বিষয়বস্তুতে চলুন

পাবনা সদর উপজেলা

পাবনা সদর
উপজেলা
মানচিত্রে পাবনা সদর উপজেলা
মানচিত্রে পাবনা সদর উপজেলা
স্থানাঙ্ক: ২৪°১′১২″ উত্তর ৮৯°১৭′২৪″ পূর্ব / ২৪.০২০০০° উত্তর ৮৯.২৯০০০° পূর্ব / 24.02000; 89.29000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশবাংলাদেশ
বিভাগরাজশাহী বিভাগ
জেলাপাবনা জেলা
থানা গঠন১৮৭২
আয়তন[]
  মোট৪৩৯.৩০ বর্গকিমি (১৬৯.৬১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০২২)[]
  মোট৭,১১,৫৮৮
  জনঘনত্ব১,৬০০/বর্গকিমি (৪,২০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার[]
  মোট৭২.৭৪%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৬৬০০
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৫০ ৭৬ ৫৫
ওয়েবসাইটদাপ্তরিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

পাবনা সদর উপজেলা বাংলাদেশের পাবনা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি পদ্মা ও ইছামতি নদীর তীরে অবস্থিত। ১৮৭২ সালে পাবনা থানা গঠিত হয় এবং ১৯৮৪ সালে একে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়।[]

অবস্থান ও আয়তন

[সম্পাদনা]

পাবনা সদর উপজেলার আয়তন ৪৩৯.৩০ বর্গ কিলোমিটার। এর অবস্থান ২৩°৫৩´ থেকে ২৪°০৫´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০৯´ থেকে ৮৯°২৫´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। এই উপজেলার উত্তরে আটঘরিয়া উপজেলা, দক্ষিণে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলারাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলা, পূর্বে সাঁথিয়া উপজেলাসুজানগর উপজেলা, পশ্চিমে ঈশ্বরদী উপজেলা[]

প্রশাসনিক এলাকা

[সম্পাদনা]

পাবনা সদর উপজেলায় ১টি পৌরসভা, ১৫টি ওয়ার্ড, ৪৬টি মহল্লা, ১০টি ইউনিয়ন, ২৪৩টি মৌজা ও ২৯১টি গ্রাম রয়েছে।[] পৌরসভা: পাবনা পৌরসভা

ইউনিয়নসমূহ:

  1. মালিগাছা ইউনিয়ন
  2. ভাঁড়ারা ইউনিয়ন
  3. আতাইকুলা ইউনিয়ন
  4. মালঞ্চি ইউনিয়ন
  5. দাপুনিয়া ইউনিয়ন
  6. গয়েশপুর ইউনিয়ন
  7. সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন
  8. চরতারাপুর ইউনিয়ন
  9. হেমায়েতপুর ইউনিয়ন
  10. দোগাছী ইউনিয়ন

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

১৮২৮ সালের ১৬ অক্টোবর তারিখে তৎকালীন রাজশাহী জেলার ৫টি এবং যশোহর জেলার ৩টি থানা নিয়ে পাবনা জেলার সৃষ্টি হয়। ১৮৭২ সালে পাবনা থানা গঠিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাবনা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ কম্পাউন্ডে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে ২২ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়। এই উপজেলায় ১টি গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছে এবং 'দুর্জয় পাবনা' নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ ও গোপালপুরে ১টি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার স্থাপিত হয়েছে।[]

জনসংখ্যার উপাত্ত

[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী পাবনা সদর উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৫,৯০,৯১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,৯৬,৮৭০ জন এবং মহিলা ২,৯৪,০৪৪ জন। ইসলাম ধর্মাবলম্বী ৫,৭৮,৩৬৫ জন, হিন্দু ১২,২৯৪ জন, বৌদ্ধ ২৭ জন, খ্রিস্টান ২২১ জন এবং অন্যান্য ৭ জন।[]

ইউনিয়নভিত্তিক জনসংখ্যা ও শিক্ষার হার (২০১১):

ইউনিয়নের নাম ও জিও কোড আয়তন (একর) পুরুষ মহিলা মোট জনসংখ্যা শিক্ষার হার (%)
আতাইকুলা ১৬ ৯০০২ ২২১১৭ ২১৬৮২ ৪৩৭৯৯ ৩৮.৮
গয়েশপুর ৫১ ৭৯৩৫ ২০২৭২ ১৯৩০৫ ৩৯্ম৭৭ ৪৫.৮
চরতারাপুর ২৫ ৭১৯০ ১৪৭২৭ ১৫০৪১ ২৯৭৬৮ ৩৮.১
দাপুনিয়া ৩৪ ৮২৭৭ ১৭৮৪৯ ১৮১৭৩ ৩৬০২২ ৪৬.৬
দোগাছী ৪৩ ১৪৬০৪ ৪১৫৫৭ ৪২৪৫৮ ৮৪০১৫ ৪৫.১
ভাঁড়ারা ১৭ ২০২৯২ ২৫৩৮৮ ২৬৪৭৮ ৫১৮৬৬ ৩৪.৫
মালঞ্চী ৬৯ ৬৪৮২ ১৫৫৯৭ ১৫৪২৩ ৩১০২০ ৪৯.১
মালিগাছা ৭৭ ৭০৭০ ২১৮০৯ ২২২৪০ ৪৪০৪৯ ৪৫.৮
সাদুল্লাপুর ৯৪ ৮২৮৬ ১৬০০৪ ১৫৭৯২ ৩১৭৯৬ ৩৪.৭
হেমায়েতপুর ৬০ ১২৬৮৭ ২৭৫১১ ২৭০৪৯ ৫৪৫৬০ ৪৮.১

উৎস: আদমশুমারি রিপোর্ট ২০১১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।[]

শিক্ষা

[সম্পাদনা]

উপজেলার গড় শিক্ষার হার ৫১.৪% (পুরুষ ৫১.৭%, মহিলা ৫১.২%)। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ:

অর্থনীতি

[সম্পাদনা]

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ও গয়েশপুরের তাঁতের কাপড় ও লুঙ্গি দেশবিখ্যাত। এছাড়া হosiery শিল্প, সুতা ও সবজি রপ্তানিতে এই উপজেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান কৃষি ফসল হলো ধান, পাট, গম, আখ, সরিষা ও ডাল।

ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ঐতিহ্য

[সম্পাদনা]
  • পাবনা মানসিক হাসপাতাল (১৯৫৭)
  • তিন গম্বুজবিশিষ্ট ভাঁড়ারা মসজিদ (১১৭৬ হিজরি)
  • জোড় বাংলা মন্দির (রাঘবপুর, অষ্টদশ শতাব্দী)
  • তাড়াশ ভবন (জমিদার রায় বাহাদুর বনমালীর কাচারি)
  • শিতলাই ভবন (জমিদার যোগেন্দ্রনাথ মৈত্রের বাড়ি)
  • দুলাই জমিদার বাড়ি
  • জেলা জজ আদালত ভবন (১৮৮৪)

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 মোঃ হাবিবুল্লাহ্ (২০১২)। "পাবনা সদর উপজেলা"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১ওসিএলসি 883871743ওএল 30677644M। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]