নাদেরুজ্জামান খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নাদেরুজ্জামান খান
জন্ম৮ মার্চ, ১৯১৭
মৃত্যু২০ জুন, ২০০২
শেরপুর , (বর্তমান বাংলাদেশ বাংলাদেশ)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
অন্যান্য নামপাহাড়ী ডাক্তার
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
 পাকিস্তান (১৯৭১ সাল পর্যন্ত)
 বাংলাদেশ (২০০২ সাল পর্যন্ত)
পেশারাজনীতিবিদ, ডাক্তার
পরিচিতির কারণবাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
আন্দোলনবাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন
দাম্পত্য সঙ্গীফাতেমা বেগম
পিতা-মাতা
  • মরহুম হাজী সৈয়দ জামান খান (পিতা)
  • মরহুম জেলেহা খাতুন (মাতা)
পুরস্কারবিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের জার্নালে শেরপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কৃতি সন্তান মনোনীত হয়েছিলেন

ডা. নাদেরুজ্জামান খান একজন পাকিস্তানী ও বাংলাদেশী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন এ তিনি নকলা-নালিতাবাড়ী আসন থেকে গণ পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন।

জীবনী[সম্পাদনা]

ডা. নাদেরুজ্জামান খান ওরফে নাদের ডাক্তারের জন্ম ১৯১৭ সনের ৮ মার্চ ও মৃত্যু ২০০২ সনের ২০ জুন। নাদের ডাক্তার তদানিন্তন ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর মহকুমার নালিতাবাড়ী থানার গৌড়দ্বার গ্রামের মরহুম হাজী সৈয়দ জামান খান ও মরহুম জেলেহা খাতুনের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

নাদেরুজ্জামান খান নিজ গ্রাম থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে পার্শ্ববর্তী ফুলপুর থানার পয়ারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পাশ করে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইন্সটিটিউটে (বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) চার বছর মেয়াদি এলএমএফ (Licentiate of Medical Faculty) কোর্সে ভর্তি হন।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সনে বৃটিশদের নিকট থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত ভাগ হলে, তদানিন্তন স্বাধীনতার পক্ষের তরুন নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলার (পূর্ব পাকিস্তান) রাজধানী ঢাকায় ছাত্র লীগ, আওয়ামী লীগ দল গঠনের সময় পরিচয় ঘটে বর্তমান শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার গৌড়দ্বার ইউনিয়নের গৌড়দ্বার গ্রামের মেডিকেল ছাত্র নাদেরুজ্জামান খানের সাথে। তাদের দুজনের চেহারায় মিল থাকায় ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। নাদেরুজ্জামান খান তখন পূরানো ঢাকায় ডাক্তারী পড়ছিলেন আর শেখ মুজিব পূরানো ঢাকায় থাকতেন। শেখ মুজিবের আহবানে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন নাদের।

ডাক্তারি ডিগ্রিপ্রাপ্ত হবার পর শেখ মুজিবের পরামর্শে চিকিৎসা বঞ্চিত এলাকাবাসীর সেবা করার লক্ষ্যে নিজ গ্রামে এসে ফার্মেসী স্থাপন করে চিকিৎসা সেবার সেবার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করেন। ডাক্তার নাদেরুজ্জামান খান গ্রামে গ্রামে ঘুরে আওয়ামী লীগের প্রচার চালিয়ে, কর্মী সংগ্রহ করে নকলা থানা আওয়ামী লীগ গঠন করেন। নাদের ডাক্তার নকলা থানা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। পরবর্তী সময়ে ১০ বৎসর সভাপতির দায়ীত্ব পালন করেছেন।

নাদের ডাক্তার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সনের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ১৯৫৬ সনের শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬৬ সনের ৬ দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯ সনের গনঅভ্যুত্থান সহ পাকিস্তান আমলের সকল লড়াই সংগ্রামে আওয়ামী লীগের হয়ে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। ১৯৭০ সনের নির্বাচনে ডাক্তার নাদেরুজ্জামান খান নকলা-নালিতাবাড়ী আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরূপে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে গণ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ডাক্তার নাদেরুজ্জামান খান ১৯৭১ সনে মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং সংগঠক হিসাবে সংগ্রামী ভুমিকা পালন করেন।

১৯৭৯ ও ১৯৮৬ সনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। ডাক্তার নাদেরুজ্জামান খান বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের জার্নালে শেরপুরের শ্রেষ্ঠ কৃতি সন্তান মনোনীত হয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]