মাগুরা সদর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মাগুরা সদর
উপজেলা
মাগুরা সদর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
মাগুরা সদর
মাগুরা সদর
বাংলাদেশে মাগুরা সদর উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°২৯′১৫″ উত্তর ৮৯°২৫′৩১″ পূর্ব / ২৩.৪৮৭৫০° উত্তর ৮৯.৪২৫২৮° পূর্ব / 23.48750; 89.42528স্থানাঙ্ক: ২৩°২৯′১৫″ উত্তর ৮৯°২৫′৩১″ পূর্ব / ২৩.৪৮৭৫০° উত্তর ৮৯.৪২৫২৮° পূর্ব / 23.48750; 89.42528 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগখুলনা বিভাগ
জেলামাগুরা জেলা
আয়তন
 • মোট৪৫০.৫ কিমি (১৭৩.৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট৩,৮০,১০৭
 • জনঘনত্ব৮৪০/কিমি (২২০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৪৪.৪১%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

মাগুরা সদর উপজেলা বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলার[২] অন্তর্গত একটি উপজেলা

পরিচ্ছেদসমূহ

অবস্থান[সম্পাদনা]

৪৫০.৫ কিমি ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট মাগুরা সদর উপজেলা উত্তরে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা এবং শৈলকূপা উপজেলা, দক্ষিণে শালিখা উপজেলা, পূর্বে মোহাম্মদপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে ঝিনাইদহ জেলা দ্বারা বেষ্টিত। এটি ২৩.০১৭° ও ২৩.০৩৪° উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৯.০১৭° ও ৮৯.০৩২° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

নির্বাচনী এলাকা ৯১ মাগুরা-১ (জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা) ইউনিয়নের সংখ্যা ১৪ টি।

  1. আঠারখাদা
  2. কুচিয়ামোড়া
  3. কুছুন্দী
  4. গোপালগ্রাম
  5. চাউলিয়া
  6. জগদল
  7. বগিয়া
  8. বেরইল­-পলিতা
  9. মঘী
  10. রাঘবদাইড়
  11. শত্রুজিৎপুর
  12. হাজীপুর
  13. হাজরাপুর ও
  14. মাগুরা সদর

প্রশাসন[সম্পাদনা]

মাগুরা থানাকে ১৯৮৩ সালে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। ১৮৪৫ সালে এটা থানা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১টি পৌরসভা, ১৮টি ওয়ার্ড, ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ২৬৩টি মৌজা এবং ২৫২টি গ্রাম নিয়ে মাগুরা সদর উপজেলা গঠিত। সদর থানার মোট আয়তন ৪০৬.৫০ বর্গ কিঃ মিঃ এবং নদীর আয়তন ১১.০৬ বর্গ কিঃমিঃ।

স্থাপত্য নিদর্শন এবং পুরাকৃত্তি[সম্পাদনা]

নীলকুঠি (ইছাখাদা), ব্যাপারীপাড়া জামে মসজিদ (পারনান্দুয়ালি), পীর মোকাররম আলী এর সমাধী (হজিপুর) এবং সিদ্ধেশ্বরী মঠ (দরিমাগুরা),রাউতড়া গিরিধারী আশ্রম(রাউতড়া)।Rawtara giridhiri ashrom

মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শন[সম্পাদনা]

বিশ্ব রোড সংলগ্ন স্মৃতিসৌধ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

কলেজ ৫টি, হাইস্কুল ৩২টি, মাদ্রাসা ২টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১০৫টি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪২টি, কারিগরি ইনস্টিটিউট ১টি। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মাগুরা (১৯৪০), মাগুরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৫৪), হাজিপুর হাই স্কুল (১৯১৪) এবং শতরুজিতপুর কালিপ্রসন্ন হাই স্কুল (১৯১৯),রাউতড়া হৃদয়নাথ স্কুল এন্ড কলেজ (১৯৩০)।।

সাস্কৃতিক সংগঠন[সম্পাদনা]

ক্লাব ৮০টি, গণগ্রন্থাগার ৩টি, সিনেমা হল ২টি, থিয়েটার গ্রুপ ৪টি, অপেরা দল ২টি, সাহিত্য সমিতি ২টি, মহিলা সংগঠন ৩টি।

স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত সংবাদপত্র সাময়িকী[সম্পাদনা]

দৈনিক খেদমত, সাপ্তাহিক মাগুরা বার্তা, সাপ্তাহিক গ্রামীণ বাংলা, সাপ্তাহিক জনসংবাদ ও অঙ্গীকার এবং মাসিক নবগঙ্গা।

প্রধান পেশা[সম্পাদনা]

কৃষি ৪৬.০৬%, কৃষি শ্রমিক ১৮.০৬%, মজুরী শ্রমিক ৩.২৯%, শিল্প ১.২১%, ব্যবসা বাণিজ্য ১১.৩৭%, চাকুরী ৭.৮৪%, পরিবহন ৩.৮৭, নির্মাণ ১.৪৩% এবং অন্যান্য ৭.১৭%।

ভূমির ব্যবহার[সম্পাদনা]

চাষযোগ্য মোট জমি ২৭১৪০.৮০ হেক্টর, পতিত জমি ১৪১.৮৫% হেক্টর, একক ফসল ২৫%, দ্বৈত ফসল ৫৫%, ত্রিফসল ২০%, সেচের আওতাধীন জমি ৭৮%।

ভূমি নিয়ন্ত্রণ[সম্পাদনা]

চাষীদের মধ্যে ১৫% ভূমিহীন, ৩৫% ক্ষুদ্র, ৪২% মাঝারি এবং ৮% ধনী। মাথাপিছু জমির পরিমান ০.০১২ হেক্টর।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

মসজিদ ২৫০টি, মন্দির ৫৫টি, চার্চ ১টি, সমাধী ১টি ও তীর্থ স্থান ৩টি। সবচেয়ে উলেস্নখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাগুরা জামে মসজিদ, ব্যাপারীপাড়া জামে মসজিদ, পীর মোকাররম আলী এর সমাধী (হজিপুর), কালিবাড়ী মন্দির, ন্যাংটা বাবা আশ্রম (সাতধোয়া), হাজরাতলা মঠ ও মিশন এবং সিদ্ধেশ্বরী মঠ (দরিমাগুরা)।

সাক্ষরতা[সম্পাদনা]

গড় সাক্ষরতা ৩০.৫%। এর মধ্যে পুরুষ ৪১.৬% এবং মহিলা ১৯.৪%।

এনজিও তৎপরতা[সম্পাদনা]

তৎপরতা চালাচ্ছে এমন গুরুত্বপূর্ণ এনজিওগুলি হচ্ছে ব্রাক, আশা, প্রশিকা, স্বনির্ভর বাংলাদেশ, সেবা, প্রাইম এবং এ ডি আই।

স্বাস্থ্য কেন্দ্র[সম্পাদনা]

হাসপাতাল ১টি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১টি, শিশু হাসপাতাল ১টি, চক্ষু হাসপাতাল ১টি, ডায়াবেটিক হাসপাতাল ১টি, প্রসুতি হাসপাতাল ১টি, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ১৩টি এবং স্যাটেলাইট ক্লিনিক ৭টি।

শহরের আয়তন[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা এবং আয়তনের দিক থেকে মাগুরা সদর উপজেলা মাগুরা জেলার সবচেয়ে বড় থানা। ১৮টি ওয়ার্ড এবং ৬১টি মহল্লা নিয়ে মাগুরা শহর গঠিত। শহরের আয়তন ২২.৯৫ বর্গ কি: মি:।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

উপজেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ।

  • পুরুষ ৫১.৪১%
  • মহিলা ৪৮.৫৯% এর মধ্যে
  1. মুসলমান ৭৮.৫৪%
  2. হিন্দু ২১.২৮% এবং
  3. অন্যান্য ০.১৮%। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৪ হাজার। শহরের অধিবাসীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৪৭.৬%।

প্রধান ফসল[সম্পাদনা]

ধান, পাট, গম, সরিষা, বেগুন, আখ, মরিচ, পেঁয়াজ, ছোলা এবং মসুর ডাল

বিলুপ্ত অথবা প্রায় বিলুপ্ত ফসল[সম্পাদনা]

মিষ্টি আলু, নীল, কাউন ও অড়হর।

প্রধান ফল[সম্পাদনা]

আম, কাঁঠাল, কালোজাম, পেঁপে, বেল, লিচু

প্রধান রপ্তানি[সম্পাদনা]

পাট, তুলা, পেঁপে, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজবেগুন

শিল্প প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

বৃহৎ শিল্পের মধ্যে রয়েছে

  1. বস্ত্র কল ২টি
  2. প্লাস্টিক পাইপ কারখানা ১টি
  3. সাবান কারখানা ১টি
  4. বরফ কারখানা ১০টি
  5. বিড়ি কারখানা ১ট
  6. চামড়া কারখানা ১৮টি
  7. ওয়েল্ডিং কারখানা ১৩৫টি। কুঠির শিল্পের মধ্যে রয়েছে তাঁত, বাঁশবেত, কামার, স্বর্ণকার, কুম্ভকার, কাঠের কাজ ও দরজী।

হাট-বাজার ও মেলা[সম্পাদনা]

মোট হাট বাজারের সংখ্যা ৩০টি। এরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মাগুরা একতা কাঁচা বাজার, সত্রজিতপুর , ইছাখোদা, আলোকদিয়া এবং কাটাখালী হাট। মেলার সংখ্যা মোট ৮টি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রথখোলা মেলা, কঠিয়ানি মেলা এবং বৈশাখী মেলা

নদ নদী ও বিল[সম্পাদনা]

মাগুরা সদর উপজেলায় অনেকগুলো নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে গড়াই নদী, নবগঙ্গা নদী, ফটকি নদী ও আলমখালি নদী।[৩][৪] উল্লেখযোগ্য বিলের মধ্যে রয়েছে শিরিজদিয়া, পদ্মা, কুমার এবং গজার গাড়াই বিল

যোগাযোগ সুবিধাদি[সম্পাদনা]

পাকা সড়ক ১৫৫ কি: মি:, আধাপাকা ৭৫ কি: মি: এবং কাঁচা রাস্তা ৭৫০ কি: মি:।

ঐতিহ্যগত পরিবহন[সম্পাদনা]

পালকি, মোটর লঞ্চ, ঘোড়ার গাড়ি, নৌকা, মহিষের গাড়ি, গরুর গাড়ি। এ সব ধরনের পরিবহন হয় বিলুপ্ত অথবা বিলুপ্ত প্রায়।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  1. সাকিব আল হাসান
  2. দিদার ইসলাম
  3. ফরিদা পারভিন
  4. ফররুখ আহমদ
  5. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

মাগুরা জেলা, বাংলাদেশের উপজেলার তালিকা, বাংলাদেশের শহরের তালিকা

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. BBS। "Population Census 2011(Dhaka & Khulna)" (PDF)http://www.bbs.gov.bd/। Bangladesh Bureau of Statistics (BBS)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারী ২০১৫  |ওয়েবসাইট= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. রঞ্জিত কুমার বসু (২০১২), "মাগুরা সদর উপজেলা", সিরাজুল ইসলাম এবং আহমেদ এ. জামাল, বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্রকোষ (দ্বিতীয় সংস্করণ), এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ 
  3. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৮৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯
  4. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬১২, ISBN 984-70120-0436-4.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]