শাজাহানপুর উপজেলা
এই নিবন্ধটিকে উইকিপিডিয়ার জন্য মানসম্পন্ন অবস্থায় আনতে এর বিষয়বস্তু পুনর্বিন্যস্ত করা প্রয়োজন। (ডিসেম্বর ২০২৪) |
| শাজাহানপুর | |
|---|---|
| উপজেলা | |
| শাজাহানপুর উপজেলা | |
শাহজাহানপুরের গ্রামাঞ্চলের একটি পুকুর | |
মানচিত্রে শাজাহানপুর উপজেলা | |
| স্থানাঙ্ক: ২৪°৪৬′০.০১২″ উত্তর ৮৯°২৪′০.০০০″ পূর্ব / ২৪.৭৬৬৬৭০০০° উত্তর ৮৯.৪০০০০০০০° পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | রাজশাহী বিভাগ |
| জেলা | বগুড়া জেলা |
| প্রতিষ্ঠা | ২০০৩ |
| আয়তন | |
| • মোট | ২২১.৮ বর্গকিমি (৮৫.৬ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা [১] | |
| • মোট | ২,৪৭,৮১৪ |
| • জনঘনত্ব | ১,১০০/বর্গকিমি (২,৯০০/বর্গমাইল) |
| সাক্ষরতার হার | |
| • মোট | ৬৫% |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| প্রশাসনিক বিভাগের কোড | ৫০ ১০ ৮৫ |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
শাজাহানপুর উপজেলা বাংলাদেশের বগুড়া জেলার একটি উপজেলা।
অবস্থান ও আয়তন
[সম্পাদনা]বগুড়া শহর থেকে দূরত্ব ১০ কিমি। বগুড়া সদরের দক্ষিণ দিকে এর অবস্থান। শাজাহানপুর উপজেলার উত্তরে বগুড়া সদর উপজেলা, দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা পূর্বে গাবতলী উপজেলা ও ধুনট উপজেলা, পশ্চিমে নন্দীগ্রাম উপজেলা ও কাহালু উপজেলা।
প্রশাসনিক এলাকা
[সম্পাদনা]
এই উপজেলার ইউনিয়নসমূহ হল -
শাজাহানপুর উপজেলার পটভূমি
[সম্পাদনা]জনশ্রুতি রয়েছে যে, ষোড়শ শতাব্দীতে করতোয়া নদী পথে মাঝে মাঝে মধ্য রাতে মাছ ধরা মাঝির বেশে জলদস্যুরা আসতো। এ অঞ্চলে লুটতরাজ করতো। ফলে সমস্ত এই জনপদের নাম হয়ে পড়ে মাঝিড়া। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সুবে-বাংলা এ সমস্যার কথা পত্রযোগে আগ্রাতে সম্রাট শাজাহানকে অবহিত করেন। সম্রাট তাৎক্ষণিকভাবে সেনা ছাউনি স্থাপনের জন্য এখানে একটি সেনাদল প্রেরণ করেন। মোঘল সেনাদল এই উপজেলা সদরের ৭০০ গজ উত্তরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পূর্ব পাশে ২৫/৩০ ফুট মাটি ভরাট করে সহানটিতে উঁচু ঢিবি তৈরি করে সেনা ছাউনি স্থাপন করে। যাতে সেই উঁচু ঢিবি হতে দিগমত বিসতৃত অঞ্চলে জলদস্যুদের যে কোন আনাগোনা বা গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়। ধার্মিক সম্রাটের বদান্যতায় এই জনপদের মানুষ সন্ত্রাস আর দস্যুতা হতে পরিত্রাণ পায়। মোঘল সম্রাটের নাম অনুসারেই পুরো এলাকার নাম হয় শাজাহানপুর বা সাজাপুর। ব্রিটিশ আমল থেকে সকল রেকর্ড পত্রে মৌজাটির শাজাপুর নাম বহাল রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ উপজেলার নাম হয় শাজাহানপুর উপজেলা।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]২০০২ সালের ৩ জুন ‘মাঝিড়া উপজেলা’ নামে নতুন একটি উপজেলা প্রতিষ্ঠা করতে গেজেট প্রকাশ হয়। এরপর ২৩ অক্টোবর থেকে একটি ভাড়া বাড়িতে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম চালু করা হয়। সে সময় প্রথম উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. আব্দুস সালাম মিয়া। তৎকালীন জেলা প্রশাসক রফিকুল মোহামেতের সহযোগীতায় ‘মাঝিড়া উপজেলা’র নাম পরিবর্তন করে ‘শাজাহানপুর উপজেলা’ নামে নামকরণ করা হয়। এরপর ২০০৪ সালের ১৪ অক্টোবরে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাশে সাজাপুর মৌজায় নির্মিত ‘শাজাহানপুর উপজেলা’ কমপ্লেক্স’র উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
জনসংখ্যার উপাত্ত
[সম্পাদনা]জনসংখ্যা ২৩৪৩৬৫ জন; পুরুষ ১২০৫১০ জন ও মহিলা ১১৩৮৫৫ জন। মুসলিম ২২৪৩৭৩ জন, হিন্দু ৯৯১৫ জন, বৌদ্ধ ৩৪ জন, খ্রিস্টান ১৯ জন এবং অন্যান্য ২৪ জন।
শিক্ষা
[সম্পাদনা]শাজাহানপুর উপজেলায় পাঁচটি কলেজ রয়েছে। এদের মধ্যে দুবলাগাড়ি কলেজদ ১৯৮৬ সালে স্থাপিত হয়। বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ ১৯৭৯ সালে স্থাপিত, বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুল ১৯৭৭ সালে স্থাপিত, এই দুইটি স্কুল মাঝিড়া সেনানিবাসে অবস্থিত। এছাড়া এছাড়া দক্ষিণ পারতেখুর উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ পারতেখুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পারতেখুর দাখিল মাদরাসা, পারতেখুর কাসেমিয়া গিয়াছিয়া দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদরাসা, করমউদ্দিন কলেজ, ডেমাজানী। ডেমাজানী শহীদ মোখলেছুর রহমান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, আড়িয়া রহিমাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আড়িয়া রহিমাবাদ প্রাথমিক বালক বিদ্যালয়, আড়িয়া রহিমাবাদ বালিকা বিদ্যালয়, রহিমাবাদ শালুকগাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঝিড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, পারফেক্ট হাই স্কুল, সানবিমস হাই স্কুল সেনাপল্লী স্কুল, গোহাইল ইসলামিয়া হাইস্কুল ও কলেজ। উল্লেখ্য,মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল ও কলেজ ১৯৯৮ সালে স্থাপিত হয় এবং প্রয়াস স্কুল (প্রতিবন্ধী স্কুল) ২০১২ সালে স্থাপিত, এই দুই জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসে অবস্থিত। শাজাহানপুর উপজেলায় ছয়টি ফাজিল এবং দুইটি কামিল মাদ্রাসাও আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জোড়া নজমুল উলূম কামিল মাস্টার্স মাদ্রাসা যা স্থাপিত হয়েছিল ১৯১০ সালে, ডোমনপুকুর আমিনিয়ার ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা এছাড়াও আজিরন রাবেয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসা । স্হাপিত ১৯৭৪। এছাড়াও গ্রীণ ফিউচার পাবলিক স্কুল, নগরহাট। স্কুলটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও এর আধুনিকায়ন শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের ০১অক্টোবর থেকে।শাজাহনপুর উপজেলায় একমাত্র নারী উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাজাহানপুর মহিলা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১১ সাল থেকে পাঠ দান করে আসতেছে। এছাড়া আরও রয়েছে নগর জে এম সিনিয়র মাদ্রাসা, নগর শাহ্ মোজাম্মেল হক উচ্চ বিদ্যালয়, নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। খরনা ইউনিয়নের কালুদাম গ্রামে রহিম আফরোজ পরিচালিত আরএসএফ মডেল স্কুল এন্ড কলেজ নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অপরদিকে উপজেলার বেশ কিছু এলাকা বগুড়া পৌরসভার অন্তরভূক্ত। এর মধ্যে ২১নং ওয়ার্ডের বেজোড়া দক্ষিণপাড়ায় ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘নূরুন আইসিটি স্কুল’।
প্রতি বৎসর ভলিবল লীগ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বৎসর যুব এবং সিনিয়র ক্রিকেট লীগ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বিনোদন: প্রতি বৎসর যাত্রাপালা, নাটক মঞ্চায়ন হয়ে থাকে। এছাড়াও ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন মেলা-যেমন: একদিনের মেলা, পৌষমেলা, কৃষি মেলা, মাছের মেলা, মহিষের মাংস এর মেলা এবং বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
অর্থনীতি
[সম্পাদনা]জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৫৫.৪৮%, অকৃষি শ্রমিক ২.৫২%, শিল্প ১.৩৭%, ব্যবসা ১৩.০১%, পরিবহন ও যোগাযোগ ৬.৪৯%, চাকরি ১০.৯৮%, নির্মাণ ২.৫০%, ধর্মীয় সেবা ০.১৭%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.৩৯% এবং অন্যান্য ৭.০৯%।
কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫৭.৩৫%, ভূমিহীন ৪২.৬৫%।
প্রধান কৃষি ফসল ধান, আলু, ভুট্টা, শাকসবজি।
মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার গবাদিপশু ৬২, হাঁস-মুরগি ৬৫, কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র ৩।
যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ১১৬.৩০ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ১৫.৪৩ কিমি, কাঁচারাস্তা ২৪০.৪৯।
শিল্প ও কলকারখানা ধাতব-শিল্প, আসবাব তৈরির কারখানা।
কুটিরশিল্প তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, দারুশিল্প, সূচিশিল্প, বাঁশ ও বেতের কাজ।
দর্শনীয় স্থান
[সম্পাদনা]১। সাব্বির শাহ (রহ:) এর মাজার, শাবরুল, রাণীরহাট, শাজাহানপুর, বগুড়া।
২। কাশেম আলী (রহ:) এর মাজার, পারতেখুর, খরনা, শাজাহানপুর, বগুড়া।
৩। সাজাপুর গড়/টিলা, উপজেলা হতে ৬০০গজ উত্তরে।
৪। বাবুর পুকুর বধ্য ভূমি, টেংগামাগুর, খরনা, শাজাহানপুর, বগুড়া।
৫। জমিদার কাছারি বাড়ী, খরনা বাজার, শাজাহানপুর, বগুড়া।
৬। আদর্শ আহ্ছানিয়া মিশন, শালুকগাড়ী। (ধর্মীয় ও সেবামুলক প্রতিষ্ঠান)
৭। ২টি কামিল ৪টি ফাযিল মাদরাসা, তাদের ৩দিন ব্যাপী বার্ষিক ইছালে ছাওয়াব অনুষ্ঠান (নাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশে দেখুন)।
৮। বড় ভালো স্কুল কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশে দেখুন।
৯। দক্ষিণ পারতেখুর খেলার মাঠ, খরনা, শাজাহানপুর, বগুড়া ও ডেমাজানি খেলার মাঠ, শাজাহানপুর, বগুড়া, গোহাইল খেলার মাঠ শাজাহানপুর বগুড়া।
১০। ঐতিহাসিক আড়িয়া রহিমাবাদ খেলার মাঠ।
১১। প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ খাদাশ রাজবাড়ি (গোহাইল ইউনিয়ন)।
১২। পণ্ডিত শাহ নির্মিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট গোহাইল জামে মসজিদ।
১৩। বৌদ্ধ মঠ (বেতগাড়ি গ্রাম)।
১৪। আড়িয়া পাল পাড়া (মৃৎশিল্প গ্রাম)।
১৫। বিজয়াঙ্গন (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক জাদুঘর), সেনাস্বরণী গেট, রহিমাবাদ, শাজাহানপুর, বগুড়া।
১৬। সন্ধার পর খরনা বাজারের মুখ রোচক খাবার বট ভাজি, খরনা, শাজাহানপুর, বগুড়া।
১৬। খারুয়া দহ, জালশুকা, শাজাহানপুর। এই স্থানে ঐতিহ্যবাহী খারুয়া মেলা অনুষ্ঠিত হয় ও বর্ষা মৌসুমে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মনোরম পরিবেশ হওয়ায় বিকাল বেলা অনেকেই এখানে ঘুরতে আসেন।
ঐতিহ্যবাহী উৎসব
[সম্পাদনা]খারুয়া মেলা
[সম্পাদনা]খারুয়া মেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি প্রাচীন লোকজ মেলা। বগুড়া জেলা শহর হতে ১৩ কিলোমিটার পূর্বদিকে খারুয়া দহ নামক স্থানে প্রতি বছর যে মেলা বসে তাই খারুয়া মেলা নামে পরিচিত। একে ছোট সন্ন্যাসী মেলা বলেও ডাকা হয়। বাংলাদেশে গ্রামীণ মেলাসেমূহের মধ্যে বগুড়ার খারুয়া মেলা অন্যতম। মেলাটি প্রায় ৩শত বছর পূর্বে শুরু হয় বলে ধারণা করা হয়। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার শাজাহানপুরের জালশুকা গ্রামের খারুয়া দহে অনুষ্ঠিত এ মেলা। মেলাটি এ এলাকার প্রায় ৩শ’ বছরের ঐতিহ্য।
টেংগামাগুরের মেলা
৪০০ বছরে ঐতিহ্য এই টেংগামাগুরের ঐতিহাসিক বুড়ি পূজা মেলা।[২]
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে শাহজাহানপুর"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২১ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৪।
- ↑ DESATIVADO, DOI DESATIVADO; DOI, DOI DESATIVADO (২৩ নভেম্বর ২০২৩)। DOI DESATIVADO। DOI DESATIVADO।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |