কুমারখালী উপজেলা

স্থানাঙ্ক: ২৩°৫১′২৩.৩০″ উত্তর ৮৯°৬′৫৩.৩৬″ পূর্ব / ২৩.৮৫৬৪৭২২° উত্তর ৮৯.১১৪৮২২২° পূর্ব / 23.8564722; 89.1148222
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কুমারখালী
উপজেলা
কুমারখালী উপজেলা
কুমারখালী খুলনা বিভাগ-এ অবস্থিত
কুমারখালী
কুমারখালী
কুমারখালী বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
কুমারখালী
কুমারখালী
বাংলাদেশে কুমারখালী উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৫১′২৩.৩০″ উত্তর ৮৯°৬′৫৩.৩৬″ পূর্ব / ২৩.৮৫৬৪৭২২° উত্তর ৮৯.১১৪৮২২২° পূর্ব / 23.8564722; 89.1148222 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশবাংলাদেশ
বিভাগখুলনা বিভাগ
জেলাকুষ্টিয়া জেলা
জাতীয় সংসদ আসনবাংলাদেশ-৭৮,কুষ্টিয়া-৪
সরকার
 • সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ (বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ)
আয়তন
 • মোট২৬৫.৮৯ বর্গ কিলোমিটার বর্গকিমি (বিন্যাসন ত্রুটি: invalid input when rounding বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট৩,১৯,০১৬<ref name="তবা">গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (জুন ২,০১৪)। "এক নজরে কুমারখালী উপজেলা"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটুআই বিসিসি ও বেসিস। ৯ মার্চ ২,০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারী ২,০১৫ </ref>
সাক্ষরতার হার
 • মোট৬৩.২১%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৪০ ৫০ ৭১
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

কুমারখালী উপজেলা বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার জীবনের এক উল্লেখযোগ্য অংশ এই উপজেলার শিলাইদহ অঞ্চলে কাটিয়েছেন এবং এখানেই তিনি গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন।এই কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। এই উপজেলায় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক সাধক লালন সাঁই-এর সমাধি সৌধ এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন-এর বাস্তুভিটা রয়েছে ।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

২৬৫.৮৯ বর্গকিলোমিটার (১০২.৬৬ বর্গমাইল) আয়তনের কুমারখালী উপজেলার পূর্বে খোকসা উপজেলা, পশ্চিমে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, উত্তরে পাবনা সদর উপজেলা এবং দক্ষিণে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলা অবস্থিত। গড়াই নদীর কোল ঘেসে এর অবস্থান।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কুমারখালী উপজেলার ইতিহাস[সম্পাদনা]

কুমারখালী কুষ্টিয়া অঞ্চলের মধ্যে অপেক্ষাকৃত প্রাচীন জনপদ। পদ্ম গর্ভ থেকে এই অঞ্চলের উদ্ভব হয়েছে বলে ধারণা প্রচলিত আছে। কুমারখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা যে একসময় নদী গর্ভে ছিল তার প্রমাণ মেলে ‘চড়াইকোল’যুক্ত গ্রামনাম এবং কোল ও বিলের আধিক্য থেকে।

প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের কারণে কুমারখালীর অবস্থান ও মর্যাদা বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। থানা থেকে মহকুমায় উন্নীত হয়ে কুমারখালীকে আবারও থানায় পরিনত হতে হয়। ইংরেজ শাসনের পূর্বে কুমারখালী অঞ্চল ফরিদপুর ও যশোরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীকালে থানা কিংবা মহকুমা হিসেবে কুমারখালী যথাক্রমে রাজশাহী, পাবনা, নদীয়া ও সবশেষে কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮৫৭ সালে পাবনা জেলার অধীনে কুমারখালী, খোকসা, পাংশা ও বালিয়াকান্দী থানা নিয়ে কুমারখালী মহকুমার জন্ম। কিন্তু ১৮৭১ সালে নদীয়া জেলার কুষ্টিয়া মহকুমার সামিল হয়ে কুমারখালী মহকুমার মর্যাদা হারিয়ে পুনরায় থানায় পরিনত হয়। কুমারখালী থানার সদর দফতর ছিল পার্শ্ববর্তী ভালুকা গ্রামে। কুমারখালী এক সময নাটোর-রাজ্যের অধীনে ছিল। পরে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর-জমিদারির অন্তর্ভুক্ত হয়। কুমারখালী অঞ্চলে রাণী ভবানী ও তাঁর উত্তরপুরুষদের নির্মিত মঠ-মন্দির এবং জনহিতকর কর্মের কিছু নিদর্শন এখনো আছে

নামকরণ[সম্পাদনা]

কথিত আছে, নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ রাজস্ব সংগ্রহের জন্য কমরকুলি খাঁ-কে এই অঞ্চলের কালেক্টর নিযুক্ত করেন। তাঁর নামানুসারেই এই অঞ্চলের নাম হয় ‘কমরখালী’, যার অপভ্রষ্ট-রূপ বর্তমান ‘কুমারখালী’। কুমার নদীর খাল থেকে ‘কুমারখালী’ নামের উৎপত্তি এই ধারণাও কেউ কেউ পোষণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে কুমারখালী[সম্পাদনা]

ভৌগোলিক উপাত্ত[সম্পাদনা]

ভূপ্রকৃতি[সম্পাদনা]

পদ্মা গড়াই বিধৌত সমতল অঞ্চল। নদী অববাহিকায় নবগঠিত বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তাছাড়া পুরাতন ভূমি এলাকায় তুলনামূলক নিচু বিল অঞ্চল রয়েছে।

মৃত্তিকা[সম্পাদনা]

নদ-নদী[সম্পাদনা]

কয়া ইউনিয়নে পদ্মা নদী

কুমারখালী উপজেলায় অনেকগুলো নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে পদ্মা নদী, গড়াই নদী, কুমার নদ, কালীগঙ্গা নদী, ও ডাকুয়া খাল নদী।[১][২] কুমারখালী উপজেলাটি গড়াই নদীর তীরে অবস্থিত।

সাংষ্কৃতিক বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

ভাষা[সম্পাদনা]

বাংলা

উৎসব[সম্পাদনা]

  1. ছেঁউরিয়ায় দোলপূর্ণিমায়লালন ফকিরের তিরোধান দিবসে(১ কাতির্ক) স্বরণোৎসব ও বাউল মেলা।
  2. ২৫ শে বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে মেলা
  3. একুশে বইমেলা
  4. বৈশাখী মেলা

খেলাধুলা[সম্পাদনা]

কুমারখালীতে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা প্রচলিত রয়েছে যেমন- ফুটবল, ক্রিকেট, হাডুডু, লাঠিখেলা ইত্যাদি।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

১৮৭টি মৌজা ও ২০২টি গ্রাম নিয়ে গঠিত কুমারখালী উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে; এগুলো হলোঃ

নির্বাচনী এলাকা ও জনপ্রতিনিধি[সম্পাদনা]

  1. সেলিম আলতাফ জর্জ - সংসদ সদস্য ৭৮ কুষ্টিয়া - ৪ (কুমারখালী - খোকসা)
  2. উপজেলা চেয়ারম্যান- আব্দুল মান্নান খাঁন।
  3. উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান - মোঃ সাইদুর রহমান।
  4. উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা)- মেরিনা আক্তার মিনা।
  5. পৌরসভার মেয়র- জনাব শামছুজ্জামান অরুন।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

কুমারখালী উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩,১৫,১৩৮ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১,৬০,৭৮১ জন ও নারী ১,৫৪,৩৫৭ জন। এখানে বুনো, বাঁশফোঁড় প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।[৩]

ধর্ম[সম্পাদনা]

এখানে ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের মানুষ বসবাস করে। এছাড়াও এখানে রয়েছে বেদে ও বৈরাগী (বাউল সমাজ) সম্প্রদায়।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স - ১টি;
  • উপজেলা মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র - ১টি;
  • ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র - ১৪টি।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ১৪৬ টি;
  • সরকারি কলেজঃ ১টি
  • বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটঃ ৩ টি;
  • সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ঃ ১টি;
  • উচ্চ বিদ্যালয়ঃ ৫২টি;
  • মাদ্রাসাঃ ২১টি;
  • কলেজঃ ৯টি।
  • উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:কুমারখালি সরকারি কলেজ(স্থাপিত:১৯৭০), কুমারখালি এম এন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্থাপিত:১৮৫৬),কুমারখালি সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়(স্থাপিত:১৮৬২)

কৃষি[সম্পাদনা]

ধান, মুগ ডাল, খেসারির ডাল, তরমুজ, বাঙ্গি, বাদাম ইত্যাদি জন্মে। এছাড়াও আখ এবং প্রচুর পরিমাণ পাট, সর্ষে জন্মে। অনেক ভালো মানের গবাদি পশুপালন করার জন্য এই এলাকার সুনাম রয়েছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

শিল্প-প্রতিষ্ঠান

এখানে মোট ৫,৯৯৩ টি (বড় - ৯টি, মাঝারি - ২৭০টি এবং ক্ষুদ্র - ৫,৭১৪টি) শিল্প-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানকার উল্লেখযোগ্য শিল্প-প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইষ্টার্ন ফেব্রিক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

সড়কপথ

মোট রাস্তার পরিমান ৮৮১ কিলোমিটার (পাকা ১৪২ কি:মি: এবং কাঁচা ৭৩৯ কি:মি:)।

রেলপথ

মোট রেলপথের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ কিলোমিটার। রেলস্টেশন-এর সংখ্যা ২টি।

নৌপথ
  1. পাবনা জেলার সাথে যোগাযোগের জন্য শিলাইদহ - চরসাদীপুর ঘাট।
  2. কুমারখালী - যদুবয়রা ঘাট

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  1. ফকির লালন সাঁই - বাউল সাধক;
  2. কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের - লেখক, গ্রামবার্তার প্রতিষ্ঠাতা, লোক কবি, সাধক;
  3. গগন হরকরা - বাউল কবি;
  4. মীর মশাররফ হোসেন - সাহিত্যিক;
  5. বাঘা যতীন - অগ্নিযুগের বিপ্লবী;
  6. জলধর সেন - ভ্রমণ কাহিনী ও উপন্যাস লেখক;
  7. মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা - সাহিত্যিক;
  8. পণ্ডিত শিবচন্দ্র বিদ্যার্ণব (১৮৬০-১৯১৩) - লেখক, পত্রিকার সম্পাদক ও সাধক;
  9. চন্দনা মজুমদার - বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী;

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

  • বৌদ্ধ মন্দির;
  • বালিয়াকান্দি শাহী মসজিদ;
  • কাঙাল হরিনাথ জাদুঘর
  • কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের বাস্তুভিটা ও ছাপাখানা-কুমারখালী ও জাদুঘর।
  • আলাউদ্দিন আহম্মেদ শিক্ষা পল্লী পার্ক।
  • ইকো পার্ক - কুমারখালী;
  • শিশু পার্ক - কুমারখালী;
  • রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী - শিলাইদহ;
  • লালন শাহ্-এর মাজার ও লালন একাডেমি - ছেউড়িয়া;
  • মীর মশাররফ হোসেন সেতু - কুমালখালী টু কুষ্টিয়া হাই ওয়ে;
  • মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটালাহিনীপাড়া;
  • শিলাইদহ পাঁচ তলা কাঠের বাড়ি
  • রানী মন্দির
  • পদ্মাচর
  • চরসাদীপুর
  • পদ্মাঘাট

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৯০, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯
  2. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬১২, ISBN 984-70120-0436-4
  3. শেখ মোঃ বদরুল আলম টিপু (৯ এপ্রিল ২০১৫)। "কুমারখালী উপজেলা"বাংলাপিডিয়া - বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]