সরিষাবাড়ী উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সরিষাবাড়ি
উপজেলা
সরিষাবাড়ি বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
সরিষাবাড়ি
সরিষাবাড়ি
বাংলাদেশে সরিষাবাড়ী উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৪৪′১৬″ উত্তর ৮৯°৪৯′৫২″ পূর্ব / ২৪.৭৩৭৭৮° উত্তর ৮৯.৮৩১১১° পূর্ব / 24.73778; 89.83111স্থানাঙ্ক: ২৪°৪৪′১৬″ উত্তর ৮৯°৪৯′৫২″ পূর্ব / ২৪.৭৩৭৭৮° উত্তর ৮৯.৮৩১১১° পূর্ব / 24.73778; 89.83111 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগময়মনসিংহ বিভাগ
জেলাজামালপুর জেলা
আয়তন
 • মোট২৬৩.৪৮ কিমি (১০১.৭৩ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট৩,১৬,০০৭
 • জনঘনত্ব১২০০/কিমি (৩১০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৬১.৪৩%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড২০৫০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৩০ ৩৯ ৮৫
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

সরিষাবাড়ি,বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি একটি গুরত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে দেশের সবচেয়ে বড় সার কারখানা 'যমুনা সার কারখানা' অবস্থিত।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

সরিষাবাড়ি বাংলাদেশের ২০তম জেলা জামালপুরের অধীনস্থ একটি স্বনামধন্য উপজেলা।এটি ময়মনসিংহ বিভাগে অবস্থিত।

সরিষাবাড়ী উপজেলা ২৪°৩৪´ থেকে ২৪°৫০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°৪৩´ থেকে ৮৯°৫৬´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত । সীমানা: উত্তরে মাদারগঞ্জ ও জামালপুর সদর উপজেলা, দক্ষিণে ভূঞাপুর উপজেলা, পূর্বে গোপালপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা, পশ্চিমে সারিয়াকান্দি, কাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা।

এর আয়তন - ২৬৩.৪৮ বর্গ কিলোমিটার ।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

এখানে গ্রাম - ১৮৮ টি, পৌর মহল্লা - ৩৫ টি। সরিষাবাড়ীতে একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।

  • সাতপোয়া,
  • কামরাবাদ,
  • পোগলদীঘা,
  • মহাদান,
  • ডোয়াইল,
  • ভাটারা,
  • আওনা,
  • পিংনা।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সরিষাবাড়ী, ময়মনসিংহ বিভাগের অধীনস্থ জামালপুর জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা।

সরিষাবাড়ী থানা গঠিত ১৯৬০ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে।

১) তদানিন্তন বৃটিশ শাসনামলে বর্তমান চর সরিষাবাড়ী ছিল আদি সরিষাবাড়ী। খরস্রোতা যমুনার কড়াল গ্রাসে আদি সরিষাবাড়ী বিলুপ্ত। তখন নদীর নাব্যতা ছিল, চলাচল করতো ষ্টীমার, জাহাজ। নদী বিধৌত চার ইউনিয়নের পিংনা, পোগলদিঘা, আওনা, কামরাবাদ এর অধিকাংশ ভূমিতেই সরিষা আবাদ হতো। বীর অঞ্চলের চারটি ইউনিয়নেও প্রচুর সরিষা আবাদ হতো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে বানিজ্য করার লক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা সরিষা কিনতে আসত।সে সময়কাল হতেই এই স্থানটির নাম রাখা হয় সরিষাবাড়ী। তবে -

কে কবে, কোথা্য়, কোন সময়ে ও কোন তারিখে এই স্থানটির নামকরণ করেন তার সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

২) যমুনা বিধৌত ঝিনাই, সুবর্নখালী বেষ্টিত এই সরিষাবাড়ী পূর্বে কাগমারী পরগনায় অবস্থিত ছিল।

৩) পাটশিল্প সমৃদ্ধ সরিষাবাড়ীতে ২২টি পাটের কুঠি ছিল। প্রায় ২২,০০০ বাইশ হাজার শ্রমিক পাটের কুঠিগুলোতে কর্মরত ছিল। বাংলাদেশের পাট ব্যবসায়ী কেন্দ্র হিসেবে নারায়নগঞ্জের পরই সরিষাবাড়ীর স্থান ছিল। আজ তা বিলুপ্তির পথে।

৪) বৃটিশ শাসনামলে সরিষাবাড়ীর ৫নং পিংনা ইউনিয়নে ফৌজদারী আদালত ছিল। কুম্ভকার সম্প্রদায় এর মাটির হাড়ি-পাতিল তৈরীতে পিংনা ইউনিয়ন এখনো বিখ্যাত। ১৮৯৬ সালে পিংনা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।মহাকবি কায়কোবাদ, পিংনাতে পোস্টমাস্টার পদে থাকাকালীন অবস্থায় আযান কবিতা রচনা করেন।

৫) ডোয়াইল ইউনিয়নে প্রচুর হিন্দুদের বসবাস ছিল। ডোয়াইলের চরের মুগ ডাল ছিল প্রসিদ্ধ। বৃহত্তর ময়মনসিংহে ডোয়াইলের মুগ ডাল সোনামুগ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল।

৬) পোগলদিঘা সরিষাবাড়ী উপজেলার সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন। এশিয়ার সর্ববৃহৎ ইউরিয়া সারকারখানা সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত।

৭) মহাদান ইউনিয়নের খাগুড়িয়া গ্রামের নামানুসারে ঐতিহ্যবাহী খাগুরিয়া কালী মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে। সুদূর ভারত হতে এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উপাসনার জন্য আসে এবং তিনদিনব্যাপী মেলা বসে।এই মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে শ্রী শ্রী খাগড়িয়া কালী মাতা মন্দির। এছাড়া বছরে আরো ৪টি মাঝারী হিন্দুধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় এই মন্দিরে ।

৮) পুরাতন জগন্নাথগঞ্জ ঘাট ষ্টীমার ষ্টেশন ছিল। নদীর নাব্যতা হারানোর ফলে ষ্টীমার ঘাটটি বিলুপ্ত। এটি আওনা ইউনিয়নের অন্তর্গত ছিল।

৯) রাজনৈতিক বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ১৩৩৫ বাংলা সনে প্রতিষ্ঠিত শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময় স্থানান্তরিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সরিষাবাড়ী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। বাংলাদেশের ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এটি একটি মানব সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান।

১০) সরিষাবাড়ী সদরে দুটি বাজার দুই দিকে অবস্থিত।একটি শিমলা বাজার ও অপরটি রামনগর বাজার। পাকিস্তান আমলের শেষের দিকে মরহুম রিয়াজউদ্দিন তালুকদার রামনগরের নাম পরিবর্তন করে আরামনগর বাজার নামকরণ করেন।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

মোট জনসংখ্যা - ৩,১৬,০০৭ জন ।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষায় এই উপজেলা অনেক এগিয়ে।এখানে কলেজের সংখ্যা: সাধারণ ৭টি অন্যান্য ৩টি। উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ৩৯ টি। নিম্ন মাধ্যমিক: ১টি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ১২৩ টি। প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ১৫৮টি। উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ২১৪টি। মাদ্রাসার সংখ্যা: ২২টি।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

সরিষাবাড়ী ‍উপজেলা মূলত কৃষি নির্ভর।প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, গম, সরিষা, আখ, চীনাবাদাম, মিষ্টি আলু, মসুরি, পান, হলুদ, মরিচ, শাকসবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি  চিনা, কাউন, তিল, তিসি।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, নারিকেল, সুপারি, কলা, পেঁপে।

মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার গবাদিপশু ৫, গবাদিপশু প্রজনন কেন্দ্র ৪, হাঁস-মুরগি ১৫, হ্যাচারি ৩।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৬৩.৮৪%, অকৃষি শ্রমিক ২.৭৬%, শিল্প ১.৩১%, ব্যবসা ১২.২৯%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ২.৯১%, চাকরি ৮.০৬%, নির্মাণ ১.২৮%, ধর্মীয় সেবা ০.২২%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.৩৬% এবং অন্যান্য ৬.৯৭%।

তবে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আলহাজ জুটমিল, এ.আর.এ জুট মিল, পপুলার জুটমিল ও যমুনা সার কারখানার মত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কারখানাও গড়ে ওঠেছে।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব ৷

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে উপজেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২০ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই, ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]