সৈয়দ সদরুজ্জামান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সৈয়দ সদরুজ্জামান
জন্ম৩১ জানুয়ারি, ১৯৫০
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
যে জন্য পরিচিতবীর প্রতীক

সৈয়দ সদরুজ্জামান (জন্ম: ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫০) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।[১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

সৈয়দ সদরুজ্জামান জন্ম জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার দুরমুজ (সাহেব বাড়ি) গ্রামে। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ বদরুজ্জামান এবং মায়ের নাম সৈয়দা খোদেজা জামান। তাঁর স্ত্রীর নাম সৈয়দা সাহানা জামান। তাঁর এক ছেলে, দুই মেয়ে। [২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন সৈয়দ সদরুজ্জামান। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৯ বছর। মা-বাবার অনুমতি নিয়েই তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে ১১ নম্বর সেক্টরের মহেন্দ্রগঞ্জ সাব সেক্টরের একটি কোম্পানির অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কামালপুরসহ আরও কয়েক স্থানের যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ও তাঁর দলের মুক্তিযোদ্ধারা সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে যুদ্ধ করেন। তাঁর দলের বেশ কয়েকজন সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য খেতাবও পেয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ৯ আগস্ট জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার উত্তর প্রান্তে ধানুয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত উঠানিপাড়ায় সৈয়দ সদরুজ্জামানের নেতৃত্বে এক দল মুক্তিযোদ্ধা সেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জন্য অ্যামবুশ তৈরি করে। ৩৭ জন মুক্তিযোদ্ধা উঠানিপাড়ায় অ্যামবুশ আক্রমনে যোগ দেন। দিনের বেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ভারত থেকে এসে অবস্থান নিল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন সৈয়দ সদরুজ্জামান। অদূরে ছিলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থান। সেই অবস্থানকে ঘিরে অবস্থান নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের আরও কয়েকটি দল। রাতে সৈয়দ সদরুজ্জামানের দলের অবস্থানের দিকে এগিয়ে এল এক দল পাকিস্তানি সেনা এবং শুরু হলো যুদ্ধ। ১০ মিনিটের বেশি সময় সম্মুখযুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধারা পেছনে ফিরতে শুরু করি। কামালপুরে মোট ১৮ বার আক্রমণ করা হয়। এরমধ্যে ১৪ বার আক্রমণে ছিলেন সৈয়দ সদরুজ্জামান। সেদিন যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৭ জন হতাহত হয়। [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ: ০৫-০৩-২০১২
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃষ্ঠা ৬২৯। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা (দ্বিতীয় খন্ড)। ঢাকা: প্রথমা প্রকাশন। মার্চ ২০১৩। পৃষ্ঠা পৃ ৩৩৭। আইএসবিএন 9789849025375 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]