বিষয়বস্তুতে চলুন

গাংনী উপজেলা

গাংনী
উপজেলা
মানচিত্রে গাংনী উপজেলা
মানচিত্রে গাংনী উপজেলা
স্থানাঙ্ক: ২৩°৫১′৩৬.০০০″ উত্তর ৮৮°৪৬′১২.০০০″ পূর্ব / ২৩.৮৬০০০০০০° উত্তর ৮৮.৭৭০০০০০০° পূর্ব / 23.86000000; 88.77000000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশবাংলাদেশ
বিভাগখুলনা বিভাগ
জেলামেহেরপুর জেলা
প্রতিষ্ঠা২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪
জাতীয় সংসদ৭৪ (মেহেরপুর - ২)
সরকার
 • সংসদ সদস্যমো: নাজমুল হুদা (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী)
আয়তন
 • মোট৩৪৪.৪৭ বর্গকিমি (১৩৩.০০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০২২)[১]
 • মোট৩,২২,৭০১
 • জনঘনত্ব৯৪০/বর্গকিমি (২,৪০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৪২.২%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৭১১০
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৪০ ৫৭ ৪৭
ওয়েবসাইটদাপ্তরিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

গাংনী বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে এটি মেহেরপুরের সবচেয়ে বড় উপজেলা। এর উত্তরে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর ও মিরপুর উপজেলা; পশ্চিমে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা; দক্ষিণে মেহেরপুর জেলার মেহেরপুর সদর উপজেলা এবং পূর্বে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলা। ১৯৮৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি একে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।[২]

খেলাধুলা ও বিনোদন

[সম্পাদনা]

মেহেরপুর,গাংনী, হাঁড়াভাঙ্গা গ্রামে তরুণদের মোবাইল ফোনের আসক্তি দূর করতে এবং সুস্থ ক্রীড়া চর্চায় নিয়োজিত রাখতে ২০২২ সালে মো: সাইফ-এর নেতৃত্বে হাঁড়াভাঙ্গা জুনিয়র ফুটবল টিম (HJFT) নামক একটি স্থানীয় ফুটবল ক্লাব গঠিত হয়। ক্লাবটি এলাকার কিশোর ও যুবকদের মাদক ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে মাঠমুখী করতে অবদান রাখছিলো ৫টি বছর । ২১ আগস্ট ২০২৬ শে তাদের অফিসিয়াল পথ চলার সমাপ্তি ঘসনা করা হয়।

অবস্থান ও আয়তন

[সম্পাদনা]

গাংনী নামের সাথে যুক্ত হয়ে আছে এ অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশের পরিচয়। গাংনী পদটিই এখানে প্রধান। নদী বা নদীর মৃতপ্রায় ধারাকে এ এলাকার মানুষ গাং বা গাঙ বলে। অনুমান করা হয় যে, গাঙ্গেয় অববাহিকার এ এলাকায় প্রথম বসতি স্থাপনকারী মানুষেরা অন্যদের বসবাসে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ‘এ এলাকায় গাং অর্থাৎ নদী নেই’- এমন ঘোষণা দেয়। ‘গাং নেই’ পরবর্তীকালে হয়ে যায়- ‘গাংনী’। এ এলাকার মানুষেরা নেই বুঝাতে ‘নি’ উচ্চারণ করে। গাংনী নামকরণে ভিন্ন আর একটি যুক্তিও পাওয়া যায়। পশ্চিমে কাজলা নদী এবং পূর্বে মাথাভাঙ্গা নদীর মধ্যবর্তী দোয়ার অঞ্চলে এ থানার অবস্থান। সেই অর্থে এ নদীর প্রধান উৎস গঙ্গা। গঙ্গার কন্যা মনে করার কারণে খরস্রোতা মাথাভাঙ্গাকে একসময় এ এলাকার মানুষ ‘গাংগীনি’ বলে ডাকত। গাংগীনি থেকে গাঙ্গনী বা গাংনী শব্দের উৎপত্তি। গাংনী নামকরণে মুলত এ অঞ্চলের নদী সম্পৃক্ততার পরিচয় ফুটে উঠেছে।[৩]

এই উপজেলার উত্তরে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলা, দক্ষিণে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা ও মেহেরপুর সদর উপজেলা, পূর্বে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলা, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা ও কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলা, পশ্চিমে মেহেরপুর সদর উপজেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।

প্রশাসনিক এলাকা

[সম্পাদনা]
গাংনী উপজেলার মৌজা জিওকোড ম্যাপ

উপজেলার মোট আয়তন ৩৪৪.৪৭ বর্গ কিলোমিটার। এটি ১টি থানা, ১টি পৌরসভা (গ শ্রেণীর), ৯টি ইউনিয়ন, ১৩টি মহল্লা, ০৯টি ইউনিয়ন, ১০৩টি মৌজা, ১৪৩ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত।

জনসংখ্যার উপাত্ত

[সম্পাদনা]

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী গাংনী উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩,২২,৭০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৫৮,৬১০ জন এবং মহিলা ১,৬৪,০৮৯ জন (প্রায়)। এই উপজেলার পরিবার সংখ্যা ৯২,৭৬৮টি এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯৪৩.৬ জন।

শিক্ষা

[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার ৪২.২% (পুরুষ ৪২.৭% ও মহিলাঃ ৪১.৭%)।

  • প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮২টি (সরকারি ৭৮টি, বেসরকারি রেজিষ্টার্ড ৭৭ টি, আন রেজিষ্টার্ড ৮টি, কিন্ডার গার্ডেন ১৪টি, স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা ০১টি, উচ্চ মাদ্রাসা সংলগ্ন নেই, কমিউনিটি ৪টি),
  • নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১১ টি,
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫২ টি,
  • উচ্চ মাধ্যমিক ০৩ টি,
  • স্কুল এন্ড কলেজ ০১ টি,
  • ডিগ্রী কলেজ ০৩ টি (বেসরকারি),
  • কলেজ ১১ টি,
  • ফাযিল মাদ্রাসা ০১ টি,
  • আলিম মাদ্রাসা ০১ টি,
  • দাখিল মাদ্রাসা ০৭টি।

অর্থনীতি

[সম্পাদনা]

নদীসমূহ

[সম্পাদনা]

গাংনী উপজেলায় ৩টি নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে ভৈরব নদী, হিশনা-ঝাঞ্চা নদী এবং কাজলা নদী।[৪][৫]

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি

[সম্পাদনা]

বিবিধ

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে গাংনী"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারী ২০১৫। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |সংগ্রহের-তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  2. ↑ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "উপজেলা প্রশাসনের পটভূমি"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১৫।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. ↑ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "উৎপত্তি ও নামকরণ"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারী ২০১৫। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |সংগ্রহের-তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  4. ↑ ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৮৩-৮৪, ৩৮৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯।
  5. ↑ মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক (ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃ. ৬১২। আইএসবিএন ৯৮৪-৭০১২০-০৪৩৬-৪। {{বই উদ্ধৃতি}}: |আইএসবিন= মান: অবৈধ উপসর্গ পরীক্ষা করুন (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার |আইএসবিএন-ত্রুটি-উপেক্ষা-করুন= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]