কুমারখালী উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কুমারখালী
উপজেলা
কুমারখালী বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
কুমারখালী
কুমারখালী
বাংলাদেশে কুমারখালী উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৫১′১৫″উত্তর ৮৯°১৪′৩০″পূর্ব / ২৩.৮৫৪২° উত্তর ৮৯.২৪১৭° পূর্ব / 23.8542; 89.2417স্থানাঙ্ক: ২৩°৫১′১৫″উত্তর ৮৯°১৪′৩০″পূর্ব / ২৩.৮৫৪২° উত্তর ৮৯.২৪১৭° পূর্ব / 23.8542; 89.2417
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ খুলনা বিভাগ
জেলা কুষ্টিয়া জেলা
আয়তন
 • মোট ২৬৫.৮৯ কিমি (১০২.৬৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট ৩,১৯,০১৬.
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৬৩.২১%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট kumarkhali.kushtia.gov.bd


কুমারখালী উপজেলা বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার জীবনের এক উল্লেখযোগ্য অংশ এই উপজেলার শিলাইদহ অঞ্চলে কাটিয়েছেন।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

২৬৫.৮৯ বর্গকিলোমিটার (১০২.৬৬ বর্গমাইল) আয়তনের কুমারখালী উপজেলার পূর্বে খোকসা উপজেলা, পশ্চিমে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, উত্তরে পাবনা সদর উপজেলা এবং দক্ষিনে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলা অবস্থিত।<ref name="তবা"/> গড়াই নদীর কোল ঘেসে এর অবস্থান।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কুমারখালী অনেক পুরনো একটি উপজেলা। ১৩টি পরগনা নিয়ে ১৮৫৫ সালে কুমারখালী থানা গঠিত হয়, যেটি ১৮৫৭ সালে পাবনার একটি মহকুমায় উন্নীত হয়; তবে ১৮৭১ সালে তা অবলুপ্ত হয়ে কুষ্টিয়া মহকুমার অংশ হিসেবে নদীয়া জেলার অন্তর্ভূক্ত হয়।<ref name="বাপি">শেখ মোঃ বদরুল আলম টিপু (: ৯ এপ্রিল ২০১৫)। "কুমারখালী উপজেলা"বাংলাপিডিয়া - বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। সংগৃহীত : ৯ জুলাই ২০১৬ </ref> ১৯৮৩ সালে কুমারখালী থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়।

নামকরণ[সম্পাদনা]

প্রচলিত মতানুসারে, কুমার নদের নাম আনুসারে এই এলাকার নামকরন "কুমারখালী" হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে কুমারখালী[সম্পাদনা]

ভৌগোলিক উপাত্ত[সম্পাদনা]

ভূপ্রকৃতি[সম্পাদনা]

মৃত্তিকা[সম্পাদনা]

নদ-নদী[সম্পাদনা]

কয়া ইউনিয়নে পদ্মা নদী

কুমারখালী উপজেলায় অনেকগুলো নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে পদ্মা নদী, গড়াই নদী, কুমার নদ, কালীগঙ্গা নদী, ও ডাকুয়া খাল নদী।<ref name="নদীকোষ">ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৯০, ISBN 978-984-8945-17-9।</ref><ref>মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬১২, ISBN 984-70120-0436-4.</ref> কুমারখালী উপজেলাটি গড়াই নদীর তীরে অবস্থিত।

সাংষ্কৃতিক বৈশিষ্ঠ্য[সম্পাদনা]

ভাষা[সম্পাদনা]

উত্সব[সম্পাদনা]

খেলাধুলা[সম্পাদনা]

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

১৮৭টি মৌজা ও ২০২টি গ্রাম নিয়ে গঠিত কুমারখালী উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে;<ref name="তবা"/> এগুলো হলোঃ

নির্বাচনী এলাকা ও জনপ্রতিনিধি[সম্পাদনা]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

কুমারখালী উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩,১৫,১৩৮ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১,৬০,৭৮১ জন ও নারী ১,৫৪,৩৫৭ জন। এখানে বুনো, বাঁশফোঁড় প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।<ref name="বাপি"/>

ধর্ম[সম্পাদনা]

এখানে ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের মানুষ বসবাস করে। এছাড়াও এখানে রয়েছে বেদে ও বৈরাগী (বাউল সমাজ) সম্প্রদায়।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স - ১টি;
  • উপজেলা মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র - ১টি;
  • ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র - ১৪টি।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

  • সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ১৪৬ টি;
  • উচ্চ বিদ্যালয়ঃ ৫২টি;
  • মাদ্রাসাঃ ২১টি;
  • কলেজঃ ০৯টি।

কৃষি[সম্পাদনা]

ধান, মুগ ডাল, খেসারির ডাল, তরমুচ, বাঙ্গি, বাদাম ইত্যাদি জন্মে। এছাড়াও আখ এবং প্রচুর পরিমাণ পাট, সর্ষে জন্মে। অনেক ভালো মানের গবাদি পশুপালন করার জন্য এই এলাকার সুনাম রয়েছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

শিল্প-প্রতিষ্ঠান

এখানে মোট ৫,৯৯৩ টি (বড় - ৯টি, মাঝারী - ২৭০টি এবং ক্ষুদ্র - ৫,৭১৪টি) শিল্প-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানকার উল্লেখযোগ্য শিল্প-প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইষ্টার্ন ফেব্রিক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

সড়কপথ

মোট রাস্তার পরিমান ৮৮১ কিলোমিটার (পাকা ১৪২ কি:মি: এবং কাঁচা ৭৩৯ কি:মি:)।

রেলপথ

মোট রেলপথের দৈর্ঘ ১৯.৫ কিলোমিটার। রেলষ্টেশন-এর সংখ্যা ২টি।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  1. ফকির লালন সাঁই - বাউল সাধক;
  2. কাঙাল হরিনাথ মজুমদার - লোক কবি;
  3. মীর মোশাররফ হোসেন - সাহিত্যিক;
  4. বাঘা যতীন - অগ্নিযুগের বিপ্লবী;
  5. মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা - সাহিত্যিক;
  6. শুভেন্দু বিশ্বাস - বিশ্বখ্যাত হরবোলা শিল্পী;
  7. গোলাম কিবরিয়া - রাজনীতিবিদ;
  8. আবুল হোসেন তরুন - রাজনীতিবিদ;
  9. আব্দুল আওয়াল মিয়া - রাজনীতিবিদ;
  10. নুরে আলম জিকু - রাজনীতিবিদ;
  11. বেগম সুলতানা তরুন - রাজনীতিবিদ;
  12. আবদুর রউফ - রাজনীতিবিদ;
  13. আবু তালেব, বীর উত্তম - বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানী;
  14. শরফুদ্দীন আহমেদ, বীর উত্তম - বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানী।

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

  • বৌদ্ধ মন্দির,
  • বালিয়াকান্দি শাহী মসজিদ,
  • কাঙ্গাল হরিনাথের মজুমদারের বাস্তভিটা ও ছাপাখান - কুমারখালী;
  • রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী - শিলাইদহ;
  • লালন শাহ্-এর মাজার ও লালন একাডেমি - ছেউড়িয়া;
  • হারডিং ব্রিজ;
  • মীর মোশারফ হোসেনের বাস্তভিটা - লাহিনীপাড়া।

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]