গোকুল মেধ
| গোকুল মেধ বেহুলার বাসর ঘর | |
|---|---|
| বৌদ্ধ বিহার | |
লক্ষিন্দরের মেধ বা গোকুল মেধ | |
| স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৬′০৯.৯″ উত্তর ৮৯°২০′১০.১″ পূর্ব / ২৪.৯৩৬০৮৩° উত্তর ৮৯.৩৩৬১৩৯° পূর্ব | |
| দেশ | |
| স্থান | গোকুল, বগুড়া |
| সময়কাল | খ্রিস্টীয় ৪র্থ থেকে ১১শ শতক |
গোকুল মেধ বগুড়া সদর থানার অন্তর্গত গোকুল গ্রামে খননকৃত একটি প্রত্নস্থল। স্থানীয়ভাবে এটি বেহুলার বাসর ঘর বা মেড় নামেই অধিক পরিচিত। তবে আসলে এটি বেহুলার বাসর ঘর নয়, একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ। অনেকে একে লক্ষ্মীন্দরের মেধও বলে থাকে।[১] এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। গোকুল মেধ বা বেহুলার বাসর ঘরের প্রবেশমুখেই অবস্থিত ঐতিহবাহী বারী পান দোকান। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দোকানটি স্থানীয় এবং পর্যটকদের কাছে পানের বিশেষ স্বাদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এটি গোকুল এলাকার একটি পরিচিত ল্যান্ডমার্ক হিসেবে টিকে আছে।
অবস্থান
[সম্পাদনা]মহাস্থানগড় বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২ কি.মি দক্ষিণ পশ্চিমে এবং বগুড়া শহর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে গোকুল নামক গ্রামে অবস্থিত। যা বগুড়ার বিখ্যাত বারী পান দোকানের একদম সামনে এবং গোকুল, রামশহর ও পলাশবাড়ি গ্রাম তিনটির সংযোগ স্থলে এটি অবস্থিত।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তররের মতে, আনুমানিক খৃস্টাব্দ ৭ম শতাব্দী থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে এটা নির্মিত হয়। বলা হয়ে থাকে এখানে বেহুলার বাসর হয়েছিল। যা সেন যুগের অনেক পূর্বেকার ঘটনা। তবে বর্তমান গবেষকদের মতে, এ কীর্তিস্তম্ভ ৮০৯ থেকে ৮৪৭ খৃস্টাব্দে দেবপাল নির্মিত একটি বৌদ্ধমঠ। এখানে বহু গর্তযুক্ত একটি ছোট প্রস্তর খণ্ডের সঙ্গে ষাঁড়ের প্রতিকৃতির একটি স্বর্ণ পত্র পাওয়া গিয়েছিল। এ থেকে ধারণা করা হয়, এটি একটি বর্গাকৃতির শিব মন্দির ছিলো।[৩] বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ও হিউয়েন সাং তাদের ভ্রমণ কাহিনীতে এটাকে বৌদ্ধ মঠ রূপে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানা যায় এবং প্রত্নতাত্ত্বিকরা স্থানটিকে বৌদ্ধ বৈদ্যমঠ ছিল বলে মনে করেন, তাদের ভাষ্য মতে এটি খ্রিষ্টীয় সপ্তম থেকে দ্বিতীয় শতক পর্যন্ত নানা সময়ে নির্মিত।[২] আবার কোনো কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থে এই মেধকে একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র রূপে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি নির্মাণ করা হয়েছিল পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানীকে বাইরের শত্রু থেকে রক্ষা করার জন্য।[৪]
অবকাঠামো
[সম্পাদনা]বাইরে থেকে দেখতে এটি একটি উঁচু টিলার মতো মনে হলেও গভীরে লুকিয়ে আছে পরিকল্পিত স্থাপত্য। ইষ্টক নির্মিত এ স্তূপটি পূর্ব পশ্চিমে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ। ১৭২টি কক্ষ সমান দূরত্বে সাজানো, মাঝখানে রয়েছে বিশাল একটি প্রার্থনাকক্ষ। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে কক্ষগুলোর গঠন, দেয়ালের পুরুত্ব, ইটের আকার—সবই প্রমাণ করে এটি কোনো সাধারণ গৃহ বা রাজকীয় কক্ষ ছিল না। বরং এখানে বাস করতেন ভিক্ষু বা বৌদ্ধগুরুরা, যাঁরা চর্চা করতেন ধর্ম, ধ্যান ও চিকিৎসাবিদ্যা। এখানে একটি বৌদ্ধস্তম্ভ রয়েছে, যা সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন। স্তম্ভের উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। স্তম্ভের পূর্বার্ধে রয়েছে ২৪ কোণবিশিষ্ট চৌবাচ্চাসদৃশ একটি স্নানাগার। উক্ত স্নানাগারের মধ্যে ছিল ৮ ফুট গভীর একটি কূপ।[২]
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]- সম্মুক দিক
- আকাশ থেকে দেখা দৃশ্য
- একদম চূড়ায় প্রবেশপথ
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া; প্রশ্নোত্তরে বাঙলাদেশের প্রত্নকীর্তি (প্রথম খন্ড); ঝিনুক প্রকাশনী; তৃতীয় মুদ্রণঃ মার্চ ২০১৩; পৃষ্ঠা-১৬২-১৬৪, ISBN 984- 70112-0112-0
- 1 2 3 পারভেজ, আনোয়ার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫)। "বেহুলার বাসরঘর মিথ নাকি সত্যি"। Prothomalo। ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ "গোকুল মেধ"। বাংলাপিডিয়া।
- ↑ "দেখা হয় নাই গোকুল মেধ"।গোকুল মেধ
