খয়রাত হোসেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
খয়রাত হোসেন
জন্ম১৪ নভেম্বর ১৯০৯
মৃত্যু১০ মার্চ ১৯৭২(1972-03-10) (বয়স ৬২)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
পেশামন্ত্রী, রাজনীতিবিদ
পরিচিতির কারণযুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদের খাদ্য, মৎস ও পশুপালন মন্ত্রী

খয়রাত হোসেন (জন্ম: ১৪ই নভেম্বর, ১৯০৯- মৃত্যু: ১০ মার্চ, ১৯৭২) নীলফামারী জেলার সোনারায় ইউনিয়নের বেড়াকুঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩০ সনে তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের প্রথম মুসলিম ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৪৪ সালে নীলফামারী অঞ্চল থেকে এমএলএ নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদের খাদ্য, মৎস ও পশুপালন মন্ত্রী হিসেবে আড়াই বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং ১৯৭২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। নীলফামারী জেলায় খয়রাত হোসেন মার্কেট, খয়রাত হোসেন সড়ক ও খয়রাত নগর রেলওয়ে স্টেশন তার স্মৃতি বহন করছে।[১][২]বাংলাদেশ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন রাজনৈতিক সহোচর ভাষা সৈনিক ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ খয়রাত হোসেন। জন্ম-১৯০৯ সালের ১৪ ই নভেম্বর, মৃত্যু-১০ ই মার্চ ১৯৭২। তাঁর নীলফামারী জেলার খয়রাত হোসেন সড়কে অবস্থিত বাসস্থানটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদধূলির স্মৃতিবিজরিত ঐতিহাসিক একটি বাড়ি হিসেবে সুপরিচিত। বর্তমানে এখানে খয়রাত হোসেনের পুত্র হাসনাত বিন খয়রাত(স্ত্রীসহ), দুই নাতি-নাতনী (ডা.রাইয়ান বিন হাসনাত,নায়ার বিনতে হাসনাত, মরহুম ইমরান বিন হাসনাত) ছোট্ট একটি পরিবার। একসময় এই বাড়িতে অসংখ্যবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সহ বিভিন্ন রাজনীতিবিদরা আসতেন, থাকতেন এবং রাজনৈতিক মিটিং করতেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে খয়রাত হোসেনের অবদানের কথা বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ২১ শে ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৯ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ৫.২৮ মিনিটে তাঁর বক্তব্যর মাঝে ভাষা সৈনিক খয়রাত হোসেনের কথা তুলে ধরেন।

তাঁর জীবনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণনা: খয়রাত হোসেন ১৯২৯ সালে কারমাইকেল কলেজে ছাত্র সংসদের মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে প্রথম মুসলমান ভি.পি নির্বাচিত হন। ১৯৪৪ সালে তিনি নীলফামারী থেকে এম.এল.এ নির্বাচিত হন। আসামের “লাইনপোতা আন্দোলনে” মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সাথে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। মুসলীমলীগ থেকে আওয়ামীলীগ গঠিত হলে আওয়ামীলীগে যোগ দেন এবং পরপর ০৩ বার এম.এল.এ নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এসময় মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আসামে মুসলিম উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করলে তিনি উক্ত আন্দোলনে যোগ দেন। মুসলিম উচ্ছেদ আন্দোলন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করলে তিনি গ্রেফতার হন এবং আসামের কারাভোগের পর ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে মুক্তিলাভ করেন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের জনক কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও পরবর্তীকালে খাজা নজিমুদ্দিন ও পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন ‘উর্দূকে’ একমাত্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করতে চাইলে দেশপ্রেমী খয়রাত হোসেন এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। ১৯৫০ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতা খয়রাত হোসেনের উদ্যেগে নীলফামারী মহকুমায় দবির উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে মহকুমা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে খয়রাত হোসেনের ভূমিকা ছিলো গৌরবোজ্ঝল। তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন।


১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর পুলিশের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ,আবুল কালাম শামসুদ্দিনের সাথে খয়রাত হোসেন পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের অধিবেশন বর্জন করেন এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। তিনি ২১শে ফেব্রুয়ারী ভাষার দাবীতে ধর্মঘট পালনের নির্দেশ দেন এবং এম,এল,এ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর পাকিস্তানী শাসক চক্রের হীন চক্রান্তে তিনি কারাবদ্ধ হন এবং দীর্ঘ ১৮ মাস কারাভোগের পর মুক্তিলাভ করেন।

১৯৫৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর আতাউর রহমান খানের মুখ্যমন্ত্রীতে গঠিত কোয়ালিশন সরকারের অন্যতম মন্ত্রী হন খয়রাত হোসেন। তিনি কৃষি,খাদ্য,মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একজন সফল মন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে খয়রাত হোসেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। খযরাত হোসেন,দবির উদ্দিন আহমেদ,আফসার আলী আহমেদ,রহমান চৌধুরী সহ অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ “সংগ্রাম পরিষদ” গঠনের প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের একত্রিত করতে থাকেন। কিন্তু খয়রাত হোসেনকে ভাষা সৈনিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "২নং গোড়গ্রাম ইউনিয়ন"http (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-১৭ 
  2. web@somoynews.tv। "নীলফামারীতে ভাষা সৈনিক খয়রাত হোসেনের নামে নামফলক"somoynews.tv (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-১৭