ঝিকরগাছা উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ঝিকরগাছা
উপজেলা
ঝিকরগাছা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ঝিকরগাছা
ঝিকরগাছা
বাংলাদেশে ঝিকরগাছা উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৫′৪৯″ উত্তর ৮৯°৮′১০″ পূর্ব / ২৩.০৯৬৯৪° উত্তর ৮৯.১৩৬১১° পূর্ব / 23.09694; 89.13611স্থানাঙ্ক: ২৩°৫′৪৯″ উত্তর ৮৯°৮′১০″ পূর্ব / ২৩.০৯৬৯৪° উত্তর ৮৯.১৩৬১১° পূর্ব / 23.09694; 89.13611 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগখুলনা বিভাগ
জেলাযশোর জেলা
আয়তন
 • মোট৩০৮.০৮ বর্গকিমি (১১৮.৯৫ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০১)[১]
 • মোট২,৭১,০১৪
 • জনঘনত্ব৮৮০/বর্গকিমি (২,৩০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৬৫%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৪০ ৪১ ২৩
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

ঝিকরগাছা বাংলাদেশের যশোর জেলার অন্তর্গত ভারতের সীমান্তবর্তী একটি উপজেলা

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

যশোর জেলা সদর থেকে দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার দূরে, ভৌগলিক অবস্থান উত্তর অক্ষাংশের ৮৯°০৪' এবং ২২°৫৭' উত্তর অক্ষাংশ এর মধ্যে ৮৯°০৭' এবং ৮৯°২২'  পূর্ব দ্রাঘিমাংশ মধ্যে অবস্থিত। এই উপজেলার আয়তন ৩০৮.০৮ বর্গকিলোমিটার । পূর্বে মনিরামপুর উপজেলা, পশ্চিমে শার্শা উপজেলা, উত্তরে চৌগাছা উপজেলা এবং দক্ষিণে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

এ উপজেলার আয়তন ৩০৮.০৮ বর্গকিলোমিটার । মোট ইউনিয়ন ১১ টি , পৌরসভা ১ টি ও গ্রাম ১৭৯ টি । ঝিকরগাছা ম্যাপ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

ইউনিয়নসমূহঃ- গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন, মাগুরা ইউনিয়ন, শিমুলিয়া ইউনিয়ন, গদখালী ইউনিয়ন, পানিসারা ইউনিয়ন, ঝিকরগাছা ইউনিয়ন, নাভারণ ইউনিয়ন, নির্বাসখোলা ইউনিয়ন, হাজিরবাগ ইউনিয়ন, শংকরপুর ইউনিয়ন, বাঁকড়া ইউনিয়ন

নামের বুৎপত্তি ও ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রায় অধিকাংশ ঐতিহাসিক স্থানের নামকরণে বির্তক আছে। ঝিকরগাছার নাম করণেও এ বির্তক থেকে মুক্ত নয়। অধিকাংশের অভিমত জিংকর নামক একজন ইংরেজ এখানে নীল কুঠি স্থাপন করেছিলেন। এই নীল কুঠিকে ঘিরে একটি বাজার স্থাপিত হয়। জিংকর সাহেবের নাম অনুসারে সেই বাজারের নাম হয় জিংকরগাছা বাজার। অতীতে বাজারকে গঞ্জ বলা হতো। গঞ্জ থেকে গাছার উৎপত্তি হয়েছে। ক্রম বিবর্তনে হয় ঝিকরগাছা বাজার। পরবর্তীতে থানার নাম হয় ঝিকরগাছা।যশোর জেলার সাবেক কালেক্টর জেমস ওয়েস্ট ল্যান্ড এর ‘A Report on the district of Jessore’ থেকে জানা যায় Jenkings নামক একজন ইংরেজ নীলকর গদখালীতে ১৮০০ সালে একটি নীলকুঠি স্থাপন করেছিলেন। স্বাভাবিকভাবে এখানে ধারনা করা যায় Jhinkar (জিংকর) না হয়ে Jenkings (জেনকিনস) থেকেও ঝিকরগাছা নামের উৎপত্তি হতে পারে। ঝিকরগাছার প্রাচীন জনপদ গদখালী। জেনকিনস সাহেব এখানে নীল কুঠি স্থাপন করার পর আর এক ইংরেজ ম্যাকানজি সাহেব নীল কুঠির সাথে অন্যান্য কলকারখানা স্থাপন করে গদখালীর উন্নয়ন সাধন করেন। এই জন্যে ম্যাকানজি সাহেবকে ঝিকরগাছার রুপকার বলা হয়। ঝিকরগাছার অপর নাম ম্যাকানজিগঞ্জ। ১৮৬৩ সালে কপোতাক্ষ নদের পশ্চিম পাড় যশোর জেলার অন্তর্ভূক্ত হয় এবং গদখালীকে যশোরের একটি থানা করার প্রয়োজন হয়। গদখালীতে পানীয় জলের অভাবের কারণে যশোরের দিকে ২ মাইল পিছিয়ে বেনেয়ালীতে গদখালীর নামেই গদখালী থানা স্থাপন করা হয়। বেনেয়ালীতে ছিল গভীর বন চোর ডাকাতদের অভয়াশ্রম। ম্যাজিষ্ট্রেট বিনফোর্ট এর নেতৃত্বে এ অভয়াশ্রম ধ্বংশ করা হয়। পরবর্তীতে সুবিধামত কোন এক সময়ে যশোর কোলকাতা সড়কের কপোতাক্ষ নদের উভয় পাশে বাজার গড়ে উঠায় থানা বেনেয়ালী থেকে বর্তমান স্থানে চলে আসে অর্থাৎ ঝিকরগাছায়। উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন জাগে ১৮০০ সালের আগেও এখানে জনপদ ছিল। জনপদের পরিচিতির জন্য একটা নাম থাকা বিশেষ প্রয়োজন। তখন বর্তমান ঝিকরগাছার নাম কি ছিল? এ প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যায় না। তবে একটা ধারণা করা যায় - প্রাচীন জনপদ বারবাজার থেকে ঝিকরগাছার দূরত্ব বেশি নয়। খানজাহান আলী বারবাজার এসে আস্তানা গেঁড়ে ছিলেন। তার প্রভাব চতুর পাশে ছড়িয়ে পড়েছিল। বাগের হাটে তার সমাধির এপিটাপ থেকে জানা যায় তার মৃত্যু হয়েছিল ২৪ অক্টোবর ১৪৫৯ সাল। তিনি ১০০ বছর জীবিত থাকলে জন্ম হয় ১৩৬০ সালের দিকে। ১৩৬০ থেকে ১৪৫৯ সালের মাঝামাঝি অথবা তার কিছু আগে পরে তিনি বারবাজার এসেছিলেন। বারবাজার থেকে তিনি বাগের হাট যান। মুড়লী থেকে হযরত খান জাহান আলীর অনুচরবর্গ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদল কপোতাক্ষ নদ ধরে সুন্দর বনের ভেদকাশী পর্যন্ত ইসলাম প্রচার করেন। এ দলের নেতৃত্ব দেন বোরহান খাঁ বা বুড়ো খাঁ। এ তথ্য থেকে পরিষ্কার বুঝা যায় ব্রিটিশ শাসনের অনেক আগে কপোতাক্ষ তীর অঞ্চলে ইসলাম ধর্মের প্রভাব ছিল। মুসলমানদের ধর্মীয় ভাষা আরবি। ক্রমাগত আল্লাহর নাম স্বরণ করাকে আরবিতে জিকির করা বলে। এবং আরবি গুছা শব্দের বাংলা অর্থ আস্তানা বা খানকাহ এখন দেখা যায়। গবেষক রফিকুল ইসলাম মনে করেন ইসলাম ধর্মের প্রভাবে জিকির গুছা থেকে বর্তমান ঝিকরগাছা নামকরণ হতে পারে। বিশিষ্ট গবেষক, সাহিত্যিক হোসেনউদ্দীন হোসেন বলেন - ঝিকরগাছার পূর্ব নাম ছিল জ্যান্টিনগর। কিভাবে এ নামের উৎপত্তি সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।কথা সাহিত্যিক ইঞ্জিনিয়ার শামছুজ্জামান ঝিকরগাছা নামকরণে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, পাশ্ববর্তী চৌগাছা উপজেলা বড় চারটি গাছ এক জায়গায় ছিল এ থেকে চৌ (চার) এবং গাছা (গাছ) থেকে চৌগাছা নাম করণ হয়েছে। ঝিকরগাছাও গাছের নাম থেকে এসেছে। বাংলা অভিধানে ঝিকড়া শব্দের অর্থ তৃণজাতীয় ছোট গাছ। এই ঝিকড়া জাতীয় গাছের প্রাচুর্যের কারণে ঝিকড়া থেকে ঝিকরগাছা নামের উৎপত্তি হতে পারে। উপরোক্ত যে কোন সূত্র ধরেই ঝিকরগাছার নাম করণ হয়েছে। [২]

ঝিকরগাছা থানা গঠিত হয় ১৯০৯ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে। পৌরসভা গঠিত হয় ১৯৮৮ সালে।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

মোট জনসংখ্যা ২,৭১,০১৪ জন । পুরুষ ও মহিলার সংখ্যা যথাক্রমে ১,৩৮,৫০৭ জন ও ১,৩২,৫০৭ জন।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

  • মোট কলেজ সংখ্যা- ০৯ টি
  • কলেজিয়েট স্কুলঃ ০১টি
  • সরকারী কলেজের সংখ্যা- ১টি
  • বে-সরকারী কলেজ সংখ্যা- ০৫ টি
  • মহিলা কলেজের সংখ্যা- ১ টি
  • মোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়- ৫২ টি
  • ন‌িম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়- ০৮ টি
  • দাখিল মাদ্রাসার সংখ্যা- ৩ টি
  • সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা- ৬২ টি
  • রেজিষ্টার বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়- ৩৯ টি
  • কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়- ১১ টি
  • এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়- ১১ টি

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, সরিষা, ডাল, গম, আলু, তুলা, রজনীগন্ধা, সুপারি, শাকসবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি বিভিন্ন প্রকারের ডাল।

প্রধান ফল-ফলাদি  আম, কাঁঠাল, জাম, পেঁপে, লিচু, নারিকেল, কলা।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য খেজুর গুড়, নারিকেল, সুপারি, রজনীগন্ধা, আলু, শাকসবজি, তুলা, বিড়ি।

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প  লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, কাঠের কাজ, সেলাই কাজ।

অৰ্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ফুলের রাজধানী গদখালী ।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৬৫.৯৭%, অকৃষি শ্রমিক ২.৯৭%, শিল্প ২.০৯%, ব্যবসা ১২.৮৪%, পরিবহন ও যোগাযোগ ৩.৭২%, চাকরি ৪.০৩%, নির্মাণ ১.৩৫%, ধর্মীয় সেবা ০.১১%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ১.৫৩% এবং অন্যান্য ৫.১৫%।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯৬.১৮%, পুকুর ০.১৮%, ট্যাপ ০.৫৭% এবং অন্যান্য ৩.০৭%।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ১১, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৩।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ৩, ক্লাব ৫৮, সিনেমা হল ৩, খেলার মাঠ ২, নাট্যদল ৫, যাত্রাপার্টি ১।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • ফুলের রাজ্য গদখালী
  • দীর্ঘতম কপোতাক্ষ নদ
  • বুকভরা বাওড়
  • বংগবন্ধু পার্ক, কাটাখাল, ঝিকরগাছা
  • বেত্রাবতী নদ

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

  • মসজিদ ৩৮৯ টি
  • মন্দির ৩ টি
  • গীর্জা ১ টি

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে ঝিকরগাছা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ৬ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারী ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নে ঝিকরগাছার ইতিহাস

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]