বগুড়া

স্থানাঙ্ক: ২৪°৫১′ উত্তর ৮৯°২২′ পূর্ব / ২৪.৮৫০° উত্তর ৮৯.৩৬৭° পূর্ব / 24.850; 89.367
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Bogra থেকে পুনর্নির্দেশিত)
বগুড়া
শহর
Delta Tower Bogra 02.jpg
Mohastangor.jpg
Bogra Bypass - panoramio.jpg
Bogura railway station.jpg
Govt Azizul Haque College B.jpg
ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে: বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা, মহাস্থানগড়, বগুড়া বাইপাস, বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন , সরকারি আজিজুল হক কলেজ
ডাকনাম: উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার
বগুড়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
বগুড়া
বগুড়া
বাংলাদেশে বগুড়ার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৫১′ উত্তর ৮৯°২২′ পূর্ব / ২৪.৮৫০° উত্তর ৮৯.৩৬৭° পূর্ব / 24.850; 89.367 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশবাংলাদেশ
বিভাগরাজশাহী
জেলাবগুড়া জেলা
উপজেলাবগুড়া সদর উপজেলা
পুণ্ড্রবর্ধন১২৮০ খ্রিস্টপূর্ব
সরকার
 • শাসকবগুড়া পৌরসভা
 • পৌর মেয়ররেজাউল করিম বাদশা
আয়তন
 • মোট৬৯.৫৬ বর্গকিমি (২৬.৮৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১৭)
 • মোট৫,৭৬,০০০
 • জনঘনত্ব৮,৩০০/বর্গকিমি (২১,০০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৬৫.৫০%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৫৮০০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
এলাকার টেলিফোন কোড০৫১
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

বগুড়া বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের বগুড়া জেলার একটি শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর। এটি রাজশাহী বিভাগ-এর অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। বগুড়া শহরে "শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম" নামে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে;[১] এছাড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) শহর থেকে সামান্য দূরেই অবস্থিত। বগুড়া দইয়ের জন্য খুব বিখ্যাত।[২] বগুড়া শহরে থেকে ১১ কি.মি. উত্তরে মহাস্থানগড় অবস্থিত, যা একসময় প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিল এবং সেসময় পুণ্ড্রনগর নামে পরিচিত ছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ২ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের প্রধান মেজর জিয়াউর রহমান বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের রাজধানী ও প্রবেশদ্বার বলা হয়। বগুড়া উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান শহর ।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইতিহাস থেকে জানা যায় বাংলার প্রাচীনতম একটি নগরী বগুড়া। মৌর্যযুগে এটি পুণ্ড্রবর্ধন নামে পরিচিত ছিল। বগুড়ার প্রাচীন নাম পৌণ্ড্রবর্ধন ও এটি বরেন্দ্রভূমি বলে খ্যাত অঞ্চলের অংশবিশেষ। আজকের রাজশাহীও এই অঞ্চলভুক্ত ছিল। অঞ্চলটি ৯ থেকে ১২ শতক সেন রাজাদের দ্বারা শাসিত হয়। পরে ১৩শ শতকের শুরুতে তা মুসলিম শাসকদের অধীনে আসে। ১৩শ শতকের শুরুতে এই এলাকা মুসলিম শাসকদের হাতে যায়। তারপরও সেন বংশের নৃপতিরা সামন্তপ্রধান হিসাবে প্রায় ১০০ বছর শাসনকার্য চালায়। এরপর অচ্যুত সেনের আচরণে রাগান্বিত হয়ে গৌড়ের বাহাদুর শাহ (?-১৫৩৭) সেনদের বিতাড়িত করেন।[৩] ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বগুড়া ৭ নং সেক্টরের অধীনে ছিল।

ভৌগোলিক অবস্থান[সম্পাদনা]

বগুড়া শহর বগুড়া জেলার মধ্যভাগে করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত। করতোয়া নদী উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে বগুড়াকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে।

বগুড়া শহর করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত । করতোয়া নদী উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে বগুড়াকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে । বগুড়ার উত্তরে গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলা পশ্চিমে নওগাঁ জেলা, দক্ষিনে সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পুর্বে যমুনা নদী ।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বগুড়া শহরের অবকাঠামোগত প্রচুর উন্নতি সাধিত হয়েছে। নতুন শহর পরিকল্পনার মাধ্যমে রাস্তাগুলো পুননির্মান এবং দু লেনে উন্নিতকরণ করা হয়েছে । এখানকার মাটি বেশ উর্বর এবং এখানে প্রচুর শস্যের উৎপাদন হয়। বিগত কয়েক বছরে বগুড়ায় লাল মরিচের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যা কিনা ১০০ কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ব্যবসা- বাণিজ্যের উন্নতির সাথে সাথে এখানকার ব্যাংকিং ব্যাবস্থাপনাতেও এসেছে নতুন মাত্রা; সরকারি বেসরকারি প্রায় সব ব্যাংকের একটি করে শাখা রয়েছে এখানে। ২৪ ঘণ্টাই শহরের যে কোনো প্রান্তে এটিএম বুথ খোলা পাওয়া যায়। ২০০৮ সালে ফ্রান্সের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ড্যানোন গ্রুপ গ্রামীণ গ্রুপের সাথে যৌথভাবে শক্তিদই তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

পর্যটন[সম্পাদনা]

বগুড়া শহরের ১১ কি.মি. অদূরে মহাস্থানগড় অবস্থিত। এখানে পূর্বে রাজা পশুরামের রাজ্য ছিল। এখানে বেহুলা-লখিন্দরের বাসর ঘর ও গোবিন্দ ভিটা রয়েছে; আছে জাদুঘরও। বগুড়া শহরে রয়েছে "নওয়াব প্যালেস"; যা ব্রিটিশ আমলে "নীলকুঠী" নামে পরিচিত ছিল। এখানে থাকার জন্য রয়েছে চার তারকা বিশিষ্ট হোটেল "নাজ গার্ডেন" এবং পাঁচ তারকা হোটেল "মম ইন"।

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

সুফি, মারাঠি, লালন ইত্যাদি নিয়ে বগুড়ার সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বগুড়া থেকে প্রকাশিত কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকার মধ্যে আছে দৈনিক করতোয়া,দৈনিক আজ ও আগামীকাল, দৈনিক উত্তরকোণ, দৈনিক বগুড়া, দৈনিক চাঁদনি বাজার, দৈনিক উত্তরাঞ্চল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এখানকার মরিচদই খুব বিখ্যাত।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

বগুড়া জেলার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, হামদর্দ ইউনানী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্‌রাসা, সৈয়দ আহম্মেদ কলেজ, বগুড়া জিলা স্কুল, বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, বগুড়া সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী মুজিবর রহমান মহিলা কলেজ, বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ, বগুড়া,।পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ,]] সরকারি শাহ সুলতান কলেজ, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া কলেজ, বগুড়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, বগুড়া ওয়াইএমসিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ,মহাস্থান মাহিসাওয়ার ডিগ্রী কলেজ, সুবিধা বঞ্চিত ও ছিন্নমূল পথশিশুদের নৈতিক শিক্ষালয়-"আমিনা বেগম মেমোরিয়াল একাডেমী" ভি টি টি আই পলিটেকনিক,ওও ইত্যাদি

জলবায়ু[সম্পাদনা]

বগুড়া-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য
মাস জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রিল মে জুন জুলাই আগস্ট সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে বছর
সর্বোচ্চ গড় °সে (°ফা) ২৫.০
(৭৭.০)
২৮.০
(৮২.৪)
৩২.৬
(৯০.৭)
৩৫.১
(৯৫.২)
৩৩.৫
(৯২.৩)
৩২.২
(৯০.০)
৩১.৪
(৮৮.৫)
৩১.৪
(৮৮.৫)
৩১.৫
(৮৮.৭)
৩১.০
(৮৭.৮)
২৮.৯
(৮৪.০)
২৬.০
(৭৮.৮)
৩০.৬
(৮৭.০)
সর্বনিম্ন গড় °সে (°ফা) ১১.৭
(৫৩.১)
১৩.৫
(৫৬.৩)
১৭.৯
(৬৪.২)
২২.৫
(৭২.৫)
২৪.১
(৭৫.৪)
২৫.৬
(৭৮.১)
২৬.১
(৭৯.০)
২৬.১
(৭৯.০)
২৫.৬
(৭৮.১)
২৩.২
(৭৩.৮)
১৭.৬
(৬৩.৭)
১৩.১
(৫৫.৬)
২০.৬
(৬৯.১)
অধঃক্ষেপণের গড় মিমি (ইঞ্চি)
(০.৪)
১৩
(০.৫)
২১
(০.৮)
৬১
(২.৪)
২১০
(৮.৩)
৩২৬
(১২.৮)
৩৯৭
(১৫.৬)
৩০২
(১১.৯)
২৫৭
(১০.১)
১৪৫
(৫.৭)
১৫
(০.৬)

(০.২)
১,৭৬২
(৬৯.৪)
উৎস: Climate-data.org

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "https://mzamin.com/details.php?nid=MzEyOTQ=&ty=MA==&s=MjM=&c=MzM="মানবজমিন। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-২৪  |title= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  2. "বগুড়ার দই"। ১৯ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১২ 
  3. "বগুড়া নামকরণের ইতিহাস ও ঐতিহ্য :: দৈনিক ইত্তেফাক"archive.ittefaq.com.bd (Bengali ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-২৪