কামরুল ইসলাম (চিকিৎসক)
কামরুল ইসলাম | |
|---|---|
![]() ২০২২ সালে কামরুল | |
| জন্ম | পাবনা, বাংলাদেশ |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| নাগরিকত্ব | বাংলাদেশ |
| মাতৃশিক্ষায়তন | ঢাকা কলেজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ বিএসএমএমইউ |
| পেশা | শল্যচিকিৎসক, ইউরোলজিস্ট |
| কর্মজীবন | ১৯৯৩–বর্তমান |
| প্রতিষ্ঠান | সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হসপিটাল (সিকেডি) |
| পরিচিতির কারণ | কিডনি প্রতিস্থাপন শল্যবিদ্যা; বিনা পারিশ্রমিকে রোগী চিকিৎসা |
| সন্তান | ৩ মেয়ে |
| পিতা-মাতা |
|
| পুরস্কার | চিকিৎসাবিদ্যায় স্বাধীনতা পুরস্কার (২০২২) |
কামরুল ইসলাম একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক ও শল্যচিকিৎসক। তিনি দেশে কিডনি প্রতিস্থাপন শল্যবিদ হিসেবে পরিচিত এবং চিকিৎসা বিদ্যায় অবদান রাখার জন্য ২০২২ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।[২][৩]
জীবনী
[সম্পাদনা]কামরুল ইসলামের পিতা আমিনুল ইসলাম ছিলেন পাবনার ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রের আরনোমিস্ট। আর মা রহিমা খাতুন ছিলেন অধ্যাপক। চার ভাই-বোনের মধ্যে কামরুল দ্বিতীয়।[১][৪]
১৯৮০ সালে তিনি পাবনার চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং মেধা তালিকায় রাজশাহী বিভাগে ১৫তম স্থান অর্জন করেন। এরপর ঢাকা কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৮২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ১০ম স্থান অর্জন করেন।[৪]
তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৯৯০ সালে ৮টি মেডিকেল কলেজের সম্মিলিত পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদকসহ এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে এফসিপিএস, ২০০০ সালে বিএসএমএমইউ থেকে ইউরোলজিতে এমএস এবং ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ থেকে এফআরসিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।[৩][৫]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]কামরুল ইসলাম ১৯৯৩ সালে বিসিএসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।[৩] ২০০৭ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। ২০১১ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং ২০১৪ সালে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।[৩]
২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে এক হাজারের বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশে মোট প্রতিস্থাপিত কিডনির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।[৬] ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি ২০০০তম কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করেন এবং এই ২০০০টি অস্ত্রোপচারের জন্য কোনো সার্জন ফি গ্রহণ করেননি। [৭] হাসপাতালে প্রতিস্থাপনের খরচ গড়ে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং সাফল্যের হার প্রায় ৯৫ শতাংশ বলে জানা গেছে।[৮]
পুরস্কার
[সম্পাদনা]- স্বাধীনতা পুরস্কার, চিকিৎসা বিদ্যায়, ২০২২।[৩]
ব্যক্তিজীবন
[সম্পাদনা]কামরুল ইসলাম ৩ কন্যার জনক।[৫]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 ইমন, সাইফ (৪ ডিসেম্বর ২০২১)। "মানবতার ডাক্তার কামরুল ইসলাম"। বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০২২।
- ↑ "স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপনকারী সেই ডাক্তার"। thedailycampus.com। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০২২।
- 1 2 3 4 5 "পারিশ্রমিক না নিলে ডাক্তার সাহেব কী খেয়ে বেঁচে আছেন?"। দৈনিক যুগান্তর। ১৭ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২২।
- 1 2 "স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন দুই কিংবদন্তি চিকিৎসক"। বাংলানিউজ২৪.কম। ১৫ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২২।
- 1 2 রশীদ, মামুনুর (২৭ অক্টোবর ২০২১)। "একজন ডা. কামরুল ও বিনা পারিশ্রমিকে ১ হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন"। দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০২২।
- ↑ "এক হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করলেন শল্যচিকিৎসক কামরুল ইসলাম"। প্রথম আলো। ২৪ অক্টোবর ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০২৩।
- ↑ "পারিশ্রমিক ছাড়াই ২ হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন ডা. কামরুল ইসলাম"। যমুনা টিভি। ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|1=(সাহায্য) - ↑ "দেশে প্রতিস্থাপনের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক"। প্রথম আলো। ২৪ অক্টোবর ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০২৩।

