বিষয়বস্তুতে চলুন

শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

শিয়ালদহ
কেন্দ্রীয় স্টেশন
শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরের দৃশ্য
অবস্থানশিয়ালদহ, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ,ভারত
স্থানাঙ্ক২২°৩৪′০৫″ উত্তর ৮৮°২২′১৬″ পূর্ব / ২২.৫৬৭৯৬৬১° উত্তর ৮৮.৩৭১১০৪৭° পূর্ব / 22.5679661; 88.3711047
উচ্চতা৯ মিটার (৩০ ফিট)
লাইনশিয়ালদহ–রাণাঘাট–গেদে রেলপথ
শিয়ালদহ-বনগাঁ লাইন
কলকাতা কর্ড লিংক লাইন
শিয়ালদহ দক্ষিণ লাইন
প্ল্যাটফর্ম২১
রেলপথ২১
সংযোগসমূহশিয়ালদহ মেন,উত্তর ও দক্ষিণ
নির্মাণ
গঠনের ধরনসমতল
পার্কিংউপলব্ধ
প্রতিবন্ধী প্রবেশাধিকারহ্যাঁ Handicapped/disabled access
অন্য তথ্য
অবস্থাচালু
স্টেশন কোডএসডিএএইচ
ভাড়ার স্থানপূর্ব রেল
ইতিহাস
চালু১৮৬২; ১৬৩ বছর আগে (1862)
বৈদ্যুতীকরণ১৯৬০; ৬৫ বছর আগে (1960)
যাতায়াত
যাত্রীসমূহ১.৮ মিলিয়নের বেশি
পরিষেবা
শিয়ালদহ মেট্রো স্টেশন
পূর্ববর্তী স্টেশন   কলকাতা শহরতলি রেল   পরবর্তী স্টেশন
শেষ স্টেশনপূর্ব লাইন
কর্ড লিংক লাইন
অভিমুখে ডানকুনি জংশন
অভিমুখে নামখানা
শিয়ালদহ দক্ষিণশেষ স্টেশন
অবস্থান
মানচিত্র
Sealdah Station
Sealdah Station

শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন হল কলকাতা শহরের অন্যতম প্রধান রেলস্টেশন। শিয়ালদহ ভারতের ব্যস্ততম রেলস্টেশনগুলির একটি।[] এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরতলি রেল টার্মিনাল। কলকাতা মেট্রোর নির্মীয়মান দ্বিতীয় লাইনটি (ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো) শিয়ালদহ স্টেশনের পাশ দিয়ে যাবে। শুধু শহরতলির ট্রেন ও যাত্রীসংখ্যা ধরলে এটি ভারতের ব্যাস্ততম। এ ছাড়া এখান থেকে দূরপাল্লার ট্রেন দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়, যেমন দিল্লি।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

শিয়ালদহ স্টেশন ১৮৬৯ খ্রীস্টাব্দে চালু হয়।[][] এটি তৎকালীন পূর্ব বঙ্গীয় রেল বিভাগ এর আওতায় ছিল। দেশভাগ এর আগে দার্জিলিং মেল শিয়ালদহ থেকে রাণাঘাট, গেদে-দর্শনা পথ ধরে বর্তমান বাংলাদেশ এর মধ্যে দিয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছাত। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ এর সময় পূর্ব বঙ্গীয় রেল এর শিয়ালদহ বিভাগ ভারতের পূর্ব রেল এর আওতা ভুক্ত হয় এবং অবশিষ্ট অংশ তদাতিনন্তন পূর্ব পাকিস্তান এর অন্তর্গত হয়।

কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

শিয়ালদহ স্টেশন তিনটি বিভাগের প্রান্তিক স্টেশন: "শিয়ালদহ উত্তর", "শিয়ালদহ প্রধান" এবং "শিয়ালদহ দক্ষিণ": তথ্যসূত্র প্রয়োজন

  • "উত্তর" টার্মিনালটি ১ থেকে ৪ এবং ৪এ নম্বর প্ল্যাটফর্ম নিয়ে গঠিত
  • "প্রধান" টার্মিনালটি ৫ থেকে ৯এ, ৯বি এবং ৯সি নম্বর প্ল্যাটফর্ম নিয়ে গঠিত। ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাশে আরও একটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যা শুধুমাত্র পণ্যবাহী ট্রেন এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পার্সেল ভ্যান দ্বারা ব্যবহৃত হয়।
  • "দক্ষিণ" টার্মিনালটি ১০এ, ১০-১৪, ১৪এ নম্বর প্ল্যাটফর্ম নিয়ে গঠিত।

উত্তর এবং দক্ষিণ অংশে ট্র্যাকের সেট পৃথক। উত্তর ও দক্ষিণ অংশ দুটি সংযোগ দ্বারা সংযুক্ত: দমদম-মাঝেরহাট সংযোগ (জনপ্রিয় ভাবে চক্ররেল নামে পরিচিত) এবং বিধাননগর রোড-পার্ক সার্কাস সংযোগ (চক্ররেলের সম্প্রসারণ)। শিয়ালদহ এড়িয়ে দ্রুত দুটি বিভাগের মধ্যে যাতায়াতের জন্য এই দুটি সংযোগ তৈরি করা হয়েছিল।

শিয়ালদহ উত্তর প্রধান বিভাগের জন্য শহরতলির ট্রেন টার্মিনাল হিসেবে কাজ করে। শিয়ালদহ উত্তরের প্রধান বিভাগ কলকাতা এবং হাসনাবাদ, ব্যান্ডেল, গেদে, রানাঘাট, শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর, বেরহামপুর, লালগোলা, ডানকুনি, কাটোয়া, বর্ধমান, কাঁচরাপাড়া, ব্যারাকপুর, কল্যাণী, কল্যাণী সিমান্ত এবং অন্যান্যের মধ্যে ট্রেন চলাচল করে। আগে শান্তিপুর এবং কৃষ্ণনগরকে সংযুক্ত করার জন্য একটি ন্যারো-গেজ লাইন ব্যবহার করা হত, কিন্তু এখন এটি ব্রডগেজ লাইন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এই ন্যারো-গেজ লাইনটি নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত প্রসারিত ছিল এবং পূর্বে DMU ট্রেন [] [] দ্বারা পরিষেবা দেওয়া হত (অন্যান্য সমস্ত লাইন EMU ট্রেন চালায়)। শিয়ালদহ-ডানকুনি ( বিবেকানন্দ সেতু হয়ে) লাইনটি পূর্ব রেলওয়ের হাওড়া-বর্ধমান কর্ডকে বালি হল্টে ( বালি স্টেশনের উপরে একটি ভায়াডাক্টে) এবং ডানকুনিকে সংযুক্ত করে। নৈহাটি-ব্যান্ডেল ( সম্প্রীতি সেতু হয়ে) লাইনটি পূর্ব রেলওয়ের হাওড়া-বর্ধমান প্রধান লাইনকে ব্যান্ডেল জং- এ সংযুক্ত করে।

২০১৬ সালে, দমদম ক্যান্টনমেন্ট এবং বিমানবন্দর (যা দমদম বিমানবন্দরে পরিষেবা প্রদান করে) মধ্যে দুর্বল পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত শাখা লাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কলকাতা মেট্রোর ইয়েলো লাইন (নির্মাণাধীন) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। []

শিয়ালদহ মেইন হল ডানকুনি লাইন এবং ব্যান্ডেল লাইনের মাধ্যমে উত্তর, উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব ভারতে দূরপাল্লার ট্রেনগুলির জন্য মেল/এক্সপ্রেস টার্মিনাল। কৃষ্ণনগর লাইনটি দীর্ঘ দূরত্বের আন্তঃরাজ্য ট্রেনও পরিচালনা করছে।

শিয়ালদহ দক্ষিণ টার্মিনাল নিয়ে গঠিত দক্ষিণ অংশটি কলকাতা এবং বজবজ, ক্যানিং, ডায়মন্ড হারবার এবং নামখানার মধ্যে চলাচলকারী স্থানীয় ট্রেনগুলির টার্মিনাল হিসেবে কাজ করে। এই অংশটি শুধুমাত্র শহরতলির ট্রেন দ্বারা ব্যবহৃত হয়।

শিয়ালদহে ( নারকেলডাঙ্গা ) একটি ইএমইউ কারশেডও রয়েছে। অন্যান্য ইএমইউ কার্শেডগুলি বারাসত এবং সোনারপুরে রয়েছে। বেলিয়াঘাটার পাশে একটি ডিজেল শান্টার লোকো শেডও অবস্থিত। শিয়ালদহে একটি বৈদ্যুতিক লোকো শেডও অবস্থিত।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের আগে, গেদে লাইন এবং বনগাঁ লাইন ধরে বর্তমান বাংলাদেশ পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করত। এখন গেদে লাইন ব্যবহার করে মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা পর্যন্ত এবং বনগাঁ লাইন ব্যবহার করে বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা পর্যন্ত। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুটি ট্রেনই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে।

লাউঞ্জ

[সম্পাদনা]

১৫ এপ্রিল ২০১৯ সালে সোমবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে শিয়ালদহ স্টেশনে উদ্বোধন হল একটি ঝাঁ চকচকে এগজিকিউটিভ লাউঞ্জের। কাচের দেওয়ালে মোড়া বাতানুকূল লাউঞ্জে আরামদায়ক সোফা, আধুনিক শৌচাগার, এলসিডি টিভি, ওয়াইফাই, মৃদু বাজনার ব্যবস্থা ছাড়াও রয়েছে পছন্দসই খাদ্য এবং পানীয় বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

স্টেশনের প্রবেশপথ থেকে স্বচ্ছ কাচের ক্যাপসুল লিফট ধরে পৌঁছনো যাবে আইআরসিটিসি-র ফুড প্লাজার ঠিক উপরের তলায় ওই লাউঞ্জে। একসঙ্গে ৫০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। রোজ ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে লাউঞ্জটি। এখানে আসন সংরক্ষণ করতে গেলে ন্যূনতম দু’ঘণ্টার জন্য ১০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে। ওই টাকা দিয়ে লাউঞ্জে আসন সংরক্ষণ করলে বিনামূল্যে চা-কফি এবং পানীয় জল মিলবে। দু’ঘণ্টার বেশি সময় কাটাতে চাইলে, প্রতি ঘণ্টার জন্য ৫০ টাকা করে দিতে হবে। কেউ ৫০০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি মূল্যের খাবার কিনলে, তার ক্ষেত্রে প্রথম দু’ঘণ্টার জন্য ধার্য ১০০ টাকা ভাড়া মকুব করে দেওয়া হবে। জায়গাটি স্টেশনের টিকেটিং জ়োনের বাইরে হওয়ায় ওই লাউঞ্জে আসন সংরক্ষণ করার জন্য ট্রেনের টিকিট বা প্ল্যাটফর্ম টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক নয়।[]

গ্যালারি

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. The Rainbows of Kolkata। Lulu.com। পৃ. ৫১–। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৯২-৩৮৪৮-৫। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১২
  2. "Sealdah History"। irfca.org/। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০১২[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. Railway gazette international। Reed Business Pub.। ১৯৫৭। পৃ. ১৮২। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১২
  4. "Narrow Gauge in Nadia"
  5. "Mamata rolls out rly sops for Nadia"The Times of India। ৮ জানুয়ারি ২০১০। ১০ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২
  6. "Services End on Kolkata's Circular Railway"
  7. "বাতানুকূল লাউঞ্জ খুলল শিয়ালদহে"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ১৬ এপ্রিল ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৯

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]