পেয়ারা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

পেয়ারা
Guavas
Psidium guajava fruit2.jpg
Apple Guava (Psidium guajava)
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Plantae
বিভাগ: Magnoliophyta
শ্রেণী: Magnoliopsida
উপশ্রেণী: Rosidae
বর্গ: Myrtales
পরিবার: Myrtaceae
উপপরিবার: Myrtoideae
গোত্র: Myrteae
গণ: Psidium
L.
Species

About 100, see text

প্রতিশব্দ

Calyptropsidium O.Berg
Corynemyrtus (Kiaersk.) Mattos
Guajava Mill.
Mitropsidium Burret[১]

পেয়ারা(বৈজ্ঞানিক নাম:Psidium guajava),এরা Myrteae পরিবারের সদস্য। একরকমের সবুজ রঙের বেরী জাতীয় ফল । তবে অন্যান্য বর্ণের পেয়ারাও দেখতে পাওয়া যায়। লাল পেয়ারাকে (Marroonguava) রেড আপেলও বলা হয়। পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নাম Psidiun guajava । পেয়ারার প্রায় ১০০টিরও বেশি প্রজাতি আছে। মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রভৃতি স্থানে পেয়ারা বেশি জন্মে। অনুমান করা হয় ১৭শ শতাব্দীতে পেয়ারা আসে। এটি একটি পুষ্টিকর ফল। এটি ভিটামিন সি, ক্যারোটিনয়েডস, ফোলেট, পটাশিয়াম, আঁশ এবং ক্যালসিয়াম প্রভৃতিতে সমৃদ্ধ। একশ’ গ্রাম পেয়ারায় দুইশ’ মি.গ্রা. ভিটামনি সি আছে অর্থাৎ পেয়ারায় কমলার চেয়ে ৪গুণ বেশি ভিটামিন সি আছে। পেয়ারার খোসায় কমলায় চেয়ে পাঁচগুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে। এই ফলে লৌহ উপাদানও পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান। পুষ্টিমানের বিবেচনায় কমলার মান যেখানে ১৮৬ পয়েন্ট সেক্ষেত্রে পেয়ারার পুষ্টি মূল্যমান ৪২১ পয়েন্ট। পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধক। ১০০ গ্রাম পেয়ারায় পানি ৮৬.১০ গ্রাম, শক্তি ৫১ কি.ক্যালোরী, প্রোটিন ০.৮২ গ্রাম, আঁশ ৫.৪ গ্রা. ফসফরাস ২৫ মি.গ্রা. সোডিয়াম ৩ মি.গ্রা. ভিটামিন এ ৭৯২ আই ইউ থাকে। তদুপরি পেয়ারাতে ম্যাঙ্গানিজ, সেলিনিয়াম, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩ ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ ও ভিটামিন থাকে। রোগ প্রতিরোধে পেয়ারার অনেক গুণ রয়েছে। পেয়ারার বীজে ওমেগা-৩ওমেগা-৬ পলিআন-সেচুরেটেড ফ্যাটি এসিড ও আঁশ বিদ্যমান। পেয়ারা পাতার রস ক্যান্সার প্রতিরোধী এবং সংক্রমণ, প্রদাহ, ব্যথা জ্বর, বহুমূত্র, আমাশয় প্রভৃতি রোগে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। [২]

বৈশিষ্ট্য ও চাষ পদ্ধতি[সম্পাদনা]

পেয়ারা একটি দ্বিবীজপত্রী বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। পেয়ারার সরল পত্রগুলির প্রান্ত অখণ্ড, পত্রাগ্র ভোঁতা ও পুষ্প উভলিঙ্গ । পুষ্পে পাঁচটি দল ও পাঁচটি বৃত্যংশ বর্তমান। ফল মিষ্টস্বাদ ও বীজপূর্ণ। উন্নত জাতের পেয়ারায় বীজের পরিমাণ কম থাকে। উত্তর প্রদেশে সফেদা আর চিত্তিদার অত্যন্ত জনপ্রিয় । সফেদা গোলাকার, খোসা মোলায়েম এবং শাঁস সাদা ও মিষ্ট। বিহারে সফেদা, হরিঝা ও হাবসী জনপ্রিয়। হাবসীর শাঁস লাল এবং মিষ্টত্বে একটু কম হলেও অনেকের কাছেই এর স্বাদ বেশ পছন্দের। শীত ও উষ্ণ উভয় অঞ্চলেই পেয়ারা জন্মায়। পেয়ারা অত্যন্ত কষ্ট সহিষ্ণু উদ্ভিদ। এ অন্য ফসলের চেয়ে অনেক বেশি খরা সহ্য করতে পারে । কখনও কখনও বিনা সেচেই জীবীতবান থাকে। বীজ অথবা গুটিওকলমের চারা বর্ষার শুরুতে আষাঢ়-শ্রাবণে বসানো যায়। গুটিকলম সবচেয়ে উপযোগী এবং বাংলাদেশে এর বিপুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। ১×১×১ হাত গর্তে ১৫-১৬ হাত অন্তর ভালো জাতের এক বছর বয়সের কলম রোপণ করা যায়। দু-তিন বছরেই গাছে ফুল-ফল জন্মায়। বছরে দু-বার বসন্ত ও বর্ষাকালে ফুল ধরে; বসন্তের ফুলের ফল পাকে বর্ষায় আর বর্ষার ফুলের ফল পাকে শীতে। শীতের ফলই গুণমানে উৎকৃষ্ট আর বাজারদর ভালো থাকায় চাষীদের কাছে তা বেশ লাভজনক। তাই অনেক সময় চাষীরা বসন্তের ফুলে সেচ বন্ধ করে ঝরিয়ে দিয়ে থাকেন। এবং কেবল শীতেই ফল পাকতে দেন। তবে পেয়ারা চাষের প্রধান অন্তরায় এর ডগা শুকানো রোগ। এই রোগ একবার জমিতে এলে একে একে গাছগুলি শুকিয়ে যেতে থাকে। আক্রান্ত গাছগুলি সম্পূর্ণরূপে তুলে পুড়িয়ে ফেললে তবে পার্শ্ববর্তী গাছগুলিতে এর সংক্রমণ প্রবণতা কমে।[৩]

পুষ্টিগুণ[সম্পাদনা]

Guavas, common
প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) পুষ্টিগত মান
শক্তি২৮৫ কিজু (৬৮ kcal)
14.32 g
চিনি8.92 g
খাদ্যে ফাইবার5.4 g
0.95 g
2.55 g
ভিটামিনসমূহ
ভিটামিন এ সমতুল্য
(4%)
31 μg
(3%)
374 μg
থায়ামিন (বি)
(6%)
0.067 mg
রিবোফ্লাভিন (বি)
(3%)
0.04 mg
ন্যায়েসেন (বি)
(7%)
1.084 mg
(9%)
0.451 mg
ভিটামিন বি
(8%)
0.11 mg
ফোলেট (বি)
(12%)
49 μg
ভিটামিন সি
(275%)
228.3 mg
ভিটামিন কে
(2%)
2.2 μg
চিহ্ন ধাতুসমুহ
ক্যালসিয়াম
(2%)
18 mg
লোহা
(2%)
0.26 mg
ম্যাগনেসিয়াম
(6%)
22 mg
ম্যাঙ্গানিজ
(7%)
0.15 mg
ফসফরাস
(6%)
40 mg
পটাশিয়াম
(9%)
417 mg
সোডিয়াম
(0%)
2 mg
দস্তা
(2%)
0.23 mg
অন্যান্য উপাদানসমূহ
Lycopene5204 µg

Percentages are roughly approximated using US recommendations for adults.
Source: USDA Nutrient Database

পেয়ারাতে পাওয়া যায় ভিটামিন সি। আর ভিটামিন সি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া যে কোন ইনফেকশন থেকে পেয়ারা শরীরকে সুস্থ রাখে।

  • লাইকোপেন(Lycopene), কোয়ারকেটিন(Quercetin), ভিটামিন সি এবং আরো কিছু পলিফেনল আছে যা কিনা শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে আর এই এন্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুকি কমায়। বিশেষ করে প্রোস্টেট ক্যান্সার কমাতে অনেক সাহায্য করে পেয়ারা। আর সেই সাথে পেয়ারা খেলে মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
  • পেয়ারাতে ফাইবার এবং কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকার কারণে এটি খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে আর তাই ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুকি কিছুটা কম থাকে।
  • পেয়ারা শরীরের সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম এর ব্যালান্স বাড়ায়,যা কিনা ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করে যাদের উচচ রক্তচাপ আছে। পেয়ারা ট্রাইগ্লিসারাইড এবং LDL নামক একটি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় যার ফলে হার্টের অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।রক্তে চর্বি কম জমে এর ফলে। একই সাথে এই পেয়ারা HDL নামক একটি কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় যা কিনা হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
  • পেয়ারা একটি ফাইবার জাতীয় ফল আর তাই এটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় আর তাই কারো ঠিকমত পায়খানা না হলে পেয়ারা খেয়েই করতে পারেন আপনার সমস্যার সমাধান।
  • পেয়ারাতে ভিটামিন এ আছে আর যার কারণে এটি খেলে এটি আমাদের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া এটি খেলে চোখের ছানি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়।
  • পেয়ারাতে আছে ফলিক এসিড আর ফলিক এসিড একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই প্রয়োজন।সব গর্ভবতীদেরই ডাক্তাররা ফলিক এসিড দিয়ে থাকেন কারণ এটি বাচচার নার্ভাস সিস্টেমকে উন্নত করে। আর সেই সাথে এটি বাচচাদের নিউরোলোজিক ডিজঅর্ডার থেকে দুরে রাখে।
  • পেয়ারাতে আছে প্রচুর ভিটামিন সি এবং সাথে আয়রন যার কারণে এটি কফ দূরীকরণে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। কারো যদি কফ জমে যায় গলায় তাহলে সেক্ষেত্রে পেয়ারা খুব ভাল ওষুধ।
  • পেয়ারার পাতায় আছে এন্টি-ইনফ্লামেটরি গুণ এবং খুব শক্তিশালি এন্টিব্যাক্টেরিয়াল ক্ষমতা আছে যা কিনা ইনফেকশনের সাথে যুদ্ধ করে এবং জীবানূ ধবংস করে। আর তাই পেয়ারার পাতা দাত ব্যথার জন্য খুব ভাল একটি ওষুধ,যা কিনা আপনি ঘরে বসেই দূর করতে পারবেন।
  • পেয়ারাতে ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারণে এটি মাংশপেশিকে এবং নার্ভকে রিলাক্স রাখতে সাহায্য করে।আর তাই অনেক কাজ শেষে অথবা অনেকে স্ট্রেস নেয়ার পর একটি পেয়ারা খেয়েই আপনি আপনার এনার্জি লেভেলকে পারেন বাড়াতে ।
  • পেয়ারাতে পাওয়া যায় ভিটামিন বি৩ এবং ভিটামিন বি৬ যা কিনা ব্রেনের রক্ত সঞ্চালনকে ভাল রাখতে সাহায্য করে।
  • অনেকেরই মুখের ভেতর সাদা দাগের মত একটি আলসার দেখা যায় আর এটি হয়ে থাকে ভিটামিন সি এর অভাবে, তাই পেয়ারা খেলে এটি হওয়া অনেকটা কমে যায়।
  • পেয়ারাতে গ্লুকোজের পরিমাণ কম থাকে আর তাই ওজন কমানোতে এটি বেশ ভাল একটি প্রতিষেধক।
  • পেয়ারা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সাথে লড়াই করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Psidium"Germplasm Resources Information Network। United States Department of Agriculture। ২০০৯-০১-২৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৩-০৩ 
  2. পেয়ারার পুষ্টিগুণ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. W B. Hays, Fruit Growing in India, Allahabad, 1953;

চিত্রমালা[সম্পাদনা]