আনোয়ার হোসেন (অভিনেতা)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আনোয়ার হোসেন
জন্ম ৬ নভেম্বর, ১৯৩১
জামালপুর, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৩(২০১৩-০৯-১৩) (৮১ বছর)
ঢাকা, বাংলাদেশ
সমাধি মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান
জাতীয়তা বাংলাদেশী
অন্য নাম আনু ভাই, মুকুটহীন নবাব
জাতিসত্তা বাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশী
পেশা অভিনেতা
কার্যকাল ১৯৫৮২০০৬
ধর্ম মুসলিম
দাম্পত্য সঙ্গী নাসিমা আনোয়ার
সন্তান ৪ (চার) ছেলে এবং ১ (এক) মেয়ে
পুরস্কার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
একুশে পদক (১৯৮৮)
বাচসাস পুরস্কার
পাকিস্তানের নিগার পুরস্কার
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার

আনোয়ার হোসেন (৬ নভেম্বর ১৯৩১ - ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩) বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা। তিনি চলচ্চিত্র ভুবনে নবাব সিরাজউদ্দৌলামুকুটহীন নবাব নামে খ্যাত।[১] তিনি ১৯৫৮ সালে চিত্রায়িত তোমার আমার চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে অভিনয় জীবনে প্রবেশ করেন। ঢাকার চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তী অভিনেতা ৫২ বছরের অভিনয় জীবনে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।[২]

১৯৭৫ সালে লাঠিয়াল ছবিতে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে প্রথমবারের মত আয়োজিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে একুশে পদক প্রদান করা হয় এবং অভিনেতাদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার লাভ করেন।[৩][৪]

জন্ম ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার সরুলিয়া গ্রামে।[৫] তার পিতার নাম নজির হোসেন ও মায়ের নাম সাঈদা খাতুন। নজির-সাঈদা দম্পতির তৃতীয় সন্তান আনোয়ার হোসেন। ১৯৫১ সালে তিনি জামালপুর স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরবর্তীতে ভর্তি হন ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে। স্কুল জীবনে প্রথম অভিনয় করেন আসকার ইবনে সাইকের পদক্ষেপ নাটকে। ১৯৫৭ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং নাসিমা খানমকে বিয়ে করেন।[৫]

অভিনয় জীবনে প্রবেশ[সম্পাদনা]

পরিচালক মহিউদ্দিনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুবাদে প্রথম পরিচয়েই আনোয়ার হোসেন তার অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করে তোমার আমার ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। বিডিনিউজ ২৪ ডট কম দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয় জীবনের শুরু কথা তিনি জানান।

“বালকবেলায় স্কুলের নাটকে অভিনয় করতে গিয়েই অভিনয়ের প্রতি আমার আসক্তি। এরপর তখনকার রূপালী জগৎের তারকা ছবি বিশ্বাস, কাননদেবী এদের বিভিন্ন ছবি দেখতে দেখতেই রূপালী জগৎে আসার ইচ্ছাটি প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে ওঠে। পঞ্চাশ দশকের শেষের দিকে সিদ্ধান্ত নিলাম অভিনয় করবো সারাজীবন। সুতরাং অন্য কোন জীবিকার সন্ধান না করে সরাসরি চলে গেলাম পরিচালক মহিউদ্দিন সাহেবের কাছে। তিনি তখন ‘মাটির পাহাড়’ নামের একটি ছবির কাজ করছেন। তাকে ধরলাম আমাকে নেওয়ার জন্য। তিনি জানালেন, ছবিতে অভিনয় শিল্পী নির্বাচনের কাজ শেষ। ফলে আমাকে নেওয়া যাচ্ছে না আপাতত। ৫৮ সালে শুরু করলেন ‘তোমার আমার’ ছবিটির কাজ। এখানে আমাকে নির্বাচন করা হলো খল-নায়কের চরিত্রে। আমার রূপালী পর্দায় অভিষেক হলো ‘বীরেন’ হিসেবে। এই ছবিতে আমার সহশিল্পী ছিলেন কাফী খান আর আমিনুল ইসলাম। এরা এখনও বেঁচে আছেন। আমাদের সমসাময়িকদের মধ্যে সম্ভবত একমাত্র আমরাই এখনো বেঁচে আছি।”[৬] ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পান তিনি।

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

আনোয়ার হোসেন অভিনীত নবাব সিরাজউদ্দোল্লাহ চলচ্চিত্র

সম্মাননা[সম্পাদনা]

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার[সম্পাদনা]

আনোয়ার হোসেন ১৯৭৫ সালে প্রথম প্রবর্তন ও প্রদানকৃত বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেতা। নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত লাঠিয়াল চলচ্চিত্রে তাঁর সুঅভিনয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার লাভ করেন। আমজাদ হোসেনের গোলাপী এখন ট্রেনেতে সহ-অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার পান ১৯৭৮ সালে। ২০১০ সালে প্রদানকৃত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-এ আজীবন সম্মাননায় ভুষিত হন তিনি।

অন্যান্য পুরস্কার[সম্পাদনা]

  1. পাকিস্তানের নিগার পুরস্কার - (১৯৬৭)
  2. একুশে পদক - (১৯৮৮)
  3. বাচসাস পুরস্কার
  4. ওয়ালটন-বৈশাখী স্টার অ্যাওয়ার্ড - (২০১১)

পরিবার[সম্পাদনা]

চার ছেলে ও স্ত্রী নাছিমা খানম।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "অভিনেতা আনোয়ার হোসেন আর নেই"। সংগৃহীত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  2. "এফডিসিতে আনোয়ার হোসেন"। সংগৃহীত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  3. Ittefaq, The Daily। "চলে গেলেন চলচ্চিত্রের নবাব সিরাজউদ্দৌলা :: দৈনিক ইত্তেফাক"archive.ittefaq.com.bd 
  4. ":: যায় যায় দিন ::"www.jjdin.com 
  5. "বাংলার শেষ নবাব আজ বড় একা"। সংগৃহীত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  6. আনোয়ার হোসেন : এক 'স্বাধীন নবাব' 
  7. "চলে গেলে কি হয়!"। সংগৃহীত ১১ অক্টোবর ২০১৩ 
  8. "অনন্ত ভালবাসা - বাংলা মুভি ডেটাবেজ"। সংগৃহীত ১১ অক্টোবর ২০১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]