হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী
HabibullahBaharChowdhury.jpg
পূর্ববঙ্গ মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভা
-নির্বাচিত সদস্য
ফেনী জেলা থেকে
কাজের মেয়াদ
১৯৩৭ – ১৯৫৩
মন্ত্রীস্বাস্থ্যমন্ত্রী
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম১৯০৬
গুথুমা গ্রাম, ফেনী, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১৫ এপ্রিল ১৯৬৬
মৃত্যুর কারণহৃদরোগ
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারত(১৯০৬-১৯৪৭)
 পাকিস্তান(১৯৪৭-১৯৬৬)
রাজনৈতিক দলমুসলিম লীগ
দাম্পত্য সঙ্গীআনোয়ারা বাহার চৌধুরী
সন্তানইকবাল বাহার চৌধুরী,
সেলিনা বাহার জামান,
তাজিন চৌধুরী,
নাসরিন শামস
পিতামাতামুহাম্মদ নুরুল্লাহ চৌধুুরী (বাবা)[১][২] আসিয়া খাতুন চৌধুরানী (মা)[১]
আত্মীয়স্বজনখান বাহাদুর আবদুল আজিজ (নানা),
শামসুন্নাহার মাহমুদ (বোন)
প্রাক্তন শিক্ষার্থীচট্টগ্রাম কলেজ,
কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ
পেশারাজনীতিবিদ, ফুটবলার, লেখক
যে জন্য পরিচিতরাজনীতি, সাহিত্য

হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী (১৯০৬ – ১৫ এপ্রিল ১৯৬৬) ছিলেন ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তানের একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ, ফুটবলার, লেখক ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম স্বাস্থ্যমন্ত্রী।[৩] তিনি ১৯৩০-এর দশক থেকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদান রেখেছেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরীর জন্ম ১৯০৬ সালে ফেনীর গুথুমা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।[৩] তাঁর বাবা মুহাম্মদ নুরুল্লাহ চৌধুুরী। আড়াই বছর বয়সে তিনি পিতৃহীন হন। মাতামহ খান বাহাদুর আবদুল আজিজের চট্টগ্রামের বাড়িতে শৈশব ও কৈশোর কাটে। চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল স্কুল থেকে ১৯২২ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯২৪ সনে আই.এস.সি ও কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে ১৯২৮ সনে বি.এ. পাস করেন।[৩][৪] ইসলামিয়া কলেজে তিনি ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৩২ সালে তিনি পুলিশ সার্ভিসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে ইতিপূর্বে মাস্টারদা সূর্যসেনের বিপ্লবী আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি চাকরি পান নি। ১৯৩৩ সালে তিনি সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এসময় তিনি সাহিত্য পত্রিকা বুলবুল প্রকাশ করেছিলেন।[৩]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী ১৯৩৭ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৩৯ সালে তিনি সিরাজউদ্দৌলা স্মৃতি কমিটির সহসভাপতি হন। হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণে এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি গঠনে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। ১৯৪৪ সালে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের প্রচার সম্পাদক এবং বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য হন।[৩]

১৯৪৬ সালে তিনি ফেনীর পরশুরাম থেকে বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য হন। ১৯৪৭ সালের নোয়াখালী দাঙ্গার সময় মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর নোয়াখালী সফরে তিনি তার সফরসঙ্গী ছিলেন।[৩]

পাকিস্তান আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন। এসময় তাঁর পরিচালিত মশক নিধন অভিযান সুনাম অর্জন করেছিল।[৩][৫] ১৯৪৯ ও ১৯৫০ সালের দিকে রোম, কায়রোজেনিভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন। জেনিভা সম্মেলনে তিনি সভাপতিত্ব করেছেন।

ক্রীড়া[সম্পাদনা]

ছাত্রাবস্থায় তিনি চট্টগ্রাম কলেজের ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব (কলকাতা)-র ‘বি’ দলে ফুটবলার হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি এই দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৩১ সালে তাঁর নেতৃত্বে কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ‘এ’ দলে উন্নীত হয়। তিনি ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ফেডারেশন প্রতিষ্ঠায় তাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিল।[৩]

সাহিত্য[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৬ পর্যন্ত বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনের অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। ১৯৫৩ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করে রাজনীতি থেকে অবসর নেন এবং সাহিত্যচর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ, ওমর ফারুক, আমির আলি[৩] তিনি ও শামসুুননাহার মাহমুুদ তৎকালীন বিখ্যাত পত্রিকা বুুুুলবুল সম্পাদনা করতেন।[৬]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

শামসুননাহার মাহমুদ ছিলেন হবীবুল্লাহ বাহারের বোন। হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরীর সাথে আনোয়ারা বাহার চৌধুরীর বিয়ে হয়। আনোয়ারা বাহার চৌধুরী বুলবুল ললিতকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ছিলেন। ১৯৬৯ সালে তিনি স্বামীর নামে হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ স্থাপন করেন।[৭][৮] ইকবাল বাহার চৌধুরী, সেলিনা বাহার জামান, তাজিন চৌধুরী, নাসরিন শামস তাঁদের সন্তান।[৯] ইকবাল বাহার চৌধুরী ভয়েস অব আমেরিকার সংবাদ পাঠক ছিলেন।[১০]

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। চট্টগ্রাম সফরের সময় কাজী নজরুল ইসলাম তাঁদের বাড়িতে অবস্থান করতেন। কবি তার সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থটি হবীবুল্লাহ ও তাঁর বোন শামসুননাহারকে উৎসর্গ করেছিলেন।[১]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী ১৯৬৬ সালের ১৫ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. আমার বাবা মুহাম্মদ হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী, ৩ আগস্ট ২০১৬ তারিখে সংগৃহিত[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. শামসুন্নাহার মাহমুদ, বাংলাপিডিয়া
  3. হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী, বাংলাপিডিয়া
  4. সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম সম্পাদিত; বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, প্রথম পুনর্মুদ্রণ এপ্রিল, ২০০৩, পৃষ্ঠা- ৪২৮-৪২৯।
  5. টেলিভিশন, Ekushey TV | একুশে। "মশক নিয়ন্ত্রণে একজন হবীবুল্লাহ বাহার"Ekushey TV (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-২২ 
  6. প্রতিবেদক, নিজস্ব। "'আমার কথাশিল্পী বাবা'"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-২২ 
  7. ULAB screens documentary on Anwara Bahar Choudhury ৩ আগস্ট ২০১৬ তারিখে সংগৃহিত
  8. ANWARA BAHAR CHOUDHURY ৩ আগস্ট ২০১৬ তারিখে সংগৃহিত
  9. The art of recitation: Then and now ৩ আগস্ট ২০১৬ তারিখে সংগৃহিত
  10. একটি অনন্য কবিতাসন্ধ্যা ৩ আগস্ট ২০১৬ তারিখে সংগৃহিত

9. বুুুুলবুল জয়নতী ২০১৮। বুুলবুুল ললিতকলা একাডেমি কতৃৃৃক প্রকাশিত স্মরনিকা, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৮। পৃৃৃষ্ষা ১৯।