শালিখা উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
শালিখা
উপজেলা
শালিখা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
শালিখা
শালিখা
বাংলাদেশে শালিখা উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°১৭′ উত্তর ৮৯°২৪′ পূর্ব / ২৩.২৮৩° উত্তর ৮৯.৪০০° পূর্ব / 23.283; 89.400স্থানাঙ্ক: ২৩°১৭′ উত্তর ৮৯°২৪′ পূর্ব / ২৩.২৮৩° উত্তর ৮৯.৪০০° পূর্ব / 23.283; 89.400 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ খুলনা বিভাগ
জেলা মাগুরা জেলা
আয়তন
 • মোট ২২৮.৮২ কিমি (৮৮.৩৫ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০১)[১]
 • মোট ১,৪৭,৬৬৩
 • ঘনত্ব ৬৫০/কিমি (১৭০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

শালিখা বাংলাদেশের মাগুরা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

মাগুরা জেলা শহর থেকে শালিখা উপজেলা ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। শালিখা উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় আড়পাড়া থেকে। এখানে সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও থানা রয়েছে। শালিখা উপজেলার উত্তর-পশ্চিমে কালীগঞ্জ উপজেলা , উত্তরে- ঝিনাইদহ সদর উপজেলা ঝিনাইদহ জেলা এবং উত্তর ও পূর্বে- মাগুরা জেলার মাগুরা সদর উপজেলা পশ্চিম ও দক্ষিণে - রয়েছে বাঘারপাড়া উপজেলা যশোর জেলা, দক্ষিণ-পূর্বে- মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলা এবং নড়াইল জেলার ,নড়াইল সদর উপজেলালোহাগড়া উপজেলা অবস্থিত।

নামকরণ[সম্পাদনা]

‘শালিখা’ স্থাননাম নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু লোকপ্রচলিত মতামত। জনশ্রতি রয়েছে এক সময় এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে শালি ধান জন্মাতো। শালি ধান এখন লোককথায় প্রচলিত। সুলতান শেরশাহের আমলে এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ‘শেরশাহ সড়ক’ নির্মাণকালে শ্রমিকরা শালি ধানের চিড়া খেয়ে পরিতৃপ্ত হয়ে শালী ধানের সর্বজনীনতা প্রকাশের লে তারা এলাকার নাম দেন ‘শালিখা’। কিন্তু ইতিহাসে এর কোনও ভিত্তি পাওয়া যায় না। অনেকে মনে করেন, ‘শালিখপাখি থেকে শালিখা নামকরণ হতে পারে। আবার অনেকে মনে করেন এ অঞ্চলের জলাশয়ে জলজ উদ্ভিদ শালুক-এর প্রাচুর্য থেকে শালিখা নাম এসেছে। তবে ঐতিহাসিকদের বর্ণনা ও এ অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস বিবেচনায় শালিখা নামকরণের তাৎপর্যপূর্ণ দুটি দিক বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। একটি হৈমন্তিক ফসল ‘শালি’ ধানের ঐতিহ্য এবং অপরটি ‘শালুক’।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

নির্বাচনী এলাকা ৯২ মাগুরা-২ (জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা) ইউনিয়নের সংখ্যা ৭ টি।

  1. শতখালী
  2. শালিখা
  3. আড়পাড়া
  4. ধনেশ্বরগাতী
  5. বুনাগাতী
  6. গঙ্গারামপুর
  7. তালখড়ী

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধে শালিখা : মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শালিখা ৮নং সেক্টরের অধীনে ছিল। শালিখা স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বার। যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানীদের পরাজিত করার মনে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাশ্ববর্তী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে একাত্ম হয়েছিল এ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা। যুদ্ধকালে বুনাগাতিতে পাকবাহিনীর ক্যাম্প আক্রমণ করা হয়। উভয় পক্ষে হতাহতের পর পাকসেনাদের ক্যাম্প দখল করে মুক্তিবাহিনী। শালিখা থানা আক্রমণ করে যদিও কোন সাফল্য আসেনি তবুও মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যুগিয়েছিল। উপজেলার তালখড়িতে হাজরাহাটির শতখালী সেতু ধ্বংস করার পরিকল্পনা তথ্য পাকবাহিনীর দোসর রাজাকার বাহিনী জেনে যায় এবং অতর্কিতে আক্রমণ করলে নাম না-জানা বীর মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হন যারা ছিলেন পাশ্ববর্তী ফরিদপুর জেলার অধিবাসি। সেখানে এখনও গণকবর বিদ্যমান আছে। স্বাধীনাতা যুদ্ধে শালিখার মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান চিরস্মরণীয়। এ উপজেলাই বীর মুক্তিযুদ্ধার সঙ্গি সংখ্যা ১২৫জন।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শালিখা উপজেলা পরিষদ তথ্য ২০১৪-২০১৯

শালিখা উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যা

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ১০৩টি
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৩৩টি
  • দাখিল মাদ্রাসাঃ ১৭টি
  • আলীম মাদ্রাসাঃ ২টি
  • ফাজিল মাদ্রাসাঃ ১টি
  • কলেজ সংখ্যাঃ ৭টি
  • কলেজিয়েট স্কুলঃ ২টি

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

অর্থনীতি ও বাণিজ্য: কৃষি এ অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। প্রধান ফসল ধান, গম, ভুট্টা, আলু, কলা, সরিষা, সবজি, আঁখ, পাট প্রভৃতি। উৎপাদিত ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, জাম, পেঁপে, লিচু, কলা উল্লে¬খযোগ্য। এখান হতে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত ধান, সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী হয়। নদী ও বিলে উৎপাদিত প্রচুর পরিমাণে মাছ আহরণ এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ড।

নদ-নদী[সম্পাদনা]

শালিখা উপজেলায় তিনটি নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে ফটকি নদী, বেগবতী নদীচিত্রা নদী[২][৩]

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  1. শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন
  2. সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য
  3. সাহিত্যরতন হাবিবুর রহমান (মৃত)
  4. কবি শাহ আব্দুল লতিফ আফি আনহু (মৃত)
  5. বাউল কবি মহেন্দ্রনাথ গোস্বামী (মৃত)
  6. সমাজসেবক আমজাদ আলী (মৃত)
  7. অ্যাড. বীরেন শিকদার এমপি
  8. কাজী সালিমুল হক এমপি
  9. গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধরী আব্দুল হালিম
  10. কবি-প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক বীরেন মুখার্জী
  11. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস (রাজনীতিবিদ)
  12. তারাপদ বিশ্বাস
  13. সুধীর দাস
  14. ঝন্টু সর্দার
  15. কমরেড আব্দুল করিম মোল্যা (মৃত)[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] প্রমুখ।

যাতায়াত ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

এ উপজেলার যাতায়াত ব্যবস্থা মোটামুটি ভাল। জেলা শহর মাগুরা , যশোরের সাথে মহাসড়ক পথে এ উপজেলার যোগাযোগ রয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে সবকটি ইউনিয়নেরই সব মৌসুমে মোটরযান চলাচলের উপযোগী কাঁচা ও পাকা রাস্তার সংযোগ রয়েছে। উপজেলার মধ্যে ও বাইরে জনজীবনের যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর মধ্যে বাস, ট্রাক, রিক্সা ও ভ্যানগাড়ী।

 উপজেলা সদর হতে সন্নিকটস্থ স্থানের দুরত্ব:

স্থানের নাম দুরত্ব (কি: মি:

  1. মাগুরা জেলা শহর ১৪
  2. কালিগঞ্জ ৩২
  3. বাঘারপাড়া ২৭
  4. মহম্মদপুর ৩৯
  5. যশোর শহর ৩২
  6. ঝিনাইদহ ৪২
  7. তালখড়ি ৫
  8. ধনেশ্বরগাতি (সিংড়া ইউ/পি অফিস) ১২
  9. শালিখা (শরুশুনা ইউ/পি অফিস) ১৪
  10. শতখালী (হরিশপুর ইউ/পি অফিস ১৪
  11. বুনাগাতি ১৪
  12. গংগারামপুর (পুলুমা ইউ/পি অফিস) ১৮

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে শালিখা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২৭ জানুয়ারী, ২০১৫ 
  2. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৮৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯
  3. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৫৭, ৬১২, ISBN 984-70120-0436-4.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]