সাউথ পার্ক স্ট্রিট সেমিট্রি

স্থানাঙ্ক: ২২°৩২′৪৮″ উত্তর ৮৮°২১′৩৭″ পূর্ব / ২২.৫৪৬৫৬৮° উত্তর ৮৮.৩৬০৩৯০° পূর্ব / 22.546568; 88.360390
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সাউথ পার্ক স্ট্রিট সেমিট্রি
South-Park-Street-Cemetery-1.jpg
সাউথ পার্ক স্ট্রিট সেমিট্রি, কলকাতা
বিস্তারিত
স্থাপিত১৭৬৭
অবস্থানমাদার টেরিজা সরণি, কলকাতা
দেশভারত
কবরের সংখ্যা১৬০০ কবর ও সমাধিসৌধ

সাউথ পার্ক স্ট্রিট সেমিট্রি হল কলকাতার একটি খ্রিস্টান কবরখানা। এটি মাদার টেরিজা সরণিতে অবস্থিত। মাদার টেরিজা সরণির আদি নাম "পার্ক স্ট্রিট"। সেই অনুসারেই এই কবরখানাটির নামকরণ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই কবরখানার অবস্থানের জন্য পার্ক স্ট্রিটেরও আদি নাম ছিল "বেরিয়াল গ্রাউন্ড রোড"।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

পার্ক স্ট্রিট সেমিট্রি হল বিশ্বের প্রাচীনতম নন-চার্চ সেমিট্রিগুলির একটি। ঊনবিংশ শতাব্দীতে সম্ভবত এটিই ছিল ইউরোপমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিশ্বের বৃহত্তম খ্রিস্টান কবরখানা।

সাউথ পার্ক স্ট্রিট সেমিট্রি চালু হয়েছিল ১৭৬৭ সালে। এই কবরখানার জমিখণ্ডটি আগে ছিল জলাভূমি এলাকা। ১৮৩০ সাল পর্যন্ত এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই) এটির রক্ষনাবেক্ষণ করে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুরনো কবরখানাটির উপর থেকে চাপ কমাতে এই কবরখানাটি চালু হয়। কবরখানার সামনের রাস্তাটির নাম রাখা হয়েছিল “বেরিয়াল গ্রাউন্ড রোড”। পরে নাম পাল্টে রাখা হয় “পার্ক স্ট্রিট”। ১৭৮৫ সালে কবরখানাটি পার্ক স্ট্রিটের উত্তর অংশ পর্যন্ত প্রসারিত করা হয়। ১৮৪০ সালে লোয়ার সার্কুলার রোডের (অধুনা আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড) পূর্ব অংশে একটি বড়ো কবরখানা চালু হয়। ১৭৯০ সাল থেকে ইউরোপীয়রা আর এই কবরখানা খুব একটা ব্যবহার করত না। তাই কবরখানার প্রধান ফটকের পাশে শ্বেতপাথরের ফলকে লেখা আছে, “সাউথ পার্ক স্ট্রিট, ওপেনড: ১৭৬৭, ক্লোজড: ১৭৯০” (“সাউথ পার্ক স্ট্রিট, চালু হয়: ১৭৬৭, বন্ধ হয়: ১৭৯০”।)।

গোরস্থানে সাবধান চলচ্চিত্রটির শ্যুটিং এই কবরখানায় হয়েছিল। ছবিটি সত্যজিৎ রায়ের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি।

উল্লেখযোগ্য সমাধি[সম্পাদনা]

প্রায় সমস্ত স্মৃতিসৌধগুলি স্থাপত্যগতভাবে চিত্তাকর্ষক এবং দ্রুপদি বিবরণ এবং ভাস্কর্য সহকারে পরিপূর্ণ। মৃত ব্যক্তিদের এপিটাফে উল্লিখিত আকর্ষণীয় পেশাগুলির মধ্যে রয়েছে: গবাদি পশু পালনকারী, জেল-রক্ষক, রূপাকার, স্কুলশিক্ষক, স্থপতি, অনুবাদক, লিভারি, মুদ্রণকারী, হেড টাইড-ওয়েটার, পার্ক সুপারিনটেনডেন্ট, কুপার, পোস্টমাস্টার এবং সার্জন। [২]

৩৬৩ নং কবর[সম্পাদনা]

৩৬৩ নং কবরের এপিটাফে শুধু লেখা আছে “আ ভারচুয়াস মাদার (ডাইড ১৮২৫)”। এই কবরে সমাধিস্থ ব্যক্তির কোনো নামের উল্লেখ পাওয়া যায় না।

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

কবরগুলিতে গথিক স্থাপত্য ও ইন্দো-সারাসেনীয় শৈলীর মিশ্রণ দেখা যায়। ইন্দো-সারাসেনীয় শৈলীর কবরগুলির মধ্যে একটি কবর হিন্দু পঞ্চরত্ন ও রেখ দেউল স্থাপত্যের সংমিশ্রণে নির্মিত। শুধু তাই নয় কবরের সামনের কালো ব্যাসাল্টের খোদাইলিপি থেকে সমাধিস্থ ব্যক্তির হিন্দুধর্ম-প্রীতির কথাও জানা যায়।

বিতর্ক[সম্পাদনা]

একটি সুপরিচিত ব্যবসায়ী পরিবার কবরস্থানটিকে একটি শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। ১৯৮৪ সালে এই জন্য কবর ভাঙ্গার কাজ শুরু হয়,[৩] তবে পরে কলকাতা হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করে এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ করার আদেশ জারি করে। তা সত্ত্বেও, ততক্ষণে কবরখানার যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং অনেক কবর হারিয়ে যায়।

চার্লস স্টুয়ার্টের কবর ধ্বংস করা হয় (এবং পরে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল) এবং ডিরোজিওর কবর ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছিল, তবে তখন, কলকাতা হাইকোর্ট[৪] পরবর্তী নির্মাণ কাজ বন্ধ করার আদেশ জারি করে।

নর্থ পার্ক স্ট্রিট সেমিট্রি[সম্পাদনা]

সাবেক নর্থ পার্ক স্ট্রিট সেমিট্রির জায়গায় এখন দাঁড়িয়ে আছে অ্যাসেম্বলি অফ গড চার্চ স্কুল ও মার্সি হাসপাতাল। এখানে একটিমাত্র কবর সাবেক সমাধিক্ষেত্রটির স্মৃতি বহন করছে। লোয়ার সার্কুলার রোড কবরখানাটি এখনও ব্যবহারযোগ্য। তবে এখানে স্থাপত্যের সংখ্যা অনেক কম।

চিত্রকক্ষ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Here lies Hindoo Stuart: Inside the 250-year-old Park Street cemetery"দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০১-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২৩ 
  2. Chadha, Ashish (২০০৬-১১-০১)। "Ambivalent Heritage: Between Affect and Ideology in a Colonial Cemetery" (ইংরেজি ভাষায়): 339–363। আইএসএসএন 1359-1835ডিওআই:10.1177/1359183506068809 
  3. "Here lies Hindoo Stuart: Inside the 250-year-old Park Street cemetery"দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০১-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২৩ 
  4. "Here lies Hindoo Stuart: Inside the 250-year-old Park Street cemetery"দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০১-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-২৩ 

The South Park Street Cemetery, Calcutta, published by the Association for the Preservation of Historical Cemeteries in India, 5th ed. (2009)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]