রাবণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাবণ, ১৯২০ সালে অজ্ঞাতনামা শিল্পী অঙ্কিত জলরঙ চিত্র

রাবণ ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণের অন্যতম প্রধান চরিত্র ও প্রধান খলনায়ক। তিনি মহাকাব্য ও পুরাণে বর্ণিত লঙ্কা (বর্তমানে শ্রীলঙ্কা) দ্বীপের রাজা। রামচন্দ্রের পত্নী সীতাকে হরণ করে তিনি লঙ্কায় নিয়ে যান। সীতার উদ্ধারকল্পে কিষ্কিন্ধ্যার বানরসেনার সাহায্যে রামচন্দ্র লঙ্কা আক্রমণ করলে রাবণের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ হয়। এই ঘটনা রামায়ণ মহাকাব্যের মূল উপজীব্য। রামায়ণের উত্তরকাণ্ডে তাঁর পূর্বজীবনের কথা বলা হয়েছে।

রাবণের প্রকৃত নাম দশগ্রীব। তার রাবণ নামটি শিবের দেওয়া। জনপ্রিয় শিল্পে তার দশটি মাথা, দশটি হাত ও দশটি পা দর্শিত হয়। মহাকাব্যে কামুক ও ধর্ষকামী বলে নিন্দিত হলেও রাবণকে মহাজ্ঞানী ও তাপসও বলা হয়েছে। উত্তর ভারতে দশেরা উৎসবে রাবণের কুশপুত্তলিকা দাহ আজও এক জনপ্রিয় প্রথা। রাবণ আদি যুগে সর্বপ্রথম মর্তে উড়ন্ত যান পুষ্পক রথ ব্যবহার করেন।

রাবণের জীবনী[সম্পাদনা]

মহর্ষি পুলস্তের পুত্র বিশ্রবাঃ ছিলেন এক ব্রহ্মর্ষি। দৈত্যরাজকন্যা পুষ্পৎকটার রূপে মুগ্ধ হয়ে মহর্ষি তাকে দশদিন ধরে সম্ভোগ করেন। এর ফলে মহর্ষির ঔরসে পুষ্পৎকটার গর্ভে দশপুত্রের তুল্য দশানন রাবণের জন্ম হয়। যখন বিশ্রবাঃ জানতে পারেন এই পুত্র রাক্ষস হবে তখন সে পুষ্পৎকটার গর্ভে পুনরায় দুই পুত্র উৎপন্ন করেন। এরা বিভীষণ ও কুম্ভকর্ণ। রাবণ শিবের ভক্ত ছিলেন ও শিবতান্ডব স্তোত্র রচনা করেন। ব্রহ্মার বরে ইনি মানুষ ভিন্ন আর কারুর হাতে অবধ্য ছিলেন। ভক্ত ও ব্রহ্মজ্ঞানী হলেও ইনি অহংকারী ছিলেন। সৎভাই কুবেরের পুত্রবধূ অপ্সরী রম্ভাকে ইনি বলপূর্বক ধর্ষণ করেন। এর গর্ভেই রাবণের ঔরসে সীতার জন্ম হয়।( অদ্ভুত রামায়ণ)। রাবণ দ্রাবিড়ের রাজকন্যা মন্দদরী কে হরণ করেন। রাবণের সহবাসে মন্দদরী গর্ভবতী হন। এদের মিলনের ফলে রাবণের ঔরসে মন্দদরীর গর্ভে অক্ষয়কুমার ও মেঘনাদের জন্ম হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]