জামালপুর সদর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জামালপুর সদর
উপজেলা
জামালপুর সদর বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
জামালপুর সদর
জামালপুর সদর
বাংলাদেশে জামালপুর সদর উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৫′১৭″ উত্তর ৮৯°৫৭′২৯″ পূর্ব / ২৪.৯২১৩৯° উত্তর ৮৯.৯৫৮০৬° পূর্ব / 24.92139; 89.95806স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৫′১৭″ উত্তর ৮৯°৫৭′২৯″ পূর্ব / ২৪.৯২১৩৯° উত্তর ৮৯.৯৫৮০৬° পূর্ব / 24.92139; 89.95806 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগময়মনসিংহ বিভাগ
জেলাজামালপুর জেলা
আয়তন
 • মোট৪৮৯.৫৬ কিমি (১৮৯.০২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট৬,১৫,০৭২
 • জনঘনত্ব১৩০০/কিমি (৩৩০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড২০০০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

জামালপুর সদর বাংলাদেশের জামালপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

জামালপুর সদর উপজেলা ২৪.৪২º উত্তর এবং ৮৯.৫২º পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। উত্তরে- শেরপুর সদর উপজেলা, দক্ষিণে- মধুপুর উপজেলাসরিষাবাড়ি উপজেলা, পশ্চিমে- মেলান্দহ উপজেলামাদারগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে- মুক্তাগাছা উপজেলাময়মনসিংহ সদর উপজেলা

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

জামালপুর সদরে ইউনিয়ন সমূহের তালিকাঃ

  1. কেন্দুয়া ইউনিয়ন
  2. শরীফপুর ইউনিয়ন
  3. লক্ষীরচর ইউনিয়ন
  4. তুরসীরচর ইউনিয়ন
  5. ইটাইল ইউনিয়ন
  6. নরুন্দি ইউনিয়ন
  7. ঘোড়াধাপ ইউনিয়ন
  8. বাঁশচড়া ইউনিয়ন
  9. রানাগাছা ইউনিয়ন
  10. শ্রীপুর ইউনিয়ন
  11. শাহবাজাপুর ইউনিয়ন
  12. তিতপল্লা ইউনিয়ন
  13. মেষ্টা ইউনিয়ন
  14. দিগপাইত ইউনিয়ন
  15. রশিদপুর ইউনিয়ন

ইতিহাস[সম্পাদনা]

যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাই, জিঞ্জিরাম, সুবর্ণখালী, বংশ নদী তীরবর্তী উঁচুভূমি ও জঙ্গলাকীর্ণ জামালপুরে কবে থেকে লোকালয় গড়ে উঠে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য আজো পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হয় যে, ৮'শ বছর পূর্ব থেকে জঙ্গলাকীর্ণ এই ভূ-খন্ডে জনবসতি শুরু হয়। উত্তাল যমুনা, ব্রহ্মপুত্র হয়ে জঙ্গলাকীর্ণ এই ভূ-খন্ডের বুক চিরে বয়ে যাওয়া অধূনালুপ্ত বংশ নদী হয়ে ব্যবসায়ীদের বিশাল সব বজরা নৌকা যাতায়াত করতো উত্তর-পশ্চিম থেকে পূর্ব-দক্ষিণ বঙ্গে। যাতায়াতের পথে ব্যবসায়ী সওদাগররা জঙ্গলাকীর্ণ এই এলাকার নদীর তীরে বজরা থামিয়ে বিশ্রাম নিতো। বংশ নদী তীরবর্তী ব্যবসায়ী সওদাগরদের বিশ্রামস্থলটিতে একসময় ছোট্ট একটি "গঞ্জ" গড়ে উঠে। এভাবে ক্রমশ: এই অঞ্চলটি "গঞ্জের হাট" নামে পরিচিত হয়ে উঠে। ব্যবসায়ী সওদাগরদের বিশ্রামস্থলটি এখনো শহরের মাঝখানে "রাণীগঞ্জ" বাজার নামে অতীত স্মৃতির জানান দেয়। মূলত গঞ্জের হাটকে কেন্দ্র করে সে সময় জঙ্গলাকীর্ণ এই এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠতে থাকে। ধারণা করা হয় যে, প্রাচীন বঙ্গের গৌড়ের সেন বংশের রাজত্বকালে (১১০০-১২০৩ খ্রী:) হিন্দুদের মধ্যে যখন কলীন প্রথার প্রচলন হয়, তখন এই এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠে। এ সময় গঞ্জের হাটের কাছের একটি এলাকায় শিবমিন্দর স্থাপিত হয়। পরবর্তী সময়ে কাছাকাছি এলাকায় স্থাপিত হয় দয়াময়ী মন্দির। একসময় শিবমন্দিরকে ঘিরে একশ্রেণীর হিন্দু সন্ন্যাসীদের আনাগোনা শুরু হয় এই অঞ্চলে। পরে দূরদেশ থেকে আগত এই সব হিন্দু সন্ন্যাসীরা আস্তানা গড়ে এই শিবমন্দিরে। হিন্দু সন্ন্যাসীদের আগমনে এবং তাদের পদচারণায় অঞ্চলটি "গঞ্জের হাট" থেকে "সন্ন্যাসীগঞ্জ" হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ক্রমান্বয়ে হিন্দু জমিদারদের উদ্ভব হলে সন্ন্যাসীগঞ্জকে মৌজা তৈরি করে এর নাম রাখেন "সিংহজানী"। এই সিংহজানী মৌজা থেকেই আজকের জামালপুর জেলা। জেলা শহরের দুইটি বিদ্যালয়ের নামের সাথে সিংহজানী নামটি আজও সমুন্নত। দিল্লীর তৃতীয় মোঘল সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে (১৫৪২-১৬০৫ খ্রী:) ইয়েমেন থেকে ইসলামধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে হযরত শাহ্ জামাল (রঃ) সিংহজানী মৌজায় আগমন করেন। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি ক্ষরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে নিজ আস্তানা স্থাপন করেন। সে সময় হযরত শাহ্ জামাল (রঃ)-এর অলৌকিক ক্ষমতার কথা দিল্লী পৌঁছলে সম্রাট আকবর তাকে খানকাহ্ শরীফ বা আস্তানার ব্যয় নির্বাহের জন্য সিংহজানীর অন্তর্গত কয়েকটি পরগণা "পীরপাল" হিসেবে প্রদান করে তার কাছে সনদ পাঠালেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। ইসলামের পতাকাবাহী এবং একত্মবাদের একনিষ্ঠ প্রচারক হযরত শাহ্ জামাল (রঃ) এর পূণ্যাত্মার প্রতি স্মরণার্থে পরবর্তীতে এ অঞ্চলের নামকরণ করা হয় "জামালপুর"। জামালপুর বর্তমানে ময়মনসিংহ বিভাগের একটি জেলা।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

জামালপুর জিলা স্কুল এই জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়। এটি ১৮৮১ সালে স্থাপিত হয়।

১৮৫৬ সালে তৎকালীন জামালপুর মহকুমা প্রশাসক টি.এ ডনো স্থানীয়দের মাঝে ইংরেজী শিক্ষাপ্রসারের লক্ষ্যে নিজ বাসভবনে একটি পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয়দের কাছে এটি ডনো সাহেবের পাঠশালা নামে পরিচিত ছিল। ছোট ছোট ছেলেদের নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে এ বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। কয়েক বছর পরে পাঠশালাটি মাইনর স্কুলে পরিণত হয়। ১৮৮১ সালে মাইনর স্কুলটিকে এন্ট্রান্স স্কুলে (বর্তমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়) উন্নীত করে ‘‘ডনো হাই স্কুল’’ নামকরণ করা হয় । ১৮৮২ সালে স্যার রিচার্ড টেম্পল বিদ্যালয়টিকে সরকারি সাহায্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ সময় নামকরণ করা হয় ‘জামালপুর ডনো ইংলিশ হাই স্কুল’। এই সময়ে বিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা ছিল ২২৩ জন। ১৯১২ সালে স্কুলটির পরিপূর্ন জাতীয়করণ হয় এবং বিদ্যালয়ের নাম হয় ‘‘জামালপুর সরকারি বিদ্যালয়’’। ১৯৭৯ সালে জামালপুর জেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ‘‘জামালপুর জিলা স্কুল’’ হিসেবে এর নতুন নামকরণ হয়

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

দিগপাইত ধরণী কান্ত উচ্চ বিদ্যালয় জামালপুর জেলার অন্যতম ১টি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়। এটি ১৯৩৯ সালে স্থাপিত হয়।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

হাজীপুরের গর্ব[সম্পাদনা]

আলহাজ্ব ডাঃ হাবিবুর রহমান সাহেব ও তার সন্তানদের চেষ্টায় ও আর্থিক সহযোগিতায় জামালপুর সদর উপজেলার হাজিপুরের জোকারপাড়া এলাকার মৌলভীবাড়ীতে উপমাহাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের অনুস্বরণে ২০০৪ সালে গড়ে উঠে দ্বীন ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা কেন্দ্র। ধীরে ধীরে ছাত্র সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে ক্লাসও বাড়তে থাকে। এ ধারাবাহিকতায় মাদ্রাসা সর্বোচ্চ বিভাগ দাওরায়ে হাদীস (মাষ্টার্স) এ উন্নিত হয় বর্তমানে মাদরাসার নাম 'জামিয়া রাহমানিয়া জোকারপাড়া হাজীপুর জামালপুর fesbook id https://www.facebook.com/profile.php?id=100015768918611

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে জামালপুর সদর"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২৪ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই, ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]