চিলাহাটি-পার্বতীপুর-সান্তাহার-দর্শনা লাইন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
চিলাহাটি-পার্বতীপুর-সান্তাহার-দর্শনা লাইন
Nilphamari-Chilahati Railway line.jpg
নীলফামারী-চিলাহাটি রেল লাইন, ডোমার
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
অবস্থাসক্রিয়
সেবাগ্রহণকারী অঞ্চলবাংলাদেশ
বিরতিস্থলচিলাহাটি
দর্শনা
বিরতিস্থলসমূহ৫৪
ক্রিয়াকলাপ
উদ্বোধনের তারিখ১৮৭৮
মালিকবাংলাদেশ রেলওয়ে
প্রযুক্তিগত
রেললাইনের মোট দৈর্ঘ্য?
No. of tracks?
ট্র্যাক গেজঈশ্বরদী এবং সৈয়দপুরের মধ্যের ১,৬৭৬ মিলিমিটার (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) ব্রডগেজকে ১,৬৭৬ মিলিমিটার (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) ও ১,০০০ মিলিমিটার (৩ ফুট   ইঞ্চি) দ্বৈত গেজ এ রূপান্তর
চালন গতি?

চিলাহাটি-পার্বতীপুর-সান্তাহার-দর্শনা লাইন বাংলাদেশের একটি রেলপথ যা চিলাহাটি হইতে সৈয়দপুর, পার্বতীপুর জংশন, সান্তাহার, আব্দুল্লাহপুর, আজিম নগর স্টেশন (লালপুর উপজেলা), ঈশ্বরদী ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে দর্শনা পৌছেছে। এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে রক্ষানাবেক্ষন ও পরিচালিত হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৮৭৮ সাল থেকে, কলকাতা থেকে শিলিগুড়িতে রেলপথে যাওয়ার জন্য দুইবার পথ ভাঙতে হত। প্রথমবার পূর্ববাংলার রাজ্য রেলপথ ধরে কলকাতা স্টেশন (পরবর্তীতে শিয়ালদহ নামে নামকরণ করা হয়) থেকে যাত্রা শুরু করে পদ্মা নদীর দক্ষিণ তীরের দামুকদিয়া ঘাট পর্যন্ত ১৮৫ কিলোমিটার ভ্রমণ করতে হত, তারপর ফেরিতে করে নদীর পার হয়ে ভ্রমণ যাত্রার দ্বিতীয়টি শুরু হত। তখন উত্তরবঙ্গ রেলপথের ৩৩৬ কিলোমিটার মিটার গেজ লাইনটি পদ্মার উত্তর তীরের সারাঘাটকে শিলিগুড়ির সাথে সংযুক্ত করেছিল।[ ১৮৭৪ সালে নর্থ বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে নামে ব্রিটিশ সরকার এই রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু করেছিল।

১৯১২ সালে সরকার পদ্মা নদীতে ১.৮ কিমি হার্ডিঞ্জ ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়। ১৯২৬ সালে নর্থ বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে কর্তৃক পদ্মা পাড় থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত লাইনটিকে মিটারগেজ থেকে ব্রজগেজে পবির্তন করা হয়।[১] ফলে পুরো কলকাতা - শিলিগুড়ি রুটটি ব্রডগেজে রুপান্তরিত হয়।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগ হলে লাইনের পাকিস্তান (যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশ অঞ্চল হয়) অংশ পৃথক হয়ে যায়। বর্তমানে গেদে হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের অংশ এখনও কার্যকর রয়েছে এবং মৈত্রী এক্সপ্রেস এই লাইনে ঢাকা-কলকাতা যায়। উত্তরের চিলাহাটি–হালদিবাড়ি বিভাগটি বর্তমানে অকার্যকর। ২০১০ সালের হিসাবে অনুসারে, ৬৪ কিলোমিটার (৪০ মাইল) দীর্ঘ সৈয়দপুর-চিলাহাটি লাইনটির অবস্থা খারাপের কারণে ঢাকা এবং চিলাহাটির মধ্যে কোনও ট্রেন চলাচল করত না। ২০১০ সালে এই লাইনের উন্নয়নের জন্য সরকার ১০৩.৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। ২০১৫ সালে চিলাহাটি-ঢাকা রুটের জন্য নীলসাগর এক্সপ্রেস এ লাইনে চালু হয়।

স্টেশনের তালিকা[সম্পাদনা]

চিলাহাটি-দর্শনা রেললাইনে ৫৩ টি স্টেশন আছে । নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:

শাখা লাইন[সম্পাদনা]

১৯১৫-১৬ সালে সারা-সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে কোম্পানি সারাঘাট-সিরাজগঞ্জ লাইন নির্মাণ করে।[২] তারপরে ১৯৩০ সালে, আবদুলপুর-আমনুরা ব্রডগেজ লাইনটি সারাঘাট-সিরাজগঞ্জ লাইনের একটি শাখা হিসাবে খোলা হয়।[৩]

১৮৯৯-১৯০০ সালে ব্রহ্মপুত্র-সুলতানপুর রেলওয়ে কোম্পানি ৯৪ কিলোমিটার (৫৮ মাইল) দীর্ঘ সান্তাহার থেকে ফুলছড়ি (তিস্তামুখ) মিটারগেজ রেলওয়ে ট্র্যাক নির্মাণ করে। বর্তমানে লাইনটি ফুলছড়ি উপজেলার বালাসি ঘাট পর্যন্ত রয়েছে।[২][৪] ৪৪ কিলোমিটার (২ মাইল) দীর্ঘ বনরপাড়া-কাউনিয়া লাইনটি ১৯০৫ সালে নির্মিত হয়।

উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে ১৮৭৯ সালে কাউনিয়ায় মিটারগেজ লাইন নির্মাণ করে। ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃক কাউনিয়া থেকে ধরলা পর্যন্ত দুটি ন্যারোগেজ লাইন নির্মাণ হয়। যার ফলে কাউনিয়া-ধরলা রাজ্য রেলওয়ে তৈরি হয়। কাউনিয়া-ধরলা রেলওয়ে লাইন পর্বতীতে মিটারগেজে পবির্তন করা হয়।[৫]

সম্পর্কিত নিবন্ধ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "রেলওয়ে"। বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০২-০৭ 
  2. "Brief History"। Bangladesh Railway। ২০১১-১২-২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০২-০৭ 
  3. "Railways in colonial Bengal"দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০১৯ 
  4. "Railway"। Banglapedia। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০২-০৭ 
  5. R.P. Saxena। "Indian Railway History timeline"। ২০১২-০২-২৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০২-০১ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]