কয়রা উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কয়রা
উপজেলা
কয়রা উপজেলা
কয়রা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
কয়রা
কয়রা
বাংলাদেশে কয়রা উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°২০′৩০″উত্তর ৮৯°১৮′০০″পূর্ব / ২২.৩৪১৭° উত্তর ৮৯.৩০০০° পূর্ব / 22.3417; 89.3000স্থানাঙ্ক: ২২°২০′৩০″উত্তর ৮৯°১৮′০০″পূর্ব / ২২.৩৪১৭° উত্তর ৮৯.৩০০০° পূর্ব / 22.3417; 89.3000
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ খুলনা বিভাগ
জেলা খুলনা জেলা
উপজেলা ১৯৮৩
সংসদীয় খুলনা ৬ (পাইকগাছা)
সরকার
 • উপজেলা চেয়্যারমান মাও তমিজউদ্দীন
আয়তন
 • মোট ১৭৭৫.৪১ কিমি (৬৮৫.৪৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০১[১])
 • মোট ১,৯২,৫৩৪
 • ক্রম

জনসংখ্যা ১৯২৫৩৪; পুরুষ ৯৫৯৯৩, মহিলা ৯৬৫৪১। মুসলিম ১৪৯৩২১, হিন্দু

৪২৪৬২, বৌদ্ধ ৪৫৪ এবং অন্যান্য ২৯৭।
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৩২.৪%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড ৯২৯০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
কয়রা সদরে অবস্থিত স্মৃতি সৌধ এবং শহীদ মিনার

কয়রা উপজেলা বাংলাদেশের খুলনা জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। ২০০৭ সাল‌ের প্রলয়ংকারী স‌িডর এবং ২০০৯ সালে সর্বনাশী আইলায় সব কিছু লন্ডভন্ড করে দেয়। দক্ষিনের অনগ্রসর এই জনপদটি বর্তমানে অনেক এগিয়ে গেছে।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

কয়রার ভৌগোলিক অবস্থান ২২°২০′৩০″উত্তর ৮৯°১৮′০০″পূর্ব / ২২.৩৪১৭° উত্তর ৮৯.৩০০০° পূর্ব / 22.3417; 89.3000। এখানে ২৮০৬১ পরিবারের ইউনিট রয়েছে এবং মোট এলাকা ১৭৭৫,৪১ কিমি²। উত্তরে পাইকগাছা উপজেলা, দক্ষিণ ও পূর্বে সুন্দরবনদাকোপ উপজেলা, পশ্চিমে সাতক্ষীরার শ্যামনগরআশাশুনি উপজেলা

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কয়রা উপজেলা খুলনার সবচেয়ে দক্ষিণের একমাত্র উপজেলা। কয়রা থানা গঠিত হয় ১৯৮০ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে।

মুক্তিযুদ্ধ[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধের সময় এ উপজেলা ৯নং সেক্টরের অধীন ছিল। এখানে ৯নং সাব- সেক্টর হেডকোয়ার্টার স্থাপিত হয়েছিল এবং এখান থেকেই মুক্তিবাহিনী ও মুজিববাহিনীর অধিকাংশ অভিযান পরিচালিত হতো। স্থানীয়ভাবে এ ইউনিয়নো ঝিলে ঘাটা গ্রামে ও বাগলি ইউনিয়নের বামিয়া গ্রামে দুইটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এই ক্যাম্প দুইটির নাম ছিল শহীদ নারায়ণ ক্যাম্প এবং সোহারওয়ার্দী ক্যাম্প। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ডাঃ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে জায়গীরমহলে গঠিত গোপন চিকিৎসা কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বধ্যভূমি ১ (কয়রা ৪ নং লঞ্চঘাট এলাকায় মড়িঘাটা)

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

কয়রায় রয়েছে ৭টি ইউনিয়ন, ৭২টি মৌজা/মহল্লা এবং ১৩১ টি গ্রাম। ইউনিয়নগুলি হল:

  • আমাদী
  • বাগালী
  • মহেশ্বরীপুর
  • মহারাজপুর
  • কয়রা
  • উত্তর বেদকাশী
  • দক্ষিণ বেদকাশী

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

১৯৯১ সালের বাংলাদেশের আদমশুমারি এর হিসাব অনুযায়ী, কয়রার ১৬৫.৪৭৩ জনসংখ্যা রয়েছে। পুরুষদের জনসংখ্যার ৪৯.৬৮% এবং নারী ৫০.৩২%। এই উপজেলার আঠার বছর পর্যন্ত জনসংখ্যা ৮০.৮৩০ হয়। কয়রায় গড় শিক্ষিতের হার ৭২.২%(৭+ বছর) রয়েছে এবং জাতীয় গড় শিক্ষিত ৭২.২%।[২]

নদ-নদী[সম্পাদনা]

কয়রা উপজেলায় রয়েছে অনেকগুলো নদী। এখানকার নদীগুলো হচ্ছে শিবসা নদী, পশুর নদী, বল নদী ও অর্পণগাছিয়া নদী[৩][৪]

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতাল ১, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, দাতব্য চিকিৎসালয় ১, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ২, ক্লিনিক ৮। পানীয়জলের উৎস:-

নলকূপ ৪৩.৮২%,

ট্যাপ ১.০৮%, পুকুর ৫৪.৯৭% এবং অন্যান্য ০.১৩%। এ উপজেলায় ১৯৯ টি অগভীর নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা:-- এ উপজেলার ৩০.৯৭% (গ্রামে ৩২.৪৩% এবং শহরে ৭.৩৬%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৫৯.৮ু% (গ্রামে ৫৮.০৩% এবং শহরে ৮৮.২৯%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ৯.২৪% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার, গড় হার ৩২.৪%; পুরুষ ৪৩.৬%, মহিলা ২১.৪%। কলেজ ৩, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৫, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১১২, কমিউনিটি বিদ্যালয় ১১, স্যাটেলাইট বিদ্যালয় ৯, মাদ্রাসা ২৭। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয় (১৯৮৪), জোবেদা খানম কলেজ (১৯৯৬), কমরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, কয়রা মদিনাবাদ হাইস্কুল, সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উত্তর বেদকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বেদকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমাদি হাইস্কুল। "কলেজ"

  1. কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়
  2. কয়রা সরকারী মহিলা কলেজ
  3. কমরউদ্দীন কলেজ

“মাদ্রাসা”[সম্পাদনা]

১.কয়রা ছিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা। ২. কয়রা উত্তর চক কামিল মাদ্রাসা। ৩.কালনা আমিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। ৪.কয়রা মদিনাবাদ দাখিল মাদ্রাসা। ৫.উত্তর বেতকাশী হাবিবিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ৬.কালনা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। ৭. কয়রা উত্তর চক মহিলা মাদ্রাসা। ৮.গোবরা দাখিল মাদ্রাসা। ৯.জয়পুর সিমরাআইট দারুসুন্না দাখিল মাদ্রাসা। ১০.দেয়ারা অন্তাবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ১১.দাকেন মহেশ্বরিপুর দাখিল মাদ্রাসা। ১২.চৌকুনি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ১৩. চান্নির চক বি কে দাখিল মাদ্রাসা। ১৪.বেজপারা হায়াতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসা। ১৫.অর্জুনপুর আহসানিয়া দাখিল মাদ্রসা। ১৬.কয়রা অচ্চিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। ১৭.খোরল মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। ১৮.কয়রা মদিনাবাদ দারুসুন্না মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। ১৯.এম এ দারুল ইহসান দাখিল মাদ্রাসা। ২০.এম এম দারুস সুন্না দাখিল মাদ্রাসা। ২১.নারানপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। ২২.পি কে এস এ আদার্স দাখিল মাদ্রাসা। ২৩. সাতহালিয়া গাউসুল আজম দাখিল মাদ্রাসা। ২৪. সু্ন্দরবন ছিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা। ২৫.ঘুগরাঘাটি ফাজিল মাদ্রাসা। ২৬.বে সিন মিম বায়লা হারানিয়া আলিম মাদ্রাসা। ২৭. ডি এফ নাকশা আলিম মাদ্রাসা। ২৮.কুশডাঙ্গা আলহাজ্ব কোমর উদ্দীন আলিম মাদ্রাসা।

কৃষি[সম্পাদনা]

কয়রার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। এখানকার অধিকাংশ জমি এক ফসলি। শুধু মাত্র বর্ষা মৌসুমে চাষ হয়। তাছাড়া বিস্তীর্ণ এলাকায় মাছের, প্রধানত চিংড়ি, চাষ হয়। কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৬২.৭৬%, ভূমিহীন ৩৭.২৪%। শহরে ৬৩.৫১% এবং গ্রামে ৫০.৭৪% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে। প্রধান কৃষি ফসল ধান, আলু, শাকসবজি। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি তিল, তিসি, কাউন, আখ। প্রধান ফল-ফলাদিব আম, জাম, কলা, কাঁঠাল, নারিকেল, পেঁপে, সুপারি, তরমুজ।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

এলাকার জনগোষ্ঠীর বড় একটা অংশ সুন্দরবনের উপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। সুন্দরবন থেকে বছর জুড়ে কাঠ, মাছ, মধু আহরণ অব্যহত থাকে। শিক্ষিত শ্রেনী চাকরি করে। অধিকাংশ লোনা পানির জমিতে ছিঁড়িয়া চাষ করা হয় ৷ মৎস্য খামার বা চিংড়ি ঘের ৩১৩৮, পোনা উৎপাদন খামার ৫, চিংড়ি ডিপো ২৭৩, নার্সারি ৬।

যোগাযোগ[সম্পাদনা]

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ২১ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ৮০ কিমি, কাঁচারাস্তা ১৪২ কিমি

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • স্যার পিসি রায়
  • কবি এবাদুল্লাহ

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

দর্শনীয় স্থান পূর্ব ও দক্ষিণে বিস্তৃত সুন্দরবন এবং সুন্দরবনের প্রবেশদ্বারে (মহেশ্বরীপুর) পর্যটন কেন্দ্র উল্লেখযোগ্য।

বিবিধ[সম্পাদনা]

  • মসজিদের সংখ্যাঃ ১৫৭ টি।

৷হাট-বাজার হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ২৮। হুগলা হাট, আমাদি হাট, ঘড়িলাল হাট, সুতার হাট, গুগরোকাটি হাট, খোড়লকাটি হাট, জোরসিং বাজার এবং দক্ষিণ বেদকাশি বনবিবির মেলা, পদ্মপুকুর রথ মেলা, হরিহরপুর রথ মেলা উল্লেখযোগ্য। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পালকি, ঘোড়া ও গরুর গাড়ি। শিল্প ও কলকারখানা চাল কল, তেল কল, ময়দা কল, কাঠ চেরাই কল, বরফ কল।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

{{বাংলাপিডিয়া bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%95%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%B0%E0%A6%BE_%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE } ০২-০৫-২০১৭

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ বাংলাপিডিয়া (২৭ জুলাই ২০১৪)। "কয়রা_উপজেলা"http://bn.banglapedia.org। বাংলাপিডিয়া। সংগৃহীত ১১ জুলাই, ২০১৬ 
  2. "Population Census Wing, BBS."আসল থেকে ২০০৫-০৩-২৭-এ আর্কাইভ করা।  লেখা " ২০১৫" উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  3. ড. অশোক বিশ্বাস, বাংলাদেশের নদীকোষ, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ৩৮৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৮৯৪৫-১৭-৯
  4. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬০৯, ISBN 984-70120-0436-4.