অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নেপালে এক হিন্দু অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া। উপরের সংস্কারে জাফরান কাপড়ে দেহটি মোড়ানো হয়েছে।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া মৃত্যুর পরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্তৃক শবদাহ বা মৃতদেহ পোড়ানোর ধর্মীয় সংস্কার। এই শব্দটিকে বিশ্লেষণ করা হলে দাঁড়ায় অন্ত (শেষ) + ইষ্টি (সংস্কার) + ক্রিয়া অর্থাৎ মৃত্যুর পরে মৃতদেহের শেষবারের মতো সংস্কারকার্য। পূর্বে কঠোরভাবে এ সংস্কারের রীতিনীতি থাকলেও বর্তমানে তা অনেকটাই কঠোরতামুক্ত। বর্তমানে শিশু, সন্ন্যাসী, সাপে কাটা অথবা বিশেষ কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে জলসমাধি (পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া) কিংবা মৃৎসমাধি (মাটিতে কবর) দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। শবদাহ করার কাজে বিশেষ ব্যক্তির ক্ষেত্রে চন্দনকাঠ বা চন্দনগুঁড়া ব্যবহার করা হয়, কিন্তু সাধারণ লোকের ক্ষেত্রে ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই।

নিয়ম[সম্পাদনা]

অন্ত্যোষ্টিক্রিয়ায় দাহের আগে ঘি মাখিয়ে মৃতদেহকে গোসল করানো হয়। তারপর চন্দন মাখিয়ে তার কান, নাকের ছিদ্র, চোখ ও মুখে মোট সাত টুকরা সোনা বা কাঁসা দিয়ে মৃতের উদ্দেশ্যে পিন্ড দান করা হয়। মৃতদেহ চিতায় স্থাপন করার পর মৃতের ছেলে (প্রধানত বড়ছেলে) বা কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় তার চারপাশে তিনবার ঘুরে অতঃপর মুখে আগুনসংযোগ করে। দাহকার্য শেষ হলে চিতার আগুনে এক এক করে সাত টুকরা ছোট কাঠ দিয়ে জ্বলন্ত চিতার উপর সাতবার আঘাত করা হয়। তারপর যিনি মুখাগ্নি করেন তিনি সাত কলসি এবং অন্যরা এক এক কলসি জল দিয়ে চিতার আগুন নেভান। এরপর অদগ্ধ দেহাংশ, ছাঁই ইত্যাদি মাটির পাত্রে সংগ্রহ করে পানিতে ভাসানো হয়। গোসল করে বাড়ি ফিরে নিমপাতা দাঁতে কেটে আগুন, লোহা, মটর ডাল ইত্যাদি (মতান্তরে পাথর, আগুন, জল, গোবর, সাদা সরষে) স্পর্শ করে বাড়িতে ঢোকার নিয়ম।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-০১