the Noakhali district of east Bengal ... burned, looted and massacred on a scale surpassing even the recent Calcutta riots. In eight days an estimated 5,000 were killed. 
  47. Mansergh, Nicholas; Moon, Penderel (১৯৮০)। The Transfer of Power 1942-7। Vol IX। London: Her Majesty's Stationery Office। পৃষ্ঠা 98। আইএসবিএন 978-0-11-580084-9  cited in Batabyal 2005, p. 277.
  48. Batabyal, Rakesh (২০০৫-০৪-০৭)। Communalism in Bengal: From Famine To Noakhali, 1943-47 (ইংরেজি ভাষায়)। SAGE Publications India। পৃষ্ঠা ২৭৭। আইএসবিএন 978-81-321-0205-2This included an attack on the 'Kutchery bari of Babu Suerndra Nath Bose and Rai Saheb Rajendra Lal Ray Choudhury of Karpara' ... the erstwhile president of the Noakhali Bar and a prominent Hindu Mahasabha leader in the district. 
  49. Stephens, Ian (১৯৬৩)। Pakistan. (English ভাষায়)। London: Ernest Benn। পৃষ্ঠা ১১১। ওসিএলসি 1038975536 
  50. Stephens, Ian (১৯৬৩)। Pakistan. (English ভাষায়)। London: Ernest Benn। পৃষ্ঠা ১১৩। ওসিএলসি 1038975536 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]