বিষয়বস্তুতে চলুন

এম আর আখতার মুকুল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এম আর আখতার মুকুল
জন্ম
মুস্তাফা রওশন আখতার মুকুল

(১৯২৯-০৮-০৯)৯ আগস্ট ১৯২৯
চিংগাশপুর গ্রাম, মহাস্থান, বগুড়া
মৃত্যু২৬ জুন ২০০৪(2004-06-26) (বয়স ৭৩)
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
 পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
 বাংলাদেশ
পেশাসরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক
পরিচিতির কারণমুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের চরমপত্রের পরিচালক, লেখক ও কথক[]
সন্তান
  • কবিতা পারভেজ
(কন্যা)
পুরস্কারস্বাধীনতা দিবস পুরস্কার

এম আর আখতার মুকুল (৯ আগস্ট ১৯২৯ - ২৬ জুন ২০০৪) একজন বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রচারিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চরমপত্রের পরিচালক, লেখক ও কথক ছিলেন।[] 'চরমপত্র' অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপক সাহস, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল৷

সাংবাদিকতা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকার থেকে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন। তিনি একজন কলামিষ্ট৷ তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৫টি৷

প্রাথমিক জীবন

[সম্পাদনা]

এম আর আখতার মুকুল এর জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে। তার পুরো নাম মুস্তাফা রওশন আখতার মুকুল। তার পিতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সরকারি কর্মকর্তা সা’দত আলি আখন্দ, মাতা রাবেয়া খাতুন। তিনি বিশিষ্ট ভাষা সৈনিক মুস্তফা নুরুল ইসলাম এর আপন ছোট ভাই। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ময়মনসিংহে। তিনি সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে পড়েন।তার বাবা সরকারি চাকরি করার কারণে তারা দিনাজপুর চলে আসেন এবং ১৯৪৫ সালে দিনাজপুর মহারাজা হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। তিনি দিনাজপুর রিপন কলেজ (ব্রাঞ্চ) থেকে আই এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯৪৭ সালে৷ ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ায় তিনি ১৯৪৮ সালে জননিরাপত্তা আইনে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন এবং ১৯৪৯ সালে জেলখানা থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে স্নাতক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন৷ ১৯৫০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ক্লাসে ভর্তি হন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন৷[] ১৯৫২ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বৈঠকের সময় যে ১১ জন ছাত্রনেতা উপস্থিত হন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন। অন্যান্যরা ছিলেন ভাষাসৈনিক গাজীউল হক, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ সুলতান, জিল্লুর রহমান, আব্দুল মোমিন, এস এ বারী এটি, সৈয়দ কামরুদ্দীন হোসেইন শহুদ, আনোয়ারুল হক খান, মঞ্জুর হোসেন, আনোয়ার হোসেন।

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এম আর আখতার মুকুল সাংবাদিকতা পেশায় যোগদান করেন৷ সাপ্তাহিক 'নও বেলাল', 'পাকিস্তান টুডে', দৈনিক আমার দেশদৈনিক সংবাদ ইত্যাদি পত্রিকায় তিনি কাজ করেন। ১৯৫৩ সালের ২৫শে ডিসেম্বর ইত্তেফাকের জন্মলগ্ন থেকে ১৯৬০ সালের জুলাই পর্যন্ত এই পত্রিকায় রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন৷ ১৯৬১ সালের শেষের দিক থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এম আর আখতার মুকুল আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ইউডিআই-এর ঢাকাস্থ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন৷ একই সঙ্গে তিনি ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত দৈনিক পত্রিকায় এবং পরে দৈনিক পূর্বদেশেও চাকুরি করেন৷ এম আর আখতার মুকুল ১৯৭১ সালে প্রবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে যোগদান করে তথ্য ও প্রচার দপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷ ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে তিনি বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান৷ ১৯৭৫ সালের ১লা জানুয়রি তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রেস কাউন্সিলর হিসেবে যোগ দেন৷ ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে এম আর আখতার মুকুল দেশে ফিরে আসেন এবং বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে যোগদান করেন৷ ১৯৮৭ সালের আগস্ট মাসে তিনি সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন৷[]

মৃত্যু

[সম্পাদনা]
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মুকুলের কবর

তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। দীর্ঘদিন রোগভোগের পর ২০০৪ সালের ২৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন।[]

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। কবিতা পারভেজ নাম্নী এক কন্যা রয়েছে।

প্রকাশিত গ্রন্থ

[সম্পাদনা]

এম আর আখতার ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এখান থেকে তার ৬০টির অধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থের তালিকা নিম্নে বর্ণিত:

  • পল্লী এক্সপ্রেস (অনুবাদ, ১৯৬০),
  • রূপালী বাতাস (১৯৭২),
  • রূপালী বাতাস সোনালী আকাশ (১৯৭৩),
  • মুজিবের রক্ত লাল (১৯৭৬)[],
  • ভাসানী মুজিবের রাজনীতি (১৯৮৪),
  • পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন (১৯৮৫),
  • চল্লিশ থেকে একাত্তর (১৯৮৫),
  • আমি বিজয় দেখেছি (১৯৮৫),
  • বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন (১৯৮৬),
  • লন্ডনে ছক্কু মিয়া (১৯৮৬),
  • ওরা চারজন (১৯৮৬),
  • কোলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবি (১৯৮৭),
  • বায়ান্নোর জবানবন্দী (১৯৮৭),
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, ১৯৮৭),
  • লেছড়াগঞ্জের লড়াই (১৯৮৭),
  • নকশালদের শেষ সূর্য (১৯৮৯),
  • একাত্তরের বর্ণমালা (১৯৮৯),
  • বিজয় ’৭১ (১৯৯০),
  • আমিই খালেদ মোশাররফ (১৯৯০),
  • মহাপুরুষ (১৯৯১),
  • একুশের দলিল (১৯৯২),
  • দুমুখী লড়াই: আমরাই বাঙালী (১৯৯২),
  • আমাকে কথা বলতে দিন (১৯৯৩),
  • বাংলা নাটকের গোড়ার কথা (১৯৯৪),
  • কে ভারতের দালাল (১৯৯৫),
  • খন্দকার থেকে খালেদা (১৯৯৬),
  • একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবিদের ভূমিকা (১৯৯৭),
  • বঙ্গবন্ধু (১৯৯৭),
  • জিন্নাহ থেকে মুজিব (১৯৯৮),
  • ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা (১৯৯৯),
  • শতাব্দীর কান্নাহাসি (২০০৪)[],
  • জয় বাংলা,
  • চরমপত্র,
  • নজরুল জীবন সন্ধানে,
  • আব্বা হুজুরের দেশে,
  • পূর্ব পুরুষের সন্ধানে

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. দৈনিক প্রথম আলো, ডিসেম্বর ১৩, ২০১০
  2. ""BANGLADESH: MR Akhtar Mukul passes away". The Daily Star (Bangladesh). 27 June 2004. Retrieved 20 November 2010."। ৭ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১২
  3. 1 2 "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০১৯
  4. মুকুল, এম. আর আখতার, বাংলাপিডিয়া
  5. "মুজিবের রক্ত লাল: ১৫ আগস্টের পর প্রথম বই"www.jugantor.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০২২
  6. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০১৯

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]