অতিকায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রাবণ পুত্র অতিকায়

অতিকায় রাক্ষসরাজ রাবণের অন্যতম পুত্র। এঁর মাতার নাম ধান্যমালিনী। ইনি রাবণের ন্যায় বলশালী, বয়স্কদের শ্রদ্ধা করেন, শ্রুতিধর এবং অস্ত্রচালনায় অত্যন্ত পারদর্শী।ইনি সাম, দান ও ভেদ বিষয়ক রাজনীতি ও প্রয়োজনে মন্ত্রনাদানেও সুদক্ষ ছিলেন।

এঁর দেহ অতি বিশাল। বিভীষণের বর্ণনায়, ''বিন্ধ্যাচল, অস্তাচল ও মহেন্দ্রপর্বতের মতো বিশাল তাঁর শরীর; অপ্রমেয় দেহ, অতিরথ; অতিবীর''।

            যশ্চৈব বিন্ধ্যাস্তমহেন্দ্রকল্পো/

            ধন্বী রথোস্থো'তিরথো'তিবীর।

            বিস্ফরয়ংশ্চাপমতুল্যমানং/

            নাম্নাতিকায়ো'তিবৃদ্ধকায়ো।।[১]

তাঁর দেহ অতি বিশাল বলেই তাঁর নাম অতিকায়।

মহামতি অতিকায় সুবিজ্ঞ, অস্ত্রবিদ্যায় সুনিপুণ, মায়াবিশারদ। তিনি কঠোর তপস্যা দ্বারা ব্রহ্মার আরাধনা করে বিবিধ অস্ত্রলাভ করেন। যার দ্বারা তিনি বহু শত্রু পরাজিত করেছেন। ভগবান ব্রহ্মা এঁনাকে দেব-অসুরের অবধ্য হবার বরও দিয়েছেন এবং যুদ্ধে ব্যবহার্থে দিব্য কবচ ও সূর্যের মতো দিপ্তমান রথ দিয়েছেন। অতিকায় কর্ত্তৃক দেব-দানবদের বহুবীর পরাজিত হয়েছে। তিনি ঘোড়া বা হাতির পিঠে চড়ে যেকোনো অস্ত্র নিপুণভাবে অনায়াসে চালনা করতে পারতেন। অতিকায় যুদ্ধক্ষেত্রে শরজাল দিয়ে ইন্দ্রকে পরাজিত করেছেন। বরুণদেবের পাশকে প্রতিহত করেছেন। রামায়ণে অতিকায়কে দেব-দানবের দর্পনাশক বলা হয়েছে। তিনি অন্তরীক্ষে বিচরণ করতে পারতেন। মায়াযুদ্ধেও তিনি কৌশলী। দেবতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি পিতামহ সুমালীকে সাহায্য করেছেন।[২]

মহাবল পিতৃব্য কুম্ভকর্ণের মৃত্যুতে শোকাতুর অতিকায় ত্রিশিরার বাক্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভ্রাতাদের সঙ্গে যুদ্ধযাত্রা করেন। নানা অলংকারে ভূষিত হয়ে, ব্রহ্মা প্রদত্ত দিব্য কবচ ও রথে আরোহণ করে রণক্ষেত্রে আসেন। কালমেঘের ন্যায় শব্দায়মান, পর্বতের মতো রথস্থ ধনুর্ধারী অতিকায়কে দেখে রামচন্দ্র বিস্মিত হয়ে বিভীষণের কাছে তাঁর পরিচয় জানে চেয়েছিলেন। সিংহের মতো চোখ তাঁর; একহাজার ঘোড়া তাঁর রথ টানে; শান দেওয়া ত্রিশুল, সুতীক্ষ্ণ তরবারি, মুষল, মুদগর প্রভৃতি অস্ত্ররাজি পরিবেষ্ঠিত হয়ে তাঁকে দেখাচ্ছে যেন শূলপাণি মহাদেব ভূতলে নেমে এসেছেন; রংধনু যেমন আকাশকে শোভিত করে, তেমনি তাঁর ধনুকগুলো তাঁর রথকে শোভিত করছে; যে দুইটি উজ্জ্বল খড়্গ তাঁর দুইপাশে রয়েছে তার হাতল চার হাত,সুতরাং তরবারির দৈর্ঘ্য হবে দশ হাত;তাঁর কণ্ঠে রক্তবর্ণের মালা; যাঁর মুখ যমের মতো, তাঁকে দেখে বানরেরা ভয়ে কম্পমান।[৩]

মৈন্দ, দ্বিবিধ, কুমুদ, নীল ও শরভ প্রভৃতি বানরগণ তাঁর হাতে পরাজিত হওয়ার পর লক্ষণ তাঁকে যুদ্ধে আহ্বান করে। অতঃপর লক্ষণ ও অতিকায়ের মধ্যে ভীষণ সংগ্রাম হয়। যখন অনেক চেষ্টাতেও অতিকায়কে বধ করা যাচ্ছে না, তখন পবনদেব সহসা আবির্ভূত হয়ে লক্ষণকে অতিকায় বধার্থে ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করতে বললেন। তখন লক্ষণ ধনুকে ব্রহ্মাস্ত্র যোজনা করে অতিকায়ের উপর প্রয়োগ করলেন। ব্রহ্মাস্ত্রের আঘাতে অতিকায়ের মস্তক ছিন্ন হয়ে গেল। হিমালয়শৃঙ্গের মতো সেই মস্তক ভূমিতে পতিত হলো।[৪][৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. শ্রীপঞ্চানন তর্করত্ন কৃত বঙ্গানুবাদিত, রামায়ণম্। লঙ্কাকাণ্ড, সর্গ_৫৯, শ্লোক_১৬ 
  2. শ্রীপঞ্চানন তর্করত্ন কৃত বঙ্গানুবাদিত, রামায়ণম্। মহাতেজা বিভীষণ, - অমিততেজস্বী রাজনন্দন রামচন্দ্র কর্ত্তৃক এইরূপে জিজ্ঞাসিত হইলে, - কহিলেন...।লঙ্কাকাণ্ড, সর্গ_৭, শ্লোক_২৬-৩৬ 
  3. শ্রীপঞ্চানন তর্করত্ন কৃত বঙ্গানুবাদিত, রামায়ণম্। দেব-দানব গণের দর্পহারী ব্রহ্মবরদীপ্ত গিরিতুল্য মহাতেজস্বী অতিকায়...।লঙ্কাকাণ্ড, সর্গ_৭১, শ্লোক_১-২৫ 
  4. নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী সম্পাদিত, পুরাণকোষ(অ-ঔ)। অতিকায় 
  5. শ্রীপঞ্চানন তর্করত্ন কৃত বঙ্গানুবাদিত, রামায়ণম্। পরে বলবান অতিকায় বানরসেনার মধ্যে প্রবেশ করিয়া ধনু বিস্ফারণপূর্বক...।লঙ্কাকাণ্ড, সর্গ_৭১, শ্লোক_৩৭-১০৯