রাজিয়া মজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাজিয়া মজিদ
রাজিয়া মজিদ.jpg
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম১ জানুয়ারী ১৯৩০
শ্যামপুর, জামালপুর, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু২২ জুন ২০১৮
ঢাকা, বাংলাদেশ
দাম্পত্য সঙ্গীএসএম আহমেদ মজিদ
সন্তানএক কন্যা
পিতামাতাআব্দুস সবুর সিদ্দিকী
কামরুন নেসা
প্রাক্তন শিক্ষার্থীকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ
পুরস্কারবাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার
একুশে পদক

রাজিয়া মজিদ (১ জানুয়ারী ১৯৩০ – ২২ জুন ২০১৮) বাংলাদেশের একজন শিক্ষাবিদ ও কথা সাহিত্যিক। তার বেশ কয়েকটি উপন্যাস উল্লেযোগ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিংশ শতকের শেষার্দ্ধের বাংলাদেশের নারী লেখিকাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি দীর্ঘকাল বিভিন্ন ছাত্রী বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। ষাটের দশকে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার মধ্য দিয়ে তার লেখালিখির খ্যাতি। তার কর্মজীবনের অন্যতম স্বীকৃতির একুশে পদকবাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার[১][২]

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

রাজিয়া মজিদ ১ জানুয়ারী ১৯৩০ সালে জামালপুরের শ্যামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস টাঙ্গাইলে। তার পিতা আব্দুস সবুর সিদ্দিকী ও মাতা কামরুন নেসা। ১৯৪০ সালে ফরিদপুরের হালিমা জুনিয়র মাদরাসা থেকে 'জুনিয়র মাদরাসা' পাস করেন। তিনি ১৯৪৪ সালে ফরিদপুর ঈশান ইনস্টিটিউট থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ল্যাঙ্গুয়েজে মেরিট স্থান অধিকার ও মারহাবা পুরস্কারপ্রাপ্ত লাভ করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৪৮ সালে বিএ পাস করেন। ১৯৫০-৫১ সালে তিনি ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে ১ম শ্রেণীতে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার স্বামী এসএম আহমেদ মজিদ ছিলেন নিবাসী রাজনীতিবিদ। এই দম্পতীর আমেরিকা প্রবাসী একমাত্র কন্যা নাজনীন মজিদ। বিয়ের মাত্র ছয় বছর পর তার স্বামী মৃত্যুবরণ করেলে তিনি আর বিয়ে করেন নাই।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

রাজিয়া মজিদ কর্মজীবনের শুরুতে বাংলা ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসাবে ১৯৫১ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরি করেন। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

পূর্ব পাকিস্তান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে খুলনা বিভাগীয় সহকারী স্কুল পরিদর্শক হিসেবে ১৯৬২ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি খুলনা গার্লস গাইডের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ছিলেন ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত খুলনা সরকারি গার্লস উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা। ১৯৭০ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ঢাকার ধানমন্ডির কামরুন নাহার সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন শেরে বাংলা নগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা।

সাহিত্য চর্চা[সম্পাদনা]

রাজিয়া মজিদ ১৯৪০ সাল থেকে সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। তখন অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক আজাদ' পত্রিকার ‘মুকুলের মাহফিলে' তার প্রথম গল্প ছাপা হয়। ১৯৪৬ সাল থেকে কলকাতার ‘ইত্তেহাদ' পত্রিকার ‘আগুনের ফুল্কি' ও পরে বড়দের পাতায় এবং ‘বেগম' পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় বসবাস শুরু করেন ও ‘দৈনিক ইত্তেফাক', ‘ইত্তেহাদ',  ‘দৈনিক পাকিস্তান', ‘পাকিস্তানী খবর', ‘মাহে নও' সহ তৎকালীন সকল পত্র-পত্রিকায় লেখা শুরু করেন। পরবর্তীতে ‘সাপ্তাহিক রোববার', ‘সচিত্র বাংলাদেশ', ‘চিত্রালী', ‘নবারুণ', ‘দৈনিক ইনকিলাব', ‘দৈনিক দিনকাল', ‘দৈনিক যুগান্তর' সহ সকল পত্র-পত্রিকায় তার অনেক লেখা প্রকাশিত হয়। রেডিও-টেলিভিশনে তার কয়েকটি নাটিকা এবং ‘পেনশন' ছায়াছবির কাহিনীকার হিসেবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

গ্রন্থ[সম্পাদনা]

রাজিয়া মজিদের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় চল্লিশটি। তিনি উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণ কাহিনী, আলেখ্য, জীবনী ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থাদি রচনা করেছেন। রাজিয়া মজিদের প্রখ্যাত গল্পগ্রন্থ ‘ভালবাসার সেই মেয়েটি' ২০০৮ সালে ইংরাজি ভাষায় ‘The Girl in Love’ নামে অনূদিত হয়। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: - শতাব্দীর সূর্যশিখা (১৯৮৭), দিগন্তের স্বপ্ন (১৯৬৭), তমসা বলয় (১৯৬৬), আকাশে অনেক রং, ভালবাসার সেই মেয়েটি (১৯৮৫), যুদ্ধ ও ভালবাসা (১৯৯৬), রাজিয়া মজিদের গল্প সংগ্রহ (২০০২), এক মহান কর্মবীর (১৯৮০), মহানবীর মহাগুণ (১৯৮২)।

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

রাজিয়া মজিদ ২২ জুন ২০১৮ সালে ঢাকার বনানীর নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. কে জি মোস্তফা (৬ জুলাই ২০১৮)। "স্মৃতির আয়নায় রাজিয়া মজিদ"দৈনিক নয়াদিগন্ত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২১ 
  2. "রাজিয়া মজিদ"www.goodreads.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১০-২৫ 
  3. "বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার"বাংলাদেশ প্রতিদিন। ঢাকা, বাংলাদেশ। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। 
  4. "একুশে পদকপ্রাপ্ত সুধীবৃন্দ ও প্রতিষ্ঠান" (PDF)সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পৃষ্ঠা ১৩। ২২ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০১৯