চন্দনাঈশ উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
চন্দনাইশ
উপজেলা
চন্দনাইশ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
চন্দনাইশ
চন্দনাইশ
বাংলাদেশে চন্দনাঈশ উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°১২′৪০″উত্তর ৯২°০২′৩০″পূর্ব / ২২.২১১১° উত্তর ৯২.০৪১৭° পূর্ব / 22.2111; 92.0417স্থানাঙ্ক: ২২°১২′৪০″উত্তর ৯২°০২′৩০″পূর্ব / ২২.২১১১° উত্তর ৯২.০৪১৭° পূর্ব / 22.2111; 92.0417
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
জেলা চট্টগ্রাম জেলা
আয়তন
 • মোট ২০১.৯৯ কিমি (৭৭.৯৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট ১,৯২,৬০০
 • ঘনত্ব ৯৫০/কিমি (২৫০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড ৪৩৮০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

চন্দনাইশ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

চন্দনাইশ উপজেলার আয়তন ২০১.৯৯ বর্গ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম জেলার দক্ষিণাংশে ২২°০২´ থেকে ২২°০৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৪৯´ থেকে ৯২°০৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে চন্দনাইশ উপজেলার অবস্থান। এ উপজেলার উত্তরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলাপটিয়া উপজেলা; পশ্চিমে পটিয়া উপজেলা, আনোয়ারা উপজেলাসাতকানিয়া উপজেলা; দক্ষিণে সাতকানিয়া উপজেলা এবং পূর্বে সাতকানিয়া উপজেলাবান্দরবান জেলার বান্দরবান সদর উপজেলা অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

১৯৭৬ সালে চন্দনাইশ থানা গঠিত হয় এবং এ থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালেে ২ জুলাই।

৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার সমন্বয়ে চন্দনাইশ উপজেলা গঠিত।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি[সম্পাদনা]

  • উপজেলা চেয়ারম্যান: আবদুল জব্বার চৌধুরী
  • ভাইস চেয়ারম্যান: মাওলানা মুহাম্মদ সোলায়মান
  • মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান: শাহানাজ বেগম

সংসদীয় আসন[সম্পাদনা]

এটি জাতীয় সংসদের ২৯১ চট্টগ্রাম-১৪ এলাকা, যা চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া, কালিয়াইশ, বাজালিয়া, ধর্মপুর, পুরাণগড়খাগরিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

চন্দনাইশ ছিল পটিয়া উপজেলার একটি অংশ। ১৯৭৬ সালে পটিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে চন্দনাইশ থানার সৃষ্টি করা হয়। ১৯৮৩ সালে চন্দনাইশ থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে নানান ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার মত গুনিজন উপহার দিয়েছে চন্দনাইশ। কথিত আছে চন্দন কাঠ থেকে চন্দনাইশ নামকরণ হয়েছে। চন্দনাইশের কোল ঘেঁষে চলা সাঙ্গু নদীতে প্রতিবছর ঈদের সময় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা হত। এখনো সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হয় মাঝে মাঝে।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চন্দনাইশ উপজেলার লোকসংখ্যা ১,৯২,৬০০ জন।

  • পুরুষ : ৯৮,২৭০ জন
  • মহিলা : ৯৪,৩৩০ জন

মোট জনসংখ্যার ৮৪% মুসলিম, ১৩% হিন্দু এবং ৩% বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

চন্দনাইশ উপজেলার শিক্ষিতের হার ৫৬.৫০%। এখানকার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলোঃ বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ, গাছবাড়িয়া সরকারী কলেজ

স্বাস্থ্যকেন্দ্র[সম্পাদনা]

চন্দনাইশ উপজেলায় ১টি হাসপাতাল, ২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১০টি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ও ১০টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

চন্দনাইশ উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। সব ধরণের যানবাহনে যোগাযোগ করা যায়। এছাড়া এ উপজেলায় রয়েছে ৯১ কিলোমিটার পাকারাস্তা, ৪৫০ কিলোমিটার আধা-পাকারাস্তা, ৭০০ কিলোমিটার কাঁচারাস্তা।

এ উপজেলায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে। মোট রেলস্টেশন ৩টি:

  • দোহাজারী
  • হাশিমপুর
  • গাছবাড়ীয়া খানহাট

ধর্মীয় উপাসনালয়[সম্পাদনা]

চন্দনাইশ উপজেলায় ২৭৫টি মসজিদ, ৭০টি মন্দির ও ১১টি প্যাগোডা রয়েছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য রপ্তানী দ্রব্য: রেলওয়ে স্লিপার, কাঠের ফার্নিচার, পেয়ারা ও লেবু। [১] চন্দনাইশের হাশিমপুর ও কাঞ্চননগর গ্রামে রয়েছে প্রায় ২ হাজার পেয়ারা বাগান। এসব বাগানে প্রতিবছর উৎপাদিত হচ্ছে লাখ লাখ টাকার পেয়ারা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের বাদামতল, গাছবাড়িয়া, বাগিচা হাট ও রৌশন হাটে প্রতিদিন সকালে পেয়ারার হাট বসে। [২]

নদ-নদী[সম্পাদনা]

চন্দনাইশ উপজেলার দক্ষিণাংশে সর্পিলাকারে বয়ে চলেছে সাঙ্গু নদী

হাটবাজার ও মেলা[সম্পাদনা]

চন্দনাইশ উপজেলায় মোট হাটবাজার ১৪টি।

উল্লেখযোগ্য হাটবাজার ও মেলা[সম্পাদনা]

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • বেগম গুলচেমনারা ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি লেক ও বিজিসি বিদ্যানগর এলাকা
  • চাগাচর খান মসজিদ
  • দোহাজারী
  • খান দীঘি
  • খান জামে মসজিদ
  • বাগিচাহাট
  • জামিরজুরী বধ্যভূমি
  • হাজারী দীঘি
  • সাতবাড়ীয়া শান্তি বিহার
  • ঠাকুর দীঘি, বরমা
  • শাহ মাহছুম ফকিরের মাজার শরীফের পুকুরের গদালী
  • নবরত্ন বিহার (সাতবাড়িয়া)
  • বুড়ি কালি মন্দির (বরমা)

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিক ঘটনা[সম্পাদনা]

১৬৬৬ সালে মোগলবাহিনী উত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল দখল করে। পরে মোর্তজা খাঁর নেতৃত্বে মোগলবাহিনী কর্ণফুলি নদী পার হয়ে শঙ্খ নদীর উত্তর তীরে এসে অবস্থান নেয়। আধু খাঁ, লক্ষ্মণ সিংহ ও দু’জন হাজারী মনসবদারকে সেখানকার সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কথিত আছে যে, এ দুজন হাজারী মনসবদারের নামানুসারে এখানকার নাম হয় দোহাজারী। পরবর্তীতে দোহাজারীতে দু’টি দুর্গ নির্মিত হয়। ব্রিটিশরা দোহাজারীতে একটি বিমান ঘাঁটি নির্মাণ করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে দোহাজারীতে পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধে পাকবাহিনীর পরাজয় ঘটে। যুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম শহর থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র দোহাজারীতে স্থানান্তর করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন[সম্পাদনা]

  • বধ্যভূমি: ২টি

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]