চম্পারণ ও খেদা সত্যাগ্রহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সত্যাগ্রহ (সংস্কৃত: सत्याग्रह) মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর প্রতিষ্ঠিত একটি দর্শন এবং অহিংস প্রতিরোধের অনুশীলন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন মহাত্মা গান্ধীর মধ্যেমে প্রথম সত্যাগ্রহ অনুপ্রেরিত ১৯১৭ এবং ১৯১৮ এর বছরের মধ্যে বিহারের চম্পারণ এবং গুজরাট খেদা জেলায় হয়েছিল। চম্পারণের সত্যাগ্রহ ছিল প্রথম। তবে 'সত্যাগ্রহ' শব্দ প্রথম ব্যবহার হয় রাওলাট আইন এর বিরুধে আন্দলনের সময়।

চম্পারণ বিহার এর একটি জেলা। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং পরবর্তীকালে, উপনিবেশ ভারতে ব্রিটিশ সরকার, দশ হাজার এর বেশি চম্পারণের চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক, ভূমিদাসদের এবং দরিদ্র কৃষকদের নীল চাষ করতে বাধ্য করে। এই নীল খুব কম দামে চাষিদের থেকে কিনে চিনে রপ্তানি করা হত। নীল চাষে বাধ্য করা, বেশি কর আদায়ের বীরুধে চম্পারণের কৃষক ১৯১৪ (পিপড়া তে) এবং ১৯১৭ (তুরকাওলিয়া তে) সালে বিদ্রহ শুরু করে। সেই সময় রাজা কুমার শুক্লা একজন চম্পারণের কৃষক, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী জী কে চম্পারণে আসার জন্য আনুরধ করেন, আর তার সাথেই চম্পারণ সত্যাগ্রহ শুরু হয়। ১০ই এপ্রিল ১৯১৭ সালে, গান্ধিজি, সঙ্গে প্রখ্যাত আইনজীবীর একটি দল নিয়ে চম্পারণে আসেন। সঙ্গে ছিলেন ব্রজকিশোর প্রসাদ, রাজেন্দ্র প্রসাদ, আনুগ্রহ নারায়ণ সিনহা, আচার্য ক্রিপালিনি এবং অন্যান্যরা।

গান্ধিজির অসাধারণ দৃঢ়তার ফলে—

(১) সরকার নীল চাষীদের ওপর সর্বপ্রকার জুলুম বন্ধ করতে বাধ্য হন ।

(২) চম্পারণের কৃষকদের অসন্তোষের কারণ অনুসন্ধানের জন্য সরকার চম্পারণে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করতে বাধ্য হন ।

(৩) গান্ধিজি এই কমিটির সদস্য হন ।

(৪) তিন কাঠিয়া প্রথা তুলে দেওয়া হয় ।

(৫) বর্ধিত খাজনার ২০%-২৫% হ্রাস করা হয় ।

(৬) নীলকর সাহেবরা চম্পারণ ছেড়ে চলে যায় ।

গান্ধীজীর সমাধান[সম্পাদনা]

যদিও অনেক নাগরিক গ্রুপ পিটিশন এবং প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে লেখা শুরু করে। কিন্তু গান্ধিজি অহিংসা ও অসহযোগ সত্যাগ্রহ প্রতিস্তাপন করেন। গান্ধিও জোর দিয়ে বলেন, বিহার কিংবা গুজরাট থেকে স্বরাজ (স্বাধীনতা) বা স্বাধীনতার ধারণা সঞ্চারিত করার চেষ্টা করুন। এটা রাজনৈতিক স্বাধীনতা সম্পর্কে ছিল না. কিন্তু একটি মানবিক বিপর্যয় অভান্তরে কঠোর অবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অন্য কোন জেলা বা প্রদেশে বিদ্রোহ না হয়।