ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন
| ধানুয়া কামালপুর | |
|---|---|
| ইউনিয়ন | |
| বাংলাদেশে ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক: ২৫°১৩′২১″ উত্তর ৮৯°৫২′৩৮″ পূর্ব / ২৫.২২২৫০° উত্তর ৮৯.৮৭৭২২° পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | ময়মনসিংহ বিভাগ |
| জেলা | জামালপুর জেলা |
| উপজেলা | বকশীগঞ্জ উপজেলা |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |

ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন।[১][২]
অবস্থান ও সীমানা
[সম্পাদনা]ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন বকশীগঞ্জ উপজেলার উত্তর দিকে অবস্থিত। এই ইউনিয়নের উত্তরে ভারত,পূবে শেরপুর জেলা,পশ্চিমে বগারচর ইউনিয়ন,দক্ষিণে বাট্টাজোড় ইউনিয়ন।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ধানুয়া কামালপুর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র ছিল, যেখানে पाकिस्तानी হানাদার বাহিনীর একটি শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল এবং মুক্তিবাহিনী দীর্ঘ নয় মাস ধরে এই ঘাঁটির বিরুদ্ধে লড়াই করে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাটি ছিল ভারতীয় সীমান্তবর্তী এবং এখানকার বিওপি (সীমান্তরক্ষী চৌকি) ছিল পাকবাহিনীর দুর্ভেদ্য ঘাঁটিগুলোর একটি। অবশেষে, ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে এই ঘাঁটিতে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।[৩]
কৌশলগত গুরুত্ব:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধানুয়া কামালপুর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি ছিল ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি একটি শক্তিশালী ঘাঁটি।
- এই ঘাঁটি থেকে পাকিস্তানি সেনারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে তুলছিল এবং তাদের প্রতিরোধের মুখে মুক্তিবাহিনী বারবার আক্রমণ পরিচালনা করেছে।
কামালপুর যুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় ধরে ধানুয়া কামালপুর ছিল একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন।
- এই যুদ্ধে অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রাণহানি ঘটে এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সৈন্য হারায়।
- ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে, কামালপুর ঘাঁটিতে অবস্থানরত ৩১ বালুচ কোম্পানির পাকিস্তানি সেনারা বেশ কয়েকজন রাজাকারসহ মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে, যা ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে প্রথম আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ।
ঐতিহাসিক তাৎপর্য:
- কামালপুরের যুদ্ধ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
- রণকৌশলগত কারণে এই ঘাঁটি বারবার আক্রমণের শিকার হয়েছিল এবং অবশেষে এর পতন ঘটে।
- পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর ৪ ডিসেম্বর তারিখটিকে ধানুয়া কামালপুর হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
স্বাধীনতা যুদ্ধে ধানুয়া কামালপুর
[সম্পাদনা]মুক্তিযুদ্ধের সময় ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে বিওপি ক্যাম্প থাকায় মুক্তিযুদ্ধে কামালপুর ইউনিয়ন ভৌগোলিক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১১ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে কর্ণেল তাহের ও লেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান। উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান প্রথমে উপ-সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭১-এর ৩ নভেম্বর থেকে সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব লাভ করেন।মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেন তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মো: আশরাফ হোসেন । ৪ ডিসেম্বর বকশীগঞ্জ উপজেলা শত্রু মুক্ত হয় ।
কামালপুর বিওপি যুদ্ধ
ধানুয়া কামালপুর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে।ধানুয়া কামালপুরের বিওপি ক্যাম্প ছিল পাকবাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি। কৌশলগত কারণে মুক্তিযুদ্ধে ধানুয়া কামালপুর এলাকার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় রণকৌশলগত কারণে মুক্তিবাহিনী বারবার আক্রমণ করেছে এই ঘাঁটি। এই ধানুয়া কামালপুর ঘাঁটির এক মাইল দূরে সীমান্তের ওপারে মেঘালয় রাজ্য। মেঘালয়ের সীমান্তবর্তী শহর মাহেন্দ্রগঞ্জে ছিল ১১নং সেক্টরের হেড কোয়ার্টার।[৪] ১২ জুন সর্বপ্রথম ইপিআর-এর নায়েক সুবেদার সিরাজের নেতৃত্বে ১৪৮ জন মুক্তিযোদ্ধারা ধানুয়া কামালপুর ঘাঁটি আক্রমণ করে। কিন্তু এই আক্রমণে ঘাঁটির কোন ক্ষতি করা সম্ভব হয়নি। এরপর ৩রা জুলাই ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন মমতাজের নেতৃত্বে ডেলটা কোম্পানি এবং ক্যাপ্টেন হাফিজের নেতৃত্বে ব্র্যাভো কোম্পানি ধানুয়া কামালপুর ঘাঁটি আক্রমণ করে। এই আক্রমণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে ধানুয়া কামালপুর ঘাঁটি বহুলাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেক পাকসেনা হতাহত হয়। অপরদিকে ক্যাপ্টেন মমতাজসহ ছয়জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন এবং অনেক মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তিবাহিনী আরও দুবার এই ঘাঁটি আক্রমণ করে। কিন্তু দুবারই তারা এই ঘাঁটি দখল করতে ব্যর্থ হয়। এরপর মুক্তিবাহিনী ধানুয়া কামালপুর ঘাঁটিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে উদ্যোগ নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা ধানুয়া কামালপুর ও বকশীগঞ্জের মাঝের সড়কটিতে প্রচুর এন্টি ট্যাংক মাইন স্থাপন করে। এই মাইন বিস্ফোরণে পাকবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। আগস্ট মাসের শেষের দিকে মাইন বিস্ফোরণে পাকিস্তানিদের নয়টি সরবরাহ ট্রাক এবং সৈন্য বোঝাই ট্রাক ধ্বংস হয়।[৫]
মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্স গঠিত হলে যোদ্ধাদের যুদ্ধ ক্ষমতা যাচায়ের জন্য ফোর্স কমান্ডার লে. কর্নেল জিয়াউর রহমানের নির্দেশে একটি যুদ্ধের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে ধানুয়া কামালপুর আক্রমণ ও দখলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৩০ জুলাই রাতে আক্রমণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
রেজিমেন্টের অধিনায়ক ছিলেন মেজর মইনুল হোসেন চৌধুরী। অন্যান্য অফিসারদের মধ্যে ছিলেন ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান (এ কোম্পানি), ক্যাপ্টেন হাফিজউদ্দিন (বি কোম্পানি), লে. আবদুল মান্নান (সি কোম্পানি), ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন মমতাজ (ডি কোম্পানি) প্রমুখ।[৬]
২৯ জুলাইয়ের মধ্যে রেকি করা হয় এবং রেজিমেন্টের অধিনায়ক মেজর মইনুল হোসেন চৌধুরীর কাছে সকল তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
৩১ জুলাই সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট পথে কোম্পানি কমান্ডারগণ নিজ নিজ সৈন্য নিয়ে ধানুয়া কামালপুরের দিকে যাত্রা করেন। কিন্তু যাত্রা পথে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে ফর্মিং সেটআপ, ওয়ালেস সিস্টেম জ্যাম হয়ে গেলে আভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বিঘ্নিত হয় এবং অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা অল্পপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ায় এবং অনভিজ্ঞ গাইডের কারণে একে অন্যের স্থানে উপস্থিত হয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে ফর্মিং আপ করার আগেই নিজেদের এবং শত্রুপক্ষের ক্রস ফায়ারে কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা হতাহত হন।
ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন এবং ক্যাপ্টেন হাফিজউদ্দিন যোদ্ধাদের এগিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। বিওপির নিকট পৌছে ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন মেগাফোনে শত্রুদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। এ সময় কমান্ডারের প্রেরণায় মুক্তিযোদ্ধারা ঘাঁটি আক্রমণ করেন। মুক্তিবাহিনী একসময় পাক ডিফেন্সের প্রাথমিক আউটার প্যারামিটার দখল করে নেয়। কিন্তু পরক্ষণে পাল্টা আক্রমণের শিকার হয় এবং হাতাহাতি যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে বি কোম্পানি প্রায় পর্যদুস্ত হয়। ক্যাপ্টেন হাফিজ গোলার আঘাতে গুরুতর আহত হন। ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে বি কোম্পানি পুনরায় ক্যাম্পের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এমজি ফায়ারের সম্মুখীন হয়। ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন গুরুতর আহত হয়ে অল্পক্ষণের মধ্যেই শহিদ হন। অপরদিকে ডি কোম্পানির অধিনায়ক লে. আবদুল মান্নান আক্রমণের শুরুতেই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। সার্বিক পরিস্থিতেতে মুক্তিবাহিনী শত্রুর প্রবল আক্রমণের মুখে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিজেদের প্রত্যাহারে বাধ্য হয়।
এ কোম্পানি ৩১ জুলাই রাতে ধানুয়া কামালপুর বকশীগঞ্জ রাস্তায় ধানুয়া কামালপুরের এক মাইল দক্ষিণে ধানুয়া কামালপুর-শ্রীবর্দী রোড জংশন এবং উর্বানীপাড়া এলাকায় রোড ব্লক করে। এর নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন মাহবুব। এতে মুক্তিবাহিনী সফল হয়। ধানুয়া কামালপুর বিওপি মুক্তিবাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে এ খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ কোম্পানি হেডকোয়ার্টার থেকে ২/৩ ট্রাক পাকসৈন্য সাহায্যকারী হিসেবে আসছিল কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
মুক্তিবাহিনীর নিয়মিত ব্রিগেড গঠনের পর এটিই ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম নিয়মিত যুদ্ধ। এলাকা শত্রু মুক্ত করা ছাড়াও প্রশিক্ষণের মান, মনোবল, কমান্ডের প্রতি আনুগত্য ও রেজিমেন্টসমূহের কমান্ডারদের যুদ্ধ পরিচালনার দক্ষতা যাচাই ছিল এর লক্ষ।
এই যুদ্ধে শহিদ হন ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন মমতাজ, নায়েক আবদুস সালাম, ল্যান্স নায়েক গোলাম মোস্তফা, মতিউর রহমান ও নায়েক সিরাজুল ইসলাম সহ আরো অনেকে।[৭]
৬ই সেপ্টেম্বর মাঝরাতে মুক্তিবাহিনীর একটি দল ধানুয়া কামালপুর- বকশীগঞ্জ সড়কে এ্যাম্বুশ পাতে। আরেকটি দল ৭ই সেপ্টেম্বর ভোর সকালে ধানুয়া কামালপুর ঘাঁটি আক্রমণ করে। এই অভিযানে মুক্তিবাহিনী ঘাঁটির পূর্বাংশ দখল করলেও পশ্চিম অংশের বাংকার থেকে পাকসেনাদের মেশিনগান ও মর্টারের গোলায় মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই যুদ্ধে ২জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন এবং ১৭ জন আহত হন। এদিকে এ্যাম্বুশ করা দলের পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে বকশীগঞ্জ থেকে আসা পাকিস্তানি সাহায্যকারি দলের একটি সৈন্য বোঝাই ট্রাক সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস হয়। এই ট্রাকের পিছনে ছিল একটি জিপ ও একটি সৈন্য বোঝাই ট্রাক। শত্রু সেনারা ট্রাক থপকে নেমে এ্যাম্বুশকারী মুক্তিযোদ্ধাদের উপর গোলাবর্ষণ শুরু করে। দুপক্ষের গুলি বিনিময়ে বেশ কিছু পাকসেনা হতাহত হয়। এই গোলাগুলির সময় ধানুয়া কামালপুর ঘাঁটি থেকে একদল সৈন্য বকশীগঞ্জের দিকে আসে। তারা এ্যাম্বুশকারী মুক্তিবাহিনীর পিছনে অবস্থান নেয় এবং মুক্তিবাহিনীর উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ৬জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন এবং ৪জন মুক্তিযোদ্ধা পাকসেনাদের হাতে ধরা পড়েন।এ অবস্থায় এ্যাম্বুশকারী মুক্তিযোদ্ধারা স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ১০ই সেপ্টেম্বর খাসির গ্রামের কাছে পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর আরেকটি সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এতে অনেক পাকসেনা হতাহত হয়। অন্যদিকে ২জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন।
১৩ই নভেম্বর ধানুয়া কামালপুর ঘাঁটির উপর মুক্তিবাহিনী আরেকটি আক্রমণ চালায়। এই যুদ্ধে সাদরুজ্জামান হেলাল কোম্পানি ও তার প্লাটুন এবং ব্রাদার্স কোম্পানি ও তার প্লাটুন অংশ নেয়। এই যুদ্ধে ১১নং সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু তাহেরও অংশ নেন। পাক হানাদার বাহিনীর সাথে প্রচন্ড রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। তবে এই যুদ্ধে শত্রুদের তেমন ক্ষতি করা যায়নি। কিন্তু এই যুদ্ধে কর্নেল তাহের সেলের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন। যার পরিণতিতে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। কর্নেল তাহের আহত হবার পর ১১ নং সেক্টরের কমান্ডারের পান মানকাচরের সাবসেক্টর কমান্ডার বিমান বাহিনীর অফিসার এম হামিদুল্লাহ খান।
অবশেষে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে ২রা নভেম্বর থেকে ৪ঠা ডিসেম্বর পর্যন্ত চারদিক থেকে ধানুয়া কামালপুর ঘাঁটি অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীর সদর দপ্তর জামালপুরের সাথে ধানুয়া কামালপুরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে পাকবাহিনীর খাদ্য ও গোলাবারুদ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তাদের মনোবলও ভেঙ্গে পরে। ৪ঠা ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। আত্মসমর্পিত পাকসেনার সংখ্যা ছিল ১৬০ জন। তাদেরকে মিত্রবাহিনী ১০টি ট্রাকে করে ভারতে নিয়ে যায়। ধানুয়া কামালপুর ঘাঁটির পতনের মধ্যদিয়েই সূচিত হয় জামালপুরসহ ঢাকা বিজয়ের পথ।

পুরো মুক্তিযুদ্ধে ধানুয়া কামালপুর অভিযানে সর্বমোট ১৯৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন অসংখ্য, অন্যদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর আইয়ুব সহ ২২০ জন সেনা নিহত হয়েছেন।
বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক মিলিয়ে সর্বমোট ২৯ জন মুক্তিযোদ্ধা সাহসিকতা পদক পেয়েছেন কেবল ধানুয়া কামালপুর যুদ্ধের জন্যই, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এমন উদাহরণ আর একটিও নেই।
প্রশাসনিক এলাকা
[সম্পাদনা]ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে বর্তমানে ৫ টি মৌজা, ২৩ টি গ্রাম রয়েছে।। সম্পূর্ণ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম বকশীগঞ্জ থানার আওতাধীন।
আয়তন ও জনসংখ্যা
[সম্পাদনা]ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের আয়তন ১৪ বর্গ কিলোমিটার। এই ইউনিয়নে ২১৪৭৮ জন লোকের বসবাস। তন্মোধ্যে মহিলা=১১২০৩ জন,পূরুষ=১০২৭৫ জন।
শিক্ষা
[সম্পাদনা]শিক্ষার হার : ৪৯%
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ১৪টি
দর্শনীয় স্থান
[সম্পাদনা]- ধানুয়া কামালপুর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ:এটি ধানুয়া কামালপুরে অবস্থিত।
- লাউচাপড়া পাহাড়িকা বিনোদন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট
- ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর
জনপ্রতিনিধি
[সম্পাদনা]বর্তমান চেয়ারম্যান-
| ক্রমিক | নাম | মেয়াদ |
|---|---|---|
| ০১ | মোঃ গোলাম মোস্তফা | সাবেক |
| ০২ | মশিউর রহমান লাখপতি | সাবেক |
| ০৩ | মোঃ মোস্তফা কামাল | সাবেক |
| ০৪ | ||
| ০৫ | ||
| ০৬ | ||
| ০৭ |
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন"। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০।
- ↑ "বকশীগঞ্জ উপজেলা"। বাংলাপিডিয়া। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। ৮ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০।
- ↑ আমি নিজে
- ↑ মহান মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর ময়মনসিংহ। ময়মনসিংহ: এরিয়া সদর দপ্তর ময়মনসিংহ সেনানিবাস। ২৬ মার্চ ২০০১। পৃ. ১৪১–১৪২।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক) - ↑ বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা, জামালপুর। ঢাকা: বাংলা একাডেমী। ডিসেম্বর ২০১৩। পৃ. ৯১। আইএসবিএন ৯৮৪-০৭-৫১৭৮-৬।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক) - ↑ মহান মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর ময়মনসিংহ। ময়মনসিংহ: এরিয়া সদর দপ্তর ময়মনসিংহ সেনানিবাস। ২৬ মার্চ ২০০১। পৃ. ১৪৫–১৪৭।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক) - ↑ মহান মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর ময়মনসিংহ। ময়মনসিংহ: এরিয়া সদর দপ্তর ময়মনসিংহ সেনানিবাস। ২৬ মার্চ ২০০১। পৃ. ১৪৭–১৫৭।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক)
| বাংলাদেশের ইউনিয়ন বিষয়ক এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |