লেবু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

লেবু
Citrus x limon - Köhler–s Medizinal-Pflanzen-041.jpg
Citrus limon
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Plantae
(শ্রেণীবিহীন): Angiosperms
(শ্রেণীবিহীন): Eudicots
(শ্রেণীবিহীন): Rosids
বর্গ: Sapindales
পরিবার: Rutaceae
গণ: Citrus
প্রজাতি: C. limon
দ্বিপদী নাম
Citrus limon
(L.) Burm.f.
2012lemon and lime.png
Lemon and Lime output in 2012
13-09-01-kochtreffen-wien-RalfR-02.jpg

লেবু হল সাইট্রাস লিমন (Citrus limon) সাধারণ নাম। বংশবৃদ্ধিকারী টিস্যু আবৃতবীজী লেবুর বীজকে ঘিরে রাখে। লেবু রান্না করে বা রান্না না করে - উভয়ভাবেই খাওয়া হয়। ফলের কদর মূলত রসের জন্যেই , যদিও এর শাঁস ও খোসাও ব্যবহৃত হয়, প্রধানত রান্নাবেকারির কাজে। লেবুর রসে প্রায় ৫ শতাংশ (প্রতি লিটারে ০.৩ মোলের কাছাকাছি) সাইট্রিক এসিড থাকে যার কারণে এর স্বাদ টক হয় এবং pH ২-৩ হয়।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

Lemon-Whole-Split.jpg

লেবুর উৎপত্তি অজানা, যদিও লেবুগুলি প্রথম আসামে (উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি অঞ্চল), উত্তর বার্মা বা চীনে জন্মেছিল বলে ধারণা করা হয়।[২] লেবুর জিনোমিক গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে এটি তিক্ত কমলা (টক কমলা) এবং সিট্রনের মধ্যে একটি সংকর।[৩][৪]

লেবুর গুণাবলী ও ব্যবহার[সম্পাদনা]

লেবুর অনেক গুণ। লেবুর শরবত একটি আদর্শ স্বাস্থ্যসম্মত পানীয়। মাত্র একটি মাঝারি আকৃতির লেবু থেকে চল্লিশ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড পাওয়া যা একজন মানুষের দৈনিক চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট। ভিটামিন ‘সি’ দেহের রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে বা ক্ষত হলে দ্রুতগতিতে কোলাজেন কোষ উপাদান তৈরি করে ক্ষত নিরাময়েও সাহায্য করে এই ভিটামিন ‘সি’। লেবুতে পর্যাপ্ত পরিমাণ সাইট্রিক এসিড বিদ্যমান যা ক্যালসিয়াম নির্গমন হ্রাস করে পাথুরী রোগ প্রতিহত করতে পারে। লেবুর খোসার ভেতরের অংশে () ‘রুটিন’ নামের বিশেষ ফ্ল্যাভানয়েড উপাদান আছে যা শিরা এবং রক্তজালিকার প্রাচীরকে যথেষ্ট শক্তিশালী এবং সুরক্ষা দেয়। ফলে স্বভাবতই হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। লেবুর অন্যান্য ব্যবহারও কম নয়। রান্নায় বা আহারে লেবুর ব্যবহার বিজ্ঞানসম্মতভাবেই স্বাস্থ্যপ্রদ। ত্বক বা রূপচর্চায় লেবুর ব্যবহার ঐতিহ্যগত ভাবেই সুপ্রচলিত। বয়সজনিত মুখের স্পট বা দাগ সারাতে লেবুর রস যথেষ্ট কার্যকরী। লেবুর রস ব্যবহারে মুখের ব্রণও দ্রুত সারে। বাজারের ভেজাল মিশ্রিত পানীয় না খেয়ে টাটকা লেবুর রসের সাথে সামান্য চিনি বা মধু মিশিয়ে লেমোনেড তৈরি করা হয় যা একই সাথে তৃষ্ণা মেটায়।[৫]

গলার খুশখুশ নির্মল করতেঃ[সম্পাদনা]

১/৮ গ্লাস হাল্কা গরম পানিতে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে গরগরা করলে গলার ভেতরের ব্যাকটেরিয়া মরে যাবে। অথবা গরম চা-তে ১ টেবিল চামচ করে মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে খেলে কাজে দিবে।

দাঁত সাদা করে তুলতেঃ[সম্পাদনা]

১ চামচ লেবুর রসের সাথে ১ চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে এই মিশ্রণ দিয়ে দাঁত মেজে ৫-১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

লেবুর খোসা[সম্পাদনা]

লেবুর খোসায় রয়েছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, পেকটিন, ফাইবার এবং মিনারেলস। লেবুর রসের এসব উপাদান শরীরের নিরাময় এবং আরোগ্যে কাজ করে। লেবুর খোসা বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমায়। এর মধ্যে পটাশিয়াম থাকার কারণে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে। লেবুর খোসায় থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। ঠান্ডা, ফ্লু এবং গলার ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে। লেবুর খোসার মধ্যে উপস্থিত ফাইবার বা আঁশ অন্ত্রকে পরিষ্কার রাখে এবং বাউয়েল মুভমেন্ট ভালো করে। এটি হজমে সাহায্য করে এবং পেট ফোলাভাব রোধেও সহায়তা করে। লেবুর খোসা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এর মধ্যে যে পেকটিন রয়েছে তা অন্ত্রের শর্করা শোষণ করতে সাহায্য করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্যও লেবুর খোসা বেশ ভালো। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিপাকে সাহায্য করে। এটি হাড়ের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। শরীরের দৈনিক ভিটামিন সি-এর চাহিদার ৩০ শতাংশ লেবু পূরণ করতে পারে। ভিটামিন সি-এর আছে নিরাময় ক্ষমতা। এটি প্রোটিনের বাঁধনে সাহায্য করে, যা টেনডনস, লিগামেন্ট এবং ত্বকের জন্য ভালো। লেবুর খোসা কালো দাগ, বলি রেখা, বার্ধক্যের ছাপ দূর করতে সাহায্য করে। [৬]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

কাঁচা সবুজ লেবু
গাছে ঝুলে আছে লেবু।
কয়েকটি লেবু, ঢাকা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Ohio State University Research, March 3, 2008 Study is published in the March 2008 issue of the journal Psychoneuroendocrinology
  2. Julia F. Morton (১৯৮৭)। "Lemon in Fruits of Warm Climates"। Purdue University। পৃষ্ঠা 160–168। 
  3. Gulsen, O.; M. L. Roose (২০০১)। "Lemons: Diversity and Relationships with Selected Citrus Genotypes as Measured with Nuclear Genome Markers"। Journal of the American Society of Horticultural Science126: 309–317। 
  4. Genetic origin of cultivated citrus determined: Researchers find evidence of origins of orange, lime, lemon, grapefruit, other citrus species", Science Daily, January 26, 2011 (Retrieved February 10, 2017).
  5. M. Hofrichter (2010). Industrial Applications. Springer. p. 224. আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৬৪২-১১৪৫৮-৮.
  6. লাইফস্টাইল ওয়েবসাইট বোল্ড স্কাই

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]