ওলন্দাজ বাংলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ওলন্দাজ বাংলা
Bengalen
উপনিবেশ

১৭২৬–১৮২৫
পতাকা প্রতীক
রাজধানী পিপীলি (১৬২৭–১৬৩৫)
হুগলী-চুঁচুড়া (১৬৩৫–১৮২৫)
ভাষাসমূহ ওলন্দাজ
রাজনৈতিক গঠন উপনিবেশ
অধিকর্তা
 -  ১৬৫৫–১৬৫৮ পিটার স্টেরেমিহিয়াস
 -  ১৭২৪–১৭২৭ আব্রাহাম প্যাট্রাস
 -  ১৭৮৫–১৭৯২ ইসাক টিটসিং
 -  ১৭৯২–১৭৯৫ কার্নেলিস ভ্যান সিটার্স আর্যউৎসজাওঁ
ঐতিহাসিক যুগ সাম্রাজ্যবাদ
 -  পিপীলিতে একটি বানিজ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ১৭২৬
 -  ১৮২৪-এর ইঙ্গ-ওলন্দাজ চুক্তি ১৮২৫
সতর্কীকরণ: "মহাদেশের" জন্য উল্লিখিত মান সম্মত নয়

বাংলায় ১৬১০ সাল থেকে ১৮১০ সালের মধ্যে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালক ছিলেন কোম্পানির অবসান না হওয়া পর্যন্ত। এটি ১৮২৫ সাল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডের রাজ্যের উপনিবেশে ছিল, এর পর ওলন্দাজরা এটি ১৮২৪-এর ইঙ্গ-ওলন্দাজ চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটিশদের ছেড়ে চলে যায়। উড়িষ্যার সুবর্ণরেখা নদীর মুখে পিপিলিতে বাণিজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই অঞ্চলে ওলন্দাজদের উপস্থিতি শুরু হয়। সাবেক উপনিবেশটি আজকে ওলন্দাজ ভারত নামে পরিচিত।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৬১৫ সাল থেকে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার সাথে ব্যবসা শুরু করে। ১৬২৭ সালে পিপিলে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। ১৬৩৫ সালে আফিম, লবণ, মসলিন এবং মসলার বাণিজ্য করার জন্য হুগলির পাশে চুঁচুড়ায়[২] একটি বসতি স্থাপন করে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। তারা ফোর্ট গুস্তাভাস নামে একটি দুর্গ, একটি গির্জা এবং বেশ কিছু অন্যান্য ভবন নির্মাণ করেছিল। মহারাষ্ট্রের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একজন বিখ্যাত ফরাসি জেনারেল পেরোন, এই ডাচ উপনিবেশে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং এখানে একটি বড় বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন।

অষ্টাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাংলায় বাণিজ্যটি এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসকরা ১৭৩৪ সালে হুগলী-চুঁচুড়াকে বতভিয়াতে পণ্য সরবরাহ করার পরিবর্তে ডাচ প্রজাতন্ত্রের সাথে সরাসরি বাণিজ্য করার অনুমতি দেয়। ওলন্দাজ বাংলা ছাড়া ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অন্তর্গত একমাত্র ডাচ সিংহলের এই অধিকারটি ছিল।

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বাংলার উপর ডাচ নিয়ন্ত্রণ এংলো-ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয়েছিল এবং ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয়ের কারণে তাদের ক্ষমতা বাংলার হ্রাস পেয়েছিল।

১৭৯৫ সালে ডাচ স্ট্যাডল্ডার উইলিয়াম ভি, অরেঞ্জের প্রিন্স দ্বারা লেখা ঔপনিবেশিক চিঠিতে ওলন্দাজ বাংলা ব্রিটিশ বাহিনীর অধীনে নেওয়ার কথা বলা হয়, ফ্রান্সের দখলদারী উপনিবেশকে প্রতিরোধ করতে। ১৮১৪ সালের অ্যাংলো-ডাচ চুক্তিটি উপনিবেশটিকে ডাচ শাসনে পুনরুদ্ধার করেছিল, কিন্তু প্রভাব বিস্তারের জন্য উপনিবেশকে দুটি পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত করার হয়। ১৮২৪-এর ইঙ্গ-ওলন্দাজ চুক্তির সাথে ভারতীয় উপদ্বীপে তাদের সমস্ত স্থাপনাকে ব্রিটিশদের কাছে হস্তান্তর করেছিল।

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

চুঁচুড়া মুখ থেকে ফোর্ট গুস্তাভাসকে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং সম্প্রতি গির্জা ভেঙ্গে পড়েছে, অব্যবহারের কারণে। তবে বেশিরভাগ ডাচ ঐতিহ্য এখন অবশিষ্ট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডাচ কবরস্থান, পুরানো ব্যারাক (বর্তমানে চুঁচুড়া আদালত), গভর্নরের বাসভবন, জেনারেল পেরেনের বাড়ি, বর্তমানে চুঁচুড়া কলেজ হুগলীর মহসিন কলেজ নামে পরিচিত এবং পুরোনো কারখানা ভবন বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা হয়। হুগলী-চুঁচুড়া বর্তমানে আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার জেলা শহর।

বাণিজ্যিক কেন্দ্র[সম্পাদনা]

Map of the main trading posts of Dutch Bengal
হুগলী-চুঁচুড়া
হুগলী-চুঁচুড়া
←পাটনা
←পাটনা
কাশিমবাজার
কাশিমবাজার
রাজশাহী→
রাজশাহী→
ঢাকা→
ঢাকা→
মুর্শিদাবাদ
মুর্শিদাবাদ
পিপেলি
পিপেলি
বালেশ্বর
বালেশ্বর
ওলন্দাজ বাংলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রের মানচিত্র (দ্রষ্টব্য: পাটনাঢাকা অবস্থানের সামান্য বাইরে)।

বাংলায় ডাচ বসতিগুলি:

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. De VOC site - Bengalen
  2. "The Dutch Cemetery in Chinsurah"www.dutchcemeterybengal.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-২১ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]