১৯৮৯ বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

১৯৮৯ সালের সাম্প্রদায়িক সহিংসতাগুলি অক্টোবরে - নভেম্বর মাসে বাঙালি হিন্দুদের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ ছিল ভারতের অযোধ্যাতে বাবরি মসজিদ ভেঙে রাম মন্দিরের ভিত্তি স্থাপনের প্রতিশোধ। সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় হাজার হাজার হিন্দু বাড়িঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যায়। [১] ৪০০ এরও বেশি হিন্দু মন্দির ধ্বংস করা হয়েছিল।

১৯৮৯ সালের ৩০ অক্টোবর কারফিউ সত্ত্বেও চট্টগ্রামে হিন্দু দোকানগুলিতে লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হিন্দু নারী-পুরুষকে আক্রমণ ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছিল। [২] ১০ নভেম্বর, হিন্দু বিরোধী শ্লোগান দিয়ে মুসলিম জনতা খুলনায় একটি মিছিল বের করে। জনতার দ্বারা হিন্দু মন্দিরে আক্রমণ ও ধ্বংস হয়। ১১ ই নভেম্বর, নরসিংদীতে হিন্দুদের দোকান ও মন্দিরে হামলা চালায় এক মুসলিম জনতা । ২৫ টিরও বেশি হিন্দু মালিকানাধীন দোকানগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনটি মন্দিরে ছবিগুলো ছিন্নভিন্ন করা হয়েছিল। [৩] জনতার নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা তাজুল ইসলাম, যিনি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছিলেন এবং হিন্দু-বিরোধী স্লোগান তোলেন। ১ নভেম্বর, বরিশালের ব্রজমোহন কলেজের হিন্দু শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করা হয়েছিল, তাদের পিটিয়ে মেরে ছাত্রাবাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। কুমিল্লায় রাম ঠাকুর উৎসব চলাকালীন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপরে ইট-পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছিল। ভক্তদের কেউ কেউ গুরুতর আহত হন। ১৮ নভেম্বর, ৫০০ জন মুসলিম জনতা খুলনায় হিন্দু মালিকানাধীন দোকানে পাথর নিক্ষেপ করে এবং ৫০ জন আহত হয়। [৪]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Ghosh Dastidar, Sachi (২০০৮)। Empire's Last Casualty: Indian Subcontinent's vanishing Hindu and other Minorities। Firma KLM। পৃষ্ঠা 201। আইএসবিএন 81-7102-151-4 
  2. Kamra, A.J. (২০০০)। The Prolonged Partition and its Pogroms: Testimonies on Violence Against Hindus in East Bengal 1946-64। Voice of India। পৃষ্ঠা 215। আইএসবিএন 81-85990-63-8 
  3. "Pakistan Protests Indian Temple, Moslems Riot in Bangladesh"Associated Press। ১১ নভেম্বর ১৯৮৯। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১২ 
  4. "50 Reported Injured During Riots Over Indian Temple"Associated Press। ১৮ নভেম্বর ১৯৮৯। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১২