চিত্তভ্রংশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ডিমেনশিয়া থেকে পুনর্নির্দেশিত)
চিত্তভ্রংশ
প্রতিশব্দভীমরতি,[১] বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রংশ
A man diagnosed as suffering from acute dementia. Lithograph Wellcome L0026694.jpg
১৮০০র দশকে চিত্তভ্রংশে আক্রান্ত একজনের চিত্র
বিশেষত্বস্নায়ুবিদ্যা, মনোরোগ বিজ্ঞান
লক্ষণচিন্তাভাবনা এবং মনে রাখার ক্ষমতা হ্রাস, মানসিক সমস্যা, ভাষার সমস্যা, অনুপ্রেরণা হ্রাস[২][৩]
রোগের সূত্রপাতধীরে ধীরে[২]
স্থিতিকালদীর্ঘ মেয়াদী[২]
কারণআলঝেইমার রোগ, ভাসকুলার ডিমেনশিয়া, লেউই বডিস ডিমেনশিয়া, ফ্রন্ট টেম্পোরাল ডিমেনশিয়া[২][৩]
রোগনির্ণয়ের পদ্ধতিজ্ঞানীয় পরীক্ষায় (মিনি-মানসিক অবস্থা পরীক্ষা)[৩][৪]
পার্থক্যমূলক রোগনির্ণয়প্রলাপ[৫]
প্রতিরোধপ্রাথমিক শিক্ষা, উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ, অতিস্থূলতা প্রতিরোধ, ধূমপান নিষেধ, সামাজিক অংশগ্রহণ[৬]
চিকিৎসাসহায়ক যত্ন[২]
ঔষধকোলিনস্টেরেস বাধা (অল্প সুবিধা)[৭][৮]
সংঘটনের হার৫০ মিলিয়ন (২০২০)[৯]
মৃতের সংখ্যা১.৯ মিলিয়ন (২০১৫)[১০]

চিত্তভ্রংশ একটি মানসিক রোগ যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির বুদ্ধি, স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব লোপ পায় এবং রোগ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে[১১][১২]। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং হঠাৎ করেই অনেক কিছুই মনে করতে পারেন না। ফলে তার আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা লক্ষিত হয়। মস্তিষ্কের কোষ সংখ্যা (নিউরন) বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট হারে কমতে থাকে। বয়সের সঙ্গে শারীরিক রোগব্যাধি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে যদি স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ভন্ডুল করে দেয়, একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় চিত্তভ্রংশ বা ইংরেজি পরিভাষায় ডিমেনশিয়া বলে। চিত্তভ্রংশের সবচাইতে প্রচলিত রূপ হল আলৎসহাইমারের রোগ (৭৫%)[১২]

রোগের কারণ[সম্পাদনা]

বিভিন্ন রোগের কারণে চিত্তভ্রংশ রোগ হতে পারে, যেমন, এইডস, দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান ও মদ্যপান, আলৎসহাইমার, ভিটামিন বি-র অভাব, কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া, মস্তিষ্কের রোগ, অনৈতিক জীবনযাপন, ইত্যাদি।[১৩]

রোগের লক্ষণ[সম্পাদনা]

চিত্তভ্রংশের প্রাথমিক বিস্তার খুবই ধীরে হয়, এমনকি মাস কিংবা বছর ধরেও হতে পারে। ভুলে যাওয়ার কারণে রোগী হতাশা, নিদ্রাহীনতা ও অন্যান্য সমস্যায় ভোগে এবং আস্তে আস্তে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে[১৩]

রোগের হার[সম্পাদনা]

মূলত প্রবীণ ব্যক্তিরাই এ রোগে ভোগেন। ৬০ বছরের কম রোগীদের হার ০.১ শতাংশ, ৬০-৬৪ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যে এ রোগের হার ১ শতাংশ, ৬৫-৮৪ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যে এ রোগের হার ৩ থেকে ১১ শতাংশ এবং ৮৫ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের মধ্যে এ রোগের হার ২৫ থেকে ৪৭ শতাংশ[১১]

রোগের চিকিৎসা[সম্পাদনা]

কিছু কিছু ওষুধ যেমন donepezil, nemantidine, এবং tacrine রোগীর চিন্তাশীলতা ও শনাক্তকরণ ক্ষমতা বাড়ায়। এসব ওষুধ চিত্তভ্রংশের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়[১৩]। চিত্তভ্রংশ রোগটি জটিল হয়ে গেলে রোগীর সেরে ওঠার আর কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

রোগীর যত্ন[সম্পাদনা]

চিত্তভ্রংশ রোগটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই চিকিৎসা সেবা শুরু করা দরকার। রোগীর প্রত্যহিক জীবনের মান বাড়ানো, তাকে যথাযথ সম্মান, সঙ্গ এবং সেবা দেয়া, রোগী ও তার স্বজনদের প্রাত্যহিক কর্মতালিকার সমন্বয়- রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি-পাওয়াকে কমায়[১১]

চিত্তভ্রংশ সম্পর্কে সচেতনতা[সম্পাদনা]

রোগটি নিয়ে মুশকিল হলো, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ভুলে যাবেন—এমনটি ধরেই নেওয়া হয়। ফলে চিত্তভ্রংশ রোগটি সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষ সচেতন থাকেন না। এখন এমন অনেক ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে, যেগুলো সেবন করলে চিত্তভ্রংশ তীব্র হওয়া রোধ করা যায়। কিন্তু বেশির ভাগ রোগী আসেন একেবারে শেষ পর্যায়ে। বিভিন্ন রোগ থেকে চিত্তভ্রংশের উৎপত্তি। তাই ধূমপান থেকে বিরত থাকা ও সুস্থ জীবনযাপন করাটা জরুরি।

চিত্তভ্রংশ সচেতনতা দিবস[সম্পাদনা]

২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব চিত্তভ্রংশ সচেতনতা দিবস।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] চিত্তভ্রংশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ সচেতনতা দিবস আয়োজিত হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Dementia"MedlinePlusU.S. National Library of Medicine। ১৪ মে ২০১৫। ১২ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০১৮Dementia Also called: Senility 
  2. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; WHO2014 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  3. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; BMJ2009 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  4. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; NICE2014Diag নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  5. Hales, Robert E. (২০০৮)। The American Psychiatric Publishing Textbook of Psychiatry। American Psychiatric Pub। পৃষ্ঠা 311। আইএসবিএন 978-1-58562-257-3। ২০১৭-০৯-০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  6. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Liv2017 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  7. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Kav2007 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  8. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Comm2012 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  9. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; WHO2020 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  10. GBD 2015 Mortality and Causes of Death Collaborators (অক্টোবর ২০১৬)। "Global, regional, and national life expectancy, all-cause mortality, and cause-specific mortality for 249 causes of death, 1980–2015: a systematic analysis for the Global Burden of Disease Study 2015"Lancet388 (10053): 1459–1544। ডিওআই:10.1016/s0140-6736(16)31012-1পিএমআইডি 27733281পিএমসি 5388903অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  11. Donald Venes. Taber's Cyclopedic Medical Dictionary. 21st Edition. F. A. Davis Company, 2009. pg 599-600
  12. Solomon, Andrew E. Budson, Paul R. (২০১১)। Memory loss : a practical guide for clinicians। [Edinburgh?]: Elsevier Saunders। আইএসবিএন 9781416035978 
  13. Donald Venes. Taber's Cyclopedic Medical Dictionary. 21st Edition. F. A. Davis Company, 2009. pg 599

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

শ্রেণীবিন্যাস
বহিঃস্থ তথ্যসংস্থান