চিত্তভ্রংশ
| ডিমেনশিয়া | |
|---|---|
| প্রতিশব্দ | পুরনো পরিভাষা: বয়ঃজনিত মানসিক দুর্বলতা[১] এবং বয়ঃজনিত ডিমেনশিয়া |
| ১৮৯৬ সালের একটি লিথোগ্রাফ, যেখানে একজন ব্যক্তিকে "বয়ঃজনিত ডিমেনশিয়া" রোগী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা বর্তমানে পরিত্যক্ত পরিভাষা | |
| বিশেষত্ব | স্নায়ুবিজ্ঞান, মনোরোগবিদ্যা |
| লক্ষণ | চিন্তা ও স্মরণশক্তির হ্রাস, আবেগজনিত সমস্যা, ভাষার সমস্যা, উদ্যমের অভাব, সামগ্রিক জ্ঞানীয় সক্ষমতার অবনতি[২] |
| জটিলতা | অপুষ্টি, অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া, নিজের যত্ন নেওয়ার অক্ষমতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তাজনিত সমস্যা, অ্যাকাইনেটিক মিউটিজম[৩] |
| রোগের সূত্রপাত | বিভিন্নভাবে শুরু হয়, সাধারণত ধীরে ধীরে[২] |
| স্থিতিকাল | পরিবর্তনশীল, সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি[২] |
| কারণ | আলঝেইমার রোগ, ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া, লিউই বডি ডিজিজ, ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া ও অন্যান্য[২] |
| ঝুঁকির কারণ | জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ঝুঁকি (যেমন: কম শিক্ষালাভ, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, বায়ু দূষণ, মাথায় আঘাত, বিষণ্নতা)[৪] |
| রোগনির্ণয়ের পদ্ধতি | ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন, জ্ঞানীয় পরীক্ষা (মিনি–মেন্টাল স্টেট এক্সামিনেশন)[৫] ও চিত্রায়ন |
| পার্থক্যমূলক রোগনির্ণয় | ডিলিরিয়াম, বিষণ্নতা, হাইপোথাইরয়েডিজম[৬][৭] |
| প্রতিরোধ | জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঝুঁকির কারণগুলোর প্রতিরোধ বা হ্রাস করা, যেমন: শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, বিষণ্নতা, মাথার আঘাত ও রক্তনালিজনিত ঝুঁকির প্রতিকার, ধূমপান হ্রাস, শারীরিক ও মানসিক সক্রিয়তা বজায় রাখা[৪] |
| চিকিৎসা | পরিবর্তনশীল, তবে সহায়ক চিকিৎসা সাধারণভাবে প্রদান করা হয়[২] |
| ঔষধ | রোগের ধরণ ও স্তরের ওপর নির্ভর করে; অধিকাংশ ওষুধের উপকার সীমিত[৮] |
| আরোগ্যসম্ভাবনা | পরিবর্তনশীল; ডিমেনশিয়া একটি জীবনসীমিত অবস্থা এবং এতে সাধারণত আয়ু কমে যায় |
| সংঘটনের হার | ৫৭ মিলিয়ন (২০২১)[২] |
| মৃতের সংখ্যা | ১৬.২ লক্ষ ডিমেনশিয়া-সম্পর্কিত মৃত্যু (২০১৯); অনুমান করা হচ্ছে ২০৫০ সালে তা বেড়ে ৪৯.১ লক্ষ হবে[৯] |
চিত্তভ্রংশ একটি মানসিক রোগ যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির বুদ্ধি, স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব লোপ পায় এবং রোগ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে[১০][১১]। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং হঠাৎ করেই অনেক কিছুই মনে করতে পারেন না। ফলে তার আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা লক্ষিত হয়। মস্তিষ্কের কোষ সংখ্যা (নিউরন) বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট হারে কমতে থাকে। বয়সের সঙ্গে শারীরিক রোগব্যাধি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে যদি স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ভন্ডুল করে দেয়, একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় চিত্তভ্রংশ বা ইংরেজি পরিভাষায় ডিমেনশিয়া বলে। চিত্তভ্রংশের সবচাইতে প্রচলিত রূপ হল আলৎসহাইমারের রোগ (৭৫%)[১১]।
রোগের কারণ
[সম্পাদনা]বিভিন্ন রোগের কারণে চিত্তভ্রংশ রোগ হতে পারে, যেমন, এইডস, দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান ও মদ্যপান, আলৎসহাইমার, ভিটামিন বি-র অভাব, কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া, মস্তিষ্কের রোগ, অনৈতিক জীবনযাপন, ইত্যাদি।[১২]।
রোগের লক্ষণ
[সম্পাদনা]চিত্তভ্রংশের প্রাথমিক বিস্তার খুবই ধীরে হয়, এমনকি মাস কিংবা বছর ধরেও হতে পারে। ভুলে যাওয়ার কারণে রোগী হতাশা, নিদ্রাহীনতা ও অন্যান্য সমস্যায় ভোগে এবং আস্তে আস্তে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে[১২]।
প্রকারভেদ
[সম্পাদনা]চিত্তভ্রংশের বিভিন্ন প্রকারভেদ :
- আলঝেইমার্সজনিত ডিমেনশিয়া যা বংশগত
- ভাসকুলার ডিমেনশিয়া
- লিউই বডি ডিমেনশিয়া
- ফ্রন্টো টেম্পোরাল ডিমেনশিয়া
- পারকিনসন্সজনিত ডিমেনশিয়া[১৩]
রোগের হার
[সম্পাদনা]মূলত প্রবীণ ব্যক্তিরাই এ রোগে ভোগেন। ৬০ বছরের কম রোগীদের হার ০.১ শতাংশ, ৬০-৬৪ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যে এ রোগের হার ১ শতাংশ, ৬৫-৮৪ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যে এ রোগের হার ৩ থেকে ১১ শতাংশ এবং ৮৫ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের মধ্যে এ রোগের হার ২৫ থেকে ৪৭ শতাংশ[১০]।
রোগের চিকিৎসা
[সম্পাদনা]কিছু কিছু ওষুধ যেমন donepezil, nemantidine, এবং tacrine রোগীর চিন্তাশীলতা ও শনাক্তকরণ ক্ষমতা বাড়ায়। এসব ওষুধ চিত্তভ্রংশের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়[১২]। চিত্তভ্রংশ রোগটি জটিল হয়ে গেলে রোগীর সেরে ওঠার আর কোনো সম্ভাবনা থাকে না।
রোগীর যত্ন
[সম্পাদনা]চিত্তভ্রংশ রোগটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই চিকিৎসা সেবা শুরু করা দরকার। রোগীর প্রত্যহিক জীবনের মান বাড়ানো, তাকে যথাযথ সম্মান, সঙ্গ এবং সেবা দেয়া, রোগী ও তার স্বজনদের প্রাত্যহিক কর্মতালিকার সমন্বয়- রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি-পাওয়াকে কমায়[১০]।
চিত্তভ্রংশ সম্পর্কে সচেতনতা
[সম্পাদনা]রোগটি নিয়ে মুশকিল হলো, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ভুলে যাবেন—এমনটি ধরেই নেওয়া হয়। ফলে চিত্তভ্রংশ রোগটি সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষ সচেতন থাকেন না। এখন এমন অনেক ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে, যেগুলো সেবন করলে চিত্তভ্রংশ তীব্র হওয়া রোধ করা যায়। কিন্তু বেশির ভাগ রোগী আসেন একেবারে শেষ পর্যায়ে। বিভিন্ন রোগ থেকে চিত্তভ্রংশের উৎপত্তি। তাই ধূমপান থেকে বিরত থাকা ও সুস্থ জীবনযাপন করাটা জরুরি।
চিত্তভ্রংশ সচেতনতা দিবস
[সম্পাদনা]২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব চিত্তভ্রংশ সচেতনতা দিবস।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] চিত্তভ্রংশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ সচেতনতা দিবস আয়োজিত হয়।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Dementia"। medlineplus.gov। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২২।
- 1 2 3 4 5 6 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;WHO2022নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ "Dementia"। mayoclinic.org। Mayo Clinic। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুন ২০২২।
- 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;:0নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Creavinনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ "Differential diagnosis dementia"। NICE। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২২।
- ↑ Hales RE (২০০৮)। The American Psychiatric Publishing Textbook of Psychiatry। American Psychiatric Pub। পৃ. ৩১১। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৮৫৬২-২৫৭-৩। ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Comm2012নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;:13নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 3 Donald Venes. Taber's Cyclopedic Medical Dictionary. 21st Edition. F. A. Davis Company, 2009. pg 599-600
- 1 2 Solomon, Andrew E. Budson, Paul R. (২০১১)। Memory loss : a practical guide for clinicians। [Edinburgh?]: Elsevier Saunders। আইএসবিএন ৯৭৮১৪১৬০৩৫৯৭৮।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - 1 2 3 Donald Venes. Taber's Cyclopedic Medical Dictionary. 21st Edition. F. A. Davis Company, 2009. pg 599
- ↑ ডিমেনশিয়া: মানুষ কেন অতীতের তুলনায় সাম্প্রতিক ঘটনা বেশি ভুলে যেতে শুরু করে, বিবিসি নিউজ বাংলা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- কার্লিতে চিত্তভ্রংশ (ইংরেজি)
| শ্রেণীবিন্যাস | |
|---|---|
| বহিঃস্থ তথ্যসংস্থান |