মনিরামপুর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মণিরামপুর
উপজেলা
মণিরামপুর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
মণিরামপুর
মণিরামপুর
বাংলাদেশে মনিরামপুর উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°০′৫২″ উত্তর ৮৯°১৪′১৩″ পূর্ব / ২৩.০১৪৪৪° উত্তর ৮৯.২৩৬৯৪° পূর্ব / 23.01444; 89.23694স্থানাঙ্ক: ২৩°০′৫২″ উত্তর ৮৯°১৪′১৩″ পূর্ব / ২৩.০১৪৪৪° উত্তর ৮৯.২৩৬৯৪° পূর্ব / 23.01444; 89.23694 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগখুলনা বিভাগ
জেলাযশোর জেলা
আসন৮৯, যশোর-৫
আয়তন
 • মোট৪৪৪.৭৩ কিমি (১৭১.৭১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট৩,৮২,৪৬৫
 • ঘনত্ব৮৬০/কিমি (২২০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট৫০.৭৬%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৭৪৪০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

মণিরামপুর বাংলাদেশের যশোর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলার মধ্যে অন্যতম ।

জনশ্রুতি আছে রাজা সীতারাম রায়ের উকিল মুণিরাম রায়ের নাম ধরে জনপদের নাম হয়েছে মণিরামপুর। ঊনবিংশ শতকের প্রথম দশকে চাঁচড়া রাজবাড়ীর জনৈক মহিলা এখানে একটি মস্তবড় পুকুর খনন করেন। আজও তা কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে।[২]

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

মণিরামপুরে হরিহর নদ

এর আয়তন ৪৪৪.৭৩ বর্গ কিলোমিটার (১৭১.৭৩ বর্গমাইল)। উত্তরে যশোর সদর উপজেলা, পূর্বে অভয়নগর উপজেলা, দক্ষিণে কেশবপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলাঝিকরগাছা উপজেলা। এখানকার প্রধান নদ-নদী সমুহ: হরিহর, মুক্তেশ্বরী, কপোতাক্ষ।

প্রশাসনিক অবকাঠামো[সম্পাদনা]

১৫ এপ্রিল ১৯৮৩ সালে মনিরামপুর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। ১টি পৌরসভা, ৯টি ওয়ার্ড, ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদ, ২৪৬টি মৌজা এবং ২৪৯ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এই উপজেলা। ইউনিয়নগুলো হলো–

  1. কাশিমনগর
  2. কুলটিয়া
  3. খানপুর
  4. খেদাপাড়া
  5. চালুয়াহাটি
  6. ঝাঁপা
  7. ঢাকুরিয়া
  8. দুর্বাডাঙ্গা
  9. নেহালপুর
  10. ভোজগাতি
  11. মনিরামপুর
  12. মনোহরপুর
  13. মশ্বিমনগর
  14. রোহিতা
  15. শ্যামকুড়
  16. হরিদাসকাটি
  17. হরিহরনগর

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ৫০.১ শতাংশ এবং মহিলা ৪৯.৯ শতাংশ। মুসলমান ৭৯.২ শতাংশ, হিন্দু ২০.৬২ শতাংশ এবং অন্যান্য ৫.১৮ শতাংশ। গড় সাক্ষরতা ২৮.৯ শতাংশ। যার মধ্যে শতকরা ৩৭.২জন পুরুষ এবং ২০.৬ জন মহিলা।

ঐতিহাসিক ঘটনা[সম্পাদনা]

মণিরামপুর উপজেলায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর

মুক্তিযুদ্ধের সময় মনোহর গ্রামে পাক সেনাবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মুখোমুখি যুদ্ধ হয়। এসময় পাকিস্তানী বাহিনী ২৩ জন নিরীহ ও নিরাপরাধ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এ উপজেলায় রয়েছে ‘শহীদ আকরাম সড়ক’। তাছাড়া উপজেলায় আছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

রাস্তাঘাট ও যানবাহন[সম্পাদনা]

পাকা রাস্তা ৪৪ কি: মি:, আধা পাকা ৩২ কি:মি: এবং কাঁচা রাস্তা ৭৮৬ কি: মি:।

গরুর গাড়ি, হেলিকাপ্টার (একপ্রকার সাইকেলচালিত যাত্রী বাহক) এবং পাল্কী হলো এ অঞ্চলের ঐতিহাসিক যানবাহন। এ ধরনের পরিবহন হয় বিলুপ্ত অথবা প্রায় বিলুপ্ত।

এছাড়া আধুনিক যানবাহন যেমন– বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, রিকশা-ভ্যান, টেম্পু, করিমন, টেকার, নসিমন, আলমসাধু এবং ইজিভ্যান ইজি রিকশা সহ অন্যান্য সাধারণ যানবহন মনিরামপুরে চলমান।

স্থানীয় সংগঠন[সম্পাদনা]

অভেদ রক্তদান সংস্থা, প্রত্যয় সমাজ উন্নয়নমূলক সংগঠন, সত্যসন্ধ, কণ্ঠশীলন, উচ্চারণ শিল্পী সংসদ, মণিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠি।

স্থানীয় উৎসব[সম্পাদনা]

নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা, ঝাঁপা বাঁওড়, মণিরামপুর

মণিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠির আয়োজনে ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত বৈশাখী মাসে মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে কৃষি মেলা এবং বৃক্ষ ও ফলজ মেলা হয়ে থাকে যা অতিশয় দৃষ্টিনন্দন। অত্যন্ত যাকজমকের সাথে এখানে পূজা-পার্বণ উদযাপিত হয়। মশিয়াহাটির মন্দির প্রাঙ্গণ এর দূর্গাপুজা এবং কপালিয়ার মহামায়া পুজা (গাউটে মেলা) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া ঝাঁপা বাঁওড়ে অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অতি মনোরম।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

কলেজের সংখ্যা ১১টি, উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৭টি, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যায়ের সংখ্যা ৩৭টি, মাদ্রাসার সংখ্যা ১৬৩টি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২০টি এবং বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪৬ টি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মনিরামপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মণিরামপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

মণিরামপুরে মানুষের জীবিকা প্রধানত কৃষিনির্ভর। এখানে কৃষিতে ৪৫.৬%, কৃষি শ্রমিক হিসেবে ২৮.৩৬%, পরিবহনে ২.৪৪%, দিন মজুর হিসেবে ১.৯৯%, ব্যবসা বাণিজ্যে ৯.৫১%, চাকুরীতে ৩.৯৪%, শিল্পে ২% এবং অন্যান্য পেশাতে ৬.১৬% মানুষ নিয়োজিত।

ফসলের মাঠ, রাজগঞ্জ, মণিরামপুর।

এ অঞ্চলে উৎপাদিত প্রধান শস্য হলো ধান, পাট, আলু, সরিষা ও ঋতুকালীন তরিতরকারি। মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১,০৯,৮৯৪ একর। বিলুপ্ত অথবা প্রায় বিলুপ্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে মসীনা, নীল, এবং অরহর। এখানে প্রচুর পরিমাণে আম, কাঁঠাল, পেঁপে এবং কলা সহ অন্যান্য ঋতুকালীন ফল পাওয়া যায়। শিল্প প্রধান অঞ্চল না হলেও মণিরামপুর উপজেলায় কয়েকটি চাউল কল, আটা কল ও বরফ কল আছে। কুঠির শিল্প যেমন– তাঁত, স্বর্ণকার, কামার, কুম্ভকার, মাটির কাজ, দরজী এবং ওয়েল্ডিং-ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

মোট হাট বাজারের সংখ্যা ৬০টি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নেহালপুর, মনিরামপুর, ঢাকুরিয়া এবং চীনেটোলা।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

মণিরামপুর উপজেলায় অবস্থিত দমদম পীরের ঢিবি
  • নীলকুঠী, জয়পুর
  • পাগলাদোহা
  • অচিন গাছ
  • দমদম পীরের ডিবি
  • ভাসমান সেতু, ঝাপা[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে মণিরামপুর"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারী ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. http://manirampur.jessore.gov.bd/site/golpo_noy_shotti/20865f90-9e85-4460-93ed-fcd451a956c6/মনিরামপুর-উপজেলার-ভৌগলিক-অবস্থান-ও-ইতিহাস
  3. http://www.jessore.gov.bd/site/tourist_spot/d0adc3b3-1c3a-11e7-8f57-286ed488c766/%E0%A6%A6%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A6%AE%20%E0%A6%AA%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BF

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]