মহাস্থানগড়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মহাস্থানগড়
Mahasthangarh
BD Mahasthangarh1.JPG
মহাস্থানগড়ের একাংশ
মহাস্থানগড় বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
মহাস্থানগড়
বাংলাদেশে অবস্থান
অবস্থান মহাস্থানগড়, বগুড়া জেলা, রাজশাহী বিভাগ, বাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক ২৪°৫৭′৪০″ উত্তর ৮৯°২০′৩৪″ পূর্ব / ২৪.৯৬১১১° উত্তর ৮৯.৩৪২৭৮° পূর্ব / 24.96111; 89.34278স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৭′৪০″ উত্তর ৮৯°২০′৩৪″ পূর্ব / ২৪.৯৬১১১° উত্তর ৮৯.৩৪২৭৮° পূর্ব / 24.96111; 89.34278
ধরন সাংস্কৃতিক
ইতিহাস
প্রতিষ্ঠিত খ্রিস্টীয় ৪র্থ শতক
পরিত্যক্ত খ্রিস্টীয় ১১শ শতক

মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।[১][২] এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল। ২০১৬ সালে এটি সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা হয়।

এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়[৩] বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কি.মি উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল । মহাস্থানের রাজা ছিলেন নল যার বিরোধ লেগে থাকত তার ভাই নীল এর সাথে। এসময় ভারতের দাক্ষিণাত্যের শ্রীক্ষেত্র নামক স্থান থেকে এক অভিশপ্ত ব্রাহ্মণ এখানে অসেন পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে। তিনি পরশু বা কুঠার দ্বারা মাতৃহত্যার দায়ে অভিশপ্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনিই এই দুই ভাইয়ের বিরোধের অবসান ঘটান এবং রাজা হন। এই ব্রাহ্মণের নাম ছিল রাম। ইতিহাসে তিনি পরশুরাম নামে পরিচিত। কথিত আছে পরশুরামের সাথে ফকির বেশি আধ্যাত্মিক শক্তিধারী দরবেশ হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র:) এর যুদ্ধ হয়। (১২০৫-১২২০) যুদ্ধে পরশুরাম পরাজিত ও নিহত হন।

ভূগোল[সম্পাদনা]

পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী মহাস্থানগডগের অবস্থান বগুড়া শহর থেকে থেকে ১১ কিলোমিটার(৬.৮ মাইল) উত্তরে বগুড়া রংপুর মহাসড়কের পাশে। মনে করা হয় এখানে শহর পত্তনের মূল কারণ এটি বাংলাদেশের একটি অন্যতম উচ্চতম অঞ্চল। এখানের ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৬ মিটার (১১৮ ফুট) উঁচু, যেখানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৬ মিটার (২০ ফুট) উঁচু। এছাড়া এই স্থানটি বেছে নেওয়ার আরেকটি কারণ হল করতোয়া নদীর অবস্থান ও আকৃতি। নদীটি ১৩ শতকে বর্তমান গঙ্গা নদীর তিনগুণ বেশি প্রশস্ত ছিল।[৪]মহাস্থানগড় বরেন্দ্র অঞ্চলের লাল মাটিতে অবস্থিত যা পলিগঠিত অঞ্চল হতে কিছুটা উঁচু। ১৫-২০ মিটার উপরের অঞ্চলগুলোকে বন্যামুক্ত ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চল বলে ধরা যায়।[৫]

আবিষ্কার[সম্পাদনা]

মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত ও উদঘাটন করার ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তির অবদান রয়েছে। ১৮০৮ সালে ফ্রান্সিস বুকানন হ্যামিলটন প্রথম মহাস্থানগড়ের অবস্থান চিহ্নিত করেন। সি. জে. ও’ডোনেল, ই. ভি. ওয়েস্টম্যাকট ও বেভেরিজও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। আলেক্সান্ডার কানিংহাম প্রথম এটিকে পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানীরূপে চিহ্নিত করেন। তিনি ১৮৭৯ সালে মহাস্থানগড় পরিদর্শন করেছিলেন।[৬]

দুর্গস্থাপনা[সম্পাদনা]

প্রাচীন শহরের কেন্দ্রে স্থিতদুর্গটি উপর থেকে দেখতে আয়তাকার ছিল যা উত্তর-দক্ষিণে ১.৫২৩ কিলোমিটার (০.৯৪৬ মাইল) ও পূর্ব-পশ্চিমে ১.৩৭১ কিলোমিটার (০.৮৫২ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত। এর প্রতি পাশে উঁচু ও প্রশস্ত সুরক্ষা প্রাচীর ছিল। দুর্গের আয়তন প্রায় ১৮৫ হেক্টর।[৪] এককালের প্রশস্তা নদী করতোয়া এর পূর্বপার্শ্বে প্রবাহিত।[২] ১৯২০ সাল পর্যন্ত খননকার্যের পূর্বে দুর্গের উচ্চতা আশেপাশের অঞ্চলের চেয়ে ৪ মিটার বেশি ছিল এবং বেশ কয়েকটি উঁচু মাটির আস্তরে দাগাঙ্কিত ছিল। রক্ষাপ্রাচীরটি কাদামাটির তৈরি প্রাচীরের মতো দেখতে যা বহু স্থানে বলপূর্বক ভাঙার চেষ্টা দেখা যায়। প্রাচীরটি আশেপাশের অঞ্চলের চেয়ে ১১-১৩ মিটার (৩৬-৪৩ ফুট) উঁচু। এর দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি মাজার ছিল। এছাড়া পরবর্তীকালের (১৭১৮-১৯) নির্মিত একটি মসজিদও রয়েছে।[৬] বর্তমানে দুর্গের ভিতরে কয়েকটি ঢিবি ও নির্মাণ নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে জিয়ত কুণ্ড (একটি কূপ যাতে জীবন প্রদানের শক্তি আছে বলে বিশ্বাস করা হয়), মানকালীর ধাপ(মানকালীর পবিত্র স্থান),পরশুরামের বাসগৃহ (রাজা পরশুরামের প্রাসাদ), বৈরাগীর ভিটা (সন্ন্যাসিনীদের আখড়া), খোদার পাথর ভিটা(ঈশ্বরকে অর্পিত প্রস্তরখণ্ড), মুনির ঘোন(একটি ক্ল্লো) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি প্রবেশদ্বার রয়েছে যেমন কাঁটা দুয়ার (উত্তরে), দোরাব শাহ তোরণ (পূর্বে), বুড়ির ফটক (দক্ষিণে), তাম্র দরজা (পশ্চিমে )।[২] উত্তর-পূর্ব কোণে কয়েকটি ধাপ (পরে সংযুক্ত) রয়েছে যা জাহাজঘাটা পর্যন্ত গিয়েছে। জাহাজঘাটার কিছুটা সামনে [[করতোয়া নদীর তীরে গোবিন্দ ভিটা (গোবিন্দের মন্দির) অবস্থিত। এর সামনে স্থানীয় জাদুঘর রয়েছে যেখানে উল্লেখযোগ্য কিছু নিদর্শন প্রদর্শিত হয়েছে। এর পাশে একটি রেস্ট হাউজ রয়েছে।

নগরের অবকাঠামো[সম্পাদনা]

দুর্গকাঠামো ছাড়াও সেখানে প্রায় শখানেক ঢিবি ৯ কিমি ব্যাসার্ধের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে।

খননকৃত ঢিবি:[২]

  1. গোবিন্দ ভিটা, দুর্গের উত্তর পূর্ব কোণে অবস্থিত একটি মন্দির
  2. খুল্লনার ধাপ, একটি মন্দির
  3. মঙ্গলকোট, বগুড়া, খুল্লনার ধাপ থেকে ৪০০ মিটার দক্ষিণে একটি মন্দির
  4. গদাইবাড়ি ধাপ, খুল্লনার ধাপ থেকে ১ কিলোমিটার দক্ষিণে একটি মন্দির
  5. তোতারাম পণ্ডিতের ধাপ, দুর্গের ৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি আশ্রম
  6. নরপতির ধাপ (বসুবিহার), তোতারাম পণ্ডিতের ধাপ হতে ১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একগুচ্ছ আশ্রম
  7. গোকুল মেধ (লখীন্দরের বাসরঘর), দুর্গের তিন কিলোমিটার দক্ষিণে একটি মন্দির
  8. স্কন্ধের ধাপ, গোকুল মেধের ২ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে একটি মন্দির

প্রধান অখননকৃত ঢিবি:[২]

  1. শীলাদেবীর ঘাট
  2. চুনোরু দিঘি ধাপ
  3. কৈবিল্কি ধাপ
  4. জুরাইনতলা
  5. পরশুরামের শোভাবাতি
  6. বালাই ধাপ
  7. প্রচীর ঢিবি
  8. কাঞ্চির হাড়ি ঢিবি
  9. লহনার ধাপ
  10. খুজার ধাপ
  11. দশহাতিনা ধাপ
  12. ধনিকের ধাপ
  13. মন্দিরির দরগাহ
  14. বিষমর্দন ঢিবি
  15. মলিনার ধাপ
  16. মলপুকুরিয়া ধাপ
  17. যোগীর ধাপ
  18. পদ্মবতীর ধাপ
  19. কানাই ধাপ
  20. দুলু মাঝির ভিটা
  21. পদ্মাদেবীর ভিটা
  22. রাসতলা ধাপ
  23. শশীতলা ধাপ
  24. ধনবান্ধর ধাপ
  25. চাঁদের ধাপ
  26. সিন্ধিনাথ ধাপ
  27. শালিবাহন রাজার কাচারিবাড়ি ঢিবি
  28. কাচের আঙ্গিনা
  29. মঙ্গলনাথের ধাপ
  30. ছোট টেংরা/ বাবুর ধাপ/ কেদার ধাপ
  31. বড় টেংরা/ সন্ন্যাসীর ধাপ

খনন[সম্পাদনা]

মহাস্থানগড়ের প্রথাগত প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার কে. এন. দীক্ষিত এর তত্ত্বাবধানে ১৯২৮-২৯ সালে প্রথম শুরু করা হয়। তখন জাহাজঘাটার আশেপাশে মুনির ঘোন আর বৈরাগীর ভিটা পরিদর্শন করা হয়। বৈরাগীর ভিটা আর গোবিন্দ ভিটায় ১৯৩৪-৩৬ সালে খননের কাজ স্থগিত করা হয়। ১৯৬০ সালে মাজার, পরশুরামের প্রাসাদ, মানকালীর ধাপ, জিয়ৎ কুণ্ড ও উত্তরপাশের প্রাচীরের নিকটে খননকাজ চালানো হয়। পূর্ব ও উত্তরপাশের রক্ষাপ্রাচীরে পরবর্তীধাপের খননকাজ বিক্ষিপ্তভাবে চালানো হয় যদিও তখনও চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

মহাস্থান গড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র। এখানে বগু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক রাজধানীহিসাবে মহাস্থানগড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দর্শকদের জন্য জ্ঞাতব্য[সম্পাদনা]

মহাস্থানগড় বগুড়া থেকে ১১ কিলোমিটার (৬.৮ মাইল) উত্তরে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। পাশেই করতোয়া নদীর একটি ক্ষীণকায় স্রোতধারা প্রবহমান। রাস্তাটি জাহাহঘাটা ও জাদুঘর অবধি গিয়েছে।[৭] ঢাকা থেকে সরাসরি যাওয়ার বাস রয়েছে এবং যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর উপর দিয়ে যেতে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লাগে। বগুড়া থেকেও বাস পাওয়া যায় এবং স্থানীয় চলাচলের জন্য রিক্সা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা বা বগুড়া থেকে ভাড়া গাড়িও পাওয়া যায়। [৮]ভাড়া গাড়িতে ভ্রমণ করলে একই পথে পুনরায় চলে আসা যায়, অথবা কেউ চাইলে সেখান থেকে নওগার পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার পরিদর্শনে যেতে পারেন।

মাজার শরীফ[সম্পাদনা]

মহাস্থান বাস স্ট্যান্ড থেকে কিছুটা পশ্চিমে হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র:) এর মাজার শরীফ অবস্থিত। কথিত আছে মাছের পিঠে আরোহন করে তিনি বরেন্দ্র ভূমিতে আসেন। তাই তাকে মাহী সওয়ার বলা হয়। কথিত আছে হযরত মীর বোরহান নামক একজন মুসলমান এখানে বাস করতেন। পুত্র মানত করে গরু কোরবানী দেয়ার অপরাধে রাজা পরশুরাম তার বলির আদেশ দেন এবং তাকে সাহায্য করতেই মাহী সওয়ারেরর আগমন ঘটে।

খোদার পাথর ভিটা[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: খোদার পাথর ভিটা

খোদার পাথর ভিটা মাজারের পূর্বে পাহারে অবস্থিত।

মানকালীর ঢিবি[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: মানকালীর ঢিবি

আজীবক ধর্ম প্রচারক মোক্ষালি গোসালের নির্মিত হয় এই মন্দির।

বৈরাগির ভিটা[সম্পাদনা]

মহাস্থানগড় এর উত্তর-পূর্ব কোনে রাজা পরশুরামের বাড়ি হতে প্রায় ২০০ গজ দূরে অবস্থিত। এই স্তূপটির আয়তন ৩০০*২৫০ ফুট।

স্কন্ধের ধাপ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: স্কন্ধের ধাপ

মহাস্থানগড় থেকে ৩ কি:মি: দক্ষিণে অবস্থিত। এটি একটি মন্দিরের ধংসাবসেশ।

মঙ্গলকোট স্তুপ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: মঙ্গলকোট

মহাস্থান গড় হতে ১ কি:মি: পশ্চিমে অবস্থিত।

গোকুল মেধ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: গোকুল মেধ

মহাস্থানগড় হতে দক্ষিণ পশ্চিম কোণে ২ কি:মি: দূরে অবস্থিত।

ট্যাংরা বৌদ্ধ স্তুপ[সম্পাদনা]

প্রায় ৪৫ ফিট উচ্চতা বিশিষ্ট এই স্তুপ ট্যাংরা নামক স্থানে অবস্থিত।

বিহার ধাপ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: বিহার ধাপ

মহাস্থানগড় হতে ৬ কি:মি: উত্তর পশ্চিম অবস্থিত। স্তুপটি ৭০০*৬০০ ফুট আয়তন।

ভাসু বিহার[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: ভাসু বিহার

মহাস্থানগড় হতে ৭ কি:মি: উত্তর পশ্চিমে এবং বৌদ্ধ বিহার হতে ২ কি:মি: উত্তরে অবস্থিত।

ভিমের জঙ্গল[সম্পাদনা]

মহাস্থানগড় এর তিন দিক পরিবেশটিত এবং অসংখ্য কালোত্তীর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা সমৃদ্ধ এই ভিমের জংগল।

কালীদহ সাগর[সম্পাদনা]

গড়ের পশ্চিম অংশে রয়েছে ঐতিহাসিক কালীদহ সাগর এবং পদ্মাদেবীর বাসভবন

শীলাদেবীর ঘাট[সম্পাদনা]

গড়ের পূর্বপাশে রয়েছে করতোয়া নদী এর তীরে ‘শীলাদেবীর ঘাট’। শীলাদেবী ছিলেন পরশুরামের বোন। এখানে প্রতি বছর হিন্দুদের স্নান হয় এবং একদিনের একটি মেলা বসে।

জিয়ৎ কুনণ্ড[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: জিয়ৎ কুন্ড

এই ঘাটের পশ্চিমে জিয়ৎ কুনণ্ড নামে একটি বড় কুপ আছে। কথিত আছে এই কুপের পানি পান করে পরশুরামের আহত সৈন্যরা সুস্থ হয়ে যেত। যদিও এর কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

বেহুলার বাসর ঘর[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: গোকুল মেধ

মহাস্থানগড় বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২কি.মি দক্ষিণ পশ্চিমে একটি বৌদ্ধ স্তম্ভ রয়েছে যা সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন বলে মনে করা হয়। স্তম্ভের উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। স্তম্ভের পূর্বার্ধে রয়েছে ২৪ কোন বিশিষ্ট চৌবাচ্চা সদৃশ একটি গোসল খানা। এটি বেহুলার বাসর ঘর নামেই বেশি পরিচিত।[৯]

গোবিন্দ ভিটা[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: গোবিন্দ ভিটা

মহাস্থানগড় জাদুঘরের ঠিক সামনেই গোবিন্দ ভিটাঅবস্থিত। ১৯২৮-২৯ সালে খনন করে গোবিন্দ ভিটায় দূর্গ প্রাসাদ এলাকার বাইরে উত্তর দিকে অবস্থিত।

পরশুরামের প্রাসাদ[সম্পাদনা]

পরশুরামের প্রাসাদ ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের সীমানা প্রাচীর বেষ্টনীর ভিতরে যেসব প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম। স্থানীয়ভাবে এটি তথাকথিত হিন্দু নৃপতি পশুরামের প্যালেস নামে পরিচিত।

জাদুঘর[সম্পাদনা]

মহাস্থান গড় খননের ফলে মৌর্য, গুপ্ত, পালসেন যুগের বিভিন্ন দ্রব্যাদিসহ অনেক দেবদেবীর মূর্তি পাওয়া গেছে যা গড়ের উত্তরে অবস্থিত জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। মহাস্থান গড় ছাড়াও আরও বিভিন্ন স্থানের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এখানে সংরক্ষিত আছে।

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

Photos by:SHAHRIAR AHMED

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Hossain, Md. Mosharraf, Mahasthan: Anecdote to History, 2006, Preface, Dibyaprakash, 38/2 ka Bangla Bazar, Dhaka, ISBN 984 483
  2. ২.০ ২.১ ২.২ ২.৩ ২.৪ Brochure: Mahasthan – the earliest city-site of Bangladesh, published by the Department of Archaeology, Ministry of Cultural Affairs, Government of the People’s Republic of Bangladesh, 2003
  3. Majumdar, Dr. R.C., History of Ancient Bengal, First published 1971, Reprint 2005, p. 10, Tulshi Prakashani, Kolkata, ISBN 81-89118-01-3.
  4. ৪.০ ৪.১ "Mahasthangarh"। Wondermondo। 
  5. Chowdhury, Sifatul Quader (২০১২)। "Mahasthangarh, Physical Setup"। in Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh 
  6. ৬.০ ৬.১ উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Hossain_2 নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  7. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Hossain_1 নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  8. Mc Adam, Marika, Bangladesh, Lonely Planet
  9. বেহুলার বাসর ঘর