নাসিরউদ্দিন বুগরা খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নাসিরুদ্দিন বুগরা খান
বাংলার গভর্নর এবং পরবর্তীতে স্বাধীন সুলতান
রাজত্ব১২৮১–১২৮৮
পূর্বসূরিতুগরল তুগান খান
উত্তরসূরিরুকনউদ্দীন কায়কাউস
বংশধরমুইজউদ্দিন কায়কোবাদ
রুকনউদ্দীন কায়কাউস
পিতাগিয়াসউদ্দিন বলবন

নাসিরউদ্দিন বুগরা খান (ফার্সি: ناصر الدین بغرا خان‎‎) বাংলার গভর্নর (১২৮১–১২৮৭) এবং পরবর্তীকালে বাংলার একজন স্বাধীন সুলতান (১২৮৭–১২৯১) ছিলেন। তিনি দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের পুত্র। বাংলার গভর্নর থাকার আগে বুগরা খান ভারতের পাঞ্জাবের সামানা এবং সুমামের গভর্নর ছিলেন। [১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাংলার গভর্নর[সম্পাদনা]

নাসিরুদ্দিন বুগরা খান তাঁর পিতা দিল্লির মামলুক সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনকে লখনৌতির গগভর্নর তুগরল তুগান খানের বিদ্রোহ দমন করতে সহায়তা করেছিলেন। এই বিদ্রোহ চূর্ণ করতে তাদের প্রায় তিন বছর সময় লাগে। যুদ্ধে তুগান খান পরাজিত ও নিহত হন।

তারপর সুলতান বলবন তাঁকে লখনৌতির অর্থাৎ বঙ্গের শাসক নিযুক্ত করেন। তবে দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার আগে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বিদ্রোহীর পরিণাম কী সে সম্পর্কে বুগরা খানকে সতর্ক করে যান। নিজ পুত্রের উপর পরিপূর্ণ আস্থা রাখতে না পারায় তিনি তার বিশ্বস্ত এবং অভিজ্ঞ দুজন সেনাপতিকে তার পুত্রের রাজকার্যে সাহায্য করার জন্য রেখে যান। [১]

কিন্তু পরবর্তীতে সুলতানের জ্যেষ্ঠপুত্র এবং তার বড় ভাই যুবরাজ মুহাম্মদ মঙ্গোলদের সাথে এক যুদ্ধে নিহত হন। তাই সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবন বুগরা খানকে দিল্লির সুলতান হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দিল্লির সিংহাসনের পরিবর্তে বাংলার গভর্নর পদে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বুগরা খানের পরিবর্তে যুবরাজ মুহম্মদের পুত্র কায়খসরুকে পরবর্তী সুলতান মনোনীত করেন।[২] কিছুদিন পরেই সুলতান বলবন মৃত্যুবরণ করেন।

বাংলার স্বাধীন সুলতান[সম্পাদনা]

১৮৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের মৃত্যুর পরে বুগরা খান বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করে নিজের স্বাধীন সুলতান হিসেবে দেশ পরিচালনা শুরু করেন।

কিন্তু কায়খসরুর পরিবর্তে দিল্লি সালতানাতের উজিরে আজম (প্রধানমন্ত্রী) সহ দিল্লির অভিজাতবর্গ নিজামুদ্দিন বুগরা খানের পুত্র মুইজউদ্দিন কায়কোবাদকে দিল্লির সুলতান নিযুক্ত করেন। কিন্তু কায়কোবাদের অদক্ষতার কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজামউদ্দিন সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এর ফলে দিল্লিতে অরাজকতার সৃষ্টি হয়। [১]

বুগরা খান দিল্লির অরাজকতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। তাই তিনি তার পুত্র কায়কোবাদের নীতিবোধ জাগ্রত করতে দিল্লির দিকে বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হন। একই সময়ে, উজিরে আজম নিজামউদ্দিন তার বাবার মুখোমুখি হওয়ার জন্য মুইজউদ্দিন কায়কোবাদকেও একটি বিশাল বাহিনী নিয়ে এগিয়ে যেতে বাধ্য করেছিলেন। দুই সেনাবাহিনী সরযূ নদীর তীরে মিলিত হয়। কিন্তু পিতা ও পুত্র রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মুখোমুখি না হয়ে বিনাযুদ্ধেই সমঝোতায় পৌঁছান। বুগরা খান তার পুত্র মুইজউদ্দিন কায়কোবাদকে রাজকার্য পরিচালনা সম্পর্কে বিভিন্ন উপদেশ দেন এবং রাজকার্য সর্বদা সচেতন থাকার পরামর্শও দেন।

পিতার পরামর্শে কায়কোবাদ নাজিমউদ্দিনকে উজির আজমের পদ থেকে বরখাস্ত করেন এবং পিতাকে বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তারপর বুগরা খান লখনৌতিতে (বর্তমান গৌড়) ফিরে আসেন।

প্রখ্যাত সুফি কবি এবং বুগরা খানের সভাকবি আমীর খসরু এই ঘটনা নিয়ে কিরান-উস-সাদাইন (দুই তারকার মিলন) গ্রন্থ লিখে ঘটনাটিকে আজও স্মরণীয় করে রেখেছেন। [১]

ক্ষমতা ত্যাগ[সম্পাদনা]

বুগরা খানের পুত্র মুইজউদ্দিন কায়কোবাদ দুরারোগ্য পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হলে শামসউদ্দিন কায়ুমারসকে রাজপরিবারের অভিজাত সম্প্রদায় তার পুত্র শামসউদ্দিন কায়ুমারসকে সুলতান ঘোষণা করে জালালউদ্দিন খলজীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে কিন্তু। জালালউদ্দিন খলজি তা জানতে পেরে এক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ১২৯০ সালে কায়কোবাদ এবং কায়ুমারসকে হত্যা করে নিজেই সুলতান হয়ে যান।[২]

এর ফলে বুগরা খান মর্মাহত হয়ে বাংলার ১৮৯১ সালে সিংহাসন ত্যাগ করে পুত্র রুকনউদ্দীন কায়কাউসকে সিংহাসনে বসান। [৩]

পূর্বসূরী
তুগরল তুগান খান
বাংলার মামলুক গভর্নর এবং স্বাধীন সুলতান
১২৮১–১২৯১
উত্তরসূরী
রুকনউদ্দীন কায়কাউস

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. আলী, মোহাম্মদ আনসার। "বুগরা খান"bn.banglapedia.orgবাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-২৬ 
  2. সেন, শৈলেন্দ্র (২০১৩)। A Qaiqabad Textbook of Medieval Indian History। Primus Books। পৃষ্ঠা 80। আইএসবিএন 978-9-38060-734-4 
  3. KingListsFarEast