শ্রীলঙ্কার ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
টলেমির সিংহলের মানচিত্র (১৪৮২)

শ্রীলঙ্কার ইতিহাস অখন্ড ভারত এবং এর আশেপাশের অঞ্চল (দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারত মহাসাগর) এর ইতিহাসের সাথে জড়িত।

লংকা দ্বীপে (শ্রীলঙ্কা) আজ থেকে আনুমানিক ৩৮ হাজার বছর পূর্বের প্রাচীন মানব দেহাবশেষ (বালানগোদা মানব) এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। মহাবংশ, দ্বীপবংশ, চোলাবংশ এর পালি ইতিহাস অনুসারে তৃতীয় শতাব্দীর শুরুতে শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক কালের সুচনা হয়। তাঁদের বর্ণনা থেকে উত্তর ভারত থেকে সিংহলিদের আগমন এর ইতিহাস সম্পর্কে জনতে পারা যায়। দ্বীপে বসতি স্থাপনের প্রথম দিকের দলিল গুলি এই ইতিহাস গুলিতে পাওয়া যায়।খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে সিংহলের প্রাচীনতম পূর্বপুরুষদের দ্বারা তাম্বাপানি রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীতে অনুরাধাপুর এর প্রথম শ্রীলঙ্কান রাজা পান্দুকাভয় এর উল্লেখ পাওয়া যায়। সম্রাট আশোক এর পুত্র আরহথ মাহিন্দার হাত ধরে খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে বৌদ্ধধর্ম শ্রীলঙ্কায় প্রসার লাভ করে। খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে প্রথম তামিল রাজা এল্লান/ইল্লান (এলারা/ইলারা) অনুরাধাপুর দখল করে।

পরবর্তী শতাব্দী জুড়ে লংকা দ্বীপ অসংখ্য রাজ্যে বিভক্ত ছিল। যদিও (৯৯৩ খ্রিঃ - ১০৭৭ খ্রিঃ) চোলা শাসনামলে রাজ্যগুলি একত্রিত অবস্থায় ছিল। এসময় অনুরাধাপুর থেকে কান্দি পর্যন্ত লঙ্কায় ১৮১ জন রাজা রাজত্ব করেছিলেন। ষোড়শ শতাব্দী থেকে এই দীপের কিছু উপকূলীয় এলাকা পর্তুগিজ , ডাচ এবং ব্রিটিশদের দখলে ছিল। ১৫৯৭ থেকে ১৬৫৮ সাল পর্যন্ত দ্বীপের একটি বড় অংশ পর্তুগিজদের দখলে ছিল। 'আশি বছর' এর যুদ্ধে পর্তুগিজরা ডাচদের কাছে তাঁদের সিলোনে অধিকৃত অঞ্চল হারায়। কান্দিয়ান যুদ্ধের পরে, ১৮১৫ সালে এই দ্বীপটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে একত্রিত হয়েছিল। ১৮১৮ 'উভা বিদ্রোহ' এবং ১৮৪৮ 'মাতালে বিদ্রোহে' ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। অবশেষে ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল কিন্তু ১৯৭২ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আধিপত্য বজায় ছিল।

১৯৭২ সালে শ্রীলঙ্কা একটি প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্নপ্রকাশ লাভ করে। ১৯৭৮ সালে সংবিধান প্রনয়ন করা হয় যা কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি কে রাষ্ট্রপ্রধান এর মর্যাদা প্রদান করে। ১৯৭১,১৯৮৭ -১৯৮৯ সালের 'সশস্ত্র যুবক অভ্যুত্থান' সহ শ্রীলঙ্কায় সুচনা হওয়া গৃহযুদ্ধ ১৯৮৩ হতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ২৫ বছর ব্যাপি স্থায়ী ছিল।

প্রাগৈতিহাসিক[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কায় মানব উপনিবেশের প্রমাণ বালানগোদার সাইটে উপস্থিত হয়েছে। বালাগোদা মানব গোষ্ঠি আনুমানিক ১২৫ হাজার বছর পূর্বে এই দ্বীপে বসতি স্থাপন করে এবং তারা গুহায় বসবাসকারী মেসোলিথিক শিকারী-সংগ্রহকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এ দ্বীপের প্রচীন বেশ কিছু গুহার মধ্য থেকে সুপরিচিত কিছু গুহা যেমন বাতাডোম্বালেনা এবং ফা হিয়েন গুহায় থেকে তাঁদের ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়, যা এটা প্রমান করে যে তারাই এখন পর্যন্ত পাওয়া এই দ্বীপে বসবাসকারী আদি বাসিন্দা।

বালানগোদা মানব সম্ভবত খেলাধুলা করার জন্য গাছ পালা পুড়িয়ে হর

শ্রীলঙ্কার ইতিহাস শুরু আজ থেকে ৩০,০০০ বছর আগে যখন প্রথম এই দ্বীপে জনবসতি স্থাপিত হয়। মহাবংশ(পালি:মহাবংস), দীপবংশ(পালি:দীপবংস), কুলবংশ এবং রাজাভেলিয়া সহ বিভিন্ন ঘটনাপঞ্জিতে ৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের সিংহলী রাজতন্ত্র থেকে শুরু করে, ১৬ শতকে ইউরোপীয়ান ঔপনিবেশিক শক্তির আগমন এবং ১৮১৫ সালে রাজতন্ত্রের অবসায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাবলীর উল্লেখ আছে।

শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক কাল শুরু হয় তৃতীয় শতাব্দীতে। উত্তর ভারত থেকে সিংহলিদের আগমনের কথা পালি ইতিহাসে রয়েছে। [১][২][৩][৪]

ক্যান্ডিয়ান শাসনামল (১৫৯৪-১৮১৫)[সম্পাদনা]

পর্তুগীজরা শ্রীলঙ্কা আক্রমণ করে। এসময় কণাপ্পু বান্ডারা (রাজা বিমালাধর্মসুরিয়া) খুব দক্ষতার সাথে তাদেরকে পরাজিত করে। এবং তিনিই হন ক্যান্ডি সাম্রাজ্যের প্রথম রাজা। তিনি পবিত্র টুথ রেলিক নামে একটি মন্দির নির্মাণ করেন। ১৪৩২ সালে ক্যান্ডি বংশের শেষ রাজা শ্রী বিক্রম রাজাসিনহা মৃত্যুবরণ করেন। তার মাধ্যমেই ক্যান্ডি সাম্রাজ্যের ইতি ঘটে।[৫]

ঐপনিবেশিক শ্রীলঙ্কা (১৮১৫-১৯৪৮)[সম্পাদনা]

উনবিংশ শতাব্দীর সিলনের মানচিত্র

নেপোলিয়নের যুদ্ধগুলোর সময় শ্রীলঙ্কার কিছু অংশ ডাচদের অধীনে ছিল। এসময় ব্রিটীশরা ভয় পাচ্ছিল ডাচরা এই দখলকৃত অংশ (তখন এটাকে ডাচরা সিলন বলতো) ফরাসীদের দিয়ে দিতে পারে। তবে ১৮০২ সালে এমিয়েন চুক্তির ফলে ডাচরা তাদের দখলকৃত জায়গা ব্রিটিশদের হাতে তুলে দেয়। এবং এটি একটি ঐপনিবেশিক এলাকা হিসেবে গড়ে ওঠে। ১৮০৩ সালে, ব্রিটিশরা ক্যান্ডি সাম্রাজ্যকে আক্রমণ করে। এটি ইতিহাসে প্রথম ক্যান্ডিয়ান যুদ্ধ নামে পরিচিত। কিন্তু এখানে ব্রিটিশরা পরাজিত হয়। ১৮১৫ সালে, পুনরায় ব্রিটিশরা ক্যান্ডি সাম্রাজ্যকে আক্রমণ করে। এই দ্বিতীয় ক্যান্ডিয়ান যুদ্ধে ক্যান্ডিয়ানরা পরাজিত হয়। এবং ব্রিটিশরা পুরো দ্বীপের দখল নিয়ে নেয়। এভাবেই শ্রীলঙ্কা তার স্বাধীনতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে।

উভা বিদ্রোহ দমনের পর, ব্রিটিশরা ক্যান্ডিয়ান কৃষকদের থেকে তাদের জমিগুলো কেড়ে নিয়েছিল একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে। যা অধ্যাদেশ নং ১২, ১৮৪০ নামে পরিচিত।[৬] এরপর ব্রিটিশরা খেয়াল করলো শ্রীলঙ্কার উঁচু জমিগুলো চা, কফি এবং রাবার চাষ করার জন্য উপযুক্ত। উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সিলনের চা ব্রিটিশ বাজারে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠলো। যারা চা চাষ করতো তারা দক্ষিণ ভারত থেকে অনেক তামিল চা শ্রমিক আমদানি করলো। তবে তাদেরকে অনেক খাটানো হতো। অনেকটা প্রাচীন দাসপ্রথার মতো। গরুর খামারের মতো সারিবদ্ধ কক্ষে তাদেরকে বাস করতে হতো। তারা সংখ্যায় এতো বেশি ছিল যে পুরো দ্বীপের জনসংখ্যার ১০% ছিল তারা।

ব্রিটিশরা আধা-ইউরোপীয় বুর্গ, কিছু উচ্চবংশীয় সিংহলী ও তামিলদের আস্থাভাজন ছিল। যারা দ্বীপটির উত্তর দিকে বসবাস করতো। যারা গণতান্ত্রিক ভাবধারা পছন্দ করতো না। তবুও, ব্রিটিশরা প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কায় গণতন্ত্রের গোড়াপত্তন ঘটায়। ১৮৩৩ সালে বুর্গদের নিজেদের এলাকা অনুসারে শাসন করার সুযোগ করে দেয়। ১৯০৯ সালে সংবিধান লেখা হয়, রাজনৈতিক দলগুলো গড়ে ওঠে। ১৯৩১ সালে ব্রিট্রিশরা শ্রীলঙ্কার সব মানুষকে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রদান করে। কিন্তু সিংহলী, তামিল ও বুর্গরা বিরোধিতা করে।.[৭][তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

স্বাধীনতা আন্দোলন[সম্পাদনা]

সিলন জাতীয় কংগ্রেস (সি এন সি) গঠিত হয়েছিল নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য এবং নিজেদের দেশ নিজেরা শাসন করার জন্য। কিন্তু গঠিত হওয়ার কিছুদিন পরেই দলটি জাতি ও বর্ণভেদে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে ইতিহাসবেত্তা কে এম ডি সিলভা বলেন সিলন তামিলরা নিজেদেরকে সংখ্যালঘু হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করে। এটাই সিলন জাতীয় কংগ্রেসের বিভক্ত হওয়ার মূল কারণ। সিএনসি আসলে স্বাধীনতা চায় নি। বরং তাদের এই স্বাধীনতা আন্দোলন দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদল ছিল সংবিধানবাদী। তারা পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে স্বাধীনতা চেয়েছিল। তাদের সাথে আরো কিছু উগ্র গোষ্ঠীও যোগ দিয়েছিল যেমন কলম্বো ইয়ুথ লীগ, ঘুনাসিংহের শ্রমিক আন্দোলন এবং জাফনা ইয়ুথ কংগ্রেস। এই সংগঠনগুলোই প্রথম শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য আন্দোলন শুরু করেছিল। এ সময় ভারতের জহরলাল নেহেরু, সরোজিনি নাইডু এবং অন্যান্য কিছু নেতা শ্রীলঙ্কা সফর করে যায়। তাদেরকে দেখে সংগঠনগুলো আরো বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিল।[৮] সংবিধানবাদীদের এই প্রচেষ্টাগুলোর ফলে ১৮৩১ সালে ডনোমোর কমিশন ও সলবেরি কমিশন গঠিত হয়।[৮] ১৯৩৫ সালে ইয়ুথ লীগ থেকে আরেকটি ছোট দল গড়ে ওঠে। এই দলটি ছিল মার্ক্সবাদী। তাদের নাম ছিল লংকা সম সমাজ দল (এল এস এস পি)। তাদের মূল লক্ষ্যই ছিল শ্রীলঙ্কা থেকে ব্রিটিশদেরকে বিতাড়িত করা।[৯] এই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এন এম পেরেরা, ফিলিপ গুনাওয়ার্দেনা। এছাড়াও কলভিন আর ডি সিলভা, লেসিলে গুণাওয়ার্দেনা, ভিভিয়েননে গুণাওয়ার্দেনা, এডমুন্ড সমরকদি এবং নাতেসা লায়ারও নেতৃত্বে ছিলেন। তাদের আরেকটি লক্ষ্য ছিল। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে তারা ইংরেজির পরিবর্তে তামিল সিনহালা চেয়েছিল। মার্ক্সবাদী এই গোষ্ঠী ছিল সংখ্যায় অতি নগন্য। কিন্তু ইংরেজরা তাদেরকে গুরুত্বের সাথে দেখেছিল। ১৯৫০ এর দশকে ব্রিটিশ পত্র পত্রিকা থেকে দেখা যায় ব্রিটিশরা এই ক্ষুদ্র মার্ক্সবাদী গোষ্ঠী নিয়ে ভালোই চিন্তিত ছিল।

১৯৩০ সালে সাংবিধানিক পরিবর্তনের আন্দোলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল সলবুরি কমিশন। এই তামিল সংস্থাটিকে নেতৃত্ব দিয়েছিল জি জি পন্নামবালাম। তিনি সিলনীয় পরিচয় ত্যাগ করেছিলেন।[১০] তিনি নিজেকে গর্বিত দ্রাভিদিয়ান বলে অভিহিত করেন। এবং তামিলদের জন্য তিনি পূর্ণ স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। তিনি সিংহলীদেরকে আক্রমণ করেছিলেন এবং তাদের পবিত্র গ্রন্থ মহাভমসা নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন। ফলে তামিল ও সিংহলীদের মধ্যে ১৯৩৯ সালে প্রথম দাঙ্গা সংঘঠিত হয়।[৮][১১] তিনি সার্বজনীন ভোটের ধরণকে মেনে নেননি। তিনি চেয়েছিলেন শতাংশের ভিত্তিতে সবাই ক্ষমতা লাভ করবে। অর্থাৎ সিংহলীরা মোট আসনের ৬৫% পাবে যেহেতু তারা মোট জনসংখ্যার ৬৫%। আবার তেমনভাবে তামিলরা পাবে ৩৫%। যেহেতু তারা মোট জনসংখ্যার ৩৫%। এই ধরণের সাম্যবস্থাই তামিলদের মূল নীতি হিসেবে ছিল। পন্নামবালাম ব্রিটিশদেরকে নিয়েও অনেক সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু সলবুরি কমিশনের অন্যান্য নেতারা পন্নামবালামের এই নিয়মগুলো মেনে নেয়নি।[৮]

ডি এস সেনানায়েকের সাথে যুদ্ধকালীন ব্রিটিশ প্রসাশনের সুসম্পর্ক ছিল। ফলে ডি এস সেনানায়েক লর্ড লুইস মাউন্টব্যাটেনের আস্থাভাজন হয়েছিলেন। এর ফলে সেনানায়েক সহজেই শ্রীলঙ্কায় পূর্ণ স্বাধীনতা আনতে পেরেছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কা ছিল ব্রিটিশদের একটি ঘাঁটি। এসময় ব্রিটিশদের বিপক্ষে ছিল জাপান। আর শ্রীলঙ্কাতেই জাপানের পক্ষে ছিল মার্কসবাদী দলগুলো। বিশেষ করে এল এস এস পি। পরবর্তীতে তাদের বেশকয়েকজনকে ব্রিটিশ সরকার গ্রেফতার করে। ১৯৪২ সালের ৫ এপ্রিল, জাপানিরা কলম্বোতে আক্রমণ করলো। এর ফলে কলম্বোতে থাকা ভারতীয় ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গিয়েছিল। কলম্বোতে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। আর সেনানায়েক সরকারের জন্য তারা বড়সড় একটা সমস্যা ছিল।[৮] জাপানিদের আক্রমনের ফলে মার্কসবাদী নেতারা ভারতে পালিয়ে গেল। সেখানে গিয়েও তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিল। সিলনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব ছিল শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীতে। ইংরেজ সমাজ এবং ব্যবসায়ীরাই এই যুদ্ধ নিয়ে আসলে সচেতন ছিল। এদের সাথে সেনানায়েক সরকার বন্ধুত্ব করেছিল। রাজনৈতিক নানা প্রেক্ষাপটের কারণে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা ছিল। এই সুযোগে সিংহলীরাও নিজেদের স্বাধীনতা আন্দোলন আরো দৃঢ় করতে শুরু করেছিল।

স্বাধীনতা[সম্পাদনা]

সিংহলীদের নেতা ডন স্টিফেন সেনানায়েক সি এন সি ত্যাগ করেন। তিনি "স্বাধীনতা অর্জন" আন্দোলনের সবটুকুর সাথে একমত হতে পারেননি। পরবর্তীতে অবশ্য জানা যায় সি এন সি ছাড়ার পেছনে তার অন্য কোন কারণও থাকতে পারে।[১২] বরং ১৯৪৬ সালে তিনি নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন যা নাম ইউনাইটেড ন্যাশনাল দল (ইউ এন পি)।[১৩] এরপর সলবুরি কমিশনের ইচ্ছা অনুযায়ী একটি সংবিধান রচিত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী ১৯৪৭ সালে নির্বাচনও হয়েছিল। এই নির্বাচনে ইউ এন পি কিছু স্বল্পসংখ্যক আসন লাভ করেছিল। কিন্তু অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বিরোধ লেগেছিল। এই নির্বাচন ও নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের আত্নপ্রকাশের ফলে শ্রীলঙ্কা স্বাধীন দেশ হিসেবে জন্মলাভ করলো।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Geiger, W. (১৯৩০)। "The Trustworthiness of the Mahavamsa"The Indian Historical Quarterly6 (2): 228। 
  2. Gunasekara, B. (1995) The Rajavaliya. AES reprint. New Delhi: Asian Educational Services. p iii আইএসবিএন ৮১-২০৬-১০২৯-৬
  3. "Wh124 — Buddhism in South India — Unicode"www.bps.lk। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৪-০৭ 
  4. Holmstrom, Lakshmi (১৯৯৬-০১-০১)। Maṇimēkalai (ইংরেজি ভাষায়)। Orient Blackswan। আইএসবিএন 9788125010135 
  5. Kulatunga, K. M. M. B. (২০০৫-০১-০১)। Disorder in Sri Lanka (ইংরেজি ভাষায়)। Nidahas Publication। আইএসবিএন 9789551035020 
  6. Ellman, A. O.; Ratnaweera, D. De S.; Silva, K.T.; Wickremasinghe, G. (জানুয়ারি ১৯৭৬)। Land Settlement in Sri Lanka 1840-1975: A Review of the Major Writings on the Subject (PDF)। Colombo, Sri Lanka: Agrarian Research and Training Institute। পৃষ্ঠা 16। ২৭ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  7. "History of Sri Lanka"Lonely Planet। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৩, ২০১৮ 
  8. Russell, Jane (1982) Communal Politics under the Donoughmore constitution. Tsiisara Prakasakyo, Dehivala.
  9. "Features"। Priu.gov.lk। ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০১২ 
  10. Hansard 1935
  11. Hindu Organ, 1 November 1939
  12. "Asia Times: Sri Lanka: The Untold Story"। Atimes.com। Archived from the original on ৭ নভেম্বর ২০০১। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০১২ 
  13. "Sri Lanka – Sinhalese Parties"। Countrystudies.us। ১ জানুয়ারি ১৯৮৬। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০১২