বিষয়বস্তুতে চলুন

২১ জুলাই শহিদ দিবসের জনসমাবেশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শহিদ দিবস
পালনকারী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
তৃণমূল কংগ্রেস
উদযাপনRallies
তারিখ২১ জুলাই
সংঘটনবার্ষিক

শহিদ দিবস ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আয়োজিত এক বার্ষিক সমাবেশ। ১৯৯৩ সালের কলকাতায় অগ্নিবৃষ্টির স্মৃতিতে আয়োজিত এই সমাবেশ প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি দ্বারা পরিচালিত ছিল এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেস আয়োজিত করতে লাগল।

২১ জুলাই ১৯৯৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ যুব কংগ্রেস ভোটার কার্ডকে ভোটিঙের জন্য একমাত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে কলকাতায় এক সমাবেশ করেছিল। তখন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ১৩ জন ব্যক্তিদের গুলিবিদ্ধ করেছিল।[][] ১৯৯৩ সালের সমাবেশের মূল উদ্যোগকর্তাগণ কংগ্রেস থেকে পৃথক হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন এবং তখন থেকেই প্রতি বছর ২১ জুলাই তারিখে তৃণমূল ১৯৯৩ সালে গুলিবিদ্ধ ১৩ জন ব্যক্তিদের স্মৃতিতে সমাবেশ আয়োজিত করে। এর ফলে ধর্মতলাসহ সমগ্র কলকাতা স্তব্ধ হয়ে যায়।[]

পটভূমি

[সম্পাদনা]

সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পিভি নরসিমা রাও সরকারের মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন , কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে দলের যুব শাখার সভাপতি পদে ১৯৯২ সালের নির্বাচনে সোমেন মিত্রের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে তিনি প্রভাব হারিয়েছিলেন । এই পরাজয়ের পর মমতা সোমেন মিত্র গোষ্ঠী এবং কংগ্রেস হাইকমান্ডের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেন। রাজনৈতিক গতি ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে, তিনি ছবিসহ ভোটার আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করার দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক সদর দপ্তর রাইটার্স বিল্ডিংয়ের দিকে একটি মিছিলের ডাক দেন।

মিছিল

[সম্পাদনা]

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই, মধ্য কলকাতায় বৌবাজার থেকে ব্র্যাবোর্ন রোড এবং মেয়ো রোড থেকে স্ট্র্যান্ড রোড পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার কংগ্রেস কর্মী সমবেত হয়েছিলেন। শহরের একটি বড় অংশ জুড়ে চলা এই সমাবেশটি কংগ্রেসের যুব নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তৃতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। মৃগেন ব্যানার্জী এবং সত্য বাপুলিসহ অন্যান্যরা জনতাকে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার জন্য উসকানি দেন এবং বলেন, "আমরা এখানে লড়াই করতে এসেছি, অভিনয় করতে নয়।" এমনকি তারা কংগ্রেসের প্রবীণ নেতাদের মারধর করার হুমকিও দেন। রেড রোডে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে তালতলা থানার সার্জেন্ট ডিকে ঘোষাল গুলিবিদ্ধ হন, এসআই কালাচাঁদ সমাদ্দারের মাথা লোহার রড দিয়ে ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং কনস্টেবল মানস নন্দীর ইটের আঘাতে ছয়টি দাঁত পড়ে যায়। পিটিআই সাংবাদিক সাঈদ আহমেদ গুরুতর আহত হন। মেয়ো রোডের হামলাকারীদের কাছ থেকে পুলিশ দুটি গুলিভর্তি পাইপগান, একটি দেশীয় রিভলবার, ১৭টি বোমা এবং ছয়টি তলোয়ার উদ্ধার করে। ১৪৪ ধারা অমান্য করে জনতা প্রেস ক্লাবেও ঢুকে পড়ে। নিউ মার্কেটে লুটপাট হয়, ক্লাবের তাঁবুগুলোতে হামলা চালানো হয় এবং এসএসকেএম হাসপাতালকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তিনটি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়, ৩৫টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ২১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।

পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং মৃত্যু

[সম্পাদনা]

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই, বাধ্যতামূলক ছবিযুক্ত ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর নেতৃত্বে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ মিছিলের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কলকাতায় ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী নিহত হন। যে ১৩ জন ব্যক্তি মারা গেছেন তারা হলেন:

শ্রীকান্ত শর্মা

বন্ধন দাস

দিলীপ দাস

অসিম দাস

কেশব বৈরাগী

বিশ্বনাথ রায়

কল্যাণ ব্যানার্জী

প্রদীপ রায়

রতন মন্ডল

মুরারি চক্রবর্তী

রণজিৎ দাস

আব্দুল খালেক

ইনু[]

২০২৬ সালের পরিস্থিতি

[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ১৫ বছরের শাসনের অবসান শুধু রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই বদলে দেয়নি, বরং টিএমসি-র শহিদ দিবস অনুষ্ঠানের উপরেও কালো ছায়া ফেলেছে , যা দলটি ঐতিহ্যগতভাবে প্রতি বছর ২১ জুলাই পালন করে থাকে। ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি টিএমসি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রথমবার দলটি তিনটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালে ২১ জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে তিনটি মিছিল শহরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে—একটি তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা গোষ্ঠীর নেতৃত্বে, একটি ঋতব্রত গোষ্ঠীর এবং তৃতীয়টি কংগ্রেসের।

তৃণমূলের মমতা গোষ্ঠী নন্দন ও বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়ামের কাছে ক্যাথেড্রাল রোডে তাদের মিছিল করছে । ঋতব্রত গোষ্ঠী মেয়ো রোডে এবং কংগ্রেস শহীদ মিনারে তাদের মিছিল করছে। তিনটি মিছিলই কলকাতার বুকে দুপুর নাগাদ শুরু হওয়ার কথা।[][][]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Sumantra Bose (১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩)। Transforming India। Harvard University Press। পৃ. ১৪৪–। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-৭২৮১৯-৬
  2. Monobina Gupta (১৮ জানুয়ারি ২০১২)। Didi: A Political Biography। HarperCollins Publishers India। পৃ. ২০–। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৫১১৬-০৪৪-১
  3. Trinamool rally chokes large parts of Kolkata – Times Of India
  4. "looking back at July 21 1993"। aitc official। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬
  5. "west-bengal/why-are-rival-trinamool-congress-factions-competing-to-hold-the-july-21-martyrs-day-rally"। the hindu। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬
  6. "martyrs day"। Indian express। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬
  7. "news detail"। bengali .info। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬