বিষয়বস্তুতে চলুন

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)
ধরনসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
স্থাপিত জুন ২০০৮; ১৭ বছর আগে (2008-06-05)
ইআইআইএন১৩৬৬৩০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
আচার্যরাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন
উপাচার্যঅধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল
শিক্ষার্থী৫,০০০(আনু.)
স্নাতক৩,০০০
স্নাতকোত্তর২,০০০
অবস্থান,
শিক্ষাঙ্গনশহুরে
পোশাকের রঙনীল এবং সাদা
সংক্ষিপ্ত নামপাবিপ্রবি বা পাস্ট
অধিভুক্তিবিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল
ওয়েবসাইটwww.pust.ac.bd
মানচিত্র

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সংক্ষিপ্তরূপ: পাবিপ্রবি বা PUST) বাংলাদেশের একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৮ সালের ৫ জুন প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০০৯ সাল থেকে এখানে ৪ বছর মেয়াদী স্নাতক প্রোগ্রামের পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের ২৯তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৭ম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত।  এখানকার ক্যাম্পাস প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আবাসিক হলের ব্যবস্থা।

পাবিপ্রবি বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের মাধ্যমে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ব্যবসা, ও মানবিক বিষয়ে উচ্চমানের শিক্ষা প্রদান করে। এটি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, ও উদ্ভাবনী দক্ষতা উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অবস্থান

[সম্পাদনা]

পাবনা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার পূর্ব দিকে রাজাপুর নামক স্থানে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে ৩০ একর জমির উপর স্থাপিত হয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ সরকার ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ প্রণয়ন করে। এর মাধ্যমে পাবনা জেলার নগরবাড়ী মহাসড়কের উত্তর পাশে গয়েশপুর ইউনিয়নের ধোপাঘাটা এলাকায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।[]

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সরকারি উদ্যোগ নতুন করে নেওয়া হয়। একই বছরের ১২ অক্টোবর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসআরও নং ২৭৮—আইন/২০০৮ জারি করে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরুর আইনগত ভিত্তি চূড়ান্ত হয়।[]

২০০৮ সালের ১১ ডিসেম্বর অধ্যাপক ড. আমিন উদ্দিন মৃধা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান।[] এরপর ২০০৯ সালের ৩ জানুয়ারিতে পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামে অবস্থিত 'টিচার্স ট্রেনিং কলেজ' (টিটিসি)-র ক্যাম্পাসকে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহার করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম এবং শিক্ষা উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। সেসময় জানুয়ারির শেষে ভর্তি ফরম বিতরণ এবং ১৫ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা করা হয়।[] সে অনুযায়ী ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত এবং ব্যবসায় প্রশাসন এই চারটি বিভাগে ৫০টি করে মোট ২০০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়।[]

২০০৯ সালের এপ্রিলে টিটিসি ক্যাম্পাসে ১৮০ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ক্লাস শুরুর মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রমের সূচনা হয়।[] এদিন দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদগণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের প্রথম দিনের ক্লাসগুলো পরিচালনা করেন। উদ্বোধনী এসব ক্লাসে লেকচার দেন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ড. জামাল নজরুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ড. এম আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। এসময় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামে টিটিসি কলেজের বিপরীতে ঢাকা–পাবনা সড়ক সংলগ্ন প্রায় ৩০ একর জমি নির্বাচন এবং জমি অধিগ্রহণের পর অবকাঠামো নির্মাণ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৯০ লাখ টাকা তহবিল প্রক্রিয়াধীন থাকার কথাও জানানো হয়।[]

ক্লাস শুরুর প্রায় দুই মাস পর, ২০০৯ সালের ৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কে খন্দকার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রার ঘোষণা দেন।[] এই দিনটিকে তাই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে।

২০০৯ সালেই অধ্যাপক আমিন উদ্দিন মৃধাকে সরিয়ে অধ্যাপক মো. মোজাফফর হোসেনকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১০ সালের জুলাই মাসে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য পাবনা জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে রাজাপুর গ্রামের পূর্বনির্ধারিত ৩০ একর জমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। একই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও চারটি নতুন বিভাগ ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, পদার্থবিজ্ঞান, অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অর্থনীতি চালু করা হয়।[]

২০১২ সালের ১৭ জুন নানা অনিয়মের অভিযোগে উপাচার্য মোজাফফর হোসেনের পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন এবং ঢাকা–পাবনা মহাসড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।[][১০][১১] তিনি দায়িত্ব ছাড়লেও আন্দোলন অব্যাহত থাকে। পরে ২৩ ডিসেম্বর শিক্ষকরা নতুন উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেন এবং ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি অধ্যাপক আল–নকীব চৌধুরী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এরই মাঝে ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে (রাজাপুর) শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।[১২] ২০১৫ সালে ভূগোল, পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনা বিভাগকে বিভক্ত করে ‘ভূগোল ও পরিবেশ’ এবং ‘নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হয়। ২০১৬ সালের আগস্টে আবাসিক হলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দীর্ঘকালীন সমস্যায় হতাশ শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে এক মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।[১৩] অধ্যাপক আল-নকীব চৌধুরীর মেয়াদকালে ভৌত অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হলেও মেয়াদের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে পরিবহন খাতের অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যয় এবং রিজার্ভ ফান্ডের অর্থ খরচ করে ফেলার অভিযোগ ওঠে।[১৪] ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে চার বছর মেয়াদ পূর্ণ করে তিনি দায়িত্বত্যাগ করেন।

২০১৮ সালের ৭ মার্চ অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলী উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হন।[১৫] তার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮০ কোটি টাকার 'দ্বিতীয় উন্নয়ন প্রকল্প' শুরু হয়।[১৬] তবে তার পুরো মেয়াদকাল ছিল ব্যাপক বিতর্কিত। শিক্ষক নিয়োগের জন্য ঘুষ গ্রহণের[১৭] অভিযোগে তার বাসভবন অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ হয়।[১৮][১৯] নিজের ভাতিজি ও আত্মীয়দের চাকরি প্রদান করার অভিযোগ আসে।[২০] তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক অনিয়মের মোট ১০১টি অভিযোগ[২১] ইউজিসির কাছে জমা দেন এক শিক্ষক।[২২][২৩] তার মেয়াদকালে বিভিন্ন সময়ে বিশেষত ২০২২ সালের প্রথম ২ মাসে নানান ইস্যুতে ক্যাম্পাস জুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের অংশগ্রহণে ব্যাপক আন্দোলন ও বিক্ষোভ হয়।[২৪][২৫] তার বিদায়ও ছিল নাটকীয় ও উত্তপ্ত। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের জেরে মেয়াদপূর্তির আগেই ক্যাম্পাস ছেড়ে গোপনে বিদায় নেন।[২৬] ৬ মার্চ ২০২২ সালে মেয়াদের শেষ দিনে শিক্ষার্থীরা "ঝাড়ু মিছিল" বের করে।[২৭][২৮][২৯] পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেন,[৩০] যার বিচারিক কার্যক্রম পরবর্তীতে শুরু হয়।[৩১]

এরপর ২০২২ সালের এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন।[৩২] তার মেয়াদকালে বিশ্ববিদ্যালয় স্থিতিশীল থাকলেও ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনগণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ৬ জুলাই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রথম আন্দোলন শুরু করে। ১৬ ও ১৭ জুলাই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে এবং এসময় ছাত্রলীগের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ১৮ জুলাই পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পাবনা শহরের ট্রাফিক মোড় ও ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নেয়। ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচির দিনে পাবনা শহরের ট্রাফিক মোড়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এদিন পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা সরাসরি অংশগ্রহণ করে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিজয় মিছিল করে এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। ৯ আগস্ট থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যসহ ৩ জনের পদত্যাগের দাবিতে আল্টিমেটাম দেয় এবং ভিসিকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। অবশেষে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ২১ আগস্টে তিনি পদত্যাগ করেন।[৩৩]

পরবর্তীতে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল নতুন উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন।[৩৪] ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া নতুন একাডেমিক ভবন ও হল নির্মাণকাজ কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২৪ সালে শেষ হয়।[৩৫] ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নতুন দুটি অ্যাকাডেমিক ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় এবং ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের স্মরণে সদ্য চালু হতে যাওয়া ছাত্র হলের নামকরণ করা হয় 'জুলাই ৬ হল' এবং পরবর্তীতে ছাত্রী হলের নাম রাখা হয় 'মাতৃভাষা হল'।

উপাচার্যগণ

[সম্পাদনা]

নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন:

ক্রম নাম দায়িত্ব গ্রহণ দায়িত্ব হস্তান্তর
অধ্যাপক ড. আমিন উদ্দিন মৃধা ২০০৮ ২০০৯
অধ্যাপক ড. মোজাফফর হোসেন ২০০৯ ২০১৩
অধ্যাপক ড. আল-নকীব চৌধুরী ২০১৪ ২০১৮
অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলী ২০১৮ ২০২২
অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন ২০২২ ২০২৪
অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল ২০২৪ বর্তমান

অনুষদ ও বিভাগ

[সম্পাদনা]

মোট ৫টি অনুষদে মোট ২১টি বিভাগ রয়েছে।

অনুষদ স্নাতক প্রোগ্রাম বিভাগ আসন
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ বি.এসসি. (ইঞ্জিনিয়ারিং) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ৪০
তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল ৪০
তড়িৎ, ইলেক্ট্রনিক ও যোগাযোগ প্রকৌশল ৪০
তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল ৪০
পুরকৌশল ৪০
বি. আর্ক. স্থাপত্য ৩০
বি. ইউআরপি নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা ৪০
বিজ্ঞান অনুষদ বি.ফার্ম. (প্রফেশনাল) ফার্মেসি ৪০
বি.এসসি. (অনার্স) পদার্থবিজ্ঞান ৪০
রসায়ন ৪০
গণিত ৫০
পরিসংখ্যান ৪০
জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ ভূগোল ও পরিবেশ ৫০
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ বি.বি.এ. ব্যবসায় প্রশাসন ৫০
পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা ৪০
কলা ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ বি.এ. (অনার্স) বাংলা ৫০
ইংরেজি ৫০
বি.এস.এস (অনার্স) ইতিহাস ৫০
অর্থনীতি ৫০
সমাজকর্ম ৫০
লোকপ্রশাসন ৫০
মোট আসন ৯২০

স্থাপনা

[সম্পাদনা]
স্বাধীনতা চত্ত্বর ও শহীদ মিনার

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া, স্বাধীনতা স্তম্ভ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার,পরিবহন ব্যবস্থা, ২টি একাডেমিক ভবন, ১টি প্রশাসনিক ভবন, শহিদ ম্যুরাল, মুক্তমঞ্চ রয়েছে। এছাড়াও চার তলা বিশিষ্ট অডিটরিয়াম, বারো তলা বিশিষ্ট দুটি অত্যাধুনিক একাডেমিক ভবন, দশ তলা বিশিষ্ট দুটি হল ১০ তলা বিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক ভবন, টিএসসি ভবন এর নির্মানকাজ শেষ হয়েছে

ক্যাম্পাস

[সম্পাদনা]

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পাবনা শহরের রাজাপুর নামক স্থানে অবস্থিত। এটি পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। এর মূল আয়তন ৩০ একর।

আবাসন ব্যবস্থা

[সম্পাদনা]

ছাত্র হল

[সম্পাদনা]
Independence Hall
স্বাধীনতা হল
  • স্বাধীনতা হল (৫ তলা দুটি ব্লক)
  • জুলাই ৬ হল (১০ তলা)

ছাত্রী হল সমুহ

[সম্পাদনা]
গণতন্ত্র হল
  • গনতন্ত্র হল
  • মাতৃভাষা হল

যাতায়াত ব্যবস্থা

[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ১০টি এবং ২টি বিআরটিসি দ্বিতল বাসসহ মোট ১২টি বাস সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাস হতে গোটা শহর প্রদক্ষিণ করে। এছাড়াও শিক্ষকদের জন্য রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আলাদা যাতায়াত ব্যবস্থা। কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে দুটি এম্বুলেন্স।

ক্যাফেটেরিয়া

[সম্পাদনা]

স্বাধীনতা চত্বরের পাশে একটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে।

মেডিক্যাল সেন্টার

[সম্পাদনা]

প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় মেডিক্যাল সেন্টারটি অবস্থিত। চারজন এমবিবিএস ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে মেডিক্যাল সেন্টার পরিচালিত হয়

সংগঠন

[সম্পাদনা]
সাংস্কৃতিক সংগঠন
  • অনিরুদ্ধ নাট্য দল
  • কণ্ঠস্বর আবৃত্তি দল
  • পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটি
  • পাস্ট ফটোগ্রাফিক সোসাইটি
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
  • রোভার স্কাউট গ্রুপ
  • পাঠকবন্ধু (আজকের পত্রিকা)
  • জোনাকি
  • আগামীর সূর্য
দক্ষতা উন্নয়নমূলক সংগঠন
  • PUST Business Club
  • IEEE PUST Students Branch
  • প্রগতি কলম সমাজ
  • সলভার গ্রিন
  • ফার্মা ক্যারিয়ার ক্লাব
  • পাস্ট সায়েন্স ক্লাব

প্রকাশনা

[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও তথ্য নিয়ে জনসংযোগ দপ্তরের উদ্যোগে ত্রৈমাসিক সাময়িকি 'পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বার্তা' প্রকাশিত হয়। এছাড়াও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন সংবাদ পোর্টাল রয়েছে।

চিত্রশালা

[সম্পাদনা]

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১"বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয়
  2. "এস, আর, ও নং ২৭৮—আইন/২০০৮; বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত সংখ্যা)" (পিডিএফ)Bangladesh Government Press। ১২ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
  3. Bss, Dhaka (১২ ডিসেম্বর ২০০৮)। "Prof Amin PSTU vice chancellor"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  4. "Pabna University of Science, Tech to be launched today"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ জানুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  5. "Pabna University of Science and Technology launched"The Daily Star। ২ এপ্রিল ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  6. মো. বাবুল হোসেন (৫ জুন ২০২২)। "পাবিপ্রবি দিবস: একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রত্যাশা"প্রথম আলো (নাগরিক সংবাদ)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  7. 1 2 "Pabna University of Science and Technology: An auspicious beginning"The Daily Star। ৪ জুন ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  8. "Land for Pabna University of Science and Technology"The Daily Star। ৩ জুলাই ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  9. "Turmoil for VC's resignation"The Daily Star। ১৮ জুন ২০১২।
  10. "Strike ends as authorities promise to meet demands"The Daily Star। ২৬ জুন ২০১২।
  11. "Token hunger strike held, class boycott continues"The Daily Star। ২০ জুলাই ২০১২।
  12. মোর্শেদ, সরোয়ার (১৪ আগস্ট ২০২২)। "ছোট ক্যাম্পাস, বড় স্বপ্ন"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  13. "PUST shut down after student unrest"The Daily Star। ৩১ আগস্ট ২০১৬।
  14. "পাবিপ্রবিতে বেতন সংকট, রিজার্ভ ফান্ডের টাকা শেষ"দৈনিক শিক্ষা। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।
  15. "পাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক এম রোস্তম আলী"jagonews24। ৭ মার্চ ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  16. মো. বাবুল হোসেন (৫ জুন ২০২২)। "পাবিপ্রবি দিবস: একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রত্যাশা"প্রথম আলো (নাগরিক সংবাদ)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  17. প্রতিবেদক, নিজস্ব (৩ নভেম্বর ২০১৯)। "উপাচার্যের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ার অডিও নিয়ে তোলপাড়"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  18. প্রতিবেদক, নিজস্ব (১১ নভেম্বর ২০১৯)। "উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বাসভবন ঘেরাও"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  19. প্রতিবেদক, নিজস্ব (৩০ অক্টোবর ২০১৯)। "পাবনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনভর বিক্ষোভ, সাংসদের মধ্যস্থতায় শান্ত"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  20. প্রতিনিধি (২৭ জানুয়ারি ২০২২)। "নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  21. প্রতিনিধি (১৬ মার্চ ২০২১)। "উপাচার্যের বিরুদ্ধে ১০১ অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষকের প্রতীকী অনশন"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  22. এবিএম ফজলুর রহমান (৫ মার্চ ২০২২)। "অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগের কী হবে"সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  23. প্রতিনিধি (২১ মার্চ ২০২১)। "উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের অনশন"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  24. "পাবিপ্রবি'র উপাচার্যর দুর্নীতি তদন্তের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ"dbcnews.tv। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  25. "এমপির মধ্যস্থতায় মুক্ত হলেন পাবিপ্রবির উপাচার্য"দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  26. প্রতিনিধি (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২)। "চুপিসারে ক্যাম্পাস ছাড়লেন উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ভবনে তালা"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  27. প্রতিনিধি (৬ মার্চ ২০২২)। "সব ঝুলিয়ে মেয়াদ শেষ করলেন উপাচার্য, ক্যাম্পাসে ঝাড়ুমিছিল"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  28. "বিদায়ের দিনে পাবিপ্রবির উপাচার্যের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল"dhakamail.com। ৬ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  29. "পাবিপ্রবি উপাচার্যের শেষ দিনে শিক্ষার্থীদের ঝাড়ু মিছিল"Bangla Tribune। ৬ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  30. "বিদায়ী উপাচার্যের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা"প্রথম আলো। ২৩ মার্চ ২০২২।
  31. "পাবিপ্রবির সাবেক ভিসি রোস্তম আলীর বিচার শুরু"দেশ রূপান্তর। ১৮ এপ্রিল ২০২৩।
  32. "প্রথম নারী উপাচার্য পেলো পাবনা প্রযুক্তি"বাংলা ট্রিবিউন। ১২ এপ্রিল ২০২২।
  33. "পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের পদত্যাগ"dhakamail.com। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  34. "Prof Abdul Awal appointed PUST VC"The Daily Star। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
  35. "PUST beset with multifarious problems"The Financial Express (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

www.pust.ac.bd