অনুশীলন সমিতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অনুশীলন সমিতি
Anushilan samiti symbol.jpg
নীতিবাক্য ইউনাইটেড ইন্ডিয়া (অখণ্ড ভারত)
গঠিত ১৯০৬
ধরণ গুপ্ত বিপ্লবী দল
উদ্দেশ্য ভারতের স্বাধীনতা
অবস্থান
মূল ব্যক্তিত্ব সতীশচন্দ্র বসু, শশিভূষণ রায়চৌধুরী, ব্যারিস্টার পি মিত্র, যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ ঘোষ।

অনুশীলন সমিতি ছিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অনুশীলন তত্ত্বের আদর্শে গঠিত বাংলার একটি সশস্ত্র ব্রিটিশ-বিরোধী সংগঠন।[১][২] মূলতঃ ঢাকাকলকাতা শহরকে কেন্দ্র করে এই দলটি বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে সংগঠিত হয়। তবে কলকাতার চেয়ে ঢাকার কেন্দ্রটির বিস্তৃতি ছিল ব্যাপক।[৩]

অনুশীলন দল ও তার সহযোগী যুগান্তর দল শহরের প্রান্তভাগে ব্যায়ামের আখড়ার আড়ালে থাকা কাজকর্ম চালাত। অনুশীলন দলের উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসনের উচ্ছেদ। অনুশীলন দল রাজনৈতিক ডাকাতি, বোমা তৈরি, অস্ত্র প্রশিক্ষণ, ব্রিটিশ রাজকর্মচারী ও তাঁদের বিচারে বিশ্বাসঘাতক তকমা-পাওয়া ভারতীয়দের হত্যার কাজে নিযুক্ত ছিল।[৪] বাংলার গ্রামাঞ্চলেও অনুশীলন দলের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। সারা বাংলা ও ভারতের অন্যান্য স্থানেও এর শাখা প্রসারিত হয়েছিল।

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও স্থানীয় শাসকবর্গের সংঘর্ষের মধ্য অষ্টাদশ শতাব্দীতে ভারতীয় মধ্যবিত্ত সমাজের উত্থান এক "ভারতীয়" জাতি চেতনার জন্ম দেয়।[৫] উনিশ শতকের শেষভাগে এই জাতীয়তাবোধ থেকেই ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ।[৬] ১৮৮৫ সালে অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন তা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক উদারীকরণ, স্বায়ত্ত্বশাসনের পরিধিবিস্তার ও সামাজিক সংস্কারের দাবিদাওয়া পেশের মঞ্চ হয়ে ওঠে।[৭] যদিও বাংলা ও পাঞ্জাবে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন সশস্ত্র আকার ধারণ করে। বোম্বাই, মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি ও দক্ষিণের অন্যান্য অঞ্চলে স্বল্প পরিসরে হলেও বিপ্লবী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা হয়।

ঢাকা অনুশীলন সমিতি[সম্পাদনা]

বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে ১৯০৫ সালে ঢাকায় বিপিনচন্দ্র পালের জ্বালাময়ী বক্তৃতার পরেই ১৯০৬ সালে ঢাকা সরকারি কলেজের শিক্ষক এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা 'ন্যাশনাল স্কুল' এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক পুলিনবিহারী দাসের নেতৃত্বে ৮০ জন্য হিন্দু যুবক গঠন করে ঢাকা অনুশীলন সমিতি। অনুশীলন সমিতির প্রতিটি শাখা সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিল, তবে অনুশীলন সমিতির সাথে ঢাকার শাখার প্রতিষ্ঠাতা পুলিনবিহারী দাসের সরাসরি সংযোগ ছিল। ভারতবর্ষের প্রখ্যাত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারী যশোরের শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু ঢাকা অনুশীলন সমিতির পরিদর্শক ছিলেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকাল[সম্পাদনা]

১৯২৬ সানে কাকোরি বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং এটির বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলা শুরু করে। এই মামলায় পণ্ডিত রামপ্রসাদ বিসমিল, রাজেন্দ্র লাহিড়ী, ঠাকুর রৌশন সিং, আসফাকউল্লা খানের ফাঁসি হয়। শচীন্দ্রনাথ সান্যালের যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর হয়। মন্মথ গুপ্তের ১৩ বছর এবং যোগেশচন্দ্র চ্যাটার্জি, গোবিন্দচরণ কর, শচীন্দ্রনাথ বক্সি, মুকিন্দীলাল, রাজকুমার সিং, রামকৃষ্ণ ক্ষেত্রীর ১০ বছর সাজা হয়। এছাড়াও বিষ্ণু শরণ দুব্লিশ, সুরেশচন্দ্র ভট্টাচার্যের ৭ বছর, ভূপেন্দ্রনাথ সান্যাল, রাম দুলারী ত্রিবেদী, প্রেমকিষণ খান্না, বনোয়ারী লাল এবং পরমেশ কুমারের পাঁচ বছরের জেল হয়। এঁরা সকলেই এই অনুশীলন সমিতির সভ্য ছিলেন।[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Goldstone, Jack A. (২০০৩)। States, parties, and social movementsCambridge University Press। পৃ: 183। আইএসবিএন 9780521016995 
  2. Overstreet, Gene D.; Marshall Windmiller (১৯৫৯)। Communism in India। University of California Press। পৃ: 44।  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  3. "ত্রৈমাসিক ঢাকা", বর্ষ ১ সংখ্যা ৩, "ঢাকা অনুশীলন সমিতি", মূর্শেদূল কাইয়ূম, পৃষ্ঠা ৩৭
  4. Chopra, Pran Nath (২০০৩)। A comprehensive history of modern India 3। Sterling Publishers Pvt. Ltd। পৃ: 206। আইএসবিএন 9788120725065 
  5. Mitra 2006, পৃ. 63
  6. Desai 2005, পৃ. 30
  7. Yadav 1992, পৃ. 6
  8. ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী, জেলে ত্রিশ বছর, ধ্রুপদ সাহিত্যাঙ্গন, ঢাকা, ঢাকা বইমেলা ২০০৪, পৃষ্ঠা ১৮৪।