দৌলতপুর উপজেলা, কুষ্টিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দৌলতপুর
উপজেলা
দৌলতপুর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
দৌলতপুর
দৌলতপুর
বাংলাদেশে দৌলতপুর উপজেলা, কুষ্টিয়ার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°০′১২″ উত্তর ৮৮°৫২′২৭″ পূর্ব / ২৪.০০৩৩৩° উত্তর ৮৮.৮৭৪১৭° পূর্ব / 24.00333; 88.87417স্থানাঙ্ক: ২৪°০′১২″ উত্তর ৮৮°৫২′২৭″ পূর্ব / ২৪.০০৩৩৩° উত্তর ৮৮.৮৭৪১৭° পূর্ব / 24.00333; 88.87417 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগখুলনা বিভাগ
জেলাকুষ্টিয়া জেলা
আয়তন
 • মোট৪৬১ কিমি (১৭৮ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০১)[১]
 • মোট৪,৪৩,৯৬০
 • জনঘনত্ব৯৬০/কিমি (২৫০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

দৌলতপুর উপজেলা বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।

অবস্থান ও আয়তন[উৎস সম্পাদনা]

দৌলতপুর উপজেলা কুষ্টিয়া জেলার অধীনে একটি উপজেলা। দৌলতপুর উপজেলার আয়তন ৪৬১বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে বাঘালালপুর, দক্ষিণে গাংনী ও মিরপুর, পুর্বে ভেড়ামারামিরপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ

ইতিহাস[উৎস সম্পাদনা]

১৯৮৩ সালে দৌলতপুর থানাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষনা করা হয়।

নামকরণ
মুক্তিযুদ্ধে

১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর দৌলতপুরে মুক্তিবাহিনী ও পাক হানাদার বাহিনীর মধ্যে একটি লড়াই সংঘটিত হয়। এতে বহু লোক হতাহত হয়। দৌলতপুর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ৬টি গণকবর রয়েছে। এছাড়া এখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে একটি সৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নামে ১০ টি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। শেরপুর নামক গ্রামে এই উপজেলার সব চেয়ে বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনী পরাজয় বরন করে।

ভৌগোলিক উপাত্ত[উৎস সম্পাদনা]

ভূপ্রকৃতি
মৃত্তিকা

নদ-নদী[উৎস সম্পাদনা]

দৌলতপুর উপজেলায় ২টি নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে পদ্মা নদীমাথাভাঙ্গা নদী[২][৩] এছাড়া হিশনা-ঝাঞ্চা নদী নামের আরো একটি নদী দৌলতপুর উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

সাংষ্কৃতিক বৈশিষ্ঠ্য[উৎস সম্পাদনা]

ভাষা
দৌলতপুরে মানুষের মুখের ভাষা মিষ্টি ভাষা হিসেবে খুবই পরিচিত।
উত্সব ঃ এখানে ধর্ম বর্ন মিলে মিশে ঈদ, পুজা পালন করা হয়।
খেলাধুলা
খেলাধুলায় কিছুটা পিছিয়ে আছে তবে আল্লারদর্গা বাজারের পাশে একটি স্টেডিয়াম তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে, এতে খেলাধুলার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক এলাকা[উৎস সম্পাদনা]

১৬১টি মৌজা ও ২৪২টি গ্রাম নিয়ে গঠিত দৌলতপুর উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে।

নির্বাচনী এলাকা ও জনপ্রতিনিধি

জনসংখ্যার উপাত্ত[উৎস সম্পাদনা]

২০০১ সালের বাংলাদেশ আদমশুমারী অনুযায়ী দৌলতপুর উপজেলার জনসংখ্যা ৪,৪৩,৯৬০ জন। এর মধ্যে ৫১.৪২ শতাংশ পুরুষ ও বাকী ৪৮.৫৮ শতাংশ নারী। উপজেলার আঠারোর্ধ জনসংখ্যা ১,৭৮,৫৩৯ জন। এখানকার সাক্ষরতার হার ৬৫.৫% (৭+ বছর বয়সী) যেখানে জাতীয় পর্যায়ে সাক্ষরতার হার ৬২.৪%।[৪]

ধর্ম

মোট জনসংখ্যার ৯৯.২৮% মুসলিম ও ০.৭২% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। এখানে ১৬০ টি মসজিদ , ১ টি মন্দির ও ১ টি গির্জা রয়েছে।

স্বাস্থ্য[উৎস সম্পাদনা]

স্বাস্থ্য চিকিৎসা দিক দিয়ে কিছুটা পিছিয়ে, তবুও এখানে আছে ৫০ বেডের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেস, এছাড়া আছি প্রতি ওর্যাডে একটি করে কমিনিটি ক্লিনিক।

শিক্ষা[উৎস সম্পাদনা]

দৌলতপুর উপজেলার সাক্ষরতার হার ৬৭%; যার মধ্যে ৭৩%% পুরুষ ও ৬১% মহিলা। এই উপজেলার রয়েছেঃ

  • সরকারি কলেজ ১ টি,
  • মহাবিদ্যালয়ঃ ১১টি,
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৪৫টি,
  • সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ১০৫টি,
  • বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ৮২টি,
  • মাদ্রাসাঃ ৩৫টি,
  • সরকারি ভকেশনাল প্রশিক্ষন কেন্দ্রঃ ১টি এবং
  • এতিমখানাঃ ১টি।
কৃষি :
দৌলতপুর উপজেলা তামাক চাষের জন্যে বিশ্ব বিখ্যাত। এখানে প্রচুর তামাক উৎপাদন হয় যা দেশের চাহিদা পুরন করে বিদেশে রপ্তানি হয়। উপজেলার দিঘলকান্দী, আমদহ, হরিণগাছি (পাইক পাড়া), পিয়ারপুর,রিফাইতপুর এলাকায় শতকরা ৯৯.৯৯  ভাগ জমিতে তামাক চাষ হয়। এছাড়া তারাগুনি মথুরাপুর এলাকায় প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়, যা স্থানীয় চাহিদা পুরন করে ঢাকাসহ দেশের অন্যে এলাকায় পাঠানো হয়। তাছাড়া,ধান, পাট, চীনাবাদাম ও প্রচুর পরিমানে উৎপাদিত হয়।

অর্থনীতি[উৎস সম্পাদনা]

শিল্প-প্রতিষ্ঠান 
এই উপজেলা যেমন কৃষিতে এগিয়ে তেমনি শিল্প প্রতিষ্ঠানে অনেক উন্নত। এখানে বিশ্বাস পরিবাবের বেশ কয়েক টি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে, যেমন, নাসির টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ, নাসির বিড়ি,নাসির সিগারেট, রকেট ম্যাচ,২ স্টার ম্যাচ, বায়জিদ অ্যাটো রাইচ মিল ইত্যাদি কল কারখানা, এখানে আনুমানিক ১ লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে প্রত্যক্ষ -পরোক্ষ ভাবে। এছাড়া অনেক ছোট ছোট কল কারখানা আছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[উৎস সম্পাদনা]

সড়কপথ
কুষ্টিয়া শহর থেকে সরাসরি সড়ক পথে দৌলতপুরে যাওয়া যায়। প্রতি ১০ মিনিট পর পর বাস যায়।
রেলপথ 
দৌলতপুরে কোন রেল পথ নেই।

দৌলতপুর বাসির দীর্ঘ দিনের দাবি এখানে রেলপথ স্থাপন করা হোক.. এছাড়াও এখানে একটি স্থলবন্দর (প্রাগপুর) এর জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে

কৃতী ব্যক্তিত্ব[উৎস সম্পাদনা]

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা[উৎস সম্পাদনা]

এই উপজেলায় দর্শনীয় স্থান তেমন কিছু নেই বলেই চলে। নাসির সিগারেট ফ্যাক্টরি, পদ্মা নদীর পাড় আর প্রাগপুর স্থল বন্দর দেখার মত স্থান।

বিবিধ[উৎস সম্পাদনা]

আরও দেখুন[উৎস সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[উৎস সম্পাদনা]

  1. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে দৌলতপুর"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি ও বেসিস। ৬ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারী, ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  2. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৯০, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯
  3. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬১২, ISBN 984-70120-0436-4.
  4. "Population Census Wing, BBS."। ২০০৫-০৩-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ November 10  অজানা প্যারামিটার |accessyear= উপেক্ষা করা হয়েছে (|access-date= ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে) (সাহায্য); এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ[উৎস সম্পাদনা]